বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মান্দারবাড়িয়া: বাংলাদেশের পরবর্তী পর্যটন বিস্ময় হওয়ার অপেক্ষায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
মান্দারবাড়িয়া: বাংলাদেশের পরবর্তী পর্যটন বিস্ময় হওয়ার অপেক্ষায়

মো. মামুন হাসান

বাংলাদেশের পর্যটনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন কিংবা কুয়াকাটার নাম। অথচ দেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলে এমন একটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে, যার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে সেটি শুধু একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উপকূলীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সেই সৈকতের নাম মান্দারবাড়িয়া।

অদ্ভুত এক বৈপরীত্য হলো, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পাশেই প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকত আজও দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে অজানা। সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এই সৈকত একদিকে যেমন অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার, অন্যদিকে এটি বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি, টেকসই পর্যটন এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নের এক অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনা। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতার কারণে এই সম্পদ এখনো জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি।

বিশ্বের অনেক দেশ আজ তাদের অর্থনীতির বড় অংশ গড়ে তুলেছে প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের ওপর। তারা বুঝতে পেরেছে, পাহাড়, বন, নদী কিংবা সমুদ্র শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এগুলো জাতীয় সম্পদ। বাংলাদেশও যদি একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, তাহলে মান্দারবাড়িয়া হতে পারে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের নতুন কেন্দ্র।

মান্দারবাড়িয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অনন্য ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান। এক পাশে সুন্দরবনের নিবিড় ম্যানগ্রোভ বন, অন্য পাশে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। একই ভ্রমণে একজন পর্যটক সমুদ্র, বন, নদী, বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। পৃথিবীর খুব কম পর্যটন গন্তব্যেই এমন সমন্বিত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এই বৈশিষ্ট্যই মান্দারবাড়িয়াকে কক্সবাজারের প্রতিযোগী নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি আন্তর্জাতিক ইকো ট্যুরিজম গন্তব্যে পরিণত করতে পারে।

বর্তমান সময়ে পর্যটনের নতুন ধারা হলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভ্রমণ। মানুষ এখন কেবল সমুদ্র দেখতে চায় না; তারা প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চায়। তারা চায় পাখির ডাক শুনতে, ম্যানগ্রোভের নৌপথে ভেসে যেতে, লাল কাঁকড়ার বিচরণ দেখতে, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে জানতে। মান্দারবাড়িয়া এই সবকিছু একসঙ্গে দিতে সক্ষম।

কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে দাঁড়ায়। এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মান্দারবাড়িয়া কেন আজও জাতীয় পর্যটন মানচিত্রে যথাযথ স্থান পায়নি? উত্তরটি খুবই স্পষ্ট। আমরা এখনো পর্যটনকে ব্যয় হিসেবে দেখি, বিনিয়োগ হিসেবে নয়। ফলে যেখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল, সেখানে বছরের পর বছর কেটেছে অবহেলায়। অথচ পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ মানে শুধু রাস্তা বা রিসোর্ট নির্মাণ নয়; এটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

এখন সময় এসেছে মান্দারবাড়িয়াকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার। এটি শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের প্রথম ম্যানগ্রোভ ইকো কোস্ট। এখানে পরিকল্পিতভাবে কার্বন নিরপেক্ষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সৌরবিদ্যুৎচালিত নৌযান, পরিবেশবান্ধব ভাসমান ইকো লজ, সীমিত ধারণক্ষমতাভিত্তিক পর্যটন, গবেষণা কেন্দ্র এবং কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম একসঙ্গে পরিচালিত হবে। এতে যেমন জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীও পর্যটনের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী হবে।

আরও একটি সাহসী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সরকার চাইলে মান্দারবাড়িয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ম্যানগ্রোভ রিসার্চ অ্যান্ড ইকো ট্যুরিজম ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, পরিবেশবিদ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা করবে। এতে বাংলাদেশ শুধু পর্যটন নয়, জলবায়ু গবেষণার ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক পরিচিতি অর্জন করতে পারবে।

বিশ্বব্যাপী উপকূলীয় পর্যটন জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। উপযুক্ত পরিকল্পনা, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং কার্যকর প্রচারণার মাধ্যমে মান্দারবাড়িয়াও কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি শক্তিশালী উৎসে পরিণত হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথাই বিভিন্ন বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে।

মান্দারবাড়িয়ার সৌন্দর্যের অভাব নেই। অভাব রয়েছে দূরদর্শী পরিকল্পনার। ইতিহাস সাক্ষী, যে দেশ তার প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য বুঝতে পারে, সেই দেশই টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য মান্দারবাড়িয়া সেই বিরল সুযোগগুলোর একটি, যা এখনো আমাদের হাতছাড়া হয়নি। প্রশ্ন একটাই, আমরা কি সময় থাকতে এই সম্ভাবনাকে চিনতে পারব, নাকি আরেকটি জাতীয় সম্পদও অবহেলার ইতিহাসে হারিয়ে যাবে?

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

 

 

Ads small one

সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা আবারও সক্রিয়? জেলেদের অভিযোগে নতুন আতঙ্ক

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যু আবারও বিভিন্ন সক্রিয় ডাকাত দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বনদস্যুদের কাছে জিম্মি থাকার পর সম্প্রতি ফিরে আসা কয়েকজন জেলে এমন অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গনি সানার ছেলে ননে সানা, লোকমানের ছেলে বাবু এবং দাতিনাখালী এলাকার মনতেজ সরদারের ছেলে আসাদুল (ননি গোপাল) গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন ডাকাত দলের সঙ্গে মিশে পুনরায় বনদস্যু কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বনদস্যুদের কাছ থেকে মুক্ত হয়ে ফেরা একাধিক জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুন্দরবনের ভেতরে এখনও কয়েকটি সশস্ত্র ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের নৌকা থামিয়ে জিম্মি করছে এবং মুক্তিপণ আদায় করছে। এসব দলে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন সাবেক বনদস্যুকেও দেখা গেছে বলে তাদের দাবি।

স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা সুন্দরবনে নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুন্দরবনে বনদস্যুদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে এবং সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নাই।

শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বুধবার(৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলা পরিষদ হল রুমে শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের আয়োজনে বেল্ট পরীক্ষার ফলাফল ও বেল্ট প্রদান অনুষ্ঠান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যসহ উত্তীর্ণদের মাঝে বেল্ট প্রদান করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাশেদ হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এস এম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের প্রশিক্ষক জি এম রাজগুল বাহার রাজু। ফলাফল অনুযায়ী সাদা থেকে হলুদ বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রাফিন, মাইনুল বুশরা, ২য় রাহাত, ৩য় তৈয়েব, ৪র্থ আজমাইন ও আফিফ, ৫ম মাইশা, ৬ষ্ঠ মেহেতাজ, ৭ম নিলয় ও ৮ম মাহির। হলুদ বেল্ট থেকে কমলা বেল্ট প্রাপ্তদের মধ্যে ১ম রাফিন ও ইমন,২য় তামিম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রনজিৎ বর্মন, শিক্ষক কওছারসহ অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ফাইটার ক্যারাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
ভারত পাচারকালে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্বর্ণেবারসহ পাসপোর্টযাত্রী আটক

Oplus_0

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ভারতে পাচারকালে স্বর্নের চালানসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করেছে কাষ্টম। আটক স্বর্ন পাচারকারী মোবারক হোসেন মুনসিগঞ্জ সদর এলাকার তাজুউদ্দীনের ছেলে।

বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা শাখার সহকারি কমিশনার সাজিদ মাহাদুদ কৌশিক জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে যাত্রী মোবারক হোসেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে যাবার সময় ঐ যাত্রীর আচারন ও চলাফেরা সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা করা হয়। এসময় তার কাছে স্বর্ন থাকার কথা স্বীকার করে।

 

পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের দুটি স্বর্নবার পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য আনুমানিক ২২ লাখ টাকা। পরে তার শরীরের ভেতর আরো স্বর্ন আছে সন্দেহে এক্সরে করে কিন্তু পাওয়া যায়নি। আটক পাসপোর্টধারীর বিরুদ্ধে স্বর্নপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ইমিগ্রেশন পুলিশ।