লিভার ভালো রাখতে প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়
অনেক মানুষের দিনের শুরুই হয় এক কাপ কফি দিয়ে। ব্যস্ত কাজের মাঝে ক্লান্তি দূর করা থেকে শুরু করে মন সতেজ রাখতেও কফির ওপর ভরসা করেন অনেকে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই কফিকে ঘিরে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির আলোচনা রয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ সবসময় কফি নয়, বরং কফির সঙ্গে মেশানো অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড উপাদান।
চিকিৎসক ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সাধারণ ব্ল্যাক কফি বরং লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস এমনকি সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তার মতে, সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কফির সঙ্গে অতিরিক্ত ফ্লেভার, সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা অতিরিক্ত প্রসেসড ক্রিমার যোগ করা হয়।
ডা. শেঠি বলেন, অনেক সময় মানুষ এমন ধরনের ফ্লেভারড লাতে বা মিষ্টি কফি পান করেন, যেখানে কফির চেয়ে চিনি বেশি থাকে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজযুক্ত চিনি সরাসরি লিভারে গিয়ে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি কেন ক্ষতিকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে শরীরে হঠাৎ শক্তি বাড়ার অনুভূতি তৈরি হয়, তবে কিছু সময় পর আবার দ্রুত ক্লান্তি চলে আসে। এতে আরও মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরে প্রদাহ বাড়তে পারে, কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়তে পারে এবং হৃদযন্ত্রের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
তাহলে কীভাবে কফি পান করবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, কফি পান করতে চাইলে যতটা সম্ভব কম চিনি ব্যবহার করা ভালো। ব্ল্যাক কফি বা অল্প দুধ মেশানো কফি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় দুধ-চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খেলে।
দৈনিক কতটা চিনি খাওয়া উচিত, কীভাবে সচেতন থাকবেন
অনেক বাজারজাত ওট মিল্ক বা আমন্ড মিল্কেও অতিরিক্ত চিনি থাকে। তাই এসব ব্যবহারের আগে লেবেল দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিনি ব্যবহার করতেই হলে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া বা মঙ্ক ফ্রুট ব্যবহার করা যেতে পারে।
কফির স্বাদ বাড়ানোর স্বাস্থ্যকর উপায়
চিনি ছাড়াও কফির স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর কিছু স্বাস্থ্যকর উপায় রয়েছে। যেমন-
কফির সঙ্গে দারুচিনি, জায়ফল বা এলাচ গুঁড়া যোগ করা
চিনি ছাড়া কোকো পাউডার ব্যবহার করা
কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট যোগ করা
এসব উপাদান কফিকে সুগন্ধি ও সুস্বাদু করে তুলতে পারে, আবার অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকিও কমায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং এটি লিভারসহ শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড উপাদান যোগ করার অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কফি পান করার ধরনেই আসল পার্থক্য তৈরি হয়।








