বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
তালায় যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে তালা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাকের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। উপস্থিতি ছিলেন তালা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস, ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির অপারেশনস ম্যানেজার জেরিন তাসনিন এবং ব্র্যাকের জেলা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম রসুল।
সভায় জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় শুধু তালা উপজেলাতেই ১৫১ জন যুব উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আর্থিক সেবা প্রদান করা হয়েছে। সমাপনী আয়োজনে ৫০ জন যুব উদ্যোক্তা সরাসরি অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে যুবকদের জন্য সহজ অর্থায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও বাড়ানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

Ads small one

সম্পাদকীয়/প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট: অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রাথমিক শিক্ষায় তীব্র জনবল সংকট: অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি

একটি জাতির উন্নতির মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। শৈশবের এই পাঠশালাতেই শিশুর মেধা, চরিত্র ও ভবিষ্যতের সঠিক বুনিয়াদ গড়ে ওঠে। অথচ দেশের প্রান্তিক জেলা সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পতিত হয়েছে। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উপজেলাটিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পাশাপাশি শিক্ষকদের বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে, যা স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিকে মারাত্মকভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতেই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। বাধ্য হয়ে সহকারী শিক্ষকদেরকে দিয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে স্কুলের প্রশাসনিক দায়িত্ব চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৮৩১ জন সহকারী শিক্ষকের বিপরীতে ৫৮টি পদ শূন্য থাকায় সব মিলিয়ে শিক্ষক পদ খালি রয়েছে ১৫৬টি। শুধু ক্লাসরুমেই নয়, সংকট উপজেলা শিক্ষা অফিসেও। ৬ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিপরীতে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাত্র ৪ জন, আর ৫টি প্রশাসনিক পদের বিপরীতে চালকের ভূমিকায় রয়েছেন মাত্র দু’জন কর্মচারী।
এই চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যখন একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রতিদিন গাদা গাদা দাপ্তরিক ফাইলপত্র ও প্রশাসনিক ঝামেলা সামলাতে হয়, তখন শ্রেণিকক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকের অভাবে যথাযথ ক্লাস হচ্ছে না, অন্যদিকে বাড়তি চাপে শিক্ষকেরাও পাঠদানে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছেন। পরিণতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক মেধা বিকাশ।
শিক্ষা কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদের তালিকা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি আশ্বাসও পাওয়া গেছে। আমরা এই আশ্বাসকে স্বাগত জানাই, তবে একই সাথে মনে করিয়ে দিতে চাই যেÑশুধু সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েই এই সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। প্রধান শিক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে স্থায়ী নিয়োগ না দিলে বিদ্যালয় পরিচালনার অচলাবস্থা কাটবে না।
আমরা মনে করি, গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে চলতে দেওয়া যায় না। প্রাথমিক শিক্ষার সংকট দূর করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক জনবল পূরণ করে পরিদর্শনের কাজ বেগবান করা আবশ্যক। কালিগঞ্জের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিলম্ব না করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেনÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সাতক্ষীরায় প্রকাশনা উৎসব ও কাব্য আবৃত্তির সাহিত্যসন্ধ্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রকাশনা উৎসব ও কাব্য আবৃত্তির সাহিত্যসন্ধ্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য প্রকাশনা উৎসব, গল্পপাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে এক সাহিত্যসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে কাব্যতীর প্রকাশনী, বিশ্বভরা প্রাণ ও প্রথম আলো বন্ধুসভা সাতক্ষীরার যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে এবং কবি শিরিন সাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর এম এম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, যশোর সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম এম নজমুল হক, অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহি, জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি শহীদুর রহমান, লেখক ও সম্পাদক কবি সৌহার্দ সিরাজ, অধ্যাপক কবি শুভ্র আহমেদ এবং সুরকার ও বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফ্ফান রোজবাবু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রয়াত গুণিজনদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর গল্পগ্রন্থ ‘মাটির আর্তনাদ’, ‘গল্পপুঞ্জ’, কাব্যগ্রন্থ ‘শহর ছেড়ে শান্তিপুরে’, ‘সুতোয় বোনা কবিতা’, ‘কাব্যপুঞ্জ’, ‘কাব্যলিপি’, ‘হৃদয় পত্র’, ‘মেঘের খামে কবিতা’, ‘বুনো বাতাসের কবিতা’ এবং কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে লেখক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস ও শেখ মনিরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করা হয়। রাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে সব্যসাচী আবৃত্তি পরিষদের শিশুরা, দিলরুবা রুবী ও কাব্য সাদী অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
আলোচনা পর্বে শিক্ষাবিদ ড. মিজানুর রহমান জানান, একসঙ্গে এতগুলো কাব্যগ্রন্থ ও গল্পগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব সাতক্ষীরাবাসীর জন্য গৌরবের। অন্যান্য বক্তারাও নতুন লেখকদের সাহিত্যচর্চার প্রতি শুভকামনা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধারার শতাধিক কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কলারোয়ায় মিথ্যা মামলায় ভ্যানচালক পরিবারসহ এলাকাছাড়া, বিচারের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় মিথ্যা মামলায় ভ্যানচালক পরিবারসহ এলাকাছাড়া, বিচারের দাবি

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মানিকনগর গ্রামের শামছুল গাজীর ছেলে জিয়ারুল গাজী (৫০) নামে এক হতদরিদ্র ভ্যানচালক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, মামলার বাদী আব্দুর রশিদ গাজীর মেয়ে ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে জিয়ারুলদের জমি দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এই মামলা করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মারামারি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ফাতেমা খাতুন মামলাটি করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, নিরাপত্তাহীনতার কারণে আসামিরা সাত মাস আগেই উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের খোর্দ গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। ঘটনার দিন তাঁরা এলাকায় ছিলেন না। কম মূল্যে জমি বিক্রি না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হয়রানি বন্ধসহ দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মামলার সাক্ষী খোর্দ বাটরা গ্রামের বাসিন্দা কিনা মজুমদার এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে মামলার বাদী ফাতেমা খাতুন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।