বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বজ্রাঘাতে একদিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
বজ্রাঘাতে একদিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু

চলমান ঝড়বৃষ্টির মধ্যে নয় জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে চার জন, জামালপুরে দুজন, গাজীপুরে একজন, ময়মনসিংহে একজন, রংপুরে একজন, শরীয়তপুরে একজন, বরগুনায় একজন, রাজবাড়ীতে একজন ও বাগেরহাটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

পটুয়াখালী: বজ্রাঘাতে এক নারীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় এ চার জনের মৃত্যু হয়। তারা সবাই কৃষিকাজে জড়িত। ঘটনার সময় খোলা মাঠে অবস্থান করেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিনের (২৮), দুপুর ২টার দিকে মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়াতে যাওয়ার সময় পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামের সেতারা বেগমের (৫৫), একই সময় মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদারের (৫৫) এবং সকাল ৯টার দিকে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামের সৌরভ মজুমদারের (২২) মৃত্যু হয়। রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন ও কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর: ইসলামপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮) নামে দুই জনের মৃত্যু হয়। দুপুরে উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

শামীম মিয়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে। আর সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার স্বাধীনের ছেলে। শামীম মিয়া নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রাঘাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় একটি পাকা সড়কের নির্মাণকাজে কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করা অবস্থায় বজ্রাঘাত শুরু হলে অন্যরা দ্রুত সরে এলেও সাগর ইসলাম কিছুটা পেছনে পড়ে যান। ঠিক তখনই বজ্রাঘাত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ইসলামপুর থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাজীপুর: কালীগঞ্জে জাকির হোসেন খান (৩২) নামের এক যুবক বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সকালে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বরাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বারাইয়া গ্রামের সুলতান খানের ছেলে। কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন বিষয়টি জানান।

ময়মনসিংহ: তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে এক যুবক মারা গেছেন। নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম হোসেন (৩২)। তিনি তারকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে সকাল ৭টার দিকে মাছ ধরতে যান সাদ্দাম। বৃষ্টি ও বজ্রাঘাতের সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারাকান্দা থানার ওসি তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর: তারাগঞ্জে বজ্রাঘাতে মারা গেছেন সাহেরা বেগম (৫০) নামের এক নারী। তার একটি গরু বাড়ির উঠানে আমগাছে বাঁধা ছিল। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে সেই গরু গোয়ালে নিতে বের হন। গরুটি আনতে গিয়ে বজ্রাপাতে মারা যান। সাহেরার বাড়ি তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদত হোসেন।

শরীয়তপুর: নড়িয়া উপজেলায় বজ্রাঘাতে রাজিব শেখ (৩২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার জপসা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়ায় তার বাড়ি। তিনি পেশায় জেলে ও কৃষক ছিলেন।
জপসা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলাল মকদম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বরগুনা: আমতলীতে বজ্রাঘাতে নুর জামাল (৫৪) নামেন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার বাড়ি উপজেলার পুজাখোলা গ্রামে। পেশায় কৃষক নুরুজামাল দুপুরে মাঠে বৃষ্টির পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি জানিয়েছেন।

রাজবাড়ী: সদর উপজেলায় বজ্রাঘাতে সুমন মণ্ডল (৩৪) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার কোলে থাকা সাড়ে তিন বছরের মেয়ে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেছে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমন মণ্ডল সদর উপজেলার মজ্জৎকোল গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে। তিনি আগে রাজবাড়ীর সাগর অ্যাগ্রো মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আকাশে মেঘের ঘনঘটা ছিল। সুমন তার সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রাঘাত হলে শিশুটি কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায় এবং সুমন ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রওশনয়ারা আক্তার জানান, সকাল ৭টার দিকে সুমনকে হাসপাতালে আনা হয়। তার সঙ্গে ওই শিশুকেও আনা হয়েছিল। সুমন মারা গেছেন। শিশুটিকে সুস্থ আছে।

বাগেরহাট: সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বিকালে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামের এক দিনমজুর মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে। তার এক স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জানান।

এর আগে ২৭ এপ্রিল সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় পৃথক বজ্রাঘাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। তার আগের দিন ২৬ এপ্রিল সাত জেলায় বজ্রাঘাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচ জন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজনের মৃত্যু হয়।

Ads small one

জাতীয় মাছ ইলিশ, সাধারণের পাতে কতটা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
জাতীয় মাছ ইলিশ, সাধারণের পাতে কতটা?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের জল, মাটি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে রূপালি ইলিশ। স্বাদ, ঐতিহ্য ও বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে, এটি শুধু একটি মাছ নয়, জাতীয় পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর বাজারচিত্র একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে যে জাতীয় মাছ দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের নিয়মিত খাবারের টেবিলের নাগালের বাইরে, সেই জাতীয় মাছের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক কতটা বাস্তব? ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার মতো সরকারি উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন ও সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে ইলিশের দামের সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের বেশি উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। অথচ অদ্ভুত এক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভরা মৌসুমেও দেশের বাজারে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে থেকে যায়।

 

ঢাকার বাজারে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের এক কেজি ইলিশের দাম প্রায় ২,২০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এমনকি ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের কেজিও ১,৩০০ থেকে ১,৭০০ টাকার নিচে মিলছে না। যেখানে দেশের একজন সাধারণ দিনমজুর বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর দৈনিক বা মাসিক আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায় চাল, ডাল আর যাতায়াত খরচে, সেখানে এক কেজি ইলিশ কিনতে কয়েক দিনের পুরো আয় ঢেলে দেওয়া তাদের জন্য অবাস্তব ও অসম্ভব। আমাদের প্রতিবেশী দেশের কিছু অঞ্চলে (যেমন কলকাতায়) ইলিশ কেটে টুকরো বা পিস হিসেবে বিক্রি করার রেওয়াজ রয়েছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষকে অন্তত এক বেলা ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে গোটা মাছ কেনার সনাতন নিয়মের কারণে নিম্নবিত্তের জন্য তা কেবলই দূর আকাশের চাঁদ।

 

জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় মাছের মর্যাদা কেবল কাগজে-কলমে বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির (যা প্রায় ১.১৫ শতাংশ) খতিয়ানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। জাতীয় মাছের গৌরব তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের রিকশাচালক, পোশাক শ্রমিক কিংবা সাধারণ সরকারি-বেসরকারি স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী তার সন্তানকে পাতে অন্তত এক টুকরো ইলিশ তুলে দিতে পারবেন।

‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্ত।

কলারোয়ায় পতিত জমিতে পানিফলের বাম্পার ফলন : ভালো দামে খুশি চাষিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় পতিত জমিতে পানিফলের বাম্পার ফলন : ভালো দামে খুশি চাষিরা

জুলফিকার আলী: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় এবারও জমে থাকা পানিতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পানিফলের (পানিসিংড়া) বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের নিবিড় তদারকি ও সময়োপযোগী পরামর্শে গোপীনাথপুর মাঠের প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে এবার পানিফলের সফল চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে ভালো দামে পানিফল বিক্রি শুরু হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, গোপীনাথপুর এলাকার নিচু জমি ও জমে থাকা জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানিফল চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এবার গোপীনাথপুর মাঠে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন চাষি এই ফল চাষে যুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুলতান ধাপকের ছেলে একুব্বার ধাপক ৫ বিঘা, ইসমাইল হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলাম ৬ বিঘা, সুলতান গাজীর ছেলে নাজির হোসেন আড়ই বিঘা, রফিকুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন ৪ বিঘা, তহিদুল ইসলাম ৬ বিঘা, সুলতানের ছেলে দীন মোহাম্মদ ১ বিঘা, হাফিজুল ইসলামের ছেলে রেজাউল ইসলাম ৩ বিঘা এবং আব্দুল মজিদের ছেলে ওয়াজেদ আলী ১ বিঘা জমিতে পানিফলের আবাদ করেছেন।

চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় বাজারে পানিফল উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পানিফল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় তারা দারুণ সন্তুষ্ট।

মাঠ পর্যায়ে কৃষি সেবার বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবীর হোসেন জানান, তিনি নিয়মিত গোপীনাথপুরের পানিফল চাষীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সঠিক পরিচর্যা ও পোকা-মাকড়দমনে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌরভ দেবনাথ বলেন, “কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে গোপীনাথপুর এলাকায় প্রতিবছর স্থানীয় চাষিরা সফলভাবে পানিফল চাষ করে আসছেন। এবারও ৬ হেক্টর জমিতে এর আবাদ হয়েছে। ফলন অত্যন্ত ভালো হওয়ায় চাষিরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন এবং আমরাও তাদের সব ধরণের কৃষি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

সাতক্ষীরাতে গ্লোবাল অ্যাকশন উইক উপলক্ষে নাগরিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরাতে গ্লোবাল অ্যাকশন উইক উপলক্ষে নাগরিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি থাকলেও, এখন পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে। এ সংকট নিরসনে এসডিজি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং উপকুলের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ‘গ্লোবাল অ্যাকশন উইক’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে জিক্যাপ এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরডিএস এবং স্বদেশ -এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সম্মিলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়।

স্বদেশ সংস্থার -এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসম্মিলনে ধারনাপত্র পাঠ করেন সিডো নির্বাহি পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, শিক্ষাবিদ কিশোরী মোহন সরকার, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড, আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফ্ফান রোজ বাবু, নাগারিক নেতা আলীনুর খান বাবুল, উন্নয়ন কর্মি শাকিবুর রহমান বাবলা, যুব প্রতিনিধি ইমতে জামিল, বায়াজিদ হোসেন, কিশোরী প্রতিনিধি নুরজাহান ময়না, উদীচী আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান, নাগরিক প্রতিনিধি পবিত্র মোহন দাস, সাংবাদিক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদার, আমিনা বিলকিস ময়না ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সম্মিলনে বক্তারা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও বৈষম্যের ক্ষেত্রে দেশজুড়ে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, উপকুল অঞ্চলে তা আরও প্রকট বলে মত প্রকাশ করেন। এসডিজি অর্জনে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন শুধু পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচকরা এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং হত দরিদ্র্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে-তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি