বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরেনি আসিফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরেনি আসিফ

এসএম বিপ্লব হোসেন
বাড়ির উঠানে এখনও বিকেলের রোদ পড়ে। সন্ধ্যা নামলেই আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন একজন মা। কোনো শব্দ হলেই বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে আশা। মনে হয়, এই বুঝি ছেলেটা ফিরে এল। কিন্তু পরমুহূর্তেই বাস্তবতা তাকে মনে করিয়ে দেয়, সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই।
ধীরে ধীরে তিনি বলেন, “ও বাবা, তুমি যাইওনা… কত বলেছিলাম, বাবা যাস না। তাও গেলে। আমার আসিফ আর ফিরল না…” এরপর আর কথা বলতে পারেন না শিরীন সুলতানা। কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলেকে হারানোর সেই বিকেলটি যেন আজও থমকে আছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আস্কারপুর গ্রামের ছোট্ট সেই বাড়িতে।
দেশ বদলেছে। ইতিহাস বদলেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে নানা আয়োজন। কোথাও নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ, কোথাও পাঠাগার, কোথাও বা চত্বর। কিন্তু একজন মায়ের কাছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সন্তানের খালি বিছানা, অপূর্ণ অপেক্ষা আর না-ফেরা একটি মুখ।
মাত্র ২১ বছর বয়সে আহত এক সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের নাম আজ শহীদ আসিফ হাসান। নর্দান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী নিজের জীবন নয়, অন্য একজনের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছিলেন।
১৮ জুলাই ২০২৪: রাজধানীর উত্তরা তখন ধোঁয়া, আতঙ্ক আর গুলির শব্দে ভারী। আন্দোলনের মিছিল ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলছে। ঠিক সেই সময় বড় বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন আসিফ।
“আপা, আমি ভালো আছি। ভয় পেয়ো না। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। আমাদের এক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওকে পানি খাওয়াতে যাচ্ছি…”Ñএটাই ছিল তার শেষ কথা।
ফোনের অপর প্রান্তে বড় বোন বারবার ডাকছিলেন, “হ্যালো… হ্যালো… আসিফ…” কিন্তু আর কোনো উত্তর আসেনি। আহত সহযোদ্ধাকে পানি খাওয়ানোর আগেই গুলিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন আসিফ। পরে সহযোদ্ধারা তাকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাড়িতে তখনও কেউ জানত না, পরিবারের সবচেয়ে ছোট স্বপ্নবাজ ছেলেটি আর কোনোদিন ফিরবে না।
কয়েকদিন পর বাড়ি ফেরার জন্য বাসের টিকিট কাটা ছিল। মা ভেবেছিলেন, ছেলেটা এলে তার প্রিয় ভেটকি মাছ, চিংড়ি আর গরুর মাংস রান্না করবেন। কিন্তু বাস থেকে নামল না আসিফ। ফিরল সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে পরিবার প্রথম নিশ্চিত হয়, তাদের আসিফ আর নেই। সেই থেকে এই বাড়ির সময় যেন থেমে আছে।
শিরীন সুলতানা আজও বলেন, “আমার মনে হয়, দরজায় কড়া নাড়বে। বলবে, মা খেতে দাও। এখনও রান্না করলে মনে হয়, আমার আসিফ এসে বলবে, মা গরম গরম দাও।”
পাশেই বসে থাকেন বাবা মাহমুদ আলম। খুব বেশি কথা বলেন না। শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। চোখের ভাষাতেই যেন লুকিয়ে থাকে সব বেদনা।
জমজ ভাই রাকিব হাসানের কাছে এই শূন্যতা আরও গভীর। একই দিনে জন্ম, একই সঙ্গে বড় হওয়া, একই স্বপ্নে পথচলা। ভাইকে হারানোর পর যেন নিজেরই একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
রাকিব বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো কিছুই আলাদা ছিল না। যা করতাম, একসঙ্গে করতাম। এখন মনে হয়, আমার অর্ধেকটাই যেন হারিয়ে গেছে।”
দুই বছর পরও পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, বিচার কবে হবে?
মামলার তদন্ত চলছে বলে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির খবর পরিবার জানে না। দীর্ঘ এই অপেক্ষা তাদের বেদনা আরও গভীর করেছে।
তবে সাতক্ষীরা তার এই সন্তানকে ভুলে যায়নি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পাঠাগারের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ আসিফ পাঠাগার’। জেলার কেন্দ্রস্থল খুলনা রোড মোড় এখন পরিচিত ‘আসিফ চত্বর’ নামে। দেবহাটায় উদ্বোধন হয়েছে ‘শহীদ আসিফ হাসান মিনি স্টেডিয়াম’। এসব শুধু স্থাপনার নাম নয়, একটি প্রজন্মের আত্মত্যাগের নীরব সাক্ষী।
তবু দিনের শেষে যখন সন্ধ্যা নামে আস্কারপুরের সেই বাড়িতে, তখন একজন মা এখনও নিঃশব্দে ছেলের ঘরে ঢোকেন। বালিশে হাত রাখেন। আলমারি খুলে কাপড় গুছিয়ে রাখেন। কখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলেন, “বাবা, আর একবার যদি ফিরে আসতে…”
হয়তো কোনোদিন সেই ডাকের উত্তর মিলবে না।
জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিন পেরিয়ে সময় এগিয়েছে। বদলে গেছে রাষ্ট্র, বদলে গেছে রাজনীতির অনেক হিসাব। কিন্তু দেবহাটার আস্কারপুর গ্রামের একটি বাড়িতে সময় যেন এখনও আটকে আছে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ে। একজন মা এখনও সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেন, একজন বাবা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, আর একজন যমজ ভাই প্রতিদিন নিজের অর্ধেক শূন্যতা বয়ে বেড়ান।
রাষ্ট্র আজ নানা আয়োজনে শহীদ আসিফ হাসানকে স্মরণ করছে। তার নামে হয়েছে পাঠাগার, চত্বর ও মিনি স্টেডিয়াম। কিন্তু পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা একটাই, যে আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে, সেই আত্মত্যাগের ন্যায়বিচার একদিন নিশ্চিত হবে।
ইতিহাসের পাতায়, জুলাইয়ের লাল-সবুজ স্মৃতিতে, আর লাখো মানুষের হৃদয়ে, আহত সহযোদ্ধাকে এক গ্লাস পানি খাওয়াতে ছুটে যাওয়া সেই তরুণের নাম চিরকাল লেখা থাকবে-শহীদ আসিফ হাসান। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যু আবারও বিভিন্ন সক্রিয় ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বনদস্যুদের কাছে জিম্মি থাকার পর সম্প্রতি ফিরে আসা কয়েকজন জেলে এমন অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গনি সানার ছেলে ননে সানা, লোকমানের ছেলে বাবু এবং দাতিনাখালী এলাকার মনতেজ সরদারের ছেলে আসাদুল (ননি গোপাল) গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন ডাকাত দলের সঙ্গে মিশে পুনরায় বনদস্যু কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বনদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে ফেরা একাধিক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনের ভেতরে এখনও কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের নৌকা থামিয়ে জিম্মি করছে এবং মুক্তিপণ আদায় করছে। এসব দলে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যুকেও দেখা গেছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সুন্দরবনে নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুন্দরবনে বনদস্যুদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বুধবার(৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদ হল রুমে শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের আয়োজনে বেল্ট পরীক্ষার ফলাফল ও বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যসহ উত্তীর্ণদের মাঝে বেল্ট প্রদান করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাশেদ হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের প্রশিক্ষক জি এম রাজগুল বাহার রাজু। ফলাফল অনুযায়ী সাদা থেকে হলুদ বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রাফিন, মাইনুল বুশরা, ২য় রাহাত, ৩য় তৈয়েব, ৪র্থ আজমাইন ও আফিফ, ৫ম মাইশা, ৬ষ্ঠ মেহেতাজ, ৭ম নিলয় ও ৮ম মাহির। হলুদ বেল্ট থেকে কমলা বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে ১ম রাফিন ও ইমন,২য় তামিম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, শিক্ষক কওছারসহ অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

Oplus_0

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে পাচারকালে স্বর্নের চালানসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে কাষ্টম। আটক স্বর্ন পাচারকারী মোবারক হোসেন মুনসিগঞ্জ সদর এলাকার তাজুউদ্দীনের ছেলে।

বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা শাখার সহকারি কমিশনার সাজিদ মাহাদুদ কৌশিক জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে যাত্রী মোবারক হোসেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাবার সময় ঐ যাত্রীর আচারন ও চলাফেরা সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা করা হয়। এসময় তার কাছে স্বর্ন থাকার কথা স্বীকার করে।

 

পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি স্বর্নবার পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য আনুমানিক ২২ লাখ টাকা। পরে তার শরীরের ভেতর আরো স্বর্ন আছে সন্দেহে এক্সরে করে কিন্তু পাওয়া যায়নি। আটক পাসপোর্টধারীর বিরুদ্ধে স্বর্নপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন পুলিশ।