মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাদকে আসক্ত হওয়ার আগের কথা : যা কেউ বলে না

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
মাদকে আসক্ত হওয়ার আগের কথা : যা কেউ বলে না

আখলাকুর রহমান

সাতক্ষীরার মাটিতে যে বিষবৃক্ষ শিকড় গেড়েছে, তাকে উপড়ে ফেলার সময় এখনই, নইলে আগামী প্রজন্ম শুধু ধ্বংসস্তূপ পাবে। ইতিহাস সাক্ষী, যে জাতি নেশার অন্ধকারে ডুবেছে, সে জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। উনিশ শতকে চীনের আফিম যুদ্ধের করুণ ইতিহাস আমাদের শেখায়, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে বন্দুকের প্রয়োজন হয় না, শুধু কয়েক প্যাকেট মাদকই যথেষ্ট।

আজ সাতক্ষীরার আকাশে বাতাসেও সেই একই বিপদের ঘণ্টা বাজছে। সীমান্তবর্তী এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের এক নীরব করিডোর হয়ে উঠেছে। যে হাত একদিন কলম ধরে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, সেই হাতেই আজ উঠে আসছে ধ্বংসের উপকরণ।

তবে আশার কথা এই যে, ঘুম ভাঙছে সাতক্ষীরাবাসীর। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় আজ যে সচেতনতামূলক মিছিল দেখা যাচ্ছে, তা নিছক প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, এটি একটি জাতির আত্মরক্ষার প্রথম পদক্ষেপ। মায়েরা রাস্তায় নেমেছেন সন্তানকে বাঁচাতে, তরুণরা কণ্ঠ মিলিয়েছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায়, এই দৃশ্য সত্যিই আশাব্যঞ্জক।

কিন্তু শুধু মিছিল আর স্লোগানেই এই যুদ্ধ জেতা যাবে না। প্রয়োজন সুসংগঠিত, ধারাবাহিক ও কার্যকর উদ্যোগ। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রথমত, পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন : প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গঠন করা প্রয়োজন একটি ‘মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটি’, যেখানে থাকবেন এলাকার সম্মানিত প্রবীণ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন তরুণ সমাজ। এই কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং সন্দেহভাজন কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেবে।

দ্বিতীয়ত, স্বেচ্ছাসেবী পাহারা দল : রাত্রিকালীন সময়ে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে স্বেচ্ছাসেবী পাহারা দল, যারা এলাকার সন্দেহভাজন গতিবিধির উপর নজর রাখবে এবং প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক তথ্য দেবে। তবে এই পাহারা যেন কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পর্যায়ে না যায়, এটি হতে হবে সম্পূর্ণভাবে আইনানুগ ও প্রশাসনের সহযোগী।

তৃতীয়ত, বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার: মাদকবিরোধী লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিদ্যালয়। প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত বিরতিতে আয়োজন করা প্রয়োজন সচেতনতামূলক সেমিনার। এই সেমিনারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী বা যারা মাদক পুনর্বাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাদের সরাসরি উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে মাদক কীভাবে একটি জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। শুধু ভয় দেখানো নয়, বরং বাস্তব উদাহরণ ও গল্পের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে তা শিশুদের মনে গভীর দাগ কাটে।

বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতি। এই বয়সটি একজন কিশোরের জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়। কৌতূহল, বন্ধুদের প্রভাব আর নিজেকে বড় প্রমাণ করার তাড়না থেকে এই বয়সেই অনেকে প্রথমবার মাদকের সংস্পর্শে আসে। আর দুঃখজনক সত্য হলো, এই বয়সে একবার মাদকমুখী হয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে, আরও ঘনঘন এবং আরও যতœ সহকারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের উচিত এই বয়সী শিক্ষার্থীদের আচরণ, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া।

চতুর্থত, সহপাঠীদের মাধ্যমে গোপন তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা: একজন কিশোর নিজের সমবয়সী বন্ধুর আচরণ সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে, এমনকি অভিভাবক বা শিক্ষকের চেয়েও বেশি। তাই বিদ্যালয়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী যদি তার কোনো সহপাঠীর মধ্যে মাদকের প্রতি ঝোঁক বা সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ করে, তবে সে নিজের পরিচয় গোপন রেখেই তা জানাতে পারে। এক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে!

প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি ‘গোপন পরামর্শ বাক্স’ রাখা যেতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নাম না লিখেই কাগজে তথ্য জমা দিতে পারবে। একজন নির্দিষ্ট শিক্ষক বা কাউন্সেলরকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, যার সাথে শিক্ষার্থীরা সরাসরি এবং বিশ্বস্তভাবে কথা বলতে পারবে, এবং তিনি সেই তথ্য কারো কাছে প্রকাশ করবেন না বলে নিশ্চয়তা দেবেন। একটি গোপন মোবাইল নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা যেতে পারে, যেখানে পরিচয় প্রকাশ না করেই বার্তা পাঠানো যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের এই বিশ্বাস দিতে হবে যে বন্ধুর কথা জানানো মানে বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং সেই বন্ধুর জীবন বাঁচানোর একটি সাহসী পদক্ষেপ।

পঞ্চমত, তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: স্থানীয় থানা প্রশাসনের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি হটলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়া যাবে। ভয় বা প্রতিহিংসার আশঙ্কা দূর করতে না পারলে কেউই এগিয়ে আসবে না। তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই সমাজের সাধারণ মানুষ সাহস করে এগিয়ে আসবে।

ষষ্ঠত, পুনর্বাসন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: শুধু প্রতিরোধ নয়, প্রয়োজন পুনর্বাসনও। যারা ইতিমধ্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের ঘৃণা নয়, বরং চিকিৎসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে সমাজে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একজন আসক্ত মানুষ অপরাধী নয়, সে একজন রোগী, এই উপলব্ধি সমাজে গড়ে তুলতে হবে।

ইতিহাস বলে, যেখানে সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেখানেই বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিটি সংগ্রামেই সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এনেছে চূড়ান্ত বিজয়। মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইও ব্যতিক্রম নয়। সাতক্ষীরার মাটি বীরের মাটি, সংগ্রামের মাটি। এই মাটির সন্তানরা যদি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়, বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়, উঠতি বয়সী শিশুদের প্রতি বাড়তি যতœশীল হয়, আর প্রতিটি সহপাঠীকে নিজের ভাই-বোনের মতো আগলে রাখার শিক্ষা দেয়, তবে আগামীকাল এই জনপদ হয়ে উঠবে মাদকমুক্ত এক আদর্শ জনপদ।

 

 

 

Ads small one

খুলনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
খুলনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

খুলনায় অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান আজ (মঙ্গলবার) দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার যোগীপোল ও আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় ৭৫টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের পাশে আছেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন। তারই নিদের্শনায় দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা যেন সরকারি সহায়তা পায় এবং তাদের পাশে থাকতে বিভাগীয় প্রশাসনকে নিদের্শনা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিানে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আব্দুল করিম সহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বেলেঘাট পশ্চিমপাড়ায় অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তথ্যবিবরণী

দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বক্তব্য, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: তালা বাজারকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং কথিত আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া চক্রের তৎপরতার অভিযোগ তুলে তালা বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে তালা ডাকবাংলো হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালা বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর তার সিডিআই মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য মেলা বাজার পাম্পসংলগ্ন ফাহিমের গ্যারেজে জমা দেন। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার আশ্বাস দেওয়ার পর ফাহিম দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাহিম নিজেই মোটরসাইকেলটি চুরি করে ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বণিক সমিতি একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও ফাহিম উপস্থিত হননি বলে দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন ফাহিমের গ্যারেজে গিয়ে অভিযোগকারী সাগরের উপস্থিতিতে তার বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ সময় ফাহিমের বাবা, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত থেকে বিষয়টির সিদ্ধান্ত বণিক সমিতির ওপর ছেড়ে দেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন অস্ত্র প্রদর্শন করে নিজেকে “খুলনার গ্রেনেড বাবু” পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ফাহিম একটি ভারী সাইলেন্সার রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা মামুন হাওলাদার নামে একজন আহত হন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ফেলে অন্য মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে “গ্রেনেড বাবু” পরিচয়দানকারী ব্যক্তি খুলনা অঞ্চলের কথিত মাফিয়া “গ্রেনেড বাবু”র সহযোগী “কালা তুহিন” বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে খলিলনগর ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল জলিলের আশ্রয়ে থেকে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কালা তুহিন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বণিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তালা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাইরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কর্মকান্ড রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক স, ম ইয়াছিন উল্লাহ,বণিক সমিতির নেতা ফারুক হোসেন, মেহেদী হাসান, আলমগীর হোসেন, হারুনসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।