ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: কপিলমুনিতে সেই শিক্ষক চূড়ান্ত বরখাস্ত, মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মিলন কুমার রায়কে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা মেলার পর যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে এই শিক্ষকের চূড়ান্ত বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্রীড়া শিক্ষক মিলন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ছিল। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ও ২৪ অক্টোবর এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও উত্যক্ত করার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
পরবর্তীতে এই ঘটনা তদন্তে পাইকগাছা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ঈমান উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৯ এপ্রিল যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মিলন কুমার রায়কে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
কে আর আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষক মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা বোর্ড তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে।”
এদিকে বিতর্কিত এই শিক্ষকের বিদায়ের খবরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সেখানে একটি আনন্দ সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক খান জিনারুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মাওলানা আশরাফ হুসাইন, কুদ্দুস গাজী, মোস্তফা সরদার এবং শিক্ষার্থী মিম ও তাবাসুম। বক্তারা শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক মিলন কুমার রায় নিজের দায় অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে বরখাস্তের বিষয়টি আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমি নির্দোষ। পুরো বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি।”









