বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

শারদীয় দূর্গাপূজায় মন্দিরে নজরদারি বাড়াতে গ্রামপুলিশকে দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
শারদীয় দূর্গাপূজায় মন্দিরে নজরদারি বাড়াতে গ্রামপুলিশকে দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশনা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নজরদারি বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করতে গ্রামপুলিশকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার কেশবপুর থানায় গ্রাম পুলিশদের হাজিরা অনুষ্ঠানে কেশবপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় উপজেলার ১০৬ জন গ্রাম পুলিশকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজ নিজ এলাকার মন্দিরগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে বলা হয়। পূজামন্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা কোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকান্ড নজরে এলে বা দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানানো হয়।

 

Ads small one

যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
যেখানে বই-খাতা, সেখানেই ময়লার স্তূপ: অপরিকল্পিত ডাস্টবিনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী!

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-এর আশপাশে ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথের কাছাকাছি, কোথাও সড়কের পাশে আবার কোথাও ঘনবসতি এলাকার নিকটে ডাস্টবিনে দীর্ঘ সময় বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ, মাছি-মশা ও ছড়িয়ে পড়া ময়লার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ডাস্টবিন থাকা নিজেই সমস্যা নয়, বরং সমস্যা হচ্ছে ডাস্টবিনের অবস্থান, ধারণক্ষমতা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা।

 

সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হলে ডাস্টবিন উপচে সড়ক ও আশপাশে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকায় মিশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে ডাস্টবিনে দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়টি চলতি বছরের জুলাইয়ে সংবাদে উঠে আসে।

 

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাস্টবিনে প্রায় এক সপ্তাহ বর্জ্য অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সমস্যা হওয়ার কথা জানান। পরে সাতক্ষীরা পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, শুধু ডাস্টবিন স্থাপন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হয় না, নিয়মিত অপসারণ ও যথাযথ স্থান নির্বাচনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শহরের ডে-নাইট কলেজ মোড় একটি ব্যস্ত এলাকা। এখানে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ সাতক্ষীরা ল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে।

 

‎এ ধরনের ব্যস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন শহরের ব্যস্ততম এলাকা প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করে এইখানে ডাস্টবিনের অবস্থা এতটা বেহাল দশা যে রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় ডাস্টবিন বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতা দ্রুত পথচারী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে। শহরের নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজসংলগ্ন এলাকাও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথ। এসব এলাকার আশপাশে বর্জ্য জমে থাকলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছেস। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনার আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডাস্টবিন থাকলেও সেটি যেন উপচে সড়কে বর্জ্য ছড়ানোর কারণ না হয়, সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের পাশের বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে
‎সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের আশপাশে বর্জ্য জমে থাকার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের দিনের একটি বড় সময় ওই পরিবেশেই কাটে।

‎পাশাপাশি এই ডাস্টবি থেকে নবড়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শ্রেণিকক্ষে দুর্গন্ধ এবং অস্বস্তিকার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকয় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মাছি, মশা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়ে। ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করলে বর্জ্য বাইরে পড়ে যায়। এরপর পথচারী ও যানবাহনের চাকার সঙ্গে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

‎শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথ, শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক ভবনের একেবারে পাশে ডাস্টবিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব ডাস্টবিন রাখা অপরিহার্য, সেগুলো ঢাকনাযুক্ত ও পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার করা।

‎তৃতীয়ত, প্রতিটি ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা।
‎চতুর্থত, ডাস্টবিন উপচে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যকর নজরদারি রাখা। পঞ্চমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও আবাসিক এলাকার জন্য আলাদা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা।

‎ষষ্ঠত, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা।
‎সাতক্ষীরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাস্টবিন প্রয়োজন। কিন্তু ডাস্টবিন কোথায় থাকবে, কতক্ষণ সেখানে বর্জ্য থাকবে এবং কীভাবে তা অপসারণ করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তরও একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে বর্জ্য জমে থাকলে বিষয়টি শুধু পরিবেশের নয়, শিক্ষা পরিবেশেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

 

তাই সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষের চলমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ নজরদারি ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য শহর গড়ার সামগ্রিক দায়িত্ব।

লেখক: গবেষক ও উদ্যোক্তা

চায়না দুয়ারী জালে বিপন্ন মিঠাপানির মৎস্যভান্ডার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
চায়না দুয়ারী জালে বিপন্ন মিঠাপানির মৎস্যভান্ডার

মো. খলিলুর রহমান

আমরা মাছে ভাতে বাঙালি এই চিরন্তন পরিচয়টি আজ কেবলই ইতিহাসের পাতায় স্থান পাওয়া একটি নাম মাত্র। আমাদের নদী, নালা, খাল বিল আর উন্মুক্ত জলাশয়গুলো একসময় প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন সুস্বাদু দেশীয় মাছে ভরপুর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক শ্রেণির অতি লোভী অসাধু মৎস্য শিকারির নিষ্ঠুরতা এবং নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জালের অবাধ ও ধ্বংসাত্মক ব্যবহারের কারণে আমাদের জলজ জীববৈচিত্র্য আজ এক চরম বিপর্যয়ের মুখে।

 

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো প্রশাসনের নাকের ডগায় এই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আর আমাদের চোখের সামনেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শত শত প্রজাতির দেশীয় প্রজাতির মাছ। এখনই যদি এই মরণফাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম দেশীয় মাছের স্বাদ তো দূরের কথা, কেবল বইয়ের পাতায় এর ছবি দেখবে। চায়না দুয়ারী জাল মুলত জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য এক নিষ্ঠুর ও আধুনিক ‘টাইম বোমা’ বলা যায়।

 

চায়না দুয়ারী জাল স্থানীয়ভাবে রিং জাল বা ঢোল জাল নামেও পরিচিত। মূলত চীন দেশ থেকে আমদানিকৃত অতি সূক্ষ্ম নাইলন সুতা এবং লোহার রিং দিয়ে তৈরি এক প্রকার বহুতল বিশিষ্ট ফাঁদ। এটি সাধারণ কোনো মাছ ধরার জাল নয়, বরং জলজ প্রাণীর জন্য তৈরি একটি নিখুঁত কসাইখানা। এই জালের বুনন এতই ঘন এবং সূক্ষ্ম যে, পানির আণুবীক্ষণিক পোকা ছাড়া আর কোনো জীবন্ত প্রাণী এর ভেতর থেকে বের হতে পারে না। জলাশয়ের একেবারে তলদেশে আড়াআড়িভাবে এই জাল পেতে রাখা হয়।

 

প্রবহমান পানির স্রোতে দেশীয় মাছের রেণু পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ, কাঁকড়া, কুঁচে, ব্যাঙ, এমনকি পানির সাপ ও কচ্ছপ পর্যন্ত একবার এই জালের সুড়ঙ্গে ঢুকলে আর বের হওয়ার কোনো পথ পায় না। জালের ভেতরে আটকা পড়া মাছগুলো অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করতে করতে জালের ভেতরেই মারা যায় এবং পচে নষ্ট হয়। এই চরম নিষ্ঠুরতার কারণে পরিবেশবিদরা একে জলজ পরিবেশের জন্য ‘টাইম বোমা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

 

দেশীয় মৎস্যভা-ারে মহাশ্মশানের হাতছানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে এখন চায়না দুয়ারী জালের জয়জয়কার। এই জালের কারণে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধি সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গেছে। আষাঢ়-শ্রাবণ বা বর্ষার শুরুতে যখন দেশীয় মাছ ডিম ছাড়ে এবং নদী-নালা নতুন পোনা মাছে ভরে ওঠে, ঠিক তখনই অসাধু চক্র এই জালগুলো পেতে বসে। ফলে কোটি কোটি রেণু পোনা এবং ডিমভর্তি মা মাছ ডিম ছাড়ার আগেই এই জালে আটকা পড়ে মারা যায়। আমাদের চিরচেনা সুস্বাদু শিং, মাগুর, কই, টেংরা, পাবদা, বোয়াল, আইড়, চিতল, শোল, টাকি, গজার, বাইম, ফলই, খলিশা ও ভেদা মাছের মতো প্রজাতিগুলো আজ হারিয়ে যাওয়ার মূল কারণ এই জালের নির্বিচার ব্যবহার।

 

মাছের পাশাপাশি খালের ইকোসিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুজীব ও উপকারী জলজ প্রাণীগুলো এই জালে মারা পড়ায় পানির স্বাভাবিক ফিল্টারিং ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। ফলে খালের পানি দ্রুত দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও লোকদেখানো অভিযানের তামাশা বাংলাদেশ মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সাড়ে চার সেন্টিমিটার বা তার কম ব্যাসের কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারীসহ সব ধরনের সুক্ষ্ম ফাঁদ তৈরি, আমদানি, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি অজামিনযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।

 

আইন এত কড়া হওয়া সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন কেন শূন্য? মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো কিছু অভিযান চালায়, নদী বা খাল থেকে গুটিকয়েক জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, এই নিষিদ্ধ জাল আকাশ থেকে উড়ে আসে না। প্রতিটি স্থানীয় বাজারে, বিশেষ করে কাপড়ের দোকান বা মাছের আড়তের পেছনের গোপন গুদামে এই জাল দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকারক ও বড় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, শুধুমাত্র প্রান্তিক জেলেদের পেছনে তাড়া করার এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা দিয়ে এই জাতীয় অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়।

 

আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাব এবং কিছু অসাধু মাঠকর্মীর গোপন যোগসাজশের কারণেই আজ চায়না দুয়ারী জালের ব্যবসা হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। আমাদের জাতীয় মৎস্য সম্পদকে চিরতরে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে হলে এখন আর শুধু আবেদন-নিবেদনে কাজ হবে না নিতে হবে কঠোর ও কড়া প্রশাসনিক অ্যাকশন। সীমান্ত দিয়ে কীভাবে এই নিষিদ্ধ জাল দেশে ঢুকছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

 

কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগকে কঠোর হতে হবে। স্থানীয় হাট-বাজারের যেসব আড়তে বা দোকানে এই জাল বিক্রি হয়, সেগুলোতে সিলগালা করে মালিকদের জেলহাজতে পাঠাতে হবে। লোকদেখানো অভিযান বন্ধ করে প্রতি সপ্তাহে নদী ও উন্মুক্ত খালে ঝটিকা অভিযান চালাতে হবে। জাল যার কাছে পাওয়া যাবে, তাকে শুধু জরিমানা নয়, সরাসরি কারাদ- দিতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ ও যুব সমাজকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতন নাগরিকদের নিয়ে ‘মৎস্য রক্ষা স্কোয়াড’ গঠন করতে হবে। কোনো খালে বা জলাশয়ে চায়না দুয়ারী জাল দেখলে তা সাথে সাথে প্রশাসনকে অবহিত করা বা সামাজিক উদ্যোগে তা ধ্বংস করার লাইসেন্স দিতে হবে।

 

প্রকৃতির দেওয়া অবাধ মৎস্যসম্পদ কোনো একক ব্যক্তির বা সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সামান্য কিছু অর্থপিপাসু মানুষের লোভের বলি হতে পারে না কোটি কোটি মানুষের আমিষের উৎস ও দেশের জলজ পরিবেশ। চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে এখনই যদি রাষ্ট্র এবং সমাজ সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা না করে, তবে অতি শীঘ্রই আমাদের মুক্ত জলাশয়গুলো মাছহীন মহাশ্মশানে পরিণত হবে। প্রশাসনকে অনুরোধÑআইওয়াশ বন্ধ করুন, কঠোর হস্তে চায়না দুয়ারী জাল উপড়ে ফেলুন, আমাদের দেশীয় মাছকে বাঁচতে দিন।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৩ নম্বর ভোজগাতি ইউনিয়নে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামীম হোসেনের উদ্যোগে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এ কর্মসূচি চলবে।

 

এরই অংশ হিসেবে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানো ও পরিচর্যার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা হয়।

 

কর্মসূচি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামীম হোসেন বলেন, ইউনিয়নের বিভিন্ন খাত নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সিটিকে নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

কর্মসূচিতে শামীম হোসেনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদের, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রহমত আলী, ইউনিয়ন টিমের সদস্য মো. ওহেদুজ্জামান চঞ্চলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।