মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাম, মিজলস ও রুবেলা কী একই রোগ? চিকিৎসকের সতর্কতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
হাম, মিজলস ও রুবেলা কী একই রোগ? চিকিৎসকের সতর্কতা

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের উদ্যোগে রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এদিন ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
হাম, মিজলস ও রুবেলা কী একই রোগ? চিকিৎসকের সতর্কতা

শীত বা ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের সর্দি-জ্বরকে আমরা অনেক সময়ই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এই ‘সাধারণ’ লক্ষণের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে মারাত্মক সংক্রামক রোগ হাম।

সম্প্রতি, রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট ( এনআইসিইউ)-এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডাক্তার মনিরা আক্তার এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তিনি জানান সময়ের সঙ্গে দ্রুত হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে যায়। কজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরেক শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। হাম কোনো সাধারণ রোগ নয়, বরং অবহেলা করলে তা হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। এটি মিজলস নামে পরিচিত। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর প্রথমে শ্বাসনালিতে সংক্রমণ তৈরি করে এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কের জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।

বেসরকারি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ডা. মনিরা আক্তার। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গিয়েছে। অনেক শিশু হাম নিয়ে আসছে। এমনকি দেখা যাচ্ছে, পরিবারের একটি শিশু থেকে অন্য একটি শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। হাম খুব দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই হামকে কখনোই সাধারণ রোগ ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।

হাম, মিজলস, জাপানিজ মিজলস, রুবেলা ও বসন্তের পার্থক্য কী?

ডাক্তার মনিরা আক্তার জানান, অনেকেই হাম, মিজলস, জাপানিজ মিজলস, রুবেলা ও বসন্তকে একই রোগ মনে করেন। তবে এগুলো আলাদা রোগ, যদিও কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ বা নামের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

হাম/মিজলস
হাম এবং মিজলস একই রোগ। মিজলস ভাইরাস দ্বারা হয় এবং অত্যন্ত সংক্রামক।
জাপানিজ মিজলস
এটি আসলে হাম নয়, বরং জাপানিজ মিজলস নামে একটি ভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটায়।
রুবেলা (জার্মান মিজলস)
রুবেলা একটি আলাদা ভাইরাসজনিত রোগ। এটি তুলনামূলক হালকা হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে।
বসন্ত
বসন্ত বা চিকেন পক্স ভ্যারিসেলা ভাইরাস দ্বারা হয়। এতে শরীরে পানিভর্তি ফুসকুড়ি দেখা যায়, যা হাম থেকে ভিন্ন।
উল্লেখ্য, হাম এবং রুবেলা এই ২টি রোগের প্রতিরোধে একই টিকা (এমএমআর ভ্যাকসিন) ব্যবহার করা হয়। তবে জাপানিজ মিজলস এবং বসন্ত সম্পূর্ণ আলাদা রোগ এবং এদের সংক্রমণের পদ্ধতিও ভিন্ন।

হাম হওয়ার কারণ
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এর সংক্রমণের মূল কারণগুলো হলো—

হাম ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা শ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা
একই ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করা
বিশেষ করে যেসব শিশুর টিকা নেয়া হয়নি, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।
হাম-এর লক্ষণ (সময় অনুযায়ী)
ডা. মনিরা আক্তার বলেন হামের লক্ষণগুলো ধাপে ধাপে এবং নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী প্রকাশ পায়। যেমন-

প্রথম ধাপ (সংক্রমণের ৭–১৪ দিন পর)

হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
নাক দিয়ে পানি পড়া
শুকনো কাশি
চোখ লাল হওয়া
দ্বিতীয় ধাপ (২–৩ দিন পর)

মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ
জ্বর বাড়তে থাকে
তৃতীয় ধাপ (৩–৫ দিন পর)

উচ্চমাত্রার জ্বর
মুখ থেকে লালচে ফুসকুড়ি শুরু
চতুর্থ ধাপ

ফুসকুড়ি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে
ধীরে ধীরে জ্বর কমে
জটিলতা
হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এবং অনেক সময় সহজে নিরাময় হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

নিউমোনিয়া: হাম আক্রান্ত শিশুর ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা এবং উচ্চ জ্বরের কারণ হতে পারে।
ডায়রিয়া: হাম সংক্রমণের ফলে হজম প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যার কারণে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি শিশুর শরীরে পানি এবং লবণের ঘাটতি তৈরি করে, যা সতর্কতা ছাড়া প্রাণঘাতী হতে পারে।
কানের সংক্রমণ: হামের সময় কানের সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। এটি শিশুর শোনার ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
মস্তিষ্কের সংক্রমণ: বিরল হলেও হামের জটিলতা হিসেবে মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এতে শিশুর মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএমআর ভ্যাকসিন নেয়া
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
শিশুদের ভিড় থেকে দূরে রাখা
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঝুঁকি
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে ডাক্তার মনিরা আক্তার বলেন, গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই কারণে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, বিশেষ করে হাম, তুলনামূলকভাবে দ্রুত শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থায় হাম আক্রান্ত হলে শুধু তার নিজের শারীরিক অবস্থাই নয়, অনাগত শিশুর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

হাম আক্রান্ত হলে গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব বা শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া হাম থেকে সৃষ্ট জ্বর বা শ্বাসজনিত জটিলতা মায়ের শরীরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, যা শিশুর সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, রুবেলা সংক্রমণ বিশেষত গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে শিশুর জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে, যেমন হৃদযন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির প্রতিবন্ধকতা। তাই গর্ভবতী নারীদের টিকা নেয়া ও সংক্রমণ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
হামকে কোনভাবেই হালকাভাবে নেয়া যাবে না জানান ডাক্তার মনিরা আক্তার । নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেন তিনি—

দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
খাওয়ায় অনীহা বা দুর্বলতা
খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক আচরণ
বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাম অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করা হলেও এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। সঠিক সময়ে সচেতনতা, টিকা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগের জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, শরীরের ছোট সংকেতগুলোই অনেক সময় বড় সমস্যার আগাম বার্তা হয়ে আসে তাই সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

Ads small one

কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানী মিরপুরের কালশী এলাকার বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিটের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশীর একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। ৭টা ৩২ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। পরবর্তীতে ১৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের এই সময়টাতে সাধারণত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মাজেন আল-জেরজাউই। কোরবানির পশুর খোঁজে গাজাবাসী যখন এদিক-ওদিক ছুটতেন, তখন তিনি নিজের খামারে লালন-পালন করা শত শত ভেড়া ও ছাগল বিক্রি করতেন।

তবে সেই দিন এখন শুধুই অতীত। গাজার অন্যতম শীর্ষ পশু খামারি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন কেবল একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান। যেখানে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় আসা হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে।

গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, ‘বছরের এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। আজ আমার কাছে একটিও পশু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় কোনও জীবন্ত পশু একেবারেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল গাজার মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তারা এখানে সাময়িকভাবে বসবাস করছে এবং যা কিছু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা কেবল ন্যূনতম স্তরে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

ঈদুল আজহা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজের পর ভেড়া, ছাগল, গরু বা উট কোরবানি দেন এবং সেই মাংস পরিবার, প্রতিবেশী ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে গাজা প্রতি বছর ঈদের আগে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি করত। কিন্তু ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও অবরোধের কারণে গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো এই উৎসবের প্রধান ঐতিহ্য পালন করতে পারছে না।

বিলুপ্তির পথে গাজার গবাদিপশু

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলা এবং পণ্য ও কৃষি সরঞ্জাম চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে গাজার গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় পশু উৎপাদন ধ্বংসের পাশাপাশি গাজায় জীবন্ত পশুর প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল, যা এই ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইনকে আরও সংকটে ফেলেছে।

এর ফলে পশুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। এখন হাতেগোনা যে কয়েকটি পশু অবশিষ্ট রয়েছে, তার একেকটির দাম ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠছে।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি ভেড়া বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি কারণ গাজায় গবাদিপশু অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে।’ তিনি জানান, প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিরা এখনও গাজায় তাদের আত্মীয়দের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু কিনতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তিনি তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি তাদের বলি যে, একটি ভেড়ার পেছনে এত টাকা খরচ না করে ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কেনা অনেক ভালো। একটি ভেড়ার জন্য ২০ হাজার শেকেল (৭ হাজার ডলার) খরচ করার চেয়ে এই টাকা দিয়ে একটি দম্পতির বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসের মধ্যেই গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল যুদ্ধের কারণে মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। একসময় যা ছিল গাজার তাজা মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের শেষ নির্ভরযোগ্য উৎস, সেই গবাদিপশু খাত এখন কার্যত নিশ্চিহ্ন। এর ফলে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খামার, গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম ও পশু চিকিৎসা ক্লিনিকগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এই খাতকে সম্পূর্ণ ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জেরজাউই বলেন, ‘পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা এবং যা পেয়েছি তা-ই খাইয়েছি। কিন্তু পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেকগুলো ভেড়া মারা যায়। গাজার বেশির ভাগ পশু মালিকের ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে; বিমান হামলার কারণে আমরা আমাদের পশু হারিয়েছি।’

তিনি জানান, বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাটি এই খাতের ওপর শেষ আঘাত হেনেছে। বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারগুলো তাদের পশুর যত্ন নিতে পারেনি এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে যে দামে পাওয়া যায় সেই দামেই পশু জবাই বা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আমি যখন বাস্তুচ্যুত হই, তখন বোমার আঘাতে যেন মারা না যায় সেজন্য তড়িঘড়ি করে পশুগুলো জবাই করতে বা বিক্রি করতে বাধ্য হই। একসময় আমার মালিকানাধীন সব পশু এভাবেই বিক্রি হয়ে যায়। অত্যন্ত চড়া দামে আটা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য আমি যে দামে পেরেছি এগুলো বিক্রি করেছি। শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করার চেষ্টা করার পাশাপাশি কীভাবে গবাদিপশুর যত্ন নেবে?’

‘নেই কোনও ঈদ’

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৬০ হাজার থেকে কমে আজ মাত্র ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর বাছুর ও গরু তো প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, ‘এখনও যে অল্পসংখ্যক ভেড়া ও ছাগল বেঁচে আছে, তা যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো ঈদের মৌসুমে বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, পানির কূপগুলো সচল করতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে এই খাতের পুনরুদ্ধারের আর কোনও বাস্তব উপায় বা সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই।

আসালিয়া বলেন, ‘এটি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে ঈদের কোরবানি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।’

গাজার অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এই উৎসবটি এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। গাজা সিটির একজন স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা আগে প্রতি বছর কোরবানি দিতেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদ উদযাপন করি না। কোরবানির সেই আচার এবং অন্যের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। কোরবানি ও ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেখানে কোনও ঈদ নেই।’

আবু রিয়ালা জানান, জীবন্ত পশুর অনুপস্থিতি সংকটের একটি অংশ মাত্র, অনেক পরিবার এখন মৌলিক খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোনও জীবন্ত পশু নেই, আর বেশির ভাগ পরিবারের কোনও কিছু ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্যও নেই। অনেকে কোনও রকমে দৈনিক খাবার জোগাড় করছে এবং কেউ কেউ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খায়নি। গাজায় যা প্রবেশ করে তা সীমিত এবং তা সম্পূর্ণভাবে সীমান্ত ক্রসিং বা পারাপারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, যার অর্থ দাম অত্যন্ত চড়া থাকে।’

জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি ছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর ও প্রায়শই অননুমেয় বিধিনিষেধ এবং বারবার সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সংকট আরও খারাপের দিকে গেছে। এর ফলে মৌলিক খাদ্যসামগ্রী প্রায়শই বাজার থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায় এবং গাজায় কী পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে দামের তীব্র ওঠানামা ঘটে।

আবু রিয়ালা বলেন, গবাদিপশুর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা গাজার হাজার হাজার পরিবারকে টিকিয়ে রাখা একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যদি গাজায় গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো, তবে এটি অনেক পেশাকে বাঁচিয়ে রাখত, যেমন- পশু চিকিৎসক, পশু খামারি, গোবর বা জৈব সারের ওপর নির্ভরশীল কৃষক, কসাই এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা এর সুবিধা পেতেন। কিন্তু ইসরায়েল তা চায় না। তারা সমাজকে পঙ্গু করে দিতে চায় এবং একে স্বাবলম্বী হওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।

গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

 

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

 

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”

নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”

 

পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।