বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার আদায়ে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার আদায়ে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা

জুলফিকার রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা): ‎প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, খাসজমি বন্দোবস্ত এবং জলমহাল ইজারা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎সাতক্ষীরার তালাস্থ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ-এর বাস্তবায়নে (FISHNET) Project-এর আওতায় এবং ওশান গ্রান্টস ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ।
‎সভায় পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা ভূমি কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, পাথরঘাটা, তালতলী, শরণখোলা, মোংলা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, তালা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ভূমি কমিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
‎
‎সভায় পটুয়াখালী জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিক মো. সাইদুর রহমান ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন, বাগেরহাট জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামান ও বেসরকারি সংস্থা জোয়ার বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বরগুনা জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, খুলনা জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আব্দুর রশীদ ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা ভূমি কমিটি প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জ্জী, এম. কামরুজ্জামান, মিজানুর রহমান, অ্যডভোকেট মোস্তফা আসাদুজ্জামান, অ্যাড. মনির উদ্দীন, আলী নূর খান বাবুল, ফরিদা আক্তার বিউটি, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান ও ডুমুরিয়া উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি সেলিম আক্তার স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
‎
‎সভার শুরুতে ভূমি অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রয়াত ভূমি কমিটির সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা সঞ্চালনা করেন উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান জমাদ্দার। সভার উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব মোস্তাফিজুর রহমান।
‎এ সময় FISHNET প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। তিনি ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের জন্য খাসজমি বন্দোবস্ত এবং জলমহাল ইজারা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি, চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
‎সভায় অংশগ্রহণকারীরা ভূমিহীন মানুষের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠা, খাসজমি বন্দোবস্ত নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দাবিদাওয়া আদায়ের ক্ষেত্রে ভূমি কমিটির ভূমিকা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলার কৌশল নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
‎আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উত্তরণ ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। বিশেষ করে ১৯৯৭ সালে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় ভূমিহীনদের খাসজমির অধিকার আদায়ের আন্দোলন এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
‎সভায় আইনজীবী, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে নবগঠিত বরগুনা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীর জেলা এবং উপজেলা কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে ভূমি কমিটির কার্যকর ভূমিকা, সংগঠন শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
‎সভায় বক্তারা বলেন, ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিহীন মৎস্যজীবীদের টেকসই জীবিকা, নিরাপদ আবাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা: বিআরটিএর ইতিবাচক উদ্যোগ ও আমাদের করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা: বিআরটিএর ইতিবাচক উদ্যোগ ও আমাদের করণীয়

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান সময়ের অন্যতম সামাজিক ও জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও চালক ও পথচারীদের অসাবধানতা কিংবা ট্রাফিক আইন না মানার কারণে অকালে ঝরে পড়ছে মূল্যবান প্রাণ। এ প্রেক্ষাপটে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের সাম্প্রতিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
সম্প্রতি ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি কমাবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালা এবং শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোড শো’ সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ বার্তা বহন করে। এ কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলোÑসড়কে দুর্ঘটনা রোধে কেবল চালকদের ওপর দায় না চাপিয়ে শিক্ষার্থী, যাত্রী এবং সাধারণ পথচারীদেরও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমাদের সমাজে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো, সড়ক দুর্ঘটনার পর পুরো দায় চালকের ওপর অর্পণ করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেকটি মানুষের সামান্যতম অসাবধানতাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং কিংবা ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করা, চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া, হাঁটার সময় মোবাইলে মনোযোগ দেওয়া কিংবা বেপরোয়াভাবে যানবাহন ওভারটেক করাÑএসব অনিয়মই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৈশব থেকেই সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বাস্তবমুখী দিকনির্দেশনা এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কিশোর-কিশোরীদের নিজেদের যেমন নিরাপদ রাখবে, তেমনি তারা পরিবার ও সমাজের অন্য সদস্যদের মধ্যেও এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারবে। অন্যদিকে, মোটরযানের অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ ও মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে নিয়মিত বার্তা প্রচার চালক ও আরোহীদের জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সাতক্ষীরায় বিআরটিএর পক্ষ থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় এই ধারাবাহিক সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল একটি উদ্যোগ বা একদিনের রোড শো দিয়ে রাতারাতি সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিয়মিত তদারকি।
আমরা মনে করি, বিআরটিএর এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে শুধু জেলা শহর নয়, গ্রামীণ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন টার্মিনালগুলোতেও সম্প্রসারিত করা উচিত। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে আইনের সঠিক প্রয়োগ বাস্তবায়িত হলে তবেই দেশের সড়কগুলো সত্যিই নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত হয়ে উঠবে।

আদালত থেকে হাতকড়া খুলে পালানো পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
আদালত থেকে হাতকড়া খুলে পালানো পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় দুটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামি আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর আবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। বুধবার দুপুরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম প্রথম আদালতের বারান্দা থেকে তিনি পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার আসামির নাম শফিকুল ইসলাম (৩২)। তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার রাড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ শফিকুলকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জামিনে মুক্তির পর ২০২৫ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এ ছাড়া পাটকেলঘাটা থানার অপর একটি মাদক মামলায় তাঁর দুই বছরের সাজা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার দুপুরে আদালতের ভবনে নেওয়ার সময় হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শফিকুল।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, পালিয়ে যাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পাশের একটি অটোস্ট্যান্ড থেকে বিকেল চারটার দিকে শফিকুলকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। সাড়ে পাঁচটার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

আশাশুনিতে সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের মানিকখালী ব্রিজ থেকে বড়দল সড়কের ফকরাবাদ এলাকায় রাস্তার পাশে একটি বড় শিশু-চটকা গাছ দীর্ঘদিন ধরে শুকিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফকরাবাদ শ্যামা মিস্ত্রীর মিলের মোড় সংলগ্ন ওই সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচল করে। মরা গাছটির বড় দুটি ডাল হেলে থাকায় যেকোনো সময় তা ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও ইটভাটা ব্যবসায়ী এস এম শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানানো হলেও গাছটি অপসারণ করা হয়নি। আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় দ্রুত গাছটি কেটে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।