বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশের নানা উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশের নানা উদ্যোগ

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে থানা পুলিশ। নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে রাতের টহল জোরদার, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় তিন লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওসি শাহিদুর রহমান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), উপপরিদর্শক (এসআই), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবলদের সমন্বয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।

এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান ও চেকপোস্ট পরিচালনা, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান এবং আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে। অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষেও উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়। বিজয়া দশমীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় হাজার হাজার দর্শকের সমাগম হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত তৎপরতা ও জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তাঁরা এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

Ads small one

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন ট্রাম্প?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই চলে গেছে দলটির হাতে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ আটকে দেওয়া এবং আইন প্রণয়নে বাধা দেওয়ার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি ট্রাম্পকে অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারবেন তারা। কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেলেই কি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতা থেকে সরানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের হাতে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা থাকলেও ট্রাম্পকে চূড়ান্তভাবে সরাতে প্রয়োজন হবে আরও বড় সমর্থন।

অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার সুযোগ

ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সবচেয়ে সরাসরি সাংবিধানিক পথ হলো অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ কিংবা গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যায়।

এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হয় প্রতিনিধি পরিষদে। সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করাতে হয়। এরপর বিষয়টি যায় সিনেটে। সেখানে চলে বিচারপ্রক্রিয়া। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এই ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলেই প্রেসিডেন্ট পদ হারাবেন।

অর্থাৎ, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে প্রয়োজন হবে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট।

এখানেই বড় বাধা। এবারের নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪-তে। এর মধ্যে দলটির সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সিনেটররাও রয়েছেন। ১০০ সদস্যের সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে প্রয়োজন ৬৭টি ভোট। অর্থাৎ, সব সদস্য ভোট দিলে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ১৩ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে শুধু নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ট্রাম্পকে সরানো সম্ভব নয়।

আগেও দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া অবশ্য নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদে দুবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন তিনি।

২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগে প্রথমবার অভিশংসিত হন ট্রাম্প। ২০২১ সালে ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় তার ভূমিকার অভিযোগে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত করা হয় তাকে। তবে দুবারই সিনেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি। ফলে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন ট্রাম্প।

এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করাতে পারলেও সিনেটে রিপাবলিকানদের সমর্থন ছাড়া তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হবে।

২৫তম সংশোধনী কি কাজে লাগানো যাবে?

অভিশংসন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার বিষয়টি মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে। এই সংশোধনীর চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম ঘোষণা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

তবে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারেন। তখন বিষয়টি কংগ্রেসে যাবে। প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

কিন্তু এই বিধান মূলত প্রেসিডেন্টের শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা কিংবা দায়িত্ব পালনে প্রকৃত অক্ষমতার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। রাজনৈতিক মতবিরোধ বা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এটি প্রয়োগের সুযোগ নেই। তা ছাড়া ট্রাম্পকে সরানোর ক্ষেত্রে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সমর্থন পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য সহজ হবে না।

তদন্ত ও প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে

ট্রাম্পকে সরাতে না পারলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তার প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে। বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করতে পারবে কংগ্রেসের কমিটিগুলো। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং শুনানির আয়োজন করা যাবে।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ফলে এসব নিয়োগ আটকে দিয়ে ট্রাম্পের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে আইন পাসের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের সমর্থন পেলেও ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। তার ভেটো অকার্যকর করতে আবার দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেও ডেমোক্র্যাটরা এখনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন না। নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাবে।

শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের বিবেচনায়, এবারের নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো আর প্রেসিডেন্ট পদ হারানো এক বিষয় নয়। ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন, অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারবেন এবং তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে দিতে পারবেন। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আদায় করতে হবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে পারবেন না। ফলে অভিশংসনে অপসারিত না হলে কিংবা নিজে পদত্যাগ না করলে মেয়াদের বাকি সময় তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে, ডেমোক্র্যাটদের হাতে এখন ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনকে জবাবদিহির মুখে ফেলার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাকে হোয়াইট হাউস থেকে সরানোর মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন এখনও তাদের হাতে নেই।

সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী

সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

দুপুর দেড়টা। সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের পাশের একটি মুদির দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন জেলে মনজুর আলম (৬৫) ও মুদিদোকানি হামিদ হোসেন (৬০)। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাসিমুখে গল্প করছিলেন তারা। কথার ফাঁকে উঠে আসে গত দুই বছরের দুঃসহ দিনগুলোর কথা। পর্যটক কম আসা, দ্বীপে রাতযাপনে বিধিনিষেধ আর বেচাকেনার মন্দায় সংসার চালাতে কতটা হিমশিম খেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও শোনান তারা। তবে এবার তাদের চোখেমুখে স্বস্তি আর নতুন আশার ঝিলিক।

এবারের পর্যটন মৌসুম নিয়ে জানতে চাইলে দুই জনের কণ্ঠেই ফুটে ওঠে আনন্দ। তাদের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর যেন ‘ঈদের আনন্দ’ ফিরে আসছে দ্বীপে।

কথা হলে মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সংসারে খুব টানাপোড়েন গেছে। পর্যটকদের রাতযাপন বন্ধ থাকাসহ পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ছিল খুবই কম। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় আমাদের ঈদের মতো খুশি লাগছে। আগের দুই বছর ঈদেও আমাদের মধ্যে সেই আনন্দ ছিল না।’

 

শুধু মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন নন, পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলসংশ্লিষ্ট কর্মী, নৌযান শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে আবারও সচল হবে দ্বীপের অর্থনীতি এমন প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা ছিল। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে তা শুরু হয়নি। ৫ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।

সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। রাত্রীযাপনসহ সাড়ে চার মাসে দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণে যাবেন। কিন্তু এর আগে গত দুই বছর নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। সে সময়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতেন।

 

সেন্টমার্টিনে আট বছর ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক। পশ্চিম সৈকতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের সবার মধ্যে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা নতুন করে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদের আগে যেমন ব্যস্ততা দেখা যায়, দ্বীপে এখন অনেকটা তেমন পরিবেশ। আশা করছি, এবার আয় বাড়লে অন্তত কিছুটা ঋণের বোঝা কমাতে পারবো।’

দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। জীবিকার তাগিদে বছরের বেশির ভাগ সময় তাকে দ্বীপের বাইরে থাকতে হয়। তবে পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এবার ফিরেছেন নিজ দ্বীপে। তিনি বলেন, ‘দ্বীপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় আমার মতো অনেক যুবকই জীবিকার সন্ধানে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এবার পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় তারা আবার ফিরছেন। কমপক্ষে দুই শতাধিক তরুণ পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু ফটোগ্রাফি নয়, বাইক চালানোসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে। এতে দ্বীপে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা তরুণ রহমত উল্লাহও পর্যটন মৌসুম ঘিরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছেন। পর্যটকদের পরিবহনসেবা দিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পুরো মৌসুম দ্বীপে থাকার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ‘পুরো পর্যটন মৌসুম সেন্টমার্টিনে অবস্থান করবো। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি টমটমও ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আগের তুলনায় আয়-রোজগার অনেক বাড়বে। সেই প্রত্যাশা থেকেই মৌসুম শুরুর আগেই দ্বীপে চলে এসেছি।’

স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত প্রবালদ্বীপটির অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটননির্ভর। কেউ দোকানপাট, কেউ মাছ ও সামুদ্রিক খাবার বিক্রি, আবার কেউ হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ কিংবা নৌযানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে পর্যটক কমলে সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের আয়ে। গত দুই মৌসুমের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপবাসী।

 

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল শুরু হলে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায় আবারও গতি ফিরবে। কারণ, এখানকার অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটন মৌসুম অনেকের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। এ সময়টিকে ঘিরেই স্থানীয় মানুষের সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। তবে শুধু পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না রেখে দ্বীপের মানুষের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত সরকারি উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও পর্যটননির্ভর। এখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই দিনে এনে দিনে খান। পর্যটন বন্ধ বা সীমিত থাকলে তাদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর পর পর্যটন ঘিরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তাদের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ বিরাজ করছে। পর্যটকদের বরণ করে নিতে দ্বীপবাসী প্রস্তুত। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কারণ, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে তাদের কর্মব্যস্ততা ও আয়-রোজগার দুটোই বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীপবাসী যেন পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

অভয়নগরে ডা. এম এ করিমের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
অভয়নগরে ডা. এম এ করিমের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা. এম এ করিমের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের অভয়নগরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে নওয়াপাড়া নৌযান কার্যালয়ে অভয়নগর থানা কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন থানা কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবু। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস।

সভায় বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের থানা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সহসভাপতি জহির সরদার, সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক, প্রচার সম্পাদক নাজিম উদ্দিন শেখ, সদস্য আবুল কাশেম ও দিলীপ বিশ্বাস। সভা পরিচালনা করেন থানা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম আর টিটু।

বক্তারা ডা. এম এ করিমের রাজনৈতিক জীবন ও শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজির বিরুদ্ধে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি আজীবন যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব, যুদ্ধের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কৃষক ও দেশপ্রেমিক জনগণের ঐক্য গড়ে তোলার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি