বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কয়রায় শহীদ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর ১২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
কয়রায় শহীদ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর ১২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: শহীদ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর ১২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা জেলার কয়রায় দিনব্যাপী ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কয়রা থানা উত্তর শাখার উদ্যোগে স্থানীয় ডি.এফ. নকশা আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির খুলনা জেলা দক্ষিণ শাখার সভাপতি মুহা. অয়েসকুরুনী। তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, “শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। মানুষের সেবার মাধ্যমেই আমরা তাঁদের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।”

কয়রা থানা উত্তর শাখার সভাপতি মাজহারুল হান্নান হেলানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল।

এছাড়া স্থানীয় শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রশিবিরের এমন জনকল্যাণমূলক কাজের প্রশংসা করেছেন সাধারণ ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মানুষ।

 

Ads small one

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আম্ফানের ছয় বছর ও প্রতাপনগরবাসীর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আম্ফানের ছয় বছর ও প্রতাপনগরবাসীর দাবি

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা কীভাবে জনজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বর্তমান চিত্র তার এক জ্বলন্ত দলিল। ২০২০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর দীর্ঘ ছয় বছর কেটে গেলেও সেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মিত হয়নি। ফলে ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে আজও প্রতিদিন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এই চিত্র কেবল অবহেলা নয়, বরং সার্বিক টেকসই উন্নয়ন ভাবনার মারাত্মক ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তোলে।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে কুড়িকাহুনিয়া-গড়াইমহল খাল হয়ে কপোতাক্ষ নদের পুরোনো লঞ্চঘাট এবং সনাতনকাটি-নাকনা সংযোগ সড়কের চার কিলোমিটার পথ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদের। যোগাযোগের এমন নজীরবিহীন ভঙ্গুরতার কারণে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, জরুরি মুমূর্ষু রোগী ও বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। একটি জনপদে বছরের পর বছর শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার এভাবে যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে না।

এই চরম ভোগান্তির পেছনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (াউবো) মধ্যকার প্রশাসনিক লালফিতার দৌরাত্ম্য ও সমন্বয়হীনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পাউবোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া কিংবা অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) অপেক্ষায় প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তা দেশের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের জরুরি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সমন্বিত সরকারি উদ্যোগের অভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বছরের পর বছর স্থবির হয়ে আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। কেবল ত্রাণ কিংবা অস্থায়ী সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে এই এলাকার স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। দরকার টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, যেখানে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতাপনগরের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের ইতি টানতে কপোতাক্ষ ও গড়াইমহল খালের সংযোগ সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং টেকসই কালভার্ট ও সেতু তৈরির কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে উপকূলীয় মানুষের মৌলিক যাতায়াত অধিকারকে আর আটকে রাখা সমীচীন হবে না।

 

কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

মো. মামুন হাসান

শৈশবের যশোর, কপোতাক্ষের পাড়, আর প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারে জেগে ওঠা এক প্রাণচঞ্চল জনপদ, এই স্মৃতিগুলো আজও আমার মনে অমলিন হয়ে আছে। যশোর জেলার সন্তান হিসেবে বলুহ দেওয়ানের মেলা আমার কাছে কেবল একটি লেখার বিষয় নয়, এটি আমার নিজের বেড়ে ওঠার একটি অংশ। আজ যখন সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলি, তখন আমার মনের গভীরে বারবার ভেসে আসে আমার নিজের জেলার এই প্রাচীন মেলার ছবি।

চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে, ঐতিহাসিক কপোতাক্ষ নদের পশ্চিম তীরে একটি উঁচু ঢিবির ওপর শায়িত রয়েছেন এ অঞ্চলের বিখ্যাত পীর বলুহ দেওয়ান। এই একই কপোতাক্ষকে নিয়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন তাঁর অমর পঙক্তি, যেখানে তিনি এই নদকে মায়ের দুধের সমান বলে অভিহিত করেছেন। এই মহান কবির স্মৃতিধন্য নদের তীরেই প্রায় তিনশ বছর ধরে বসে আসছে বলুহ দেওয়ানের মেলা, যা বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে প্রায় দশ দিন ধরে চলে, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ অনুমতির মাধ্যমে।

যশোরের মাটিতে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষের কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা একটি বিশেষ আবেগের নাম। ছোটবেলায় বাড়ির বড়দের মুখে শুনতাম, এই মেলা কেবল একটি বছরের অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এক অমূল্য উপহার। আজ যখন নিজেই একজন শিক্ষক, তখন বুঝি সেই কথাগুলোর গভীরতা কতটা। ইতিহাস কোনো স্থবির বিষয় নয়, বরং প্রতিটি প্রজন্মের হাত ধরে বয়ে চলা এক নিরন্তর প্রবাহ, এবং বলুহ দেওয়ানের মেলা তার এক জীবন্ত প্রমাণ।

দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা ব্যবসায়ীদের হাতে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার অর্থনীতির এক অনন্য চিত্র। বাঘারপাড়া থেকে আসা চটপটির দোকানি থেকে মাদারীপুরের প্রসাধনী বিক্রেতা, সবার কাছেই এই মেলায় আসাটা যেন এক অলিখিত পারিবারিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ বেতের সামগ্রী, নাগরদোলা, মিষ্টির দোকান, লোকসংগীতের আসর, সব মিলিয়ে এই মেলা হয়ে ওঠে আবহমান বাংলার প্রাণবন্ত এক প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, এই দৃশ্যগুলো কোনো পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে কম মূল্যবান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য এক বাস্তব ক্লাসরুম।

যশোরের সন্তান হিসেবে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের এই জেলা কেবল কবি মধুসূদনের জন্মভূমি নয়, এটি এমন এক ভূখ-, যেখানে লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সামাজিক সংহতির এক অসাধারণ মিশ্রণ ঘটেছে যুগ যুগ ধরে। বলুহ দেওয়ানের মেলায় ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণির ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একত্র হয় এক অভিন্ন আবেগের বন্ধনে। শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে এটি এক বিশেষ শিক্ষণীয় বিষয়, কারণ সামাজিক সম্প্রীতির যে পাঠ আমরা শ্রেণিকক্ষে দিতে চাই, তা এই মেলার মাটিতে বাস্তবে ঘটে চলে যুগের পর যুগ, কোনো বইয়ের সাহায্য ছাড়াই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলার পবিত্রতা ও শালীনতা রক্ষার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, কেননা একটি ঐতিহ্যবাহী লোকমেলার আসল সৌন্দর্য নিহিত থাকে তার সরলতা ও শুদ্ধতায়। আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য বুঝাতে না পারি, তবে একদিন এই মেলাগুলো কেবল ব্যবসায়িক আয়োজনে রূপ নিতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে তার আসল আত্মিক তাৎপর্য।

আমার পেশাগত জীবন যেহেতু পর্যটন ও হসপিটালিটি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাই আমি বিশেষভাবে বিশ্বাস করি, বলুহ দেওয়ানের মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসবগুলো আমাদের দেশীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রচার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই মেলাকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত করে তোলা সম্ভব, যা একদিকে যশোরের স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে আমাদের এই ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করবে। আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের বলি, নিজের জেলার এমন সম্পদ চিনতে না পারলে দূরের পর্যটন গন্তব্যের গল্প শুনিয়ে কোনো লাভ নেই।

যশোরের মাটিতে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে, এবং একজন শিক্ষক হিসেবে, আমার কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা শুধু অতীতের এক স্মারক নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়িত্বও। কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি আর বলুহ দেওয়ানের মাজারের নীরব উপস্থিতি যেন আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার মাটির গন্ধে, নদীর তীরে, আর হাজার বছরের লোকবিশ্বাসের ধারাবাহিকতায়। আমার প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে শুধু দর্শকের চোখে না দেখে, বরং নিজেদের শিকড় হিসেবে অনুভব করবে।

বলুহ দেওয়ানের মেলা তাই কেবল একটি মেলা নয়, এটি আমার জন্মভূমি যশোরের গর্ব, বাংলার আত্মার এক অক্ষয় প্রতীক, যা যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের গৌরবগাথা। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের, কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তার অতীতের প্রতি সম্মান থেকেই।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা

যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-এর আশপাশে ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের কাছাকাছি, কোথাও সড়কের পাশে আবার কোথাও ঘনবসতি এলাকার নিকটে ডাস্টবিনে দীর্ঘ সময় বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ, মাছি-মশা ও ছড়িয়ে পড়া ময়লার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ডাস্টবিন থাকা নিজেই সমস্যা নয়, বরং সমস্যা হচ্ছে ডাস্টবিনের অবস্থান, ধারণক্ষমতা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা।

 

সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হলে ডাস্টবিন উপচে সড়ক ও আশপাশে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকায় মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে ডাস্টবিনে দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়টি চলতি বছরের জুলাইয়ে সংবাদে উঠে আসে।

 

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাস্টবিনে প্রায় এক সপ্তাহ বর্জ্য অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সমস্যা হওয়ার কথা জানান। পরে সাতক্ষীরা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয় না, নিয়মিত অপসারণ ও যথাযথ স্থান নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শহরের ডে-নাইট কলেজ মোড় একটি ব্যস্ত এলাকা। এখানে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ সাতক্ষীরা ল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে।

 

‎এ ধরনের ব্যস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন শহরের ব্যস্ততম এলাকা প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে এইখানে ডাস্টবিনের অবস্থা এতটা বেহাল দশা যে রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় ডাস্টবিন বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতা দ্রুত পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে। শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকাও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথ। এসব এলাকার আশপাশে বর্জ্য জমে থাকলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেস। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডাস্টবিন থাকলেও সেটি যেন উপচে সড়কে বর্জ্য ছড়ানোর কারণ না হয়, সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের পাশের বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে
‎সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের আশপাশে বর্জ্য জমে থাকার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের দিনের একটি বড় সময় ওই পরিবেশেই কাটে।

‎পাশাপাশি এই ডাস্টবি থেকে নবড়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শ্রেণিকক্ষে দুর্গন্ধ এবং অস্বস্তিকার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকয় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাছি, মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়ে। ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে বর্জ্য বাইরে পড়ে যায়। এরপর পথচারী ও যানবাহনের চাকার সঙ্গে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

‎শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথ, শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক ভবনের একেবারে পাশে ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব ডাস্টবিন রাখা অপরিহার্য, সেগুলো ঢাকনাযুক্ত ও পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার করা।

‎তৃতীয়ত, প্রতিটি ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা।
‎চতুর্থত, ডাস্টবিন উপচে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যকর নজরদারি রাখা। পঞ্চমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও আবাসিক এলাকার জন্য আলাদা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা।

‎ষষ্ঠত, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা।
‎সাতক্ষীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাস্টবিন প্রয়োজন। কিন্তু ডাস্টবিন কোথায় থাকবে, কতক্ষণ সেখানে বর্জ্য থাকবে এবং কীভাবে তা অপসারণ করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তরও একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য জমে থাকলে বিষয়টি শুধু পরিবেশের নয়, শিক্ষা পরিবেশেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

 

তাই সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষের চলমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ নজরদারি ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য শহর গড়ার সামগ্রিক দায়িত্ব।

লেখক: গবেষক ও উদ্যোক্তা