বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

মো. মামুন হাসান

শৈশবের যশোর, কপোতাক্ষের পাড়, আর প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারে জেগে ওঠা এক প্রাণচঞ্চল জনপদ, এই স্মৃতিগুলো আজও আমার মনে অমলিন হয়ে আছে। যশোর জেলার সন্তান হিসেবে বলুহ দেওয়ানের মেলা আমার কাছে কেবল একটি লেখার বিষয় নয়, এটি আমার নিজের বেড়ে ওঠার একটি অংশ। আজ যখন সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলি, তখন আমার মনের গভীরে বারবার ভেসে আসে আমার নিজের জেলার এই প্রাচীন মেলার ছবি।

চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে, ঐতিহাসিক কপোতাক্ষ নদের পশ্চিম তীরে একটি উঁচু ঢিবির ওপর শায়িত রয়েছেন এ অঞ্চলের বিখ্যাত পীর বলুহ দেওয়ান। এই একই কপোতাক্ষকে নিয়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন তাঁর অমর পঙক্তি, যেখানে তিনি এই নদকে মায়ের দুধের সমান বলে অভিহিত করেছেন। এই মহান কবির স্মৃতিধন্য নদের তীরেই প্রায় তিনশ বছর ধরে বসে আসছে বলুহ দেওয়ানের মেলা, যা বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে প্রায় দশ দিন ধরে চলে, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ অনুমতির মাধ্যমে।

যশোরের মাটিতে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষের কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা একটি বিশেষ আবেগের নাম। ছোটবেলায় বাড়ির বড়দের মুখে শুনতাম, এই মেলা কেবল একটি বছরের অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এক অমূল্য উপহার। আজ যখন নিজেই একজন শিক্ষক, তখন বুঝি সেই কথাগুলোর গভীরতা কতটা। ইতিহাস কোনো স্থবির বিষয় নয়, বরং প্রতিটি প্রজন্মের হাত ধরে বয়ে চলা এক নিরন্তর প্রবাহ, এবং বলুহ দেওয়ানের মেলা তার এক জীবন্ত প্রমাণ।

দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা ব্যবসায়ীদের হাতে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার অর্থনীতির এক অনন্য চিত্র। বাঘারপাড়া থেকে আসা চটপটির দোকানি থেকে মাদারীপুরের প্রসাধনী বিক্রেতা, সবার কাছেই এই মেলায় আসাটা যেন এক অলিখিত পারিবারিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ বেতের সামগ্রী, নাগরদোলা, মিষ্টির দোকান, লোকসংগীতের আসর, সব মিলিয়ে এই মেলা হয়ে ওঠে আবহমান বাংলার প্রাণবন্ত এক প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, এই দৃশ্যগুলো কোনো পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে কম মূল্যবান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য এক বাস্তব ক্লাসরুম।

যশোরের সন্তান হিসেবে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের এই জেলা কেবল কবি মধুসূদনের জন্মভূমি নয়, এটি এমন এক ভূখ-, যেখানে লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সামাজিক সংহতির এক অসাধারণ মিশ্রণ ঘটেছে যুগ যুগ ধরে। বলুহ দেওয়ানের মেলায় ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণির ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একত্র হয় এক অভিন্ন আবেগের বন্ধনে। শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে এটি এক বিশেষ শিক্ষণীয় বিষয়, কারণ সামাজিক সম্প্রীতির যে পাঠ আমরা শ্রেণিকক্ষে দিতে চাই, তা এই মেলার মাটিতে বাস্তবে ঘটে চলে যুগের পর যুগ, কোনো বইয়ের সাহায্য ছাড়াই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলার পবিত্রতা ও শালীনতা রক্ষার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, কেননা একটি ঐতিহ্যবাহী লোকমেলার আসল সৌন্দর্য নিহিত থাকে তার সরলতা ও শুদ্ধতায়। আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য বুঝাতে না পারি, তবে একদিন এই মেলাগুলো কেবল ব্যবসায়িক আয়োজনে রূপ নিতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে তার আসল আত্মিক তাৎপর্য।

আমার পেশাগত জীবন যেহেতু পর্যটন ও হসপিটালিটি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাই আমি বিশেষভাবে বিশ্বাস করি, বলুহ দেওয়ানের মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসবগুলো আমাদের দেশীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রচার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই মেলাকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত করে তোলা সম্ভব, যা একদিকে যশোরের স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে আমাদের এই ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করবে। আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের বলি, নিজের জেলার এমন সম্পদ চিনতে না পারলে দূরের পর্যটন গন্তব্যের গল্প শুনিয়ে কোনো লাভ নেই।

যশোরের মাটিতে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে, এবং একজন শিক্ষক হিসেবে, আমার কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা শুধু অতীতের এক স্মারক নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়িত্বও। কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি আর বলুহ দেওয়ানের মাজারের নীরব উপস্থিতি যেন আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার মাটির গন্ধে, নদীর তীরে, আর হাজার বছরের লোকবিশ্বাসের ধারাবাহিকতায়। আমার প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে শুধু দর্শকের চোখে না দেখে, বরং নিজেদের শিকড় হিসেবে অনুভব করবে।

বলুহ দেওয়ানের মেলা তাই কেবল একটি মেলা নয়, এটি আমার জন্মভূমি যশোরের গর্ব, বাংলার আত্মার এক অক্ষয় প্রতীক, যা যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের গৌরবগাথা। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের, কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তার অতীতের প্রতি সম্মান থেকেই।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা

Ads small one

খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা আজ (বুধবার) ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

প্রধান অতিথি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলের সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত কোন ব্যক্তিকে কামড়ানোর মাধ্যমে এডিস মশা প্রথমে নিজে ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে মশা যখন কোনো সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, তখন তার রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এডিস মশা মূলত ঘরের ভেতরে বা চারপাশে জমে থাকা পরিস্কার পানিতে ডিম পাড়ে। বর্ষাকালে ড্রাম, টায়ার, ফুলের টব বা ডাবের খোসার মতো পাত্রে পানি জমে থাকায় মশার বংশবৃদ্ধি পায় এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। তিনি বলেন, আমরা যার যার অবস্থান থেকে নিজ অফিস, আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিছন্ন রাখি, এডিস মশা জমে এমন স্থানকে চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করি, তাহলে ডেঙ্গুর হাত থেকে সকলেই রক্ষা পাবো।

খুলনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ) মোঃ আনিসুজ্জামান সিকদার, পরিচালক (পরিকল্পনা বিভাগ) জনাব মোঃ বজলুর রশিদ ও খুলনা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো: শওকত আলী। খুলনা বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কর্মশালায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার উপপরিচালক, মডেল মসজিদের ইমাম, কওমী মাদরাসার মুহতামিম, আলেম-ওলামাসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনার ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং এলাকায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারখানা মালিকের জেল ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারখানা মালিকের জেল ও জরিমানা

তালায় নকল সার ও কীটনাশক কারখানায় র‌্যাবের অভিযান

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: সাতক্ষীরার তালায় নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশক তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৬ বিপুল পরিমানে ভেজাল ও নকল রাসায়নিক কীটনাশক, ওষুদসহ প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মালামাল জব্দ করেছে। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতে কারখানা মালিক মশিয়ার রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ১ মাসের কারাদন্ড এবং জরিমানা অনাদায়ের আরও ১৫দিনের কারাদন্ড প্রদানসহ ভেজাল কৃষি উপকরণ ধ্বংস করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে র‌্যাবের ্েকটি টিম উপজেলার তৈতুলিয়া ইউনিয়নের লাউতাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুদ ও মালামাল জব্দ করার পর ভ্রাম্যমান আদালত সেখানে পৌছে ঘটনার সত্যতা পেয়ে এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন।

জানা গেছে, র‌্যাব-৬, সিপিসি-১, সাতক্ষীরা এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) জাইন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদ’র নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল এদিন সকালে তালার লাউতাড়া গ্রামে মশিয়ার রহমান মোড়লের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মশিয়ারের বসত বাড়ি, গোয়াল ঘর, ধানের গোলাঘর ও বাগানের মধ্যে পরিত্যাক্ত একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি করে বিপুল পরিমান নকল ওষুধ, কীটনাশক ও রাসায়নিক কেমিক্যালসহ সেগুলো বাজারজাত করার জন্য ঢাকা ও গাজাীপুর অঞ্চলের ঠিকানা ব্যবহার করা কার্ডন প্লাস, নেচার অ্যান্ড কেয়ার অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের ক্যাটলিন, এবিসি এগ্রোভেট ডিভিশনের সুলবেন, আল-কেমি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ফিস কার্ব, পাওয়ার শট, এমি-টপ, পাইডিনো প্লাস, উইনকডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিাকানা সম্বলিত প্লাস্টিকের কৌটা, প্যাকেট ও মোড়ক উদ্ধার করে। এঘটনায় তৎক্ষাত র‌্যাব সদস্যরা মশিয়ার রহমানকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। ধৃত মশিয়ার রহমান লাউতাড়া গ্রামের মৃত ইমান আলী মোড়লের ছেলে এবং লাউতাড়া বাজারে তার মেসার্স জাকির ট্রেডার্স নামের একটি সার ও ওষুদের দোকান রয়েছে।

অভিযান শেষে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান বালাই নাশক আইনে মশিয়ার রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। আর জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫দিনের জেলসহ জব্দকৃত ভেজাল কৃষি উপকরণ ধ্বংসের আদেশ দেয়া হয়।

র‌্যাব’র কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) জাইন উদ্দিন মোহাম্মদ যিয়াদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মশিয়ারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি থেকে নকল ও ভেজাল সার, ওষুদ, কীটনাশক ও এসব তৈরি রাসায়নিক উপকরনসহ বিভিন্ন কৃষি পন্য জব্দ করা হয়। এসব নকল পণ্য বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করা হতো। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে নকল এসব পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসময় তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জি.এম. শাওন জানান, মেসার্স জাকির ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং মশিয়ার রহমান বিসিআইসি সারের সাব-ডিলার পরিচয় দিলেও তার কোনও লাইসেন্স নেই। অবৈধ ভাবে তিনি সার ও কীটনাশকের ব্যবসা পরিচালনা করাসহ নকল ও ভেজাল কৃষি ওষুদ এবং কীটনাশক উৎপাদন করছিল। নকল ও ভেজাল কৃষি উপকরণ ব্যবহারের ফলে ফসলের উৎপাদন ব্যহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। কৃষি উপকরণের মান নিশ্চিত করতে এবং নকল-ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

থানা সূত্রে জানা গেছে, দন্ডাদেশ প্রাপ্ত মশিয়ার রহমানকে এদনি সাতক্সীরা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ভেজাল ও নকল কৃষি উপকর ধ্বংস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মশিয়ার রহমান সরদার লাউতাড়া এলাকায় বসবাসকারী কেশবপুর এলাকার এক চিহ্নিত প্রতারক জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগীতায় প্রায় ১৮ বছর ধরে নিজ বাড়িতে নকল ও ভেজাল কীটনাশক, ওষুধ ও সার তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

 

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে আমদানিতে কঠোর নজরদারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ঠেকাতে আমদানিতে কঠোর নজরদারি

এম শফিকুল ইসলাম: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের স্থল ও সামুদ্রিক বন্দরগুলো দিয়ে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ও অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ঠেকাতে আমদানিতে নজরদারি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সে ক্ষেত্রে অর্থদ-ের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে বলে কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে।

ভোমরা সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপকের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ আমদানিকারক, বিদেশি রপ্তানিকারক, পণ্যের বিবরণ, মূল্য ও বাণিজ্যিক নথিপত্র নিবিড়ভাবে যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বড় অঙ্কের এলসি খোলার আগেই তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তদারকিতে আসবে, যা অর্থ পাচার রোধের পাশাপাশি আমদানিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াবে।

সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধান সমন্বয় করার পাশাপাশি বড় অঙ্কের এলসি খোলা, নথিপত্র সংরক্ষণ ও রিপোর্টিংয়ের বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য স্পষ্ট করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

ভোমরা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার এ কে এম জামিউল আলম জানান, প্রশাসনিক দপ্তর থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের খোলা এলসি যাচাইসহ অনলাইনে আমদানি তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ও কমিশনারের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বড় অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং), ভুল পণ্যের বিবরণ উপস্থাপন এবং বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার রোধ করা। কোনো পণ্যের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম দেখিয়ে টাকা বিদেশে পাঠানো হচ্ছে কি না, তা এলসি খোলার আগেই যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের পরিচয়, পণ্যের দাম এবং নথিপত্র পরীক্ষার এই তিন স্তরের নজরদারি কার্যকর হলে অর্থ পাচারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।