বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

পত্রদূত ডেস্ক: স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মামুন চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, টাকা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাদের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বাদীকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ভিডিও পাঠিয়ে বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ২০ অক্টোবর আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পক্ষে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাদী।

সাহেব আলী অভিযোগ করেন, প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও টাকা দেওয়ার পর ব্ল্যাকমেল অব্যাহত থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও প্রচার করা হলে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

Ads small one

পাইকগাছায় কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশিষ্ট সাহিত্যিক কাজী ইমদাদুল হকের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, সম্মাননাপত্র ও পুরস্কার বিতরণ।

বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার নতুন বাজার কার্যালয়ে কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পাইকগাছা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শংকর প্রসাদ দত্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা কবি ও ছড়াকার অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম কচি, কবি, লেখক, শিল্পী ও অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী (ফিরোজ), নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ঘোষ এবং শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শংকর প্রসাদ মুনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাংবাদিক ফারুক হোসেন, সাহেব আলী, জি এম হারুন অর রশিদ, সমাজসেবক সাথী সরকার, লিনজা আক্তার মিথিলা ও রিমি আক্তার। এ সময় কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ এলাকার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কাজী ইমদাদুল হকের কর্মময় জীবন নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিসা ইসলাম প্রথম, নিঝুম সওদা এশা ও রিমি গাইন মিথিলা যৌথভাবে দ্বিতীয় এবং সুমাইয়া সুলতানা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। কুইজ প্রতিযোগিতায় লিনজা আক্তার মিথিলা প্রথম, রাইসা আক্তার মুন দ্বিতীয় এবং পাইকগাছা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী আবির সরকার (অভ্র) তৃতীয় হয়। এ ছাড়া রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং পাইকগাছা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৩০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পরিষদ ২০০২ সাল থেকে সাহিত্যিকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছে। ২০১৬ সাল থেকে সংগঠনটি কাজী ইমদাদুল হক স্মৃতি পদক, সম্মাননাপত্র ও পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন শুরু, শেষ সময় ২৪ নভেম্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন শুরু, শেষ সময় ২৪ নভেম্বর

পত্রদূত ডেস্ক: প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় আগামী ২৪ নভেম্বর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত, ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত এবং একই বছর ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে শিক্ষার্থীর বাবা অথবা মাকে বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণকারী কিংবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হতে হবে। একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুই সন্তান এ শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে বিভাগভেদে নির্ধারিত জিপিএ এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ থাকতে হবে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তানদের জন্য জিপিএর ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত রয়েছে।

আবেদনের সঙ্গে প্রবাসী কর্মী হিসেবে বাবা-মায়ের প্রমাণপত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের মোবাইল নম্বরসহ প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও ব্যাংক রাউটিং নম্বর, ছবি, স্বাক্ষর এবং জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন থেকে দেওয়া এনওসি বা দূতাবাস সনদও সংযুক্ত করতে হবে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের হিসাব গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এসএসসি পর্যায়ে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চার বছর শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হবে। এইচএসসি পর্যায়ে ডিগ্রি (পাস) কোর্সে তিন বছর, স্নাতক পর্যায়ে চার বছর এবং এমবিবিএস, বিডিএস, ডিভিএম ও স্থাপত্য বিষয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত বৃত্তি দেওয়া হবে।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের https://portal.wewb.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ২৫ অক্টোবর থেকে, চলবে ২৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। সরাসরি বা ডাকযোগে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। অসম্পূর্ণ কিংবা ভুল তথ্যসংবলিত আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশে প্রবাসী কল সেন্টারের টোল ফ্রি নম্বর ১৬১৩৫ এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সুন্দরবন, নদী ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা, পরিবেশ রক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবন, নদী ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা, পরিবেশ রক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, বিস্তীর্ণ বনভূমি, নদ-নদী, খাল-বিল, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ জেলার শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, নদী-খাল দখল, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও বৃক্ষনিধনের কারণে জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সম্পদ সুন্দরবন। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা ও পদ্মপুকুরসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা এ বনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, উদবিড়ালসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া ও পশুরসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এ বনের বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে।

সুন্দরবন শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বাতাসের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি মাছ, কাঁকড়া, মধু ও বনজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে কাজ করছে।

জেলার প্রকৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে ইছামতী, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ ও খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় এসব নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ছিল। নদীর পানি কৃষিকাজ, নৌযান চলাচল ও মৎস্য আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু বর্তমানে পলি জমে নদীর নাব্যতা হ্রাস, অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত বাঁধ ও দূষণের কারণে অনেক নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সাতক্ষীরার ইছামতী, কপোতাক্ষ ও বেতনা নদীর ৩০২ জন অবৈধ দখলদার শনাক্তের তথ্য উঠে এসেছে। নদীর জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালও দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণের শিকার। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এ খাল শহরের পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শহরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠছে।

উপকূলীয় সাতক্ষীরার অন্যতম বড় পরিবেশগত সংকট লবণাক্ততা। শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও দেবহাটার বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা কৃষি উৎপাদন এবং সুপেয় পানির প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কৃষি বিভাগের তথ্যের বরাতে বলা হয়, সাতক্ষীরার প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এর মধ্যে চিংড়ি চাষের জমিও রয়েছে।

লবণাক্ততার কারণে অনেক এলাকায় ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে মিঠাপানির পুকুর ও জলাশয়ের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশীয় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলার আরেকটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। অতিবৃষ্টি, নদীর নাব্যতা সংকট, খাল ভরাট, অপরিকল্পিত মাছের ঘের এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই সকাল পর্যন্ত জেলায় ৪৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ওই সময় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর আউশ ধান ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার তথ্য জানায় কৃষি বিভাগ।

অন্যদিকে আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন এবং বেড়িবাঁধের ঝুঁকি উপকূলীয় জনপদের মানুষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সুন্দরবনের বাইরেও সাতক্ষীরার গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ, উভচর প্রাণী ও দেশীয় জলজ প্রাণী। পুকুর, বিল, খাল, ধানক্ষেত ও গাছপালা এসব প্রাণীর আবাসস্থল। কিন্তু জলাশয় ভরাট, নির্বিচারে গাছ কাটা, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

উপকূলীয় জেলা হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও সাতক্ষীরায় বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বাসসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, দিনমজুর ও উপকূলীয় এলাকার নারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ইছামতী, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ ও খোলপেটুয়াসহ সব নদ-নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে হবে। প্রাণসায়ের খালসহ শহর ও গ্রামের জলাশয় দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।

একই সঙ্গে অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা, পরিকল্পিত বনায়ন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং লবণসহিষ্ণু কৃষির প্রসারও প্রয়োজন।

সাতক্ষীরার প্রকৃতি শুধু সৌন্দর্যের আধার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জেলার মানুষের খাদ্য, অর্থনীতি, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা। সুন্দরবন, নদ-নদী, খাল-বিল, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে পুরো জনপদের পরিবেশ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ জন্য প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি ও মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ক্ষতি না করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা গেলে নিরাপদ থাকবে সাতক্ষীরার পরিবেশ, সুরক্ষিত হবে মানুষের জীবন-জীবিকা।