সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

নিকোলাস বিশ্বাস

আজ ২৫ জুলাই ২০২৬। বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাম্প্রতিক সিসিটিভি ভিডিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ছোট শিশু একটি পুকুরে ডুবন্ত অবস্থায় বাঁচার জন্য প্রাণপণ লড়াই করছে। অপরদিকে, আরেকটি শিশু ঐ পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো চিৎকার করছে এবং মরিয়া হয়ে পানিতে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আশে-পাশে বাড়িঘর থাকলেও কেউ সেই আর্তনাদ শুনতে পায়নি। অবশেষে পাশের একটি বাড়ি থেকে একজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। কিন্তু শিশুটির শেষ পরিণতি কি হয়েছিল, তা ভিডিওটিতে আর জানা যায়নি।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, অথচ অধিকাংশ ঘটনাই সংবাদ শিরোনামে আসে না। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে একটি পরিবারের বেদনা। বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেও পানিতে ডুবে মৃত্যু এখনো সবচেয়ে অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা জনস্বাস্থ্য আলোচনায় প্রাধান্য পেলেও পানিতে ডুবে মৃত্যু রয়ে যায় আড়ালে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার বড় একটি অংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। এসব মৃত্যুর সর্বোচ্চ হার বরিশাল অঞ্চলে। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং মৌসুমি বন্যাপ্রবণ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। বিশ্বব্যাপী পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই ঘটে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে এই ঝূঁকি আরো বেড়েছে।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য বিষয়: এই দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য বিষয় বেছে নেওয়া হয়। এবারের বিষয় হল: আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর গ্রোত থামাই। এটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য নয়; বরং পানির সঙ্গে আমাদের সহাবস্থানকে আরও নিরাপদ, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলার একটি বৈশ্বিক আহ্বান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী এ প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করে আসুন আমরা প্রতিরোধযোগ্য পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করি এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ভূমিকার পালন করি।

বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল, হাওর ও পুকুরে সমৃদ্ধ একটি জলভূমির দেশ। পানি আমাদের জীবন, জীবিকা, কৃষি, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অভাবে এই জীবনদায়ী পানিই মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক ও বেদনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিদিনের নীরব ঝুঁকি: জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ ঘটনা ঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যেই থাকা পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয়ে। অর্থাৎ বিপদ দূরে নয়, পরিবারের কাছেই ওত পেতে থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ এ সময় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বাড়ির আঙিনা, রাস্তা ও মাঠ সাময়িক জলাশয়ে পরিণত হয়। অল্প সময়ের জন্যও কোনো ছোট শিশু নজরদারির বাইরে চলে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপূরণীয় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ সময়টায় সবাইকে বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার সময়টি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় অভিভাবকরা সাধারণতঃ গৃহস্থালি বা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে ছোট শিশুরা অরক্ষিত থেকে যায়। মাত্র দুই বা তিন মিনিটের অসতর্কতা একটি পরিবারের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে যা তাদের জন্য নিয়ে আসতে পারে গভীর শোক আর কান্না।

পানিতে ডুবে মৃত্যুর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো এর নীরবতা। সিনেমায় যেমন দেখা যায়, বাস্তবে পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষ-বিশেষ করে শিশুরা – সাধারণতঃ হাত নেড়ে বা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। আশে-পাশের মানুষের অজান্তেই তারা নীরবে পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানিতে ডুবে মৃত্যুকে “নীরব কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সংকট” হিসেবে অভিহিত করেছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ জুলাইকে সারা বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে। তাই পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে কেবল মৌসুমি উদ্যোগ নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারে পরিণত করা উচিৎ।

বাংলাদেশে অধিকাংশ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ পরিস্থিতিতে। বাড়ির পাশের পুকুর, রাস্তার ধারের ডোবা কিংবা বৃষ্টির পানিতে ভরা গর্ত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী ও চলাফেরায় সক্রিয় হলেও তারা বিপদের মাত্রা বুঝতে পারে না। এ সময় রান্না, কাপড় ধোয়া বা অন্য কোনো কাজে সামান্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকের অজান্তেই শিশুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে যা পরিবার ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যও এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বের বৃহত্তম নদীবাহিত দেশগুলোর একটি হওয়ায় এখানে হাজার হাজার নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রয়েছে। বর্ষাকালে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঘনঘন বন্যা চারপাশে নতুন নতুন ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয় সৃষ্টি করে ও বিপদ ডেকে আনে। চলতি বছরের প্রবল বৃষ্টিপাত এ বিপদকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রতিরোধই একমাত্র সমাধান: গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সহজ ও লক্ষ্যভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য নি¤েœ উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর দৃষ্টিপাত করা অতীব জরুরি:

১. ছোট শিশুদের কখনোই পানির কাছাকাছি একা না রাখা।
২. বাড়ির আশপাশের পুকুর ও ডোবার চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বেড়া নির্মাণ করা।
৩. দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক ডে-কেয়ার কেন্দ্র স্থাপন করা।
৪. বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সাঁতার শিক্ষা ও পানি নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধারকৌশল ও কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, এসব উদ্যোগ কার্যকর। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে পরিচালিত আঁচল (কমিউনিটি শিশুযতœ মডেল) এবং সুইমসেইফ (ঝরিসঝধভব) কর্মসূচি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সফল হয়েছে। সমাধান আমাদের জানা আছে; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং দেশব্যাপী কার্যকর বাস্তবায়ন। গবেষণালব্ধ ফলাফল গুরুত্বের সাথে কাজে লাগানো উচিৎ।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-এই চারটি সরকারি খাতের সমন্বিত জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্খিত ফল আসবে না।

সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ: বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; এটি হতে হবে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা। বাংলাদেশকে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগ, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশু একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ- একজন সম্ভাব্য শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা জাতীয় নেতা-যার স্বপ্ন অকালেই নিভে যায়।

পানিতে ডুবে কোনো শিশুর মৃত্যু কখনোই কাম্য হতে না। সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ, নিরাপত্তা শিক্ষা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারে এবং এই নীরব সংকট তথা পানিতে ডুবে মৃত্যুর অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে। প্রতিটি শিশুর জীবনই অমূল্য, কোনো অবস্থাতেই সেই জীবনের মূল্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

লেখক: একজন ডেভেলপমেন্ট প্রাক্টিশনার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত

 

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।