সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম আলাউদ্দীন ছিলেন আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম আলাউদ্দীন ছিলেন আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার

মুজিবর রহমান : বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা স.ম আলাউদ্দীন ছিলেন সাতক্ষীরার রূপকার। তিনি সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নায়নে আমৃত্য লড়াই করে গেছেন। অন্যায়কে কখন প্রশ্রয় দেন নি। তিনি আজীবন গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। প্রথিমধ্যে ঘাতকের একটি তাজা বুলেট কেড়ে নিল সেই মানুষটিকে। আর নিভে গেল সাতক্ষীরার উন্নায়নের সেই জীবন প্রদিপ। যার জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৯শে আগষ্ট। তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নে মিঠাবাড়ী গ্রামে তার বাড়ি। পিতা-মরহুম সৈয়দ আলী সরদার। স.ম আলাউদ্দীন  ১৯৬২ সালে এস,এস,সি ১৯৬৪ এইচ, এস, সি এবং ১৯৬৭ সালে খুলনা বিএল কলেজ থেকে বিএ ও ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাস করেন। ১৯৬৭ সালের প্রথম দিকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তালা কলারোয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রাদেশিক সদস্য নির্বাচীত হন। এরপর কয়েক বার তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদে অধিষ্টিত হন। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বার কারা বরণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশ গ্রহণ করেন এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তালার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাগতার মধ্যে দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর পাটকেলঘাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়েও তিনি কিছুদিন শিক্ষাগতা করেন। তিনি ছিলেন সমাজসেবক গরীব দুঃখি মেহনতী মানুষের অকৃতিম বন্ধু। মৃত্যুর ২বছর পূর্বে খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের কাপাসডাঙ্গা নামক স্থানে আলাউদ্দীন ফুডস্ এন্ড কেমিক্যাল নামক একটি বিস্কুট ফ্যাক্টারী প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু পেশা ভিত্তিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যাক্ষ ছিলেন। এছাড়া সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা  সভাপতি ভোমরা স্থাল বন্দর ব্যাবহারকারী সমিতির সভাপতি। সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি, ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি, সাতক্ষীরা উন্নায়ন সংগ্রাম সমন্নয় কমিটির সভাপতি সহ অশংখ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন সাতক্ষীরার নিরপেক্ষ দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। ১৯৯৬সালে ১৯শে জুন সাতক্ষীরার নিজ পত্রিকা অফিসে কর্মরত অবস্থায় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে আততায়ীর হাতে খুন হন। তিনি ছিলেন বাঙ্গালী জাতীয়তা বাদের প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরা বাসী অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমৃত্যু যা সবাইকে বহণ করে যেতে হবে। ১৯৯৬সাল থেকে ২০১০সময়ের ব্যাবধানে কেটেছে অনেক বছর আজও আলাউদ্দীন হত্যার বিচার হয়নি। “বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে” মরহুম আলাউদ্দীন ভাই যে দলের নেতা ছিলেন সেই দল সরকারে থাকা অবস্থায় তিনি খুন হন।  তিনি শুধু রাজনৈতীক নেতা ও সমাজ কর্মী নন তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিকও। দীর্ঘ ১৫বছর সাংবাদিক সমাজ এই ঘৃনিত বরবর হত্যার বিচার দাবী করে মাঠে রয়েছে। স.ম আলাউদ্দীন ঘুরে বেড়িয়েছেন শহর থেকে গ্রাম কখনো মটর সাইকেল, আবার কখনও পায়ে হেটে। সাধারন মানুষের কথা তিনি শুনেছেন কারোর অভাব, আভিযোগের কথা গুলো তিনি ভাল ভাবে শুনতেন মাটি ও মানুষের সাথে তার ছিল নিবিড় সম্পর্ক। এই মানুষটির মৃত্যুতে আজ তারা শোকাহত মর্মাহত আজও সাতক্ষীরা তথা তালার পাটকেলঘাটা হাজার হাজার মানুষ স.ম আলাউদ্দীনের কথা স্বরণ করে। আলাউদ্দীন ভাইকে কে বা কারা হত্যা করেছিল সাতক্ষীরায় এটা কারও অজানা নয়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মামলাটি। খুনি চক্র কেন এই জনপ্রিয় মানুষটিকে খুন করেছিল বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট। দীর্ঘ ১৫বছরেও এ হত্যা কান্ডের বিচার হয়নি। সাতক্ষীরা মানুষের কাছে তিনি আজও সাতক্ষীরার রূপকার হিসাবে চিরস্বরণীয় হয়ে আছেন। আজও মানুষ তার কথা স্বরণ করে। কবর জিয়ারত করে। ফেলে আসা দিন গুলো মনে করে স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ছিলেন অকুতো ভয়। নিজের জীবনকে বাজী রেখে তিনি  দেশকে স্বাধীন করেছেন। আমরা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্বরণ করি এই মানুষটিকে। কামনা করি তার রূহের মাগফিরাত।

 

Ads small one

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি’র আয়োজনে ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনার আজ (সোমবার) চুয়াডাঙ্গা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

সেমিনারে প্রধান অতিথি বলেন, আমরা তথ্য ভান্ডারের মধ্যে বসবাস করছি, যেখানে সব তথ্যের সত্যতা খালি চোখে যাচাই করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক বুঝে হোক না বুঝে হোক প্রতিনিয়ত তথ্য শেয়ার করছেন। এতে অপতথ্যের অনিয়ন্ত্রিত ছড়াছড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুণগত শিক্ষার মতো গুণগত সংবাদ পরিবেশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাক্ট চেকিং রাজনৈতিক নেতা, সরকারি দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ফলস্বরূপ প্রত্যেক ঘটনার গ্রহণযোগ্যতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রতিবেদন তৈরির পূর্বে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে এবং সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে অনুরোধ করেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস খুলনার আয়োজনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং সেমিনারটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধে অপতথ্যরোধে ফ্যাক্ট চেকিং এর গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুলস সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।

খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে চুয়াডাঙ্গা জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবার-সহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ রমজান আলী।

সেমিনারে চুয়াডাঙ্গার ৩৫ জন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কর্মীরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
ওয়েটার তত্ত্বের দেশে ক্যারিয়ারের মৃত্যু

মো: মামুন হাসান

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী যদি বলে সে ডাক্তার হতে চায়, আমরা তাকে বাহবা দিই। ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলে গর্ব করি। বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু একই শিক্ষার্থী যদি বলে সে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়তে চায়, তখন অনেকের মুখে একটাই প্রশ্ন শোনা যায় “হোটেলে চাকরি করবে নাকি?”

এই প্রশ্নটি শুধু একটি প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা এবং পেশাগত বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি। অবাক লাগে, যে সমাজ বিদেশে গিয়ে পাঁচতারকা হোটেলের সেবা দেখে মুগ্ধ হয়, সেই সমাজ নিজের দেশে হসপিটালিটি পেশাজীবীদের সম্মান দিতে কৃপণতা করে। যে অভিভাবক সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক হোটেলে চাকরি পেলে গর্ব করেন, তিনিই দেশে একই বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে নিরুৎসাহিত করেন।এর চেয়ে বড় আত্মবিরোধিতা আর কী হতে পারে?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অন্যতম অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় শিক্ষাখাত ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। এই অবহেলার কারণ দক্ষতার অভাব নয়, সুযোগের অভাবও নয়; মূল সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। আমরা এখনো মনে করি সাদা অ্যাপ্রোন পরলে সম্মান আছে, টাই পরে অফিসে বসলে মর্যাদা আছে, কিন্তু অতিথি ব্যবস্থাপনা, হোটেল পরিচালনা বা পর্যটন শিল্পে কাজ করলে সম্মান কমে যায়। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বহু আগেই এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে হোটেল ম্যানেজমেন্ট একটি এলিট শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান, ব্যবসায়ী এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হসপিটালিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কারণ এই শিক্ষা মানুষকে শুধু হোটেল পরিচালনা নয়, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সংকট মোকাবিলা এবং মানুষকে বোঝার দক্ষতা শেখায়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আত্মীয়স্বজনের কটূক্তির ভয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে সাহস পায় না। আরেকটি প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত। দেশের বড় বড় পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বিদেশি শেফ, বিদেশি কনসালট্যান্ট, বিদেশি ম্যানেজার কেন কাজ করেন? তারা কি আমাদের চেয়ে বেশি মেধাবী? অবশ্যই নয়। তাদের বড় শক্তি হলো তারা এমন সমাজ থেকে এসেছে, যেখানে দক্ষতাকে সম্মান করা হয়। আর আমরা এখনো ডিগ্রির নাম দেখে সম্মান দিই, দক্ষতার মূল্য নয়। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

 

যে পদগুলোতে বাংলাদেশের তরুণরা কাজ করতে পারত, সেগুলোতে বিদেশিরা নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা একদিকে বেকারত্বের অভিযোগ করছি, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের একটি বিশাল ক্ষেত্রকে অবজ্ঞা করছি। এটা কি আত্মঘাতী নয়? আরও দুঃখজনক হলো, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ খুবই সীমিত। ক্যারিয়ার গাইডেন্সে এই খাতের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। যেন এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেশাই নয়, কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্প এখন অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা খাত। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড কিংবা তুরস্কের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বোঝা যায় কীভাবে পর্যটন ও হসপিটালিটি লাখ লাখ মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের রয়েছে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি করছি? উত্তর খুব সুখকর নয়। আমরা এখনো এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে অনেক মানুষ মনে করেন হোটেল ম্যানেজমেন্ট মানে ট্রে হাতে অতিথির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। অথচ তারা জানেন না, সেই হোটেলের ব্যবস্থাপক শত কোটি টাকার সম্পদ পরিচালনা করেন, শত শত কর্মীর নেতৃত্ব দেন এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সুনাম রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। সমস্যা আসলে পেশার নয়; সমস্যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির।

আমরা সন্তানদের শেখাই “মানুষ কী বলবে”। কিন্তু শেখাই না “তুমি কী হতে চাও”। আমরা মর্যাদা খুঁজি পেশার নামে, দক্ষতায় নয়। ফলাফল হলো, অনেক তরুণ নিজের আগ্রহের জায়গা ছেড়ে সামাজিক চাপের কাছে হার মানে। কেউ হয়তো ভালো হসপিটালিটি ম্যানেজার হতে পারত, কেউ আন্তর্জাতিক মানের শেফ, কেউ পর্যটন উদ্যোক্তা। কিন্তু সমাজের ভ্রুকুটির কারণে তারা অন্য পথে চলে যায়।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষতা নির্ভর অর্থনীতি গড়তে চায়, তাহলে এই মানসিকতা বদলাতেই হবে। আজ প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলনের। এমন একটি আন্দোলন, যা বলবে সব পেশার মর্যাদা সমান নয়, কিন্তু সব সম্মানজনক পেশার মর্যাদা থাকা উচিত। আর হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট নিঃসন্দেহে একটি সম্মানজনক, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক পেশা।

প্রশ্ন একটাই আর কতদিন আমরা অজ্ঞতার কারণে একটি সম্ভাবনাময় খাতকে অবহেলা করব? আর কতদিন আমরা বিদেশি দক্ষ জনবল আমদানি করব, অথচ নিজের দেশের তরুণদের স্বপ্নকে তুচ্ছজ্ঞান করব? আর কতদিন আমরা পেশাকে নয়, পেশার নামকে সম্মান দেব? সম্ভবত সময় এসেছে আয়নায় নিজেদের দেখার। কারণ হোটেল ম্যানেজমেন্টের সংকট আসলে এই খাতের নয়; সংকট আমাদের সামাজিক মানসিকতার। আর এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমরা শুধু একটি শিক্ষাবিষয়কে নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাকেও হারাতে থাকব।

লেখক: মো: মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিডিনিউজ২৪ডটকম এর বেনাপোল প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান আসাদকে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার আটকের প্রতিবাদে মুক্তির দাবীতে শার্শা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা।

বেনাপোল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বকুল মাহবুব জানান, সোমবার গভীর রাতে যশোরের শার্শা জামতলার নিজবাড়ী থেকে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়াই যশোর ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক আসাদকে। সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বেদম মারপিট করে আহত করা হয় সাংবাদিকের ভাগ্নে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরঙ্গকে। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

সাংবাদিককে আটকের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে থানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকেরা। নিঃস্বর্ত মুক্তি চান তারা। থানায় আটক রাখা হয়েছে তাকে।
এসব বিষয়ে জানার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেন নি শার্শা থানার ওসি।

সাংবাদিক জামাল হোসেন ও মনির হোসেন জানান, নির্বাচিত সরকারের সময় একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে হয়রানিমূলক আটক স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। তার মুক্তির দাবী জানান তারা।

সাংবাদিকের হয়রানিমুলক গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদসহ মুক্তির দাবী জানান যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার গণমাধ্যম কর্মীরা।