বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার; বাস্তুসংস্থান রক্ষার চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার; বাস্তুসংস্থান রক্ষার চ্যালেঞ্জ

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বড়বস্থা খাল এলাকায় বনরক্ষীদের অভিযানে বিষের বোতল ও মাছ শিকারের সরঞ্জাম জব্দ হওয়ার ঘটনাটি আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তবে এই অভিযান আবারও প্রমাণ করল যে, বিশ্বের এই বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের অভ্যন্তরে অবৈধ ও বিধ্বংসী কর্মকা- এখনো থামেনি। বরং এক শ্রেণির অসাধু মানুষ বনের অমূল্য সম্পদ ধ্বংস করে নিজেদের পকেট ভারী করতে মরিয়া।
বিষ দিয়ে মাছ শিকার কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক ধরনের ‘রাসায়নিক সন্ত্রাস’। শিকারিরা যখন খালের পানিতে বিষ ঢালে, তখন কেবল বড় মাছই মারা যায় না; বরং ওই পানির সংস্পর্শে থাকা সমস্ত জলজ প্রাণীÑঅসংখ্য প্রজাতির মাছের পোনা, কাঁকড়া, কচ্ছপ এবং অণুজীব নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে। বনের হরিণ বা বাঘ যখন ওই দূষিত পানি পান করে, তখন তাদের জীবনও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। সুন্দরবনের মতো একটি স্পর্শকাতর বনভূমিতে এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক শিকারিদের শনাক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আমরা মনে করি, কেবল মামলা বা নথিপত্র ভারি করাই যথেষ্ট নয়। অতীতে দেখা গেছে, মামলার পর যথাযথ তদারকির অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হয়। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকলে এই অসাধু চক্র কখনোই পিছু হটবে না।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়Ñমাছ মারার এই বিষ আসছে কোথা থেকে? স্থানীয় বাজারগুলোতে কি খুব সহজেই এসব রাসায়নিক বা বিষ পাওয়া যাচ্ছে? বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত বিষের সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সোর্স’ চিহ্নিত করা। যদি বিষের সহজলভ্যতা বন্ধ করা না যায়, তবে বনের গহীনে অভিযান চালিয়ে এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন হবে।
বন বিভাগ টহল জোরদার ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা তার দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। একই সাথে সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকেও সচেতন করে তুলতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে, সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ও বনভূমি ধ্বংস হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বেন তারাই। সুন্দরবন আমাদের জাতীয় অহংকার এবং প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ; একে বিষমুক্ত রাখা এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কোনো একক দপ্তরের নয়, বরং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Ads small one

প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে পিবিআই পরিচয় দিয়ে নারী নির্যাতন ও লুটের অভিযোগ, গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক গৃহবধূকে হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের দিঘলারআইট গ্রামে সড়কের ওপর এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর হাতে হাতকড়া পরিয়ে টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে মারধর করা হয় এবং হাতুড়ি দিয়ে ট্রাঙ্ক ভেঙে সঞ্চিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও অলংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক বা পরিচয় দিয়ে এভাবে তা-ব চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বের করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

নম্বর বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৬৩ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ও কলারোয়ার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬২ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় জিরা, শাড়ি, মদ ও ফেন্সিডিলজাতীয় ‘ফেন্সিডিল/ডেক্সপোটেন’ সিরাপ এসব চালানের মধ্যে রয়েছে।

সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) জানায়, ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বৈকারী, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বৈকারী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ৭/৬৫-এস থেকে আনুমানিক ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতক্ষীরা সদর থানার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৬,৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কাশির সিরাপ আটক করে। অপরদিকে কাকডাঙ্গা বিওপির দুটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৪ ও ৫ আরবি থেকে প্রায় ২০০ গজ ভেতরে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি এলাকা থেকে ১১,৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরা ও মদ উদ্ধার করে।

এ ছাড়া মাদরা বিওপির অপর একটি দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস এর ৮ আরবি থেকে ২০০ গজ অভ্যন্তরে কলারোয়ার ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ৪৫,০০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চোরাকারবারিরা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল।

ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ভুল নম্বরে চলে যাওয়া টাকা উদ্ধার করে মালিককে দিল শ্যামনগর থানা পুলিশ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নুর আলম নামে এক ব্যক্তির বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল নম্বরে চলে যাওয়া ৯ হাজার ৬০০ টাকা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

জানা যায়, সম্প্রতি নুর আলম ভুলবশত ৯ হাজার ৬০০ টাকা অন্য একটি বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নির্দেশনায় এএসআই জাফর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লেনদেনের সূত্র অনুসন্ধান শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুল নম্বরে পাঠানো ওই টাকা কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা এলাকার একটি নম্বরে চলে গেছে। পরবর্তীতে ভৈরব থানা পুলিশের সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ৯ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত টাকা শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে নুর আলমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নুর আলম বলেন, এত দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা উদ্ধার করে শ্যামনগর থানার ওসি টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে শ্যামনগর থানা পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়রির অভিযোগের ভিত্তিতে ভুল লেনদেনের অর্থ উদ্ধারে আইনগত প্রক্রিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অর্থ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে দেয়া হয়েছে।