বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

খোলপাটুয়া নদীতে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন, ভাঙন বাড়ার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
খোলপাটুয়া নদীতে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন, ভাঙন বাড়ার শঙ্কা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলবর্তী ইউনিয়নের খোলপাটুয়া নদীতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, ফসলি জমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ার পাশাপাশি নদীভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও রাত গভীর হলে খোলপাটুয়া নদীর কয়েকটি পয়েন্টে বালু উত্তোলনের তৎপরতা শুরু হয়। নদী থেকে উত্তোলন করা বালু নৌযান বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীর কূলবর্তী এলাকায় বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হলে রাতের আঁধারে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।

বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রটি নদীর নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার ও বালু উত্তোলনের বিনিময়ে স্থানীয়ভাবে অর্থ আদায় করছে-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে কারা এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত এবং কী পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত ও রাতের বেলায় অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী, আইন ও সরকারি অনুমোদনের বাইরে ইচ্ছামতো নদী বা অন্য কোনো স্থান থেকে বালু ও মাটি উত্তোলনের সুযোগ নেই। বিশেষ করে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর, বাঁধ, সড়ক, সেতু, জনবসতি, কৃষিজমি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়।

আইনবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও নৌযানের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

খোলপাটুয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন একটি এলাকায় অপরিকল্পিত বা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও পানির প্রবাহে পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, নদীর তীরের কাছাকাছি থেকে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হলে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় তীরের মাটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এতে বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে-দীর্ঘদিন ধরে যদি রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?

স্থানীয়দের দাবি, শুধু দিনের বেলায় অভিযান পরিচালনা না করে রাতের সময়েও নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদীর কোন অংশ বালুমহাল হিসেবে অনুমোদিত কি না, সেখানে বালু উত্তোলনের সরকারি অনুমতি রয়েছে কি না এবং অনুমোদিত থাকলেও নির্ধারিত শর্ত মানা হচ্ছে কি না-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার।

খোলপাটুয়া নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় মানুষের বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষায় নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি।

তারা বালু উত্তোলনের স্থানগুলো সরেজমিন পরিদর্শন, রাতের বেলায় অভিযান, উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌযান ও সরঞ্জামের বৈধতা যাচাই এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

খোলপাটুয়া নদী উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই নদী থেকে বালু উত্তোলন বৈধ অনুমোদনের আওতায় হচ্ছে কি না, সেটি যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরী।

Ads small one

খুলনায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
খুলনায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

উপআঞ্চলিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আজ (বুধবার) সকালে খুলনা জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি একটি মেধাবী ও সুস্থ জাতি গঠনে শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য শিক্ষা। শারীরিক সুস্থতা ও সুন্দর দেহ গঠনের পাশাপাশি মানুষের মন এবং মস্তিষ্ককে সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই তরুণ সমাজকে সুনাগরিক ও আগামী দিনের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ালেখার পাশাপাশি মাঠের ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার বাছাইকৃত ক্রীড়াবিদরা অংশ নিয়েছেন। এখান থেকে যারা সফল ও বিজয়ী হবেন, তারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের মূল প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করবেন। খুলনা অঞ্চল ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি উর্বর ভূমি। এখানে অনেক দক্ষ ক্রীড়াবিদ রয়েছেন এবং এই আয়োজন থেকে আগামীতে দেশের জন্য আরও বড় বড় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে আসবে। একই সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল ক্রীড়াবিদকে নিজেদের সর্বোচ্চ নৈপুণ্য ও প্রতিভা প্রকাশ করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান ও জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক মো: কামরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগের ১০ জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় থেকে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

কলারোয়ার খোরদো বাওড়ে গাছের চারা রোপণ করলেন জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার খোরদো বাওড়ে গাছের চারা রোপণ করলেন জেলা প্রশাসক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কপোতাক্ষ খোরদো বাওড় এলাকায় এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাছের চারা রোপণ করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিস কাউসার আজিজ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে চারা রোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।

বৃক্ষরোপণকালে জেলা প্রশাসক মিস কাউসার আজিজ বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। খোরদো বাওড় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য সুন্দর রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বাওড় এলাকাসহ সমগ্র উপজেলায় সবুজায়ন প্রসারে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ উদ্যোগে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করার আহ্বান জানান। উক্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, বাওড় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জুলফিকার আলী কলারোয়া থেকে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজে পরিস্কার-পরিছন্ন অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজে পরিস্কার-পরিছন্ন অভিযান

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় “নিজ আঙ্গিনা পরিস্কার রাখি,সবাই মিলে সুস্থ থাকি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিরোধে পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের উদ্যোগে কলেজের আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্ধোধন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে উক্ত উদ্বোধনী কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বিশিষ্ট ডাঃ আব্দুল মজিদ। সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ।

এছাড়াও বিএনপি নেতা তুষার কান্তি মন্ডল, সেলিম রেজা লাকী, কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুসফেকা হুমায়ুন কবির পিন্টু, মোঃ শফিকুল ইসলামসহ সকল শিক্ষকবৃন্দ। উক্ত উদ্বোধনী কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উৎপল কুমার বাইন।

এ সময় প্রধান অতিথি ডাঃ আব্দুল মজিদ বলেন, পাইকগাছায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি ঘটছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের সকালের বাড়ী- ঘর ও পরিবেশ পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। প্রসঙ্গত, কার্যক্রম উদ্বোধনীর মধ্যে দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের চারপাশ পরিস্কার পরিছন্ন করা হয়।