বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা, সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বা জোয়ারাধার কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছে যুব পানি কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নদী সচল থাকা অবস্থায় টিআরএম চালু করা না হলে আগামী এক-দুইটি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই নদীতে আবারও পলি জমে নাব্যতা কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রতি ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফলও দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে উত্তরণের আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পানি কমিটির সভাপতি মো. হোসেন আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯০-এর দশক থেকে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ হাজার ৭৬৫ হেক্টর এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। এতে অববাহিকার ৬ লাখের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

বিভিন্ন সময়ে নদী-খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ ও উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পলি জমছে। এতে উজানের অংশ ভরাট হয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে নদী-খাল দখল, অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি চাষ এবং স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়ে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটার রিসোর্স প্ল্যানিং ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত আইডব্লিউএমের সমীক্ষা এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পলিবহুল এ অঞ্চলে শুধু নদী খনন করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বিলের উচ্চতা বাড়বে এবং নদীতে পলি জমার চাপ কমবে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০-এ বেতনা-মরিচ্চাপ অববাহিকার সুখদেবপুর, টিকেট, ঝিলমারী, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, বাগমারা, গোবিন্দপুর, হাজীখালী, আমোদখালী, চাপড়া ও মাটিয়াডাঙ্গা এই ১১টি বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের নির্দেশনা রয়েছে। আইডব্লিউএমের সমীক্ষা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পুনঃভরাটের হার ৬০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

তবে যুব পানি কমিটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় পোল্ডার নম্বর ১, ২, ৬-৮ ও ৬-৮ (সম্প্রসারণ)-এর জন্য ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার বছর মেয়াদি যে প্রকল্প সম্প্রতি শেষ হয়েছে, তাতে টিআরএম রাখা হয়নি। ফলে নদী সচল রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় মৎস্যঘের ও ভেড়ির কারণে অনেক জায়গায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ রয়েছে। ফলে নদী-খাল খনন বা বাঁধ সংস্কার করলেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামোগত প্রকল্পের পাশাপাশি পানি চলাচলের সব বাধা দূর করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বেতনা ও মরিচ্চাপ অববাহিকার নির্ধারিত বিলে দ্রুত টিআরএম চালু, পানি নিষ্কাশনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর, নদী-খাল দখলমুক্ত করা এবং মৎস্যঘেরের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে স্থানীয় জনগণসহ সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে যুব পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য সাজিদুল ইসলাম, করিমুন নেছা শান্তা, লামিয়া সুলতানা, রাবিয়া খাতুন, আজমিরা খাতুন, আবু তাহের ও মিলন কুমার উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া উত্তরণের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন, কেন্দ্র পানি কমিটির সদস্য মীর জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বাবু, উত্তরণের নাজমা আক্তার ও প্রতিনিধি গোলাম হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

মুখে লাথির পরও হলুদ কার্ড, রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
মুখে লাথির পরও হলুদ কার্ড, রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন

মুখে সরাসরি পা চালিয়ে দিলেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়। মাঠে লুটিয়ে পড়লেন ফর্টিস এফসির নোরিকি আকাদা। দৃশ্যটি দেখে লাল কার্ডের অপেক্ষায় ছিলেন সতীর্থরা। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্তে বিস্ময়ে হতবাক হন তারা। কারণ লাল কার্ডের জায়গায় দেখানো হলো হলুদ কার্ড! ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ম্যাচে এমন সিদ্ধান্তে রেফারিং নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

গোপালগঞ্জে ফর্টিস এফসি ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ গোলে ড্রয়ে। তবে ফল ছাপিয়ে ম্যাচের ৮২ মিনিটের একটি ঘটনা নিয়েই এখন বেশি আলোচনা।

ফর্টিসের নোরিকি আকাদাকে আটকাতে গিয়ে ইয়ংমেন্সের মোহামেদ ফোফানা সরাসরি তার মুখ বরাবর পা চালিয়ে দেন। আঘাত পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নোরিকি। ঘটনাস্থলে দৌড়ে আসেন রেফারি জুনায়েদ শরীফ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি ফোফানাকে লাল কার্ড না দেখিয়ে হলুদ কার্ড দেখান।

রেফারির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন ফর্টিসের খেলোয়াড়রা। তবে তাতে সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফর্টিস এফসির সভাপতি শাহীন হাসান। তিনি বলেন, ‘এই সব কিছুর জন্য যদি আমরা কিছু বলি, তাহলে ওনাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটি আমাদের শাস্তি দেবে, জরিমানা করবে। আর খেলার জন্য মাঠে ঢোকা যাবে না। কিন্তু কখনও এর জন্য রেফারি কোনও শাস্তি পাবে না।’

দেশের ফুটবল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজব এক আমাদের দেশের ফুটবল। কেন জানি না এই ফুটবল খেলা নিয়ে পড়ে আছি। আমার মনে হয়, এই ফুটবল খেলা থেকে সরে আসা উচিত।’

রেফারিং নিয়ে একই ধরনের হতাশা ফর্টিসের ম্যানেজার রাশেদুল ইসলামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘এখন আর চিঠি দেই না। কারণ এতে কোনো লাভ হয় বলে মনে হয় না। রেফারিদের মধ্যে যারা ভুল করেন, তারা নিজেরা ভুল শুধরাতে না চাইলে কেউ শুধরাতে পারবে না। আমাদের দেশেও ভালো রেফারি আছেন। সমস্যাটা হলো, ভালোর সংখ্যাটা কম।’

ম্যাচের ওই ঘটনা ও কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন বাফুফের বিদায়ী হেড অব রেফারিজ আজাদ রহমান। তার মতে, ফোফানার ওই চ্যালেঞ্জ সরাসরি লাল কার্ডের যোগ্য, ‘ওই ডিফেন্ডার যেভাবে চার্জ করেছে, তাতে করে তো সরাসরি লাল কার্ড হয়। ম্যাচে রেফারি কেন লাল কার্ড দেখালো না, বোধগম্য হচ্ছে না। শুধু রেফারি নন, দুই সহকারী রেফারিও তো ঠিকমতো অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। এখন দেখি রিপোর্ট কী আসে।’

সম্পাদকীয়/ আশাশুনির প্রতাপনগর: টেকসই সমাধানের অপেক্ষায় ২৮ হাজার মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ আশাশুনির প্রতাপনগর: টেকসই সমাধানের অপেক্ষায় ২৮ হাজার মানুষ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন। ২০২০ সালের ভয়াবহ দুর্যোগে ভাঙা সড়ক ও সেতু আজও পুনর্নির্মিত হয়নি। বাধ্য হয়ে ভাসমান সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো আর নৌকাই এখন স্থানীয়দের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। এমনকি নৌকার ওপর নির্মিত ভাসমান মসজিদে নামাজ আদায় করার চিত্রই বলে দেয় সেখানকার মানুষের নিত্যদিনের মানবিক সংকটের ভয়াবহতা।

দুর্যোগের দুর্যোগময় স্মৃতি মুছে গেলেও প্রতাপনগরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ মোছার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। প্রায় চার কিলোমিটারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মূল সেতুগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, প্রবীণ ও জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগীদের। একটি স্বাধীন দেশে ছয় বছর ধরে হাজার হাজার মানুষ এভাবে মৌলিক অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেÑতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা বারবার টেকসই সমাধানের আকুতি জানালেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দোহাই দিয়ে উন্নয়নকাজ আটকে আছে।

উপজেলা এলজিইডি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) না পাওয়ায় সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অসম্পূর্ণ কাজ বা সাময়িক সহায়তার ওপর নির্ভর করে এত মানুষের দৈনন্দিন জীবন চলতে পারে না। আমলাতান্ত্রিক এনওসি জটিলতার অজুহাতে হাজার হাজার মানুষের জীবনকে বছরের পর বছর ঝুঁকিতে ফেলে রাখা প্রশাসনিক স্থবিরতারই এক চরম দৃষ্টান্ত।

উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় দায়িত্বের অংশ। আমরা আশাশুনির প্রতাপনগরে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যকার এই প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা অবিলম্বে অবসানের জোর দাবি জানাচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে এনওসি প্রদান করে টেকসই বেড়িবাঁধ, সড়ক ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হোক। প্রতাপনগরের হাজার হাজার মানুষের ভাসমান জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে দেওয়াই হোক সরকারের অগ্রাধিকার।

আমরা কাউকে ভয় পেতে আসিনি: হামজা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
আমরা কাউকে ভয় পেতে আসিনি: হামজা

সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ, র‌্যাঙ্কিংয়েও অনেক এগিয়ে। তবু ভয় নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা নিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে এসেছে বাংলাদেশ। এমনটাই জানালেন হামজা চৌধুরী। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় দলের অনুশীলনে যোগ দিয়ে টুর্নামেন্ট নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই তারকা মিডফিল্ডার।

ফিফা আসিয়ান কাপ সামনে রেখে জাকার্তায় চলছে বাংলাদেশের প্রস্তুতি। হামজার সঙ্গে প্রবাসী অন্য ফুটবলাররাও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। অনুশীলনের এক ফাঁকে আসন্ন টুর্নামেন্ট নিয়ে কথা বলেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই ফুটবলার, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে খুবই রোমাঞ্চিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। এটি অবশ্যই আমাদের চেয়ে উঁচু র‌্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার বড় একটি সুযোগ। তাই আমাদের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব বেশি পয়েন্ট অর্জন করা।’

এরপরই আত্মবিশ্বাসের কথাটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন হামজা, ‘আপনারা জানেন, আমরা এখানে কাউকে ভয় পেতে আসিনি। আমরা আমাদের সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। তবে ইনশাআল্লাহ, এটি আমাদের জন্য শেখার একটি পথও। আমরা এখানে যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এসেছি, যাতে আমাদের দেশকে সম্মানিত ও গর্বিত করতে পারি।’

জাকার্তায় এসে সুযোগ-সুবিধা ও স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তায়ও মুগ্ধ হামজা। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ। সত্যি বলতে, আমি ঠিক যেমনটা আশা করেছিলাম, তেমনই। খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, খুবই দয়ালু মানুষ। এখানকার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি এবং সুযোগ-সুবিধাগুলোও খুবই চমৎকার ছিল। তাই হ্যাঁ, আমি শুক্রবারের ম্যাচ খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। দেখা যাক, আমরা কেমন করি।’

প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কেও যথেষ্ট সমীহ দেখিয়েছেন হামজা। র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান এবং দলের শক্তিমত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা র‌্যাঙ্কিংয়ে বেশ ভালো অবস্থানে আছে। তাদের দলে খুব ভালো মানের খেলোয়াড় রয়েছে। তাদের একজন খুব দক্ষ হেড কোচও আছেন।’

ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে হামজা আরও বলেন, ‘বিশেষ করে আগামী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা যদি বিশ্বকাপের পথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকে, তাহলে আমি সত্যিই অবাক হবো। আমার মনে হয়, একটি দেশ হিসেবে আপনারা ফুটবলের ওপর অনেক জোর দিচ্ছেন। আর হ্যাঁ, তাদের খুব ভালো একটি দল রয়েছে।’