লিচু টাটকা না রাসায়নিক মেশানো, বুঝবেন যেভাবে
গরমে রসালো লিচুর চাহিদা বাড়তেই বাজারে দেখা যায় নানা ধরনের লিচু। তবে সব লিচু যে সমান ভালো বা নিরাপদ, তা নয়। অনেক সময় ফলকে বেশি টাটকা ও আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাই লিচু কেনার আগে কিছু সহজ বিষয় খেয়াল করলে ভালো, মিষ্টি ও তুলনামূলক নিরাপদ লিচু বেছে নেওয়া সহজ হয়।
লিচু কেনার সময় প্রথমেই ফলের রঙের দিকে নজর দিন। সাধারণত টাটকা ও পাকা লিচুর রং উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি হয়। তবে অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো। খোসার গায়ে বেশি কালো বা বাদামি দাগ থাকলে বুঝতে হবে ফলটি পুরোনো বা নষ্ট হতে শুরু করেছে।
লিচুর খোসা হাত দিয়ে আলতো চাপ দিয়েও এর অবস্থা বোঝা যায়। ভালো লিচু সাধারণত সামান্য শক্ত কিন্তু কিছুটা নমনীয় অনুভূত হয়। খুব বেশি শক্ত হলে সেটি কাঁচা হতে পারে, আবার অতিরিক্ত নরম হলে ভেতরের অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
খোসার গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। লিচুর গায়ে থাকা ছোট ছোট উঁচু অংশগুলো যদি সমান ও কিছুটা ছড়ানো হয়, তাহলে ফলটি পরিপক্ব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খোসায় ছোট ছিদ্র বা ফাটল থাকলে সেই লিচু না কেনাই ভালো, কারণ এতে পোকা বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
সবসময় ডালসহ বা গুচ্ছ আকারে থাকা লিচু কেনার চেষ্টা করুন। এতে ফল তুলনামূলক বেশি সময় টাটকা থাকে। যদি ডাল একেবারে শুকিয়ে যায় বা সহজে ভেঙে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে লিচু অনেক আগে পাড়া হয়েছে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি লিচু খাওয়া নিরাপদ
লিচুর গন্ধ থেকেও এর মান বোঝা যায়। টাটকা লিচুতে সাধারণত হালকা মিষ্টি সুবাস থাকে। কিন্তু টক বা ফারমেন্টেড ধরনের গন্ধ পাওয়া গেলে সেটি এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ ফলটি নষ্ট হতে শুরু করেছে।
আকার ও ওজনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গোল বা ডিম্বাকৃতির এবং তুলনামূলক ভারী লিচু সাধারণত বেশি রসালো হয়। চ্যাপ্টা বা অস্বাভাবিক আকৃতির লিচুতে অনেক সময় বীজ বড় এবং শাঁস কম থাকে।
কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও সহজে বোঝা যায়। লিচু হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর যদি হাতে রং লাগে বা সামান্য পানি লাগালে রং উঠে আসে, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। প্রাকৃতিকভাবে পাকা লিচু সাধারণত অতিরিক্ত চকচকে বা একদম নিখুঁত দেখায় না।
লিচু খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ময়লা ও কিছু রাসায়নিক দূর হতে পারে। খোসা ছাড়ানোর পর দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। অনেকক্ষণ ছিলে রাখা লিচু না খাওয়াই নিরাপদ।








