রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম কতটা ক্ষতিকর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো আম কতটা ক্ষতিকর?

পত্রদূত রিপোর্ট: গত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের ১২ দিনে সাতক্ষীরা জেলায় কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো এবং নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারজাত করার অভিযোগে ৫৬ হাজার ৮৪০ কেজি আম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছিল। এবছর গত ২৩ এপ্রিল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৩ হাজার ৩৬০ কেজি আম ধ্বংশ করা হয়। অভিযোগ অপরিপক্ব অবস্থায় আমগুলো পেড়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছিল। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরিপক্ক এবং ক্যামিকেল মেশানোর অভিযোগটি অভিযানের নেতৃত্বপ্রদানকারী কর্মকর্তারা বলেন বা নাই বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল উৎসুখ মানুষ তা প্রচার করা শুরু করেন। পরে তা পত্র পত্রিকা টেলিভিশনে খবর আকারে প্রচারিত হয়।

বাজারে আপেল, কমলা, নাসপতি, মাল্টা, আঙ্গুরসহ বিদেশ থেকে আমদানী করা বিভিন্ন ফল দিনের পর দিন রেখে বিক্রি করা হয়। ক্রেতা কিনে এনে বাড়িতে দীর্ঘদিন ফেলে রাখলেও শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু পচন ধরে না। বিদেশী ফল কেন প্রতিদিন ফলের বাজারগুলোতে শত শত মন দেশি কলা বিক্রি হচ্ছে। সেই কলা পরিপক্ক-না অপরিপক্ক, কিভাবে তা পাকানো হয় তা নিয়েও কেউ প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু আমের মৌসুম শুরু হলেই প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, কৃষি বিভাগ, ফেসবুকার, সাংবাদিকসহ অনেকে আম নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন। দেশের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলে এত ব্যাপকভাবে আমের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হতে দেখা না গেলেও সাতক্ষীরাতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি তৎপরতা দেখা যায়। এর অন্যতম প্রধান কারন মধু মাসের সবচেয়ে সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল আম সাতক্ষীরাতে আগে পাকে। তাই সাতক্ষীরার আম সবার আগে বাজারে উঠে। ফলে সাতক্ষীরার আমের প্রতি সকলের নজরও বেশি।

তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, আম পাকা শুরু হলে তা আর গাছে কারো জন্য অপেক্ষা করে না। কেউ না পাড়লে আম নিজেই পড়ে যায়। যেকারন সরকারি ক্যালেন্ডার নির্ধারণের সময় এটাও বলা হয় নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাকলে তা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পাড়া যাবে। আর এই অনুমতির জন্যে কোথাও কোথাও দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। তাদের ম্যানেজ করা গেলে আম পাড়ার অনুমতি এনে দেয়। এই অনুমতির সুযোগে অপপিক্ক আমও চলে যায়। গত বছর সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কে এক ট্রাক আম আটক করে একটি মহল। রাতভর দেনদরবার করে দফারফা না হওয়ায় সকালে সরকারি কর্তৃপক্ষ ডেকে সেই আম ধরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ভ্রাম্যমাণ আদালত আমগুলো ধ্বংস করে। সাতক্ষীরার কোথাও কোথাও কেজি প্রতি কমিশন প্রথাও চালু হওয়ার কথা শোনা যায়। আম নিয়ে এধরণের নানা চক্রের কথা প্রতিবছরই জোরালো হচ্ছে। তবে, এনিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট মহল।

কৃষি বিভাগের ওয়েবসাইট কৃষিকথায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এনামুল হক ও সামিনা হক এর “আম উৎপাদন সংগ্রহ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ” শীর্ষক একটি লেখায় আমে রাসায়নিকের ব্যবহার, রাসায়নিক পরীক্ষা যন্ত্র, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দলে বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি এবং আমে ব্যবহৃত সম্ভাব্য রাসায়নিক দ্রব্যের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কয়েকবছর পূর্বে লেখাটি প্রকাশের পরও সাতক্ষীরায় আম মৌসুমের অভিযানে তার কোন প্রভাব দেখা যায়নি।

ওই লেখায় বলা হয়েছে, “বিভিন্ন মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী, পরিবেশবাদীদের অপপ্রচারে অনুপ্রাণিত হয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আম ফল নিধনে অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে তাদের তৎপরতায় কত হাজার টন যে আম নিধন হয়েছে তার প্রকৃতি তথ্য দেয়া কঠিন। অথচ যারা এ দায়িত্বে আছেন তাদের ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য সম্বন্ধে কোনো প্রশিক্ষণ বা ধারণা দেয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। আমে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ব্যবহারে পূর্ণ ধারণার অভাবের কারণে আমচাষি ও আম ব্যবসায়ীর বর্তমানে বেহাল অবস্থা। বিরাজিত পরিস্থিতি থেকে আম সম্পদ ও আমচাষিদের বাঁচাতে এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক।”

আম উৎপাদন সংগ্রহ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ শীর্ষক ঐ লেখায় আরো বলা হয়েছে, “ক্ষেত্র বিশেষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি নিরূপণে যে যন্ত্র ব্যবহার করছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গবেষকদের কাছে প্রতীয়মাণ হয়েছে যে তা ডিফেক্টিভ, তা থেকে প্রকৃত ফল পাওয়া যায় না। তাই এ যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে আমচাষি-ব্যবসায়ীদের আম নিধন করার এখতিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সর্বোপরি এসব রাসায়নিক (ফরমালিন, ইথোফেন, কার্বাইড) মানবদেহের জন্য গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় মাত্রা সম্বন্ধে গবেষক কর্তৃক তাদের ধারণা দেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।”

আমে ব্যবহৃত সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য সম্পর্কেও লেখাটিতে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এসব ক্যামিকেলের মধ্যে ইথোফেন-ইথরেল, ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইথোফেন-ইথরেল (২ ক্লোরোইথেন ফসফরিক এসিড): “ইথোফেন একটি প্লান্ট গ্রোথ হরমোন, তবে ইহা পরিপক্ব ফলকে পাকাতে এবং সংরক্ষণে ব্যবহার প্রচলন সারা পৃথিবীতে রয়েছে। গবেষকেরা বিভিন্ন মাত্রায় (২৫০-১০০০০ পিপিএম) ইথোফেন পরিপক্ব কাঁচা আমে স্প্রে করার ২৪ ঘণ্টা পর পুনরায় তার উপস্থিতি মাত্রা নির্ণয় করতে গিয়ে দেখতে পান যে উহা দ্রুত ফলের উপরিভাগ থেকে উড়ে যায়। তবে যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তা FAO/WHO কর্তৃক নির্ধারিত গ্রহণযোগ্যতা মাত্রার (এমআরএল-২পিপিএম) অনেক নিচে নেমে যায়। তাই ইথোফেন দিয়ে ফল পাকানোর স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি নেই বলে বিজ্ঞানীদের মতামত। তবে আম চাষিরা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় ইথোফেন ব্যবহার না করে এবং উহা কেবলমাত্র পুষ্ট কাঁচা আমে ব্যবহার করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দান ও বহুল প্রচার ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক।”

ফরমালিনের ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে “আমের স্বাস্থ্য, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও আয়ু (সেলফ-লাইফ) বৃদ্ধির জন্য কোনো কোনো আম ব্যবসায়ী কাঁচা আমে ফরমালিন ব্যবহার করে থাকে। তবে ব্যবহারের ৫-৭ দিন পর এ ধরনের ফরমালিনের তেমন কোনো প্রভাব থাকে না বলে গবেষকদের অভিমত। অধিকন্তু আমের বাইরের চামড়া বা ছিলকা পুরু হওয়ার কারণে আমের আহার্য অংশে তা প্রবেশ সম্ভবনা খুবই কম। ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ণয়ে বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে যে ফরমালডিহাইড টেস্ট মিটার (জেড-৩০০) ব্যবহার করা হচ্ছে তার কার্যকারিতা নিরূপণে গবেষকরা ব্যবস্থা নেন। ইথোফেন মিশ্রিত পানিতে এবং ফরমালিন মিশ্রিত পানিতে আম চুবানোর একদিন পর এ টেস্ট মিটার দিয়ে তারা পরীক্ষায় একই ফল দেখতে পান। কাজেই ফরমালডিহাইড মিটার (জেড-৩০০) দিয়ে ফরমালিন মাপা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তাদের অভিমত। প্রকৃত পক্ষে ফরমালিন হলো ৩৭% ফরমালডিহাইড। মানবদেহে প্রতি মিলিলিটার রক্তে প্রকৃতিগতভাবে সর্বোচ্চ ২.৫ মাইক্রোগ্রাম ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। মানবদেহে মেটাবিলিজম প্রক্রিয়ায় ফরমালডিহাইড প্রয়োজন। হজম প্রক্রিয়ায় তা ফরমিক এসিডে রূপান্ত্ররিত হয় এবং তা প্র¯্রাবের সাথে এবং সামান্য অবশিষ্ট অংশ নিশ্বাসের সাথে কার্বনডাইঅক্সাইড আকারে বের হয়ে যায়। এমনকি তা দেহের চর্বিতে ও জমা থাকে না। ফরমালিন পানিতে দ্রুত গলে বা মিশে যায় এবং কর্পুরের মতো বাতাসে উড়ে যায়। গবেষকেরা বিভিন্ন ফলবাজার ঘুরে সংগৃহীত নমুনায় কোনো ফরমালিনের উপস্থিতি পাননি। তথাপি সন্দেহ হলে আহারের আগে ফলকে পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে একদিন পরে তা আহার করলে নিরাপদ বলে বিবেচিত। তাই আমে ফরমালিনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে যে নানামুনি নানা প্রচারণা ছড়াচ্ছে তা ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মাণ হয়।”

 

ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, “পরিপক্ব ও অপরিপক্ব উভয় ধরনের আমে কার্বাইড ব্যবহার করলে তাতে ফলের উপরিভাগে পাকা আমের মতো রঙ আসে। অপরিপক্ব টমেটোতে এটা প্রয়োগ করে আগাম পাকানোর প্রচলন দেখা যায়। তবে অপরিপক্ব আমে কার্বাইডের ব্যবহার তেমন একটা লক্ষ্য করা যায় না।

 

কোনো কোনো অসাধু আম ব্যবসায়ী পরিপক্ব কাঁচা আম ঝুড়িতে রাখার আগে ৫ থেকে ৭ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড কাপড়ের পুঁটলিতে বেঁধে ঝুড়ির তলায় রেখে আম দিয়ে ঝুড়ি ভর্তি করে। এতে ঝুড়ির ভেতর গ্যাস তৈরি হয়। ভেতর গরম হয় এবং আমের গায়ে ঘাম ঝরে। এ আমের ঝুড়ি নির্দিষ্ট বাজারে পৌঁছুলে তা খুলে দিলে গ্যাস আকারে (কার্বন মনোঅক্সাইড) উড়ে যায়। মার্চ এপ্রিল মাসে দেশের আগাম জাতগুলো (গোপালভোগ, হিমসাগর, খুদিখিরসা, গোলাপ খাস) অপরিপক্ব থেকে যায়। তবে মে মাসের প্রথম ভাগে সাতক্ষীরা বেল্টের আম থেকে রাজশাহী অঞ্চলে আগাম জাতের আম পরিপক্ব হতে প্রায় ৩ সপ্তাহ বেশি সময় লাগে। তাই আগাম জোনের (সাতক্ষীরা, যশোহর, কুষ্টিয়া) এ ধরনের আগাম জাতের আম মে মাস থেকে এবং রাজশাহী জোনের আম মে মাসের শেষ ভাগে কাঁচা আম পরিপক্ব হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে এসব আগাম জাতের স্থানীয় আম বাজারে পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে তা কার্বাইড দিয়ে পাকানো। কাজেই এ সময়ে বাজারে প্রাপ্ত আম খাওয়া কোনো মতেই ঠিক হবে না। ফল পাকাতে কোনোক্রমেই যেন ক্যালসিয়াম কার্বাইড বা কার্বাইড ব্যবহার না করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা আনায়ন দরকার। কেননা ক্যালসিয়াম কার্বাইড মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।”

আম উৎপাদন সংগ্রহ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ শীর্ষক লেখাটিতে আম শোধনে রাসায়নিক ব্যবহার সম্পর্কে কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পরামর্শ অনুযায়ী “গাছ থেকে আম পাড়ার পর আমের কস বা দুধ বের হয়ে গেলে আম শোধন উপযোগী হবে। প্রতি লিটার পানিতে ০.৫৫ মি.লি. ‘প্লোক্লোরাজ’ নামক রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো পানিতে আম ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এভাবে আম শোধনে আমের পচন রোধ হয় ও উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। অধিকন্তু, আম পাড়া থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত আমের জীবনী (সেলফ লাইফ) ২-৩ সপ্তাহ বজায় থাকে। আম রপ্তানিকারক সব দেশেই এ পদ্ধতির ব্যবহার প্রচলন আছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫-১.০০ গ্রাম ‘বেনোমিল’ নামক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তাতে একইভাবে আম শোধন করা যাবে। এ পদ্ধতিতে আম শোধন ব্যবস্থা ভারতে অতি জনপ্রিয়। অধুনা, কিছু সচেতন আমচাষি ভারত থেকে ‘বেনোমিল’ এনে আম শোধন করে সুফল পেয়ে আসছে।”

এছাড়া গরম পানিতে আম শোধনেরও পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে লেখাটিতে। তাতে বলা হয়েছে, গরম পানিতে পরিপক্ব কাঁচা আম শোধন করা হলে, আমের গায়ে লেগে থাকা রোগ জীবাণু ও পোকা মুক্ত হবে। গ্রাহকের কাছে অন্য আমের তুলনায় এ শোধিত আমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। মৌসুমে পরিপক্ব পুষ্ট কাঁচা আম গাছ থেকে সাবধানে পেড়ে তা আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর কোন পাত্রে ৫২০-৫৫০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি (পানিতে হাত ডুবালে সহনীয়মাত্রায়) গরম হলে তাতে পরিষ্কার করা আমগুলো ঠিক ৫ মিনিট রেখে এক সাথে উঠিয়ে নিতে হবে। আমের গা থেকে পানি শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক নিয়মে আমগুলো প্যাকিং করে বাজারজাত করতে হবে। এ ব্যবস্থায় আমের জাতের প্রকারভেদে সাধারণ আমের (নন ট্রিটেট) চেয়ে গরম পানিতে শোধন করা আমের আয়ু (সেলফ লাইফ) ১০ থেকে ১৫ দিন বেড়ে যাবে। তবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ সীমিত পরিমাণ আমের জন্য প্রযোজ্য।

 

 

 

Ads small one

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

বদিউজ্জামান: জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তা বৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য অফিসার, প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। এ দিবস পালনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।”সভায় আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকাল ৭:৩০ টায় জজ কোর্ট চত্বর হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি;সকাল ৮:৩০ টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তদান কর্মসূচি ও লিগ্যাল এইড মেলা;সকাল ৯:৩০ টায় দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা;এবং বিকাল ৫:৩০ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সভায় উপস্থিত বক্তারা দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।সভাটি পরিচালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা জজ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস।

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

সাতক্ষীরা শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত প্রাণসায়ের খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি আজ মৃতপ্রায়, যার অন্যতম কারণ দখল আর দূষণ। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে শহরে যে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক ব্যক্ত করেছেন, তা সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
তবে এই অভিযানের মাঝেই একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালের ধারেই কসাইখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেখানে খালের পাড়ে কসাইখানা স্থাপন করা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়লে তা কেবল পানিকেই বিষাক্ত করবে না, বরং ডেঙ্গু ও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াবে না, বরং খালের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খালের পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খালের পাড়ে কসাইখানা নির্মাণের মতো হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
শহরের জনচলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। জেলা প্রশাসকের এই অভিযান কেবল এক দিনের লোকদেখানো কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে হবে। আগামী শনিবার তিনি পুনরায় পরিদর্শনে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালকে বাঁচাতে এবং নাগরিকদের মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পৌরসভাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খালের পাড়ে কসাইখানা নয়, বরং সেখানে বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) তৈরি করে পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক। জনস্বার্থই হোক সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য।

‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: পরপর চারটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এবং সবশেষ সন্তানটি গর্ভে থাকাকালে গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম বিশাখা রাণী দাস। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামে। ১৫ বছর আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শিবপদ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
বিশাখা দাসের অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর পরপর তিনটি কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতনের শুরু হয়। চতুর্থবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিশাখা তাতে রাজি হননি। চার মাস আগে চতুর্থ কন্যাসন্তান জন্মের পর তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ওই সময় তাঁকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিশাখা জানান, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী শিবপদ দাস তাঁকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবর শুনে গত শনিবার সকালে তিনি স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামী শিবপদ, দেবর মৃত্যুঞ্জয়, সতিন জ্যোতি দাস ও শাশুড়ি শান্তি দাস মিলে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁর ভাই রবিন দাস তাঁকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বিশাখা রাণী দাস বলেন, ‘ছোট মেয়েটা পেটে আসার পর থেকেই তারা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমি রাজি হইনি বলে তারা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমাকে না জানিয়ে আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে।’
বিশাখার ভাই রবিন দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পাষ-রা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শিবপদ দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর ও তালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।