রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: কপিলমুনিতে সেই শিক্ষক চূড়ান্ত বরখাস্ত, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: কপিলমুনিতে সেই শিক্ষক চূড়ান্ত বরখাস্ত, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মিলন কুমার রায়কে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা মেলার পর যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে এই শিক্ষকের চূড়ান্ত বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রীড়া শিক্ষক মিলন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ও ২৪ অক্টোবর এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও উত্যক্ত করার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

পরবর্তীতে এই ঘটনা তদন্তে পাইকগাছা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ঈমান উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মিলন কুমার রায়কে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষক মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা বোর্ড তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে।”

এদিকে বিতর্কিত এই শিক্ষকের বিদায়ের খবরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সেখানে একটি আনন্দ সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক খান জিনারুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মাওলানা আশরাফ হুসাইন, কুদ্দুস গাজী, মোস্তফা সরদার এবং শিক্ষার্থী মিম ও তাবাসুম। বক্তারা শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক মিলন কুমার রায় নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে বরখাস্তের বিষয়টি আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমি নির্দোষ। পুরো বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”

 

Ads small one

শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে পানিতে ডুবে শিশুর মত্যু

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানিতে ডুবে তালহা নামে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সৈয়াদালীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সে একই গ্রামের নুর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে।

নিহত শিশুর স্বজনদের দাবি পরিবারের সদস্যরা গৃহস্থলীর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় বারান্দা তালহা গুমিয়ে ছিল। একপর্যায়ে সবার অজান্তে শিশুটি হামাগুড়ি দিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরক্ষনে বারান্দায় না পেয়ে শিশুটিকে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিশুটিকে দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

 

স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

স্বদেশ ইযুথ গার্লস গ্রুপের আহবায়ক শাহানাজ পারভীন এর সভাপতিত্বে রবিবার (১৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় স্বদেশ অফিস হলরুমে ইয়ুথ গার্লস গ্রুপ সদস্যদের সাথে দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সভায় এলাকার মানবাধিকার পরিস্থিতি ও এলাকাতে সম্পতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

সদস্যদের উদ্যোগে নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোজখবর নেওয়া সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত সভায় গ্রুপের ১৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্বদেশ সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রম অফিসার মো: আজাহারুল ইসলাম, প্যারালিগ্যাল মো: শরিফুল ইসলাম ও হিসাব রক্ষক তাপস বিশ^াস প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস: মহাকাশ গবেষণার আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস: মহাকাশ গবেষণার আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। নাসার অ্যাপোলো-১১ মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের মাটিতে পদার্পণ করে এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা করে। নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে পদচারণা করেন এবং মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউলে থেকে কক্ষপথে অবস্থান করেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে সম্মান জানাতে এবং মহাকাশ গবেষণার অগ্রগতিকে তুলে ধরতে প্রতি বছর ২০ জুলাই বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস’ পালিত হয়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র স্থায়ী প্রাকৃতিক উপগ্রহ এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম উপগ্রহ। প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সঙ্গে এক বিশাল বস্তুর সংঘর্ষে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ থেকে এর জন্ম। প্রায় ৩,৪৭৪ কিলোমিটার ব্যাসের এই উপগ্রহটির নিজস্ব কোনো আলো নেই; এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং এর মহাকর্ষীয় টানের ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। পৃথিবী থেকে গড়ে প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাঁদ প্রায় ২৭.৩ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর এক পূর্ণ চন্দ্রকলার চক্র সম্পন্ন করতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৫ দিন।

পবিত্র আল-কোরআনের বর্ণনায় চাঁদ সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি ও তাঁর ক্ষমতার নিদর্শন। মানবজাতির সময় গণনার সুবিধার্থে চাঁদকে বর্ধনশীল ও ক্ষয়িষ্ণু বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচালিত করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে চন্দ্রবর্ষ, মাস এবং হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের সময় নির্ধারিত হয়। চাঁদ একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও সুনির্দিষ্ট নিয়মে আবর্তিত হয়, যার প্রভাবে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয় এবং মহাজাগতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। কোরআনে চাঁদকে ‘নূর’ বা প্রতিফলিত আলো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এর নিজস্ব আলো নেই, বরং এটি সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। হাদিসেও নতুন চাঁদ দেখে ইসলামি মাস ও ইবাদতের সময় নির্ধারণের নির্দেশনা রয়েছে, যা সময়ানুবর্তিতা, কৃতজ্ঞতা, জ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞান গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই কমান্ডার নিল আর্মস্ট্রং এবং লুনার মডিউল পাইলট বাজ অলড্রিন ‘ইগল’ নামক যান নিয়ে চাঁদের ‘সি অব ট্রাঙ্কুইলিটি’ অঞ্চলে অবতরণ করেন। প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রেখে আর্মস্ট্রং বলেছিলেন: “মানুষের জন্য এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট লাফ।” ১৬ জুলাই কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই মিশনটি চার দিন পর সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে, যা মানুষের সাহস ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার অনন্য নজির। আর্থার সি ক্লার্ক- (বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক) এর ভাষায়: “নক্ষত্রদের পথে হাঁটার প্রথম মাইলফলক হলো চাঁদ।”

চাঁদে মানুষের প্রথম পদার্পণের এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর A/RES/76/76 প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। মুন ভিলেজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথম এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য হলো মহাকাশ অনুসন্ধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, চন্দ্রপৃষ্ঠের সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষায় উৎসাহিত করা।

জাতিসংঘের বাহ্যিক মহাকাশ বিষয়ক দপ্তর UNOOSA-এর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেমিনার, মহাকাশ প্রদর্শনী ও আকাশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে নাসার ‘আর্টেমিস’ মিশনসহ বিভিন্ন দেশের নতুন চন্দ্রাভিযান প্রমাণ করছে যে, চাঁদকে ঘিরে গবেষণা ও অনুসন্ধান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই দিবস কেবল চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণের স্মারক নয়, বরং বিজ্ঞান, অনুসন্ধিৎসা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার এক অনুপ্রেরণামূলক আহ্বান। চাঁদে পা রেখেই আর্মস্ট্রং তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন: “That’s one small step for [a] man, one giant leap for mankind.” (এটি একজন মানুষের জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল বড় লাফ।)