বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর ভোজগাতি ইউনিয়নে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামীম হোসেনের উদ্যোগে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এ কর্মসূচি চলবে।

 

এরই অংশ হিসেবে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানো ও পরিচর্যার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা হয়।

 

কর্মসূচি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামীম হোসেন বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন খাত নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সিটিকে নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

কর্মসূচিতে শামীম হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রহমত আলী, ইউনিয়ন টিমের সদস্য মো. ওহেদুজ্জামান চঞ্চলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Ads small one

পানিতে তলিয়ে আছে খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
পানিতে তলিয়ে আছে খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ৫৮ নম্বর খালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে তলিয়ে থাকে। এতে বিদ্যালয়ের কয়েক শ’ শিক্ষার্থীর খেলাধুলা ও শরীরচর্চা ব্যাহত হচ্ছে। কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ বর্ষার পানিতে তলিয়ে আছে। মাঠে খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বারান্দায় সময় কাটাচ্ছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শুধু বর্ষা মৌসুমেই নয়, বছরের প্রায় ছয় থেকে সাত মাস মাঠে পানি জমে থাকে। বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ চলছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান জানান, বর্ষাকালে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরত ও খেলাধুলা বন্ধ থাকে। এলাকা নিচু হওয়ায় পানি দ্রুত সরতেও পারে না। তিনি বিদ্যালয়ের মাঠটি দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অভিভাবকেরা জানান, মাঠে পানি জমে থাকায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় উদ্বেগে থাকতে হয়। পানির মধ্যে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত মাঠ উঁচু করার দাবি জানান তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিকেলে এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবকেরা এই মাঠে খেলাধুলা করে। মাঠটি সংস্কার করা হলে সবার জন্যই খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আম্ফানের ছয় বছর ও প্রতাপনগরবাসীর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আম্ফানের ছয় বছর ও প্রতাপনগরবাসীর দাবি

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা কীভাবে জনজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বর্তমান চিত্র তার এক জ্বলন্ত দলিল। ২০২০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর দীর্ঘ ছয় বছর কেটে গেলেও সেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মিত হয়নি। ফলে ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে আজও প্রতিদিন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এই চিত্র কেবল অবহেলা নয়, বরং সার্বিক টেকসই উন্নয়ন ভাবনার মারাত্মক ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তোলে।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে কুড়িকাহুনিয়া-গড়াইমহল খাল হয়ে কপোতাক্ষ নদের পুরোনো লঞ্চঘাট এবং সনাতনকাটি-নাকনা সংযোগ সড়কের চার কিলোমিটার পথ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদের। যোগাযোগের এমন নজীরবিহীন ভঙ্গুরতার কারণে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, জরুরি মুমূর্ষু রোগী ও বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। একটি জনপদে বছরের পর বছর শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার এভাবে যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে না।

এই চরম ভোগান্তির পেছনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (াউবো) মধ্যকার প্রশাসনিক লালফিতার দৌরাত্ম্য ও সমন্বয়হীনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পাউবোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া কিংবা অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) অপেক্ষায় প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তা দেশের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের জরুরি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সমন্বিত সরকারি উদ্যোগের অভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বছরের পর বছর স্থবির হয়ে আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। কেবল ত্রাণ কিংবা অস্থায়ী সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে এই এলাকার স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। দরকার টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, যেখানে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতাপনগরের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের ইতি টানতে কপোতাক্ষ ও গড়াইমহল খালের সংযোগ সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং টেকসই কালভার্ট ও সেতু তৈরির কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে উপকূলীয় মানুষের মৌলিক যাতায়াত অধিকারকে আর আটকে রাখা সমীচীন হবে না।

 

কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
কপোতাক্ষের তীরে তিন শ’ বছরের ঐতিহ্য

মো. মামুন হাসান

শৈশবের যশোর, কপোতাক্ষের পাড়, আর প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারে জেগে ওঠা এক প্রাণচঞ্চল জনপদ, এই স্মৃতিগুলো আজও আমার মনে অমলিন হয়ে আছে। যশোর জেলার সন্তান হিসেবে বলুহ দেওয়ানের মেলা আমার কাছে কেবল একটি লেখার বিষয় নয়, এটি আমার নিজের বেড়ে ওঠার একটি অংশ। আজ যখন সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলি, তখন আমার মনের গভীরে বারবার ভেসে আসে আমার নিজের জেলার এই প্রাচীন মেলার ছবি।

চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামে, ঐতিহাসিক কপোতাক্ষ নদের পশ্চিম তীরে একটি উঁচু ঢিবির ওপর শায়িত রয়েছেন এ অঞ্চলের বিখ্যাত পীর বলুহ দেওয়ান। এই একই কপোতাক্ষকে নিয়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন তাঁর অমর পঙক্তি, যেখানে তিনি এই নদকে মায়ের দুধের সমান বলে অভিহিত করেছেন। এই মহান কবির স্মৃতিধন্য নদের তীরেই প্রায় তিনশ বছর ধরে বসে আসছে বলুহ দেওয়ানের মেলা, যা বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে প্রায় দশ দিন ধরে চলে, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ অনুমতির মাধ্যমে।

যশোরের মাটিতে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষের কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা একটি বিশেষ আবেগের নাম। ছোটবেলায় বাড়ির বড়দের মুখে শুনতাম, এই মেলা কেবল একটি বছরের অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া এক অমূল্য উপহার। আজ যখন নিজেই একজন শিক্ষক, তখন বুঝি সেই কথাগুলোর গভীরতা কতটা। ইতিহাস কোনো স্থবির বিষয় নয়, বরং প্রতিটি প্রজন্মের হাত ধরে বয়ে চলা এক নিরন্তর প্রবাহ, এবং বলুহ দেওয়ানের মেলা তার এক জীবন্ত প্রমাণ।

দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা ব্যবসায়ীদের হাতে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার অর্থনীতির এক অনন্য চিত্র। বাঘারপাড়া থেকে আসা চটপটির দোকানি থেকে মাদারীপুরের প্রসাধনী বিক্রেতা, সবার কাছেই এই মেলায় আসাটা যেন এক অলিখিত পারিবারিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ বেতের সামগ্রী, নাগরদোলা, মিষ্টির দোকান, লোকসংগীতের আসর, সব মিলিয়ে এই মেলা হয়ে ওঠে আবহমান বাংলার প্রাণবন্ত এক প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, এই দৃশ্যগুলো কোনো পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে কম মূল্যবান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার জন্য এক বাস্তব ক্লাসরুম।

যশোরের সন্তান হিসেবে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের এই জেলা কেবল কবি মধুসূদনের জন্মভূমি নয়, এটি এমন এক ভূখ-, যেখানে লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সামাজিক সংহতির এক অসাধারণ মিশ্রণ ঘটেছে যুগ যুগ ধরে। বলুহ দেওয়ানের মেলায় ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণির ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একত্র হয় এক অভিন্ন আবেগের বন্ধনে। শিক্ষক হিসেবে আমার কাছে এটি এক বিশেষ শিক্ষণীয় বিষয়, কারণ সামাজিক সম্প্রীতির যে পাঠ আমরা শ্রেণিকক্ষে দিতে চাই, তা এই মেলার মাটিতে বাস্তবে ঘটে চলে যুগের পর যুগ, কোনো বইয়ের সাহায্য ছাড়াই।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলার পবিত্রতা ও শালীনতা রক্ষার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মেলা পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়, কেননা একটি ঐতিহ্যবাহী লোকমেলার আসল সৌন্দর্য নিহিত থাকে তার সরলতা ও শুদ্ধতায়। আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য বুঝাতে না পারি, তবে একদিন এই মেলাগুলো কেবল ব্যবসায়িক আয়োজনে রূপ নিতে পারে, হারিয়ে যেতে পারে তার আসল আত্মিক তাৎপর্য।

আমার পেশাগত জীবন যেহেতু পর্যটন ও হসপিটালিটি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাই আমি বিশেষভাবে বিশ্বাস করি, বলুহ দেওয়ানের মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসবগুলো আমাদের দেশীয় পর্যটন শিল্পের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, প্রচার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই মেলাকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত করে তোলা সম্ভব, যা একদিকে যশোরের স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে আমাদের এই ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করবে। আমি প্রায়ই আমার শিক্ষার্থীদের বলি, নিজের জেলার এমন সম্পদ চিনতে না পারলে দূরের পর্যটন গন্তব্যের গল্প শুনিয়ে কোনো লাভ নেই।

যশোরের মাটিতে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে, এবং একজন শিক্ষক হিসেবে, আমার কাছে বলুহ দেওয়ানের মেলা শুধু অতীতের এক স্মারক নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়িত্বও। কপোতাক্ষের কলকল ধ্বনি আর বলুহ দেওয়ানের মাজারের নীরব উপস্থিতি যেন আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার মাটির গন্ধে, নদীর তীরে, আর হাজার বছরের লোকবিশ্বাসের ধারাবাহিকতায়। আমার প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্যকে শুধু দর্শকের চোখে না দেখে, বরং নিজেদের শিকড় হিসেবে অনুভব করবে।

বলুহ দেওয়ানের মেলা তাই কেবল একটি মেলা নয়, এটি আমার জন্মভূমি যশোরের গর্ব, বাংলার আত্মার এক অক্ষয় প্রতীক, যা যুগ যুগ ধরে বহন করে চলেছে আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের গৌরবগাথা। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের, কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তার অতীতের প্রতি সম্মান থেকেই।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা