রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

আর কত মায়ের বুঁক খালি হলে বন্ধ হবে ধর্ষণ ও হত্যা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আর কত মায়ের বুঁক খালি হলে বন্ধ হবে ধর্ষণ ও হত্যা?

এমএম হায়দার আলী

দেশে বহুল আলোচিত ফুটফুটে শিশু শিক্ষার্থী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার রেশ না কাটতেই, আবারো মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিখোঁজের ছয় দিন পর মারিয়া (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্পতি উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকায় কবরস্থান-সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

নিহত মারিয়া সিংগাইর উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকার প্রবাসী মিজানের মেয়ে বলে জানা গেছে। যে ঘটনায় উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ ৮ জনকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে। শুধু রামিসা বা মারিয়া নয় বর্তমানে প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই অথবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুকলেই ভেসে আসে একের পর এক হৃদয়বিদারক সংবাদ, শিশু কন্যা ধর্ষণ, নির্যাতন, তারপর নির্মম হত্যা।

 

শুধু কি অবুঝ শিশু, এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে না কিশোরী, যুবতী, মধ্যবয়সী এবং বৃদ্ধারাও। যা প্রতিটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ, প্রতিবাদ, মানববন্ধন এবং বিচার দাবির ঝড় ওঠার বিষয়টি অস্বাভাবিক কোনো খবর নয়। পরে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে, মামলা হয়, তদন্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা গ্রেপ্তারও হয়। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, আর কত মায়ের বুঁক খালি হলে এই নৃশংসতা বন্ধ হবে ? একটি শিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার পরিবার হাজারো স্বপ্ন বুনে।

 

বাবা-মা কল্পনা করেন, তাদের সন্তান একদিন বড় হবে, মানুষ হবে, পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু কিছু নরপিশাচের লালসা ও পাশবিকতার কারণে সেই স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই চুরমার হয়ে যায়। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহীন দেহ যখন পরিবারের সামনে পড়ে থাকে, তখন পৃথিবীর কোনো বিচার, কোনো শাস্তি, কোনো ক্ষতিপূরণ সেই পরিবারের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। আমরা প্রায়ই বলি, অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্যই করতে হবে।

 

আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো,বিচার পেলেই কি নিহত শিশুটির পরিবার তাদের হারানো সন্তানকে ফিরে পায় ? একজন মায়ের বুকের শূন্যতা কি ফাঁসির রায়ে পূরণ হয়? একজন বাবার চোখের জল কি আদালতের রায়ে শুকিয়ে যায়? ভাই-বোনদের শোক কি কোনো শাস্তি মুছে দিতে পারে ? উত্তর হলো, না। বিচার অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু পরিবারের ক্ষত সারাতে পারে না।

 

তাহলে সমাধান কোথায় ? শুধু কঠোর আইন করলেই এই অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। আর তাই যদি হতো তাহলে দেশের আইনি ব্যবস্থায় বহু ধর্ষক-হত্যাকারীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত দেয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু কই বন্ধ তো হচ্ছে না। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পূর্ণজাগরণ। পরিবার থেকে সন্তানদের মানবিক শিক্ষা দিতে হবে। নারী ও শিশুদের প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং সন্দেহজনক আচরণ দেখলে নীরব না থেকে প্রতিবাদ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা সাহস পায়। রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থের প্রভাব কিংবা ক্ষমতার কারণে অপরাধীরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে সমাজে ভুল বার্তা যায়। তাই অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধকেই বিবেচনায় এনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, স্কুল, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে।

 

শিশুদের নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। কোনো শিশু যদি ভয়, অস্বস্তি বা নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। একটি সভ্য সমাজে কোনো শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মাকে আতঙ্কে থাকতে হবে না। কিন্তু আজ বাস্তবতা হলো, সন্তান স্কুলে গেলে, খেলতে বাইরে গেলে কিংবা প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলেও অনেক পরিবার দুশ্চিন্তায় থাকে। এটি কোনো সুস্থ সমাজের চিত্র হতে পারে না।

 

আজ সময় এসেছে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের নয়, বাস্তব পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। কারণ প্রতিটি নিহত শিশু শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয়; সে পুরো জাতির সন্তান। তার কান্না, তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, তার মায়ের আহাজারি আমাদের সকলের বিবেককে প্রশ্ন করে। আর কত শিশুর জীবন নষ্ট হলে আমরা সত্যিকার অর্থে জেগে উঠব ? আর কত মায়ের বুঁক খালি হলে আমরা বুঝব, এটি শুধু একটি অপরাধ নয়,এটি মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ?

 

যেদিন সমাজের প্রতিটি মানুষ শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান নেবে, যেদিন অপরাধী জানবে কোনো প্রভাব বা ক্ষমতা তাকে রক্ষা করতে পারবে না, যেদিন পরিবার, শিক্ষা ও সমাজ মিলিত ভাবে মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলবে, সেদিনই হয়তো আমরা এমন বিভীষিকাময় সংবাদ থেকে মুক্তি পাবো। ততদিন পর্যন্ত প্রতিটি বিবেকবান মানুষের একটাই আহ্বান, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, নীরবতা ভাঙুন। কারণ একটি শিশুর জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়, সে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ-নয় কি…?

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

Ads small one

দেবহাটায় বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু জব্দ, খালে অবমুক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু জব্দ, খালে অবমুক্ত

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ অবৈধ চিংড়ির রেণু জব্দ করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা রেণুগুলো জীবিত অবস্থায় স্থানীয় বসন্তপুর খালে অবমুক্ত করা হয়।

পুলিশ জানায়, দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটা পাঁচ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবহাটা উপজেলার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প সংলগ্ন ওয়াপদা পাকা সড়কের পাশে অভিযান চালায়। সেখানে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের বস্তা পাওয়া যায়। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বস্তাটি খুলে চারটি পলি ব্যাগে ভরা বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রতি ব্যাগে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার রেণু ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই লাখ টাকা। রেণুগুলো দীর্ঘক্ষণ ব্যাগে থাকলে মারা যাওয়ার আশঙ্কায় রাত একটা পঁয়ত্রিশ মিনিটের দিকে দেবহাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়ে সেগুলো বসন্তপুর খালে অবমুক্ত করা হয়।

চলতি বছর দেবহাটা থানা পুলিশ ও প্রশাসন অবৈধ চিংড়ি রেণু পাচার রোধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এর আগে গত চব্বিশে এপ্রিল সাত পলি ব্যাগ রেণু জব্দ করে ইছামতী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। মে মাসে তিন দফায় অর্থাৎ পাঁচ, আট ও চৌদ্দই মে মোট তেরো পলি ব্যাগ এবং জুন মাসে চার দফায় অর্থাৎ ছয়, দশ, বাইশ ও আটাশে জুন মোট সতেরো পলি ব্যাগ রেণু জব্দ করে বসন্তপুর খালে অবমুক্ত করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া গত আটই জুন যৌথ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পঁচিশ কেজি অবৈধ চিংড়ি ধ্বংস এবং পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সীমান্ত এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধভাবে রেণু সংগ্রহ ও পাচার রোধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

 

যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করার আহ্বান হাবিবুল ইসলাম হাবিবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করার আহ্বান হাবিবুল ইসলাম হাবিবের

কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেছেন, তরুণ সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়ার ভূমিকা অপরিসীম। মাদকের ভয়াল থাবার বিপরীতে একমাত্র ক্রীড়াই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যুব ও তরুণ সমাজকে বেশি করে ক্রীড়ামুখী করতে হবে।

রোববার সকালে কলারোয়া ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের নির্বাহী কমিটি ও সদস্যদের সঙ্গে এক সৌজন্য মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসককে ক্লাবের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সাবেক এই সংসদ সদস্য ক্লাবটির উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মনোনীত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সন্তোষ কুমার পাল, ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হরেন্দ্র নাথ রায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান।

সাতক্ষীরা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্ব হস্তান্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্ব হস্তান্তর

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার বিকেলে শহরের কামালনগরে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে এই দায়িত্বভার হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. ইসহাক সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিয়ারাজ আলী ও পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. রেজাউল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জোহর আলী গাজী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালামসহ কমিটির অন্য কর্মকর্তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন।