বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

চায়না দুয়ারী জালে বিপন্ন মিঠাপানির মৎস্যভান্ডার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
চায়না দুয়ারী জালে বিপন্ন মিঠাপানির মৎস্যভান্ডার

মো. খলিলুর রহমান

আমরা মাছে ভাতে বাঙালি এই চিরন্তন পরিচয়টি আজ কেবলই ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়া একটি নাম মাত্র। আমাদের নদী, নালা, খাল বিল আর উন্মুক্ত জলাশয়গুলো একসময় প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন সুস্বাদু দেশীয় মাছে ভরপুর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক শ্রেণির অতি লোভী অসাধু মৎস্য শিকারির নিষ্ঠুরতা এবং নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের অবাধ ও ধ্বংসাত্মক ব্যবহারের কারণে আমাদের জলজ জীববৈচিত্র্য আজ এক চরম বিপর্যয়ের মুখে।

 

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো প্রশাসনের নাকের ডগায় এই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আর আমাদের চোখের সামনেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শত শত প্রজাতির দেশীয় প্রজাতির মাছ। এখনই যদি এই মরণফাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম দেশীয় মাছের স্বাদ তো দূরের কথা, কেবল বইয়ের পাতায় এর ছবি দেখবে। চায়না দুয়ারী জাল মুলত জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য এক নিষ্ঠুর ও আধুনিক ‘টাইম বোমা’ বলা যায়।

 

চায়না দুয়ারী জাল স্থানীয়ভাবে রিং জাল বা ঢোল জাল নামেও পরিচিত। মূলত চীন দেশ থেকে আমদানিকৃত অতি সূক্ষ্ম নাইলন সুতা এবং লোহার রিং দিয়ে তৈরি এক প্রকার বহুতল বিশিষ্ট ফাঁদ। এটি সাধারণ কোনো মাছ ধরার জাল নয়, বরং জলজ প্রাণীর জন্য তৈরি একটি নিখুঁত কসাইখানা। এই জালের বুনন এতই ঘন এবং সূক্ষ্ম যে, পানির আণুবীক্ষণিক পোকা ছাড়া আর কোনো জীবন্ত প্রাণী এর ভেতর থেকে বের হতে পারে না। জলাশয়ের একেবারে তলদেশে আড়াআড়িভাবে এই জাল পেতে রাখা হয়।

 

প্রবহমান পানির স্রোতে দেশীয় মাছের রেণু পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ, কাঁকড়া, কুঁচে, ব্যাঙ, এমনকি পানির সাপ ও কচ্ছপ পর্যন্ত একবার এই জালের সুড়ঙ্গে ঢুকলে আর বের হওয়ার কোনো পথ পায় না। জালের ভেতরে আটকা পড়া মাছগুলো অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করতে করতে জালের ভেতরেই মারা যায় এবং পচে নষ্ট হয়। এই চরম নিষ্ঠুরতার কারণে পরিবেশবিদরা একে জলজ পরিবেশের জন্য ‘টাইম বোমা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

 

দেশীয় মৎস্যভা-ারে মহাশ্মশানের হাতছানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে এখন চায়না দুয়ারী জালের জয়জয়কার। এই জালের কারণে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধি সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গেছে। আষাঢ়-শ্রাবণ বা বর্ষার শুরুতে যখন দেশীয় মাছ ডিম ছাড়ে এবং নদী-নালা নতুন পোনা মাছে ভরে ওঠে, ঠিক তখনই অসাধু চক্র এই জালগুলো পেতে বসে। ফলে কোটি কোটি রেণু পোনা এবং ডিমভর্তি মা মাছ ডিম ছাড়ার আগেই এই জালে আটকা পড়ে মারা যায়। আমাদের চিরচেনা সুস্বাদু শিং, মাগুর, কই, টেংরা, পাবদা, বোয়াল, আইড়, চিতল, শোল, টাকি, গজার, বাইম, ফলই, খলিশা ও ভেদা মাছের মতো প্রজাতিগুলো আজ হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ এই জালের নির্বিচার ব্যবহার।

 

মাছের পাশাপাশি খালের ইকোসিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুজীব ও উপকারী জলজ প্রাণীগুলো এই জালে মারা পড়ায় পানির স্বাভাবিক ফিল্টারিং ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে খালের পানি দ্রুত দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও লোকদেখানো অভিযানের তামাশা বাংলাদেশ মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সাড়ে চার সেন্টিমিটার বা তার কম ব্যাসের কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারীসহ সব ধরনের সুক্ষ্ম ফাঁদ তৈরি, আমদানি, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি অজামিনযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।

 

আইন এত কড়া হওয়া সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন কেন শূন্য? মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো কিছু অভিযান চালায়, নদী বা খাল থেকে গুটিকয়েক জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, এই নিষিদ্ধ জাল আকাশ থেকে উড়ে আসে না। প্রতিটি স্থানীয় বাজারে, বিশেষ করে কাপড়ের দোকান বা মাছের আড়তের পেছনের গোপন গুদামে এই জাল দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারক ও বড় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, শুধুমাত্র প্রান্তিক জেলেদের পেছনে তাড়া করার এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা দিয়ে এই জাতীয় অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়।

 

আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাব এবং কিছু অসাধু মাঠকর্মীর গোপন যোগসাজশের কারণেই আজ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবসা হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। আমাদের জাতীয় মৎস্য সম্পদকে চিরতরে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে হলে এখন আর শুধু আবেদন-নিবেদনে কাজ হবে না নিতে হবে কঠোর ও কড়া প্রশাসনিক অ্যাকশন। সীমান্ত দিয়ে কীভাবে এই নিষিদ্ধ জাল দেশে ঢুকছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

 

কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগকে কঠোর হতে হবে। স্থানীয় হাট-বাজারের যেসব আড়তে বা দোকানে এই জাল বিক্রি হয়, সেগুলোতে সিলগালা করে মালিকদের জেলহাজতে পাঠাতে হবে। লোকদেখানো অভিযান বন্ধ করে প্রতি সপ্তাহে নদী ও উন্মুক্ত খালে ঝটিকা অভিযান চালাতে হবে। জাল যার কাছে পাওয়া যাবে, তাকে শুধু জরিমানা নয়, সরাসরি কারাদ- দিতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ ও যুব সমাজকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতন নাগরিকদের নিয়ে ‘মৎস্য রক্ষা স্কোয়াড’ গঠন করতে হবে। কোনো খালে বা জলাশয়ে চায়না দুয়ারী জাল দেখলে তা সাথে সাথে প্রশাসনকে অবহিত করা বা সামাজিক উদ্যোগে তা ধ্বংস করার লাইসেন্স দিতে হবে।

 

প্রকৃতির দেওয়া অবাধ মৎস্যসম্পদ কোনো একক ব্যক্তির বা সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সামান্য কিছু অর্থপিপাসু মানুষের লোভের বলি হতে পারে না কোটি কোটি মানুষের আমিষের উৎস ও দেশের জলজ পরিবেশ। চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে এখনই যদি রাষ্ট্র এবং সমাজ সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা না করে, তবে অতি শীঘ্রই আমাদের মুক্ত জলাশয়গুলো মাছহীন মহাশ্মশানে পরিণত হবে। প্রশাসনকে অনুরোধÑআইওয়াশ বন্ধ করুন, কঠোর হস্তে চায়না দুয়ারী জাল উপড়ে ফেলুন, আমাদের দেশীয় মাছকে বাঁচতে দিন।

 

Ads small one

কলারোয়ায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া থানা-পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ডিউটি চলাকালে ৫০ পিস ইয়াবা বড়িসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কলারোয়া বাজারের গরুর হাট মোড়সংলগ্ন বেত্রবতী ব্রিজের ওপর এই আটকের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে কলারোয়া থানা-পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট ডিউটি চলাকালে দুই ব্যক্তি এলে তাঁদের গতিপথ রোধ করে দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের মৃত মাজেদ গাইনের ছেলে বেলাল হোসেন ও শংকরপুর গ্রামের ইসলাম আলী সানার ছেলে সাজু সানার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

 

মাদক বহনের দায়ে পুলিশ তাঁদের আটক করে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এই আটক ও মাদক উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কালিগঞ্জে বিএনপি নেতা ‘ছোট বাবু’ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে বিএনপি নেতা ‘ছোট বাবু’ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হেমায়েত আলী ওরফে ‘ছোট বাবু’কে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির প্যাডে দেওয়া এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি সৈয়দ হেমায়েত আলীর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, হেমায়েত আলীর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নীতিমালা পরিপন্থী কর্মকা-ে জড়িত থাকা, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা, আওয়ামী লীগের কর্মকা-ে সহায়তা, নারী ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ দলীয় ও সংগঠনবিরোধী কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থাকার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ দলীয়ভাবে পর্যালোচনা ও বিবেচনার পর তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হেমায়েত আলীকে ৯ নম্বর মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক কর্মকা-ে তাঁর অংশগ্রহণ বা প্রতিনিধিত্ব দলীয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে না বলেও চিঠিতে জানানো হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। চিঠিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নির্দেশক্রমে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।

 

চিঠির অনুলিপি দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, পাঁচ নারীর আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, পাঁচ নারীর আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকায় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে প্রতিবেশীর সীমানা দখলের মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আরিফা খাতুন নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। এই নির্মাণকাজ বন্ধে পৌর প্রশাসকের কাছে যৌথ লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী পাঁচ নারী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ওই নারী তাঁদের হয়রানি ও মামলার হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৭৮৮, তারিখ: ১২/০৯/২০২৬) করা হয়েছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, কামালনগর গ্রামের পলাশপোল মৌজার তফসিলভুক্ত জমিতে বহুতল ভবনের কাজ শুরু করেন আরিফা খাতুন। এতে পৌরসভার নির্ধারিত খালি জায়গা রাখার নিয়ম মানা হয়নি। ভবনের নিচের তলার বিম প্রতিবেশীদের সীমানায় এবং প্রথম তলার ছাদ চলাচলের পথের ওপর প্রায় ৫ ফুট বাড়িয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মাহমুদা খাতুন, কামরুল নাহার, নিলুফা ইয়াসমীন, খালেদা বেগম ও সাহিদা বেগম জানান, অবৈধ নির্মাণের ফলে তাঁদের চলাচলের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধা দিলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।