বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

মাদকে আসক্ত হওয়ার আগের কথা : যা কেউ বলে না

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
মাদকে আসক্ত হওয়ার আগের কথা : যা কেউ বলে না

আখলাকুর রহমান

সাতক্ষীরার মাটিতে যে বিষবৃক্ষ শিকড় গেড়েছে, তাকে উপড়ে ফেলার সময় এখনই, নইলে আগামী প্রজন্ম শুধু ধ্বংসস্তূপ পাবে। ইতিহাস সাক্ষী, যে জাতি নেশার অন্ধকারে ডুবেছে, সে জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। উনিশ শতকে চীনের আফিম যুদ্ধের করুণ ইতিহাস আমাদের শেখায়, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে বন্দুকের প্রয়োজন হয় না, শুধু কয়েক প্যাকেট মাদকই যথেষ্ট।

আজ সাতক্ষীরার আকাশে বাতাসেও সেই একই বিপদের ঘণ্টা বাজছে। সীমান্তবর্তী এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের এক নীরব করিডোর হয়ে উঠেছে। যে হাত একদিন কলম ধরে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, সেই হাতেই আজ উঠে আসছে ধ্বংসের উপকরণ।

তবে আশার কথা এই যে, ঘুম ভাঙছে সাতক্ষীরাবাসীর। পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায় আজ যে সচেতনতামূলক মিছিল দেখা যাচ্ছে, তা নিছক প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, এটি একটি জাতির আত্মরক্ষার প্রথম পদক্ষেপ। মায়েরা রাস্তায় নেমেছেন সন্তানকে বাঁচাতে, তরুণরা কণ্ঠ মিলিয়েছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায়, এই দৃশ্য সত্যিই আশাব্যঞ্জক।

কিন্তু শুধু মিছিল আর স্লোগানেই এই যুদ্ধ জেতা যাবে না। প্রয়োজন সুসংগঠিত, ধারাবাহিক ও কার্যকর উদ্যোগ। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রথমত, পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন : প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গঠন করা প্রয়োজন একটি ‘মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটি’, যেখানে থাকবেন এলাকার সম্মানিত প্রবীণ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন তরুণ সমাজ। এই কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং সন্দেহভাজন কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেবে।

দ্বিতীয়ত, স্বেচ্ছাসেবী পাহারা দল : রাত্রিকালীন সময়ে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে স্বেচ্ছাসেবী পাহারা দল, যারা এলাকার সন্দেহভাজন গতিবিধির উপর নজর রাখবে এবং প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক তথ্য দেবে। তবে এই পাহারা যেন কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পর্যায়ে না যায়, এটি হতে হবে সম্পূর্ণভাবে আইনানুগ ও প্রশাসনের সহযোগী।

তৃতীয়ত, বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার: মাদকবিরোধী লড়াইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিদ্যালয়। প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত বিরতিতে আয়োজন করা প্রয়োজন সচেতনতামূলক সেমিনার। এই সেমিনারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী বা যারা মাদক পুনর্বাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাদের সরাসরি উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে মাদক কীভাবে একটি জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। শুধু ভয় দেখানো নয়, বরং বাস্তব উদাহরণ ও গল্পের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে তা শিশুদের মনে গভীর দাগ কাটে।

বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতি। এই বয়সটি একজন কিশোরের জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়। কৌতূহল, বন্ধুদের প্রভাব আর নিজেকে বড় প্রমাণ করার তাড়না থেকে এই বয়সেই অনেকে প্রথমবার মাদকের সংস্পর্শে আসে। আর দুঃখজনক সত্য হলো, এই বয়সে একবার মাদকমুখী হয়ে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে, আরও ঘনঘন এবং আরও যতœ সহকারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। শিক্ষক ও অভিভাবকদের উচিত এই বয়সী শিক্ষার্থীদের আচরণ, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া।

চতুর্থত, সহপাঠীদের মাধ্যমে গোপন তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা: একজন কিশোর নিজের সমবয়সী বন্ধুর আচরণ সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে, এমনকি অভিভাবক বা শিক্ষকের চেয়েও বেশি। তাই বিদ্যালয়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী যদি তার কোনো সহপাঠীর মধ্যে মাদকের প্রতি ঝোঁক বা সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ করে, তবে সে নিজের পরিচয় গোপন রেখেই তা জানাতে পারে। এক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে!

প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি ‘গোপন পরামর্শ বাক্স’ রাখা যেতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নাম না লিখেই কাগজে তথ্য জমা দিতে পারবে। একজন নির্দিষ্ট শিক্ষক বা কাউন্সেলরকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, যার সাথে শিক্ষার্থীরা সরাসরি এবং বিশ্বস্তভাবে কথা বলতে পারবে, এবং তিনি সেই তথ্য কারো কাছে প্রকাশ করবেন না বলে নিশ্চয়তা দেবেন। একটি গোপন মোবাইল নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা যেতে পারে, যেখানে পরিচয় প্রকাশ না করেই বার্তা পাঠানো যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের এই বিশ্বাস দিতে হবে যে বন্ধুর কথা জানানো মানে বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং সেই বন্ধুর জীবন বাঁচানোর একটি সাহসী পদক্ষেপ।

পঞ্চমত, তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: স্থানীয় থানা প্রশাসনের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি হটলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়া যাবে। ভয় বা প্রতিহিংসার আশঙ্কা দূর করতে না পারলে কেউই এগিয়ে আসবে না। তথ্যদাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই সমাজের সাধারণ মানুষ সাহস করে এগিয়ে আসবে।

ষষ্ঠত, পুনর্বাসন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: শুধু প্রতিরোধ নয়, প্রয়োজন পুনর্বাসনও। যারা ইতিমধ্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের ঘৃণা নয়, বরং চিকিৎসা ও সহানুভূতির মাধ্যমে সমাজে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একজন আসক্ত মানুষ অপরাধী নয়, সে একজন রোগী, এই উপলব্ধি সমাজে গড়ে তুলতে হবে।

ইতিহাস বলে, যেখানে সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেখানেই বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিটি সংগ্রামেই সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এনেছে চূড়ান্ত বিজয়। মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইও ব্যতিক্রম নয়। সাতক্ষীরার মাটি বীরের মাটি, সংগ্রামের মাটি। এই মাটির সন্তানরা যদি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়, বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়, উঠতি বয়সী শিশুদের প্রতি বাড়তি যতœশীল হয়, আর প্রতিটি সহপাঠীকে নিজের ভাই-বোনের মতো আগলে রাখার শিক্ষা দেয়, তবে আগামীকাল এই জনপদ হয়ে উঠবে মাদকমুক্ত এক আদর্শ জনপদ।

 

 

 

Ads small one

ভোমরায় ছাদ ভেঙে যুবক নিহত, আহত ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ পূর্বাহ্ণ
ভোমরায় ছাদ ভেঙে যুবক নিহত, আহত ৩

পত্রদূত রিপোর্ট : সাতক্ষীরার ভোমরায় ফুটবল খেলা দেখার সময় একটি কবরস্থানের গেটের ছাদ ভেঙে পড়ে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ভোমরা বলফিল্ডের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত সজিব হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা গ্রামের আবুল হাসানের ছেলে।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—একই এলাকার আশিক, জয় ও তাজিম। তাঁদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা বলফিল্ডে ‘এভারগ্রিন ক্লাব’-এর উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। সজিব তার তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাঠের পাশে অবস্থিত একটি কবরস্থানের গেটের ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হঠাৎ গেটের ছাদটি ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। এতে ছাদের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সজিবের মৃত্যু হয় এবং তার তিন বন্ধু গুরুতর আহত হন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত আশিকের একটি পা, তাজিমের কোমরের হাড় এবং জয়ের একটি হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

৮ কোটি টাকা বিতরণে ৫৩ কোটি ব্যয়: সেই বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
৮ কোটি টাকা বিতরণে ৫৩ কোটি ব্যয়: সেই বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল

ন্যাশনাল ডেস্ক: জলবায়ু উদ্বাস্তু ও অসহায় মানুষের সহায়তার নামে প্রস্তাবিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ইন্টিগ্রেট’ শীর্ষক বিতর্কিত প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পে মাত্র ৮ কোটি টাকা সহায়তা বিতরণের বিপরীতে ৫৩ কোটি টাকা প্রশাসনিক ও পরামর্শক ব্যয়ের অস্বাভাবিক প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায়ও এ প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় কাঠামো নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তুলে বাতিলের পক্ষে মতামত দেওয়া হয়। এর আগে রোববার (০৫ জুলাই) একটি জাতীয় পত্রিকায় ‘৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি!’ শিরোনামে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ওই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।’ জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) অর্থায়নে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৬১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় সমাজসেবা অধিদপ্তর। পরে প্রকল্পটি যাচাইবাছাই করে গত ৫ জুলাই প্রকল্পটির ওপর মূল্যায়ন কমিটির সভা (পিইসি) অনুষ্ঠিত হয়। আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্যের (সচিব) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার নোটিশ জারি করা হয় চলতি বছরের ২৪ জুন। সভায় পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান (ইন্টিগ্রেট) প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় এবং অস্বাভাবিক ব্যয় নির্ধারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়। প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো এবং উপকারভোগী বাছাইয়ের অস্বচ্ছতা নিয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। বিশেষ করে প্রকল্পের আওতায় অত্যধিক পরামর্শ নিয়োগ ও ব্যয় এবং বিদেশ ভ্রমণসহ অন্যান্য খাতের ব্যয়কে অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পিইসি সভার আগে একই দিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাতিলের বিষয়ে আলোচনা হয়। যার প্রতিফলন ঘটে পরিকল্পনা কমিশনের পিইসি সভায়। মন্ত্রণালয়ে আপত্তি এবং প্রকল্পের ব্যয় কাঠামোসহ নানা অসংগতি থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পিইসি সভায় বাতিলের সিদ্ধান্ত হলেও আনুষ্ঠানিক রেজল্যুশন বা কার্যবিবরণী চূড়ান্ত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের ব্যয় কাঠামো অনুমোদনের সুযোগ নেই। এমনকি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রকল্পটি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য খরচের চেয়ে আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় কয়েকগুণ বেশি হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া প্রকল্পের সময়সীমা বা টাইমিং নিয়েও সভায় গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যদিও দাপ্তরিক রেজল্যুশন বা কার্যবিবরণী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের সুযোগ কম।’ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের মোট বাজেট ধরা হয়েছিল ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

 

যার লক্ষ্য খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জের ৩০০ জন অসহায় মানুষকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুদান দেওয়া। তবে এ বাজেটের মধ্যে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে অনুদান হিসেবে পৌঁছানোর কথা ছিল মাত্র ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাকি ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা রাখা হয়েছিল কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা খরচ, অফিস ভাড়া, বিদেশ ভ্রমণ ও পরামর্শকদের পেছনে।

প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ৩০০ জন দরিদ্র মানুষের জন্য পরামর্শ দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের পেছনে ব্যয় ধরা হয় ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা চার্জ ও অফিস ভাড়া বাবদ প্রায় ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

ছেলে কারাগারে, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ছেলে কারাগারে, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় আলোচিত হাসান হত্যা মামলার কাউন্টার (পাল্টা) মামলায় ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার খবর শুনে স্ট্রোক করে মারা গেছেন ছবিতে বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। ছবিরন বেগম মৃত আনার সরদারের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৭ জুন হাসান সরদার নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হাসানের বাবা বাদী হয়ে ১০ জনের নামে মামলা করেন। পরবর্তীতে আসামিপক্ষ নিজেদের ঘর পুড়িয়ে নিহত হাসানের পরিবারের ১২ জনের নামে পাল্টা মামলা করে। সেই মামলায় গত ২ জুলাই ছবিরন বেগমের ছেলে সালাম সরদারসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দিলে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। ছেলে কারাগারে—এই খবর জানার পর থেকেই ছবিরন বেগম তীব্র মানসিক শান্তিতে ভুগছিলেন এবং বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।