বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কলারোয়ায় পতিত জমিতে পানিফলের বাম্পার ফলন : ভালো দামে খুশি চাষিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় পতিত জমিতে পানিফলের বাম্পার ফলন : ভালো দামে খুশি চাষিরা

জুলফিকার আলী: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় এবারও জমে থাকা পানিতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পানিফলের (পানিসিংড়া) বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের নিবিড় তদারকি ও সময়োপযোগী পরামর্শে গোপীনাথপুর মাঠের প্রায় ৬ হেক্টর জমিতে এবার পানিফলের সফল চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে ভালো দামে পানিফল বিক্রি শুরু হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, গোপীনাথপুর এলাকার নিচু জমি ও জমে থাকা জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানিফল চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এবার গোপীনাথপুর মাঠে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন চাষি এই ফল চাষে যুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুলতান ধাপকের ছেলে একুব্বার ধাপক ৫ বিঘা, ইসমাইল হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলাম ৬ বিঘা, সুলতান গাজীর ছেলে নাজির হোসেন আড়ই বিঘা, রফিকুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন ৪ বিঘা, তহিদুল ইসলাম ৬ বিঘা, সুলতানের ছেলে দীন মোহাম্মদ ১ বিঘা, হাফিজুল ইসলামের ছেলে রেজাউল ইসলাম ৩ বিঘা এবং আব্দুল মজিদের ছেলে ওয়াজেদ আলী ১ বিঘা জমিতে পানিফলের আবাদ করেছেন।

চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় বাজারে পানিফল উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পানিফল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় তারা দারুণ সন্তুষ্ট।

মাঠ পর্যায়ে কৃষি সেবার বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবীর হোসেন জানান, তিনি নিয়মিত গোপীনাথপুরের পানিফল চাষীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সঠিক পরিচর্যা ও পোকা-মাকড়দমনে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌরভ দেবনাথ বলেন, “কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে গোপীনাথপুর এলাকায় প্রতিবছর স্থানীয় চাষিরা সফলভাবে পানিফল চাষ করে আসছেন। এবারও ৬ হেক্টর জমিতে এর আবাদ হয়েছে। ফলন অত্যন্ত ভালো হওয়ায় চাষিরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন এবং আমরাও তাদের সব ধরণের কৃষি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

Ads small one

জাতীয় মাছ ইলিশ, সাধারণের পাতে কতটা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
জাতীয় মাছ ইলিশ, সাধারণের পাতে কতটা?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের জল, মাটি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে রূপালি ইলিশ। স্বাদ, ঐতিহ্য ও বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় যে, এটি শুধু একটি মাছ নয়, জাতীয় পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর বাজারচিত্র একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে যে জাতীয় মাছ দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের নিয়মিত খাবারের টেবিলের নাগালের বাইরে, সেই জাতীয় মাছের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক কতটা বাস্তব? ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার মতো সরকারি উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন ও সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে ইলিশের দামের সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে কি না বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের বেশি উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। অথচ অদ্ভুত এক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভরা মৌসুমেও দেশের বাজারে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে থেকে যায়।

 

ঢাকার বাজারে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের এক কেজি ইলিশের দাম প্রায় ২,২০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এমনকি ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের কেজিও ১,৩০০ থেকে ১,৭০০ টাকার নিচে মিলছে না। যেখানে দেশের একজন সাধারণ দিনমজুর বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর দৈনিক বা মাসিক আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায় চাল, ডাল আর যাতায়াত খরচে, সেখানে এক কেজি ইলিশ কিনতে কয়েক দিনের পুরো আয় ঢেলে দেওয়া তাদের জন্য অবাস্তব ও অসম্ভব। আমাদের প্রতিবেশী দেশের কিছু অঞ্চলে (যেমন কলকাতায়) ইলিশ কেটে টুকরো বা পিস হিসেবে বিক্রি করার রেওয়াজ রয়েছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষকে অন্তত এক বেলা ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে গোটা মাছ কেনার সনাতন নিয়মের কারণে নিম্নবিত্তের জন্য তা কেবলই দূর আকাশের চাঁদ।

 

জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় মাছের মর্যাদা কেবল কাগজে-কলমে বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির (যা প্রায় ১.১৫ শতাংশ) খতিয়ানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। জাতীয় মাছের গৌরব তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের রিকশাচালক, পোশাক শ্রমিক কিংবা সাধারণ সরকারি-বেসরকারি স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী তার সন্তানকে পাতে অন্তত এক টুকরো ইলিশ তুলে দিতে পারবেন।

‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্ত।

সাতক্ষীরাতে গ্লোবাল অ্যাকশন উইক উপলক্ষে নাগরিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরাতে গ্লোবাল অ্যাকশন উইক উপলক্ষে নাগরিক সম্মিলন অনুষ্ঠিত

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি থাকলেও, এখন পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে। এ সংকট নিরসনে এসডিজি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং উপকুলের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ‘গ্লোবাল অ্যাকশন উইক’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬), সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে জিক্যাপ এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরডিএস এবং স্বদেশ -এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সম্মিলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়।

স্বদেশ সংস্থার -এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসম্মিলনে ধারনাপত্র পাঠ করেন সিডো নির্বাহি পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, শিক্ষাবিদ কিশোরী মোহন সরকার, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড, আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফ্ফান রোজ বাবু, নাগারিক নেতা আলীনুর খান বাবুল, উন্নয়ন কর্মি শাকিবুর রহমান বাবলা, যুব প্রতিনিধি ইমতে জামিল, বায়াজিদ হোসেন, কিশোরী প্রতিনিধি নুরজাহান ময়না, উদীচী আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান, নাগরিক প্রতিনিধি পবিত্র মোহন দাস, সাংবাদিক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদার, আমিনা বিলকিস ময়না ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সম্মিলনে বক্তারা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও বৈষম্যের ক্ষেত্রে দেশজুড়ে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, উপকুল অঞ্চলে তা আরও প্রকট বলে মত প্রকাশ করেন। এসডিজি অর্জনে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন শুধু পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচকরা এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং হত দরিদ্র্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে-তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তালার খলিলনগরে সচেতনতামূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তালার খলিলনগরে সচেতনতামূলক সভা

তালা প্রতিনিধি: জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা ও সতর্কীকরণসহ সমন্বিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ শাহাজাহান আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু।
সভায় বক্তব্য দেন সমাজসেবক জি এম শহীদুল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ রেজাউল করিম, শিক্ষক সেলিনা পারভীন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে।