বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: কপিলমুনিতে সেই শিক্ষক চূড়ান্ত বরখাস্ত, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: কপিলমুনিতে সেই শিক্ষক চূড়ান্ত বরখাস্ত, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মিলন কুমার রায়কে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা মেলার পর যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে এই শিক্ষকের চূড়ান্ত বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রীড়া শিক্ষক মিলন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ও ২৪ অক্টোবর এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও উত্যক্ত করার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

পরবর্তীতে এই ঘটনা তদন্তে পাইকগাছা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ঈমান উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মিলন কুমার রায়কে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষক মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা বোর্ড তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে।”

এদিকে বিতর্কিত এই শিক্ষকের বিদায়ের খবরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সেখানে একটি আনন্দ সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক খান জিনারুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মাওলানা আশরাফ হুসাইন, কুদ্দুস গাজী, মোস্তফা সরদার এবং শিক্ষার্থী মিম ও তাবাসুম। বক্তারা শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক মিলন কুমার রায় নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে বরখাস্তের বিষয়টি আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমি নির্দোষ। পুরো বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”

 

Ads small one

কেশবপুরে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নে জমি দখলের চেষ্টা, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান (৪২) বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় এই অভিযোগ করেন। তিনি সাগরদাঁড়ী গ্রামের মৃত ছফেদ আলী মোড়লের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৪৫ নম্বর সাগরদাঁড়ী মৌজার ১৪ দশমিক ৭৫ শতক জমির বৈধ মালিক জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে ১০ শতক জমি তিনি পৈতৃক সূত্রে এবং আদালতের দেওয়ানি মামলার রায়ের মাধ্যমে পেয়েছেন। বাকি ৪ দশমিক ৭৫ শতক জমি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দলিলমূলে ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার মোস্তফা মুন্সি (৪৫), পলাশ মুন্সি (৪২), আনছার গাজী (৫৫) ও জসিম মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, বিবাদীরা প্রভাব খাটিয়ে গত তিন বছর ধরে জমিটি নিজেদের দখলে রেখেছেন। তিনি জমিতে যেতে চাইলে বিবাদীরা তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৯ মে সকালে তিনি নিজের জমিতে গিয়ে আগাছা পরিষ্কার ও বেড়া মেরামতের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা বাধা দেন এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে জমি থেকে বের করে দেন।
কেশবপুর থানা সূত্র জানায়, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী মোস্তফা মুন্সি দাবি করেন, “ওই জমিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি কোম্পানির কাছ থেকে লিজ নিয়ে বিভিন্ন ফসল ও সবজি চাষ করে আসছি। উল্টো আমাদের অনেকগুলো গাছ কেটে নষ্ট করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি বা হুমকির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

 

 

 

 

 

লোকসান ঠেকাতে লবণের অনুদান চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাতক্ষীরার চামড়া ব্যবসায়ীদের আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
লোকসান ঠেকাতে লবণের অনুদান চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাতক্ষীরার চামড়া ব্যবসায়ীদের আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অনুদান হিসেবে লবণ বরাদ্দ চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে সাতক্ষীরা জেলা চামড়া অ্যাসোসিয়েশন। গত ১৮ মে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর এই আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহায় সাতক্ষীরা জেলা চামড়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে চামড়া সংরক্ষণ, লবণ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের কারণে তারা ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়েছেন। ক্রমাগত এই লোকসানের ফলে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে এখন দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম।

আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, লবণের চড়া দামের কারণে চামড়া সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় লবণের অভাবে সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াজাত না করায় বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কেনাবেচা নিশ্চিত করতে অনুদান হিসেবে সরকারিভাবে লবণ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।

সাতক্ষীরা জেলা চামড়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “লবণের দাম ও সংরক্ষণের খরচ বাড়ায় আমরা চরম পুঁজিসংকটে আছি। সরকার অনুদান হিসেবে লবণ বরাদ্দ দিলে চামড়া নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং ব্যবসায়ীরাও বাঁচবেন।”

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত এই লবণের অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হলে সাতক্ষীরা অঞ্চলে কোরবানির চামড়া শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় হাটে চোরাই গরু বিক্রি করতে গিয়ে আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় হাটে চোরাই গরু বিক্রি করতে গিয়ে আটক ২

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর পশুর হাটে চোরাই গরু বিক্রি করতে গিয়ে হাট কমিটির হাতে দুই যুবক আটক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুল মাঠে বসা কোরবানির পশুর হাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে আটককৃতদের চোরাই গরু ও একটি ইজিবাইকসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেনÑসাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বরজো পাটুরি গ্রামের আদর আলী গাজীর ছেলে মো. রাজু হোসেন (২৫) এবং গরু বহনকারী ইজিবাইকচালক ও সদর উপজেলার পরানদহা সানারডাঙ্গা এলাকার আব্দুল মান্নান গাজীর ছেলে মো. শাকিল হোসেন (২২)। হাট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজু হোসেন হাটে একটি গরু ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

 

বিক্রির পর নিয়ম অনুযায়ী হাটের হাসিল বা ‘পাশ’ কাটতে গেলে রাজুর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা প্রকাশ পায়। এতে হাট কমিটির সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাজু স্বীকার করেন যে, গরুটি তিনি সদর উপজেলার লাবসা বা খেজুরডাঙ্গা এলাকার একটি মাঠ থেকে চুরি করে এনেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো হাট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা রাজু এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত ইজিবাইকের চালক শাকিলকে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেন।
ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, “চোরাই গরু বিক্রির অপরাধে দুজনকে আটক করা হয়েছে। গরু ও চুরির কাজে ব্যবহৃত ইজিবাইকটি জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আটক দুই যুবক এবং উদ্ধার হওয়া চোরাই গরুটি ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে ছিল। এই ঘটনায় থানায় একটি চুরির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।