রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৈশ্বিক জ্বালানি স্বাধীনতা দিবস: আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
বৈশ্বিক জ্বালানি স্বাধীনতা দিবস: আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে

মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে জ্বালানি শুধু উন্নয়নের চালিকাশক্তিই নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। শিল্পবিপ্লব থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত প্রতিটি অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে শক্তির অবদান। কিন্তু এই উন্নয়নের প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব আজ বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই বাস্তবতায় প্রতি বছর ১০ জুলাই পালিত বৈশ্বিক জ্বালানি স্বাধীনতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñটেকসই ভবিষ্যতের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

এই দিবসের সূচনা হয় ২০০৬ সালে, যখন লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজার্সের সদস্য মাইকেল ডেনিস অ্যান্টোনোভিচ ১০ জুলাইকে বৈশ্বিক জ্বালানি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। দিনটি বেছে নেওয়া হয় ১৮৫৬ সনে জন্ম নেওয়া মহান উদ্ভাবক নিকোলা টেসলা-এর জন্মদিন উপলক্ষে। আধুনিক পরিবর্তী প্রবাহ ভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিকাশে তাঁর অবদান আজও বিশ্ব জ্বালানি প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

জ্বালানি স্বাধীনতার ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকটের সময় অনেক দেশ উপলব্ধি করে যে, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সেই উপলব্ধি থেকেই শক্তির বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস শুরু হয়। বর্তমানে জ্বালানি স্বাধীনতা বলতে শুধু বিদেশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস নয়; বরং পরিবেশবান্ধব, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী শক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাকেও বোঝায়।

বর্তমান বিশ্বে জ্বালানিকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থার বিঘœ কিংবা বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। জ্বালানি আমদানির জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস গড়ে তোলা আজ কেবল পরিবেশগত প্রয়োজন নয়; এটি অর্থনৈতিক কৌশলও বটে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি জ্বালানি স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুম-লে নিঃসৃত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ত্বরান্বিত করছে। এর ফল হিসেবে ঘন ঘন তাপপ্রবাহ, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয় শক্তি, বায়োগ্যাস এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসম্পন্ন পারমাণবিক শক্তি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে এসব উৎসের উৎপাদন ব্যয় ক্রমশ কমছে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে একসময়ের ব্যয়বহুল বিকল্পগুলো আজ অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি স্বাধীনতার প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে দেশে বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর উচ্চমাত্রার নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে বৈদেশিক বাজারের ওঠানামার মুখোমুখি করে। অন্যদিকে সূর্যালোক, উপকূলীয় বায়ুপ্রবাহ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য সম্পদের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্যামনগরসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোর মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেবল একটি বিকল্প নয়, এটি বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অংশ।

জ্বালানি স্বাধীনতা কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও সৃষ্টি করছে। বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শিল্পে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প, স্মার্ট গ্রিড, শক্তি দক্ষতা ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জ্বালানি রূপান্তর পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ৭ ও ১৩Ñ‘সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ এবং ‘জলবায়ু কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জ্বালানি স্বাধীনতা অপরিহার্য। পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়নের অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনও কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে জ্বালানি স্বাধীনতা অর্জন শুধু রাষ্ট্রের একক দায়িত্ব নয়। ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকারÑসবাইকে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে। বিদ্যুৎ অপচয় রোধ, শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক এই অভিযাত্রার অংশীদার হতে পারেন।

বৈশ্বিক জ্বালানি স্বাধীনতা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ কেবল বেশি শক্তি ব্যবহার নয়; বরং সেই শক্তির উৎসকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই করে তোলা। জ্বালানি স্বনির্ভরতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আগামী বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। আজকের দূরদর্শী বিনিয়োগ ও সচেতন সিদ্ধান্তই আগামী দিনের সবুজ, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ পৃথিবীর ভিত্তি রচনা করবে। জ্বালানি স্বাধীনতা অর্জনের এই লড়াই কেবল রাষ্ট্রের নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের আগামীর নিশ্চয়তার লড়াই।

 

 

 

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।