সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নববর্ষের আগমনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ
নববর্ষের আগমনে

মহসিন আলম মুহিন

পুরাতন বছরকে বিদায়, নতুন বছরের আগমন,
নতুন খুশীতে নাচে হিয়া, নাচে তাই তনু-মন।।
ঝরা-খরা, রোগ-ব্যাধি সব যাক দূরে সরে,
আসুক ভালো যত আগামীর কোল জুড়ে।।

আগত নববর্ষে, নতুনের পরশে ভরে উঠুক প্রাণ,
আলোকসজ্জায় সজ্জিত হোক ভালো যত স্থান।।
সকল প্রাণেই লাগুক দোলা, লাগুক নতুনের ছোঁয়া,
নতুন বছরে শুভ্র গগনে না উঠুক কালো ধোঁয়া।।

নতুন করে সকলের মাঝে এসেছে নতুন বছর,
সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাড়ুক আরও কদর।।
স্বপ্নগুলো সবই বাস্তব হয়ে-ঝলমল করুক দুয়ার,
ভালো যত আসুক ভুবনে, বিশ্ব হোক এক পরিবার।।

কাঁধে কাঁধ হাতে হাত থাকি যেন মোরা শান্তিতে,
হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সকলে-চলি যেন একিসাথে।।
নতুন চাওয়া, সব হোক পাওয়া-দূর হোক হতাশা,
প্রভুর কাছে প্রার্থনা মোদের পূরণ করো সব আশা।।

Ads small one

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ সংকট, সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ সংকট, সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন

ইব্রাহিম খলিল: প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে রিচার্জ জটিলতার কারণে সাতক্ষীরায় ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে শত শত গ্রাহককে সরাসরি অফিসে এসে বিদ্যুৎ রিচার্জ করতে হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ জন গ্রাহক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ করতে, আবার কেউ টোকেন নম্বর সংগ্রহ করতে এসেছেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর ও বয়স্কদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। ফলে কোনো উপায় না পেয়ে তাদের ওজোপাডিকোর অফিসে এসে রিচার্জ করতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহকের মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, আমরা দিনমজুর মানুষ। সকাল থেকে কারেন্ট ভরার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন কারেন্ট ভরব আর কখন মাঠে গিয়ে কাজ করব বুঝতে পারছি না। এখানে মানুষের দীর্ঘ লাইন, অথচ কাউন্টার মাত্র একটি। এতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এই গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।

হাফিজুর রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কাজের জন্য বিভিন্ন মানুষ ফোন দিচ্ছে, কিন্তু যেতে পারছি না। প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। মিটারে ১৮০ সংখ্যার টোকেন নম্বর দিতে হয়। সেখানে কোনো ভুল হলে আবার নতুন করে ঝামেলায় পড়তে হয়।

গ্রাহক আশিকুর রহমান বলেন, আমার পায়ে সমস্যা আছে, ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। তারপরও সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রচন্ড গরমে তৃষ্ণা পাচ্ছে, পায়ে ব্যথা করছে। শারীরিক সমস্যার মধ্যেও বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়েছে।

কলেজ শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সকাল ৯টার দিকে এসেছিলাম, এসে দেখি প্রচুর সিরিয়াল। কাউন্টার সংখ্যা বাড়ানো হলে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে। এই গরমের মধ্যে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, দুর্ভোগ তো আছেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক গ্রাহক রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে কষ্ট করছেন, আবার কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে দ্রুত রিচার্জের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সেবা সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হলেও বর্তমানে তা নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন-তখন মিটার লক হয়ে যাওয়া, রিচার্জ জটিলতা, ব্যাটারির সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেকের ভাষায়, প্রিপেইড মিটার এখন তাদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওজোপাডিকো এর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে বর্তমানে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ (ওজোপাডিকো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা দুটি কাউন্টার চালুর ব্যবস্থা করেছি। প্রয়োজনে আরও একটি কাউন্টার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমেও বিল পরিশোধ ও রিচার্জের সুযোগ রয়েছে। কারিগরি সমস্যার বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তবে দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু এবং কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি না হলে গ্রাহক ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, আধুনিক সেবার নামে নতুন দুর্ভোগ নয়, সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করুক কর্তৃপক্ষ।

 

পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসাব করার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসাব করার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসব করতে বসার প্রতিবাদ করায় হাসান সরদার (৩৫) নামে এক যুবককে দফায় দফায় নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত হাসান উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল বাদী হয়ে ১০ জনের নামে থানায় এজহার জমা দিয়েছেন।

‎নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, ৭ জুন রোববার বিকেল ৫ টার দিকে নিহত হাসান সরদারের স্ত্রীর সামনে স্থানীয় খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস গাজী প্রসব করতে বসলে এর প্রতিবাদ করেন হাসান। প্রতিবাদ করায় পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক নামজুল হুদা মিন্টুর নেতৃত্বে প্রকাশ্য জনসম্মুখে মারপিট করে হাসানকে আহত করে।

 

এক-দেড় ঘন্টা পরে একটু সুস্থ হলে আবারও নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে বেহুশ হয়ে পড়েন হাসান। সন্ধ্যার পর পুনরায় জ্ঞান ফিরলে আবারও হাতুড়ি, ইট, দরজার হাক দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এতে জ্ঞান হারায় হাসান। এশার নামাজের পরে আবারও মারপিট করে হাসানকে নসিমনে পশুর মত দড়ি দিয়ে বেঁধে মিন্টুসহ তার সঙ্গীরা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

‎হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার বলেন, রোগী হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু বরণ করে।

‎নিহতের ভাইজি অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মীম আক্তারসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের মাথার পিছনে মগজ বের করা ছিল, কপাল ও চোয়ালে পেরেক ফুটানোর ছিদ্র ছিলো, বাম চোখ রক্তাক্ত ছিলো, চার হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। কেউ ছবি উঠাতে গেলে বা ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়েছে বলে জানান। নিহত চাচা গফ্ফার বলেন, পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক স্থানীয় নাজমুল হুদা মিন্টু, ইবাদাত গাজী, মনিরুল ইসলাম, কুদ্দুস গাজী, কবির সরদার, জহুরুল ইসলাম, আজহারুল গাজী, ইয়াসিন সরদার,পলাশ সরদারও শুকুর আলীরা মারপিট করে।

এদিকে সোমবার সকালে নিহত হাসান সরদারের পবিরারের লোকজন ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কুদ্দুস গাজী ও তার ভাইয়ের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান কুদ্দুস গাজী। নাজমুল হুদা মিন্টু বলেন, নিহত হাসান সরদার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সারক্ষণ গাঁজা বিক্রি করে ও সেবন করে। এলাকার যুব সমাজকে নেশায় আসক্ত করছে। জনগণ গণধোলাই দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমি প্রথমে ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

 

আমি রাতে আসার পর পুলিশের সহয়তায় তাকে চিকিৎসার জন্য নসিমনে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছিলাম।
পাইকগাছা থানার এসআই আব্দুল আজিজ বলেন, আমি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেছি। নিহতের মাথা মখোমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এজহার দাখিল করেছে।

এবিষয়ে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, থানায় এজহার দাখিল হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শার্শায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান টিংকু গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
শার্শায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান টিংকু গ্রেপ্তার

বাগআঁচড়া (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় অভিযান চালিয়ে কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল (৭ জুন) রোববার রাতে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু শার্শা উপজেলার ৭নং কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন থানায় ৪ টি মামলা রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শার্শা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।