বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আম্ফানের ছয় বছর ও প্রতাপনগরবাসীর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: আম্ফানের ছয় বছর ও প্রতাপনগরবাসীর দাবি

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা কীভাবে জনজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়, আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বর্তমান চিত্র তার এক জ্বলন্ত দলিল। ২০২০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর দীর্ঘ ছয় বছর কেটে গেলেও সেখানে ধ্বংসপ্রাপ্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মিত হয়নি। ফলে ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে আজও প্রতিদিন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এই চিত্র কেবল অবহেলা নয়, বরং সার্বিক টেকসই উন্নয়ন ভাবনার মারাত্মক ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তোলে।

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে কুড়িকাহুনিয়া-গড়াইমহল খাল হয়ে কপোতাক্ষ নদের পুরোনো লঞ্চঘাট এবং সনাতনকাটি-নাকনা সংযোগ সড়কের চার কিলোমিটার পথ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদের। যোগাযোগের এমন নজীরবিহীন ভঙ্গুরতার কারণে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, জরুরি মুমূর্ষু রোগী ও বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। একটি জনপদে বছরের পর বছর শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার এভাবে যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে বাধাগ্রস্ত হতে পারে না।

এই চরম ভোগান্তির পেছনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (াউবো) মধ্যকার প্রশাসনিক লালফিতার দৌরাত্ম্য ও সমন্বয়হীনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। পাউবোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া কিংবা অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) অপেক্ষায় প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তা দেশের দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের জরুরি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সমন্বিত সরকারি উদ্যোগের অভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা বছরের পর বছর স্থবির হয়ে আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। কেবল ত্রাণ কিংবা অস্থায়ী সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে এই এলাকার স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। দরকার টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, যেখানে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতাপনগরের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের ইতি টানতে কপোতাক্ষ ও গড়াইমহল খালের সংযোগ সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং টেকসই কালভার্ট ও সেতু তৈরির কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে উপকূলীয় মানুষের মৌলিক যাতায়াত অধিকারকে আর আটকে রাখা সমীচীন হবে না।

 

Ads small one

সাতক্ষীরাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর দাপট বাড়ছে, হাসপাতালেও ঠাঁই নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর দাপট বাড়ছে, হাসপাতালেও ঠাঁই নেই

ন্যাশনাল ডেস্ক: ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে।
সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৬ সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২২ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন। জানুয়ারী থেকে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৮৬ জন। অন্যত্রে রেফার করা হয়েছে ৮ জন এবং হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩২২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই মারা গেছেন ৬৭ জন।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬৬ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৩ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন।
ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শুধু ঢাকার হাসপাতাল নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও বাড়ছে চাপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ৪৩ জন। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধেই ৬৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় মাসের শুরুতেই মৃত্যুর সংখ্যা আগস্টের পুরো মাসের মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে। ডেঙ্গুর বর্তমান প্রবণতার মধ্যে অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এক সেমিনারে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু রাজধানী নয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই ডেঙ্গণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

দুই কোটি ডলারও বিক্রি করতে পারলো না বাংলাদেশ ব্যাংক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দুই কোটি ডলারও বিক্রি করতে পারলো না বাংলাদেশ ব্যাংক

বাজারে ডলারের সংকট রয়েছে, বিনিময় হার আরও বাড়তে পারে—এমন আলোচনা যখন চলছে, তখন উল্টো চিত্র দেখা গেলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার নিলামে। বাজারে ডলারের চাহিদা কতটা রয়েছে এবং প্রকৃত বিনিময় হার কোন পর্যায়ে আছে, তা যাচাই করতে ২ কোটি মার্কিন ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছয়টি ব্যাংক মিলে কিনেছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিক্রির জন্য রাখা ৮৫ লাখ ডলার অবিক্রীতই থেকে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, এই নিলামের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল— বাজারের প্রকৃত চাহিদা বোঝা। নিলামে সব ব্যাংককে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও সীমিত সংখ্যক ব্যাংক আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে—এমন দাবির সঙ্গে নিলামের ফলাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত নিলামের তথ্য মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, ছয়টি ব্যাংক ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দেয় এবং তাদের সব প্রস্তাবই গ্রহণ করা হয়। ডলার বিক্রির দর ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা। কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কোনও ডলার বিক্রি করতে পারেনি।’’ ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত ডলার আছে বলে জানান তিনি। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা আপাতত প্রয়োজন পড়ছে না। তিনি বলেন, ‘‘বাজারে ডলারের আদৌ কোনও অতিরিক্ত চাহিদা আছে কিনা, প্রকৃত বিনিময় হার কত হতে পারে, তা দেখে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিলামের মাধ্যমে একটি দর ব্যাংক দিয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাজারে ডলারের কোনও ঘাটতি নেই। আমরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ২ কোটি ডলার বিক্রির ঘোষণা দিয়ে দেখলাম, ছয়টির বেশি ব্যাংক আগ্রহ দেখায়নি। ফলে ২ কোটি ডলারের পুরোটা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।’’

ব্যাংকগুলো চাইলে আরও ৮৫ লাখ ডলার নিতে পারতো

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা না প্রকাশ না করে বলেন, ‘‘কিছু মহল থেকে বলা হচ্ছিল— ব্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট রয়েছে এবং সামনে ডলারের দাম আরও বাড়তে পারে। এসব আলোচনা বাস্তবে কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই নিলামের আয়োজন করা হয়।’’

তিনি বলেন, ‘মোট ২ কোটি ডলার বিক্রির জন্য ছাড়া হয়েছিল। সব ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু মাত্র ছয়টি ব্যাংক ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার কেনার প্রস্তাব দেয়। তাদের সব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তারা চাইলে আরও ৮৫ লাখ ডলার নিতে পারতো।’’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিলামের ফলাফল থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যাচ্ছে, ব্যাংকিং খাতে ডলারের চাহিদা এমন পর্যায়ে নেই যে বাজারে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। বরং প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ব্যাংকের হাতে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে।’’

১৪ মাস পর ডলার বিক্রিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলারের এই নিলাম আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলার বিক্রিতে ফিরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছিল। কারণ তখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ছিল এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ কমে এসেছিল।

গত ১৪ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, অপরদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের তারল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নিলামে কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেল। আগে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছিল, এখন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। তবে প্রথম বিক্রির নিলামেই পুরো ২ কোটি ডলার বিক্রি না হওয়া বাজারের চাহিদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা দিচ্ছে।

ডলারের দর বেড়েছে, কিন্তু সংকট কতটা?

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর কিছুটা বেড়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের দিন ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশের আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা এক মাসে ১৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

অপরদিকে জুলাইয়ে রফতানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪৩৫ কোটি ডলারে নেমেছে। ফলে আমদানি ব্যয় ও রফতানি আয়ের ব্যবধান বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা বাড়তি চাহিদা তৈরি করতে পারে।

তবে আমদানির চাপ বাড়লেই যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সংকট তৈরি হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রেমিট্যান্স, রফতানি আয়, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান এবং আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়েই বাজারের প্রকৃত তারল্য বোঝা যায়।

রিজার্ভেও স্বস্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে আগের তুলনায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কোটি ডলার বিক্রির উদ্যোগকে শুধু ‘ডলারের সংকট মোকাবিলায়’ নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। বরং নিলামের মাধ্যমে বাজারের প্রকৃত চাহিদা, ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণক্ষমতা এবং প্রচলিত বিনিময় হারের যৌক্তিকতা যাচাই করাও এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

বাজারের জন্য কী বার্তা?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামে ২ কোটি ডলার বিক্রির সুযোগ তৈরি করেও ৮৫ লাখ ডলার বিক্রি করতে না পারার ঘটনা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে ডলারের দাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ একেবারে সংকুচিত হয়ে যায়নি।

বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে ডলার দিতে সক্ষম এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান রয়েছে। ফলে ডলারের দাম আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা বা গুজবের ভিত্তিতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটিও এখন নজরে রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির চাপ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রফতানি ও রেমিট্যান্সের প্রবাহও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তাই একটি নিলামের ফলাফল দিয়ে পুরো বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকগুলোর চাহিদা ও লেনদেনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি হলো—ডলারের দাম নিয়ে চাপ থাকলেও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তীব্র ডলার সংকটের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ২ কোটি ডলার বিক্রির সুযোগ দিয়েও ৮৫ লাখ ডলার বিক্রি করতে না পারাই তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

অতিরিক্ত সাত লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
অতিরিক্ত সাত লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত

দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চলতি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য অতিরিক্ত প্রায় সাত লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সিসিইএ’র ২৯তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রচলিত সরকারি পর্যায়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার মাধ্যমে ছয় লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল ও জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, অতিরিক্ত এ জ্বালানি আমদানির পরিমাণ ২০২৬ সালের মূল বরাদ্দের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

পরিবহন, শিল্প ও বিমান চলাচল খাতে জ্বালানির বাড়তি চাহিদা পূরণ এবং বছরের শেষ চার মাসে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে এই অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।