সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

হাম, মিজলস ও রুবেলা কী একই রোগ? চিকিৎসকের সতর্কতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
হাম, মিজলস ও রুবেলা কী একই রোগ? চিকিৎসকের সতর্কতা

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের উদ্যোগে রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এদিন ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
হাম, মিজলস ও রুবেলা কী একই রোগ? চিকিৎসকের সতর্কতা

শীত বা ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের সর্দি-জ্বরকে আমরা অনেক সময়ই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এই ‘সাধারণ’ লক্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক সংক্রামক রোগ হাম।

সম্প্রতি, রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট ( এনআইসিইউ)-এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডাক্তার মনিরা আক্তার এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তিনি জানান সময়ের সঙ্গে দ্রুত হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে যায়। কজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরেক শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। হাম কোনো সাধারণ রোগ নয়, বরং অবহেলা করলে তা হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। এটি মিজলস নামে পরিচিত। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর প্রথমে শ্বাসনালিতে সংক্রমণ তৈরি করে এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কের জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।

বেসরকারি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডা. মনিরা আক্তার। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গিয়েছে। অনেক শিশু হাম নিয়ে আসছে। এমনকি দেখা যাচ্ছে, পরিবারের একটি শিশু থেকে অন্য একটি শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। হাম খুব দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই হামকে কখনোই সাধারণ রোগ ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।

হাম, মিজলস, জাপানিজ মিজলস, রুবেলা ও বসন্তের পার্থক্য কী?

ডাক্তার মনিরা আক্তার জানান, অনেকেই হাম, মিজলস, জাপানিজ মিজলস, রুবেলা ও বসন্তকে একই রোগ মনে করেন। তবে এগুলো আলাদা রোগ, যদিও কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ বা নামের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

হাম/মিজলস
হাম এবং মিজলস একই রোগ। মিজলস ভাইরাস দ্বারা হয় এবং অত্যন্ত সংক্রামক।
জাপানিজ মিজলস
এটি আসলে হাম নয়, বরং জাপানিজ মিজলস নামে একটি ভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটায়।
রুবেলা (জার্মান মিজলস)
রুবেলা একটি আলাদা ভাইরাসজনিত রোগ। এটি তুলনামূলক হালকা হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে।
বসন্ত
বসন্ত বা চিকেন পক্স ভ্যারিসেলা ভাইরাস দ্বারা হয়। এতে শরীরে পানিভর্তি ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা হাম থেকে ভিন্ন।
উল্লেখ্য, হাম এবং রুবেলা এই ২টি রোগের প্রতিরোধে একই টিকা (এমএমআর ভ্যাকসিন) ব্যবহার করা হয়। তবে জাপানিজ মিজলস এবং বসন্ত সম্পূর্ণ আলাদা রোগ এবং এদের সংক্রমণের পদ্ধতিও ভিন্ন।

হাম হওয়ার কারণ
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এর সংক্রমণের মূল কারণগুলো হলো—

হাম ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা শ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা
একই ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করা
বিশেষ করে যেসব শিশুর টিকা নেয়া হয়নি, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।
হাম-এর লক্ষণ (সময় অনুযায়ী)
ডা. মনিরা আক্তার বলেন হামের লক্ষণগুলো ধাপে ধাপে এবং নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী প্রকাশ পায়। যেমন-

প্রথম ধাপ (সংক্রমণের ৭–১৪ দিন পর)

হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
নাক দিয়ে পানি পড়া
শুকনো কাশি
চোখ লাল হওয়া
দ্বিতীয় ধাপ (২–৩ দিন পর)

মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ
জ্বর বাড়তে থাকে
তৃতীয় ধাপ (৩–৫ দিন পর)

উচ্চমাত্রার জ্বর
মুখ থেকে লালচে ফুসকুড়ি শুরু
চতুর্থ ধাপ

ফুসকুড়ি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
ধীরে ধীরে জ্বর কমে
জটিলতা
হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং অনেক সময় সহজে নিরাময় হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

নিউমোনিয়া: হাম আক্রান্ত শিশুর ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা এবং উচ্চ জ্বরের কারণ হতে পারে।
ডায়রিয়া: হাম সংক্রমণের ফলে হজম প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যার কারণে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি শিশুর শরীরে পানি এবং লবণের ঘাটতি তৈরি করে, যা সতর্কতা ছাড়া প্রাণঘাতী হতে পারে।
কানের সংক্রমণ: হামের সময় কানের সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। এটি শিশুর শোনার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
মস্তিষ্কের সংক্রমণ: বিরল হলেও হামের জটিলতা হিসেবে মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এতে শিশুর মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএমআর ভ্যাকসিন নেয়া
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
শিশুদের ভিড় থেকে দূরে রাখা
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঝুঁকি
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে ডাক্তার মনিরা আক্তার বলেন, গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই কারণে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে হাম, তুলনামূলকভাবে দ্রুত শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থায় হাম আক্রান্ত হলে শুধু তার নিজের শারীরিক অবস্থাই নয়, অনাগত শিশুর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

হাম আক্রান্ত হলে গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব বা শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া হাম থেকে সৃষ্ট জ্বর বা শ্বাসজনিত জটিলতা মায়ের শরীরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, যা শিশুর সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, রুবেলা সংক্রমণ বিশেষত গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে শিশুর জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে, যেমন হৃদযন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির প্রতিবন্ধকতা। তাই গর্ভবতী নারীদের টিকা নেয়া ও সংক্রমণ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
হামকে কোনভাবেই হালকাভাবে নেয়া যাবে না জানান ডাক্তার মনিরা আক্তার । নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেন তিনি—

দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
খাওয়ায় অনীহা বা দুর্বলতা
খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ
বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাম অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করা হলেও এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। সঠিক সময়ে সচেতনতা, টিকা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগের জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, শরীরের ছোট সংকেতগুলোই অনেক সময় বড় সমস্যার আগাম বার্তা হয়ে আসে তাই সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।