রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হুথিদের হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হুথিদের হামলা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের জেরে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের দুই দিন পর সৌদি আরামকোর জাজান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিরা।

রবিবার এই হামলার পর সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, শোধনাগারটিতে আগুন লাগলেও কোনও হতাহতের ঘটনা ছাড়াই তা নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সামাল দিচ্ছে বলে জানানো হলেও হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, তারা ড্রোন ব্যবহার করে এই শোধনাগারে হামলা চালিয়েছেন।

পৃথক এক বিবৃতিতে সারি জানান, হুথিরা লোহিত সাগরের ইয়েমেনি বন্দরনগরী মোখাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা ওই এলাকায় থাকা সৌদি সেনা ও অস্ত্রের ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইয়েমেনি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাণিজ্যিক জেটি ও গুদামের দিকে ধেয়ে আসা ড্রোনগুলো প্রতিহত করেছে। তবে ইয়েমেনে এ ধরনের হামলার বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থিত এডেন সরকার সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মোখা বন্দরটি এর আগে গত ২৭ জুলাই হুথি হামলার শিকার হয়েছিল। আইআইআর কনসালটেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সেই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাজান শোধনাগারটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার শর্ত নিয়ে আলোচনার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গত মাসে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে হুথিরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও তার মিত্র শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সুন্নিপ্রধান তিন দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। ন্যাটোর ধাঁচে তৈরি এই চুক্তিতে যেকোনও একটি দেশের ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন, এই চুক্তি ইরান বা অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি একটি সাধারণ যৌথ নিরাপত্তা অঙ্গীকার। তবে সাম্প্রতিক হুথি হামলার জবাবে পাকিস্তান বা তুরস্ক কীভাবে সৌদি আরবকে সহায়তা করবে তা যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে।

সূত্র: রয়টার্স

Ads small one

গণতন্ত্রের প্রাণ হোক নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্রের প্রাণ হোক নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
প-িত জওহরলাল নেহরুকে ঘিরে একটি প্রচলিত উপাখ্যান রয়েছেÑসংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার সময় এক বয়স্কার নারী তাঁর কলার ধরে স্বাধীন দেশের প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। জবাবে নেহরু বলেছিলেন, “পেয়েছেন তো! প্রধানমন্ত্রীর কলার ধরার স্বাধীনতা।” ঘটনাটি ইতিহাসের অকাট্য সত্য না হলেও উপাখ্যানটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর গণতান্ত্রিক দর্শন। গণতন্ত্র মানে শুধু ভূখ- বা পতাকার স্বাধীনতা কিংবা নির্দিষ্ট সময় পর ভোট দেওয়া নয়; এর মূল কথা হলো নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার এবং নির্ভয়ে কথা বলার স্বাধীনতা।
গণতন্ত্রে রাষ্ট্র ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। এখানে সরকার জনগণের ওপর কর্তৃত্ব করতে নয়, বরং সেবা দিতে ক্ষমতা পায়। অথচ বাস্তবে গণতন্ত্রকে কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক করে ফেলা হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত গণতন্ত্রের সূচনা হয় নির্বাচনের পর। একজন কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য, শ্রমিক যথাযথ মজুরি, শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা আর সাধারণ নাগরিক নাগরিক সুবিধার বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেনÑএটাই গণতন্ত্রের প্রাণ। কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা মানেই রাষ্ট্রের শত্রু হওয়া নয়, বরং ভিন্নমত রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করে।
একই সঙ্গে কলার ধরে টান দেওয়া বা আইন নিজের হাতে নেওয়াও গণতন্ত্র নয়। এর প্রকৃত শিক্ষা হলো ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করার সাহস এবং একই সঙ্গে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। আইনের শাসন তখনই সার্থক হয়, যখন তা ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
গণতন্ত্রের অন্যতম অপরিহার্য শর্ত স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় পর্যায়ে খালের দখল, সরকারি সেবায় অনিয়ম বা মানুষের দুর্ভোগের কথা যখন সাংবাদিকরা তুলে ধরেন, তখন তাঁরা মূলত সাধারণ মানুষের হয়ে প্রশ্নগুলো রাষ্ট্রের দরজায় পৌঁছে দেন। তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রকারান্তরে নাগরিকেরই অধিকার।
বর্তমানে প্রয়োজন এমন এক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি:
সেবামুখী প্রশাসন: রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক হবে সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার, প্রভু ও প্রজার নয়।
জবাবদিহিতা: জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাকে তাঁর কাজের কৈফিয়ত জনগণের কাছে দিতে হবে।
ভিন্নমতের শ্রদ্ধা: অন্যায়ের প্রতিবাদ বা ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে না দেখে ভুল সংশোধনের সুযোগ হিসেবে নেওয়া।
দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ: ভাতা পাওয়া, সেচের পানি পাওয়া কিংবা নিরাপদ সড়কের মতো দৈনন্দিন মৌলিক অধিকার পাওয়ার মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হবে প্রকৃত গণতন্ত্র।
ক্ষমতার কেন্দ্র যত ওপরেই থাকুক, সাধারণ নাগরিকের কণ্ঠস্বর যেন চাপা না পড়ে। রাষ্ট্র ও নাগরিক পরস্পরের অধিকার, মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেই গণতন্ত্র ব্যালট পেপার ছাড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিশ্ব সিংহ দিবস: অরণ্যের রাজাকে রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব সিংহ দিবস: অরণ্যের রাজাকে রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব সিংহ দিবস। এই দিনটি কেবল একটি বন্যপ্রাণীকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; বরং পৃথিবীর অন্যতম প্রতীকী প্রাণী, সাহস, শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতীক সিংহকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য মানবজাতির এক সম্মিলিত অঙ্গীকারের দিন। হাজার বছর ধরে সিংহ মানবসভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ধর্মীয় প্রতীক, শিল্পকলা এবং লোককাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আজ সেই ‘অরণ্যের রাজা’ নিজেই অস্তিত্ব সংকটে।
বিশ্ব সিংহ দিবসের সূচনা হয় ২০১৩ সালে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা দম্পতি ডেরেক জুবার্ট ও বেভারলি জুবার্ট এই দিবসের প্রবর্তন করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার সিংহ ও অন্যান্য বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণীর জীবন নিয়ে গবেষণা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। সিংহের দ্রুত হ্রাসমান সংখ্যা দেখে তারা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এর সহযোগিতায় বিগ ক্যাট ইনিশিয়েটিভ গড়ে তোলেন এবং সেখান থেকেই বিশ্ব সিংহ দিবসের যাত্রা শুরু হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সিংহ সংরক্ষণ, তাদের আবাসস্থল রক্ষা, চোরা শিকার প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
একসময় আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সিংহ বিচরণ করত। বর্তমানে তাদের বিস্তৃতি অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ সিংহকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীতে বন্য পরিবেশে মাত্র ২৩ হাজার থেকে ৩৯ হাজার সিংহ অবশিষ্ট রয়েছে। গত শতাব্দীতে সিংহের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে আফ্রিকার বন্য সিংহ প্রকৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
সিংহ শুধু একটি প্রাণী নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের রক্ষক। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ স্তরের শিকারি হিসেবে সিংহ তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিংহের উপস্থিতি একটি সুস্থ ও কার্যকর বাস্তুতন্ত্রের নির্দেশক। তাই সিংহ হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রজাতির বিলুপ্তি নয়, বরং সমগ্র পরিবেশব্যবস্থার জন্য গভীর সংকট।
বর্তমান সময়ে সিংহের প্রধান হুমকিগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, কৃষি ও মানববসতির সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তন, অবৈধ শিকার এবং মানুষ-প্রাণীর সংঘাত। আফ্রিকার বহু অঞ্চলে মানুষের বসতি ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে সিংহ তাদের ঐতিহ্যবাহী বিচরণক্ষেত্র হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গবাদিপশুর ওপর আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে সিংহকে হত্যা করা হয়। এছাড়া চামড়া, হাড়, দাঁত ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যও তাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতির ফলে বর্তমানে সিংহকে প্রধানত দুটি উপপ্রজাতিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটি প্যান্থেরা লিও লিও, যার মধ্যে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার সিংহ এবং ভারতের গুজরাটের গির অরণ্যের বিখ্যাত এশীয় সিংহ অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি প্যান্থেরা লিও মেলানোচাইটা, যা দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার সিংহদের প্রতিনিধিত্ব করে। অতীতে বার্বারি সিংহ ও কেপ সিংহের মতো বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক উপপ্রজাতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
তবে সব খবরই হতাশার নয়। ভারতের গুজরাটের গির জাতীয় উদ্যান এশীয় সিংহ সংরক্ষণের একটি বিশ্বস্বীকৃত সফল উদাহরণ। একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া এশীয় সিংহের সংখ্যা ধারাবাহিক সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে তা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সাম্প্রতিক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি মাত্র অঞ্চলে তাদের কেন্দ্রীভূত উপস্থিতি রোগব্যাধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বিকল্প আবাসস্থল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
সিংহ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন ও চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সাইটিস চুক্তির আওতায় এশীয় সিংহের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আফ্রিকান সিংহের বাণিজ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। এছাড়া কনভেনশন অন মাইগ্রেটরি স্পিসিস আফ্রিকার দেশগুলোকে সীমান্ত অতিক্রমকারী সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করে।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে কোনো বন্য সিংহ না থাকলেও সিংহ সংরক্ষণের বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সঙ্গে দেশের সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক পাচারচক্র প্রায়ই বিভিন্ন দেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী সিংহ বা অন্যান্য সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হত্যা, পাচার, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিবহন গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চুক্তির সদস্য হওয়ায় সীমান্ত ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
সিংহ নিয়ে মানুষের আগ্রহ কতটা গভীর, তার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ পাওয়া যায় তথাকথিত ঞৎরষষরড়হ খরড়হং জবংবধৎপয-এ। সেখানে হিসাব করে দেখানো হয়েছে, যদি এক ট্রিলিয়ন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ সিংহকে একত্র করা হয়, তবে তাদের মোট ভর হবে প্রায় ১.৮৭৫ দ্ধ ১০¹⁴ কিলোগ্রামÑ যা বিখ্যাত ধূমকেতু ৬৭পি-এর ভরের প্রায় ২০গুণ। যদিও এটি একটি তাত্ত্বিক ও কৌতূহলোদ্দীপক বৈজ্ঞানিক আলোচনা, তবুও এটি সিংহের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের বিস্ময় ও আকর্ষণের প্রতিফলন।
বিশ্ব সিংহ দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীর মতো সিংহেরও এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সিংহ রক্ষা মানে বন রক্ষা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী নিশ্চিত করা। আজকের এই দিনে আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—চোরা শিকার ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, পরিবেশবান্ধব নীতি সমর্থন করা এবং বিশ্বব্যাপী সংরক্ষণ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা। কারণ সিংহ শুধু অরণ্যের রাজা নয়; সে প্রকৃতির শক্তি, সৌন্দর্য ও ভারসাম্যের এক অনন্য প্রতীক। অরণ্যের এই গর্জন যদি একদিন স্তব্ধ হয়ে যায়, তবে তা হবে মানবসভ্যতার জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।

মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা মেডিকেলের নার্সদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা মেডিকেলের নার্সদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুয়া নার্স সাজিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন পালন করেছেন হাসপাতালটির নার্সিং কর্মকর্তারা। রোববার দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন সাতক্ষীরার সভাপতি ডালিয়া পারভীন, সাধারণ সম্পাদক নাছিমা পারভীন, জেলা পাবলিক হেলথের (ভারপ্রাপ্ত) নার্স শিরিন সুলতানা, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের অধ্যক্ষ সুরাইয়া ইয়াসমিন এবং নার্সিং সুপার শাহানা ইয়াসমিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, একটি অননুমোদিত অনলাইন পোর্টালে ভুয়া নার্সের বক্তব্য প্রচার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণœ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত নামের কোনো নার্স ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন না বা বর্তমানেও নেই। এতে দেশের পুরো নার্সিং সমাজের মানহানি ঘটেছে। দ্রুত সময়ে এ ভুয়া প্রতিবেদনের ভুল স্বীকার ও প্রত্যাহার না করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।