বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

মুক্ত মতামত/ সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট নিরসনে ‘ফুয়েল কার্ড’ এখন সময়ের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
মুক্ত মতামত/ সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট নিরসনে ‘ফুয়েল কার্ড’ এখন সময়ের দাবি

মাসুদ রানা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। সাতক্ষীরার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে এখন দিগন্তবিস্তৃত মোটরসাইকেলের সারি। তবে এই দীর্ঘ লাইনে কেবল সাধারণ মানুষই নন, রয়েছেন চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল, যার ফলে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে জরুরি সেবা খাত।
ভোগান্তির কবলে জরুরি সেবাদানকারীরা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সংবাদের সন্ধানে যাদের প্রতিনিয়ত ছুটতে হয়, তাদের দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে পাম্পের লাইনে।সিনিয়র সাংবাদিক এস এম রেজাউল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “নিউজ কভার করতে যাব নাকি তেল খুঁজতে বের হব? ৮-১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর যখন সিরিয়াল আসে, তখন শুনছি তেল শেষ। এভাবে চললে জনগনের কাছে তথ্য পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
একই চিত্র চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও। একজন ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসক জানান “অনেক দূরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাইকে তেল নেই। ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। এই সময়ের মূল্য কি ৩০০ টাকায় পরিমাপ করা সম্ভব?
তীব্র এই সংকটের মাঝেও একদল অসাধু ব্যক্তি মেতে উঠেছে কালোবাজারিতে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বাইকার যাদের ট্যাংকে পর্যাপ্ত তেল আছে, তারা পাম্প থেকে তেল নিয়ে কৌশলে পাইপ দিয়ে প-াস্টিক পটে সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে সেই তেল প্রতি লিটারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দামে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাম্পে কখন তেল আসবে সেই তথ্য আগাম জেনে নিয়ে একটি চক্র ১০-১২ ঘণ্টা আগেই মোটরসাইকেল দিয়ে সিরিয়াল বুকিং দিয়ে রাখছে। ফলে প্রকৃত সংকটে থাকা বাইক চালকরা যখন পাম্পে পৌঁছান, তখন তারা সিরিয়ালের শেষে পড়ে যান এবং তাদের তকদিরে জোটে ‘তেল শেষ’ লেখা সাইনবোর্ড।
বিদ্যমান এই নৈরাজ্য রুখতে প্রস্তাবিত সমাধানগুলো হতে পারেÑ
ফুয়েল কার্ড প্রবর্তন: প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা। এই কার্ডে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং তেল গ্রহণের তারিখ সংরক্ষিত থাকবে। তিন দিনের বিরতি: একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী তিন দিন ওই কার্ডে আর তেল দেওয়া হবে না। সমন্বিত সরবরাহ: সকল পাম্পে একই সময়ে তেল সরবরাহ করতে হবে যাতে এক পাম্পে ভিড় না জমে। কার্ডধারীদের নির্দিষ্ট পাম্প নির্ধারণ করে দিতে হবে।
কঠোর নজরদারি ও জরিমানা: তেল দেওয়ার আগে চালকের হেলমেট, লাইসেন্স ও গাড়ির ট্যাংক পরীক্ষা করতে হবে। যদি দেখা যায় কারো ট্যাংকে ৩ লিটারের বেশি তেল আছে কিন্তু তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিক জরিমানার আওতায় আনতে হবে। পেশাজীবীদের জন্য নির্ধারিত সময়: সরকারি চাকরিজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের মতো জরুরি পেশার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সময় বা আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে।
শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনী মোতায়েন: প্রতিটি পাম্পে বিশৃঙ্খলা ও কালোবাজারি রুখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী অথবা বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা এখন সময়ের দাবি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলা না ফিরলে এই জ্বালানি সংকট জনরোষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।