শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী:  মারণাস্ত্র নয়, সংঘাতের সমাধান আলোচনায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী:  মারণাস্ত্র নয়, সংঘাতের সমাধান আলোচনায়

অনলাইন ডেস্ক: মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বক্তৃতা করেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন তারেক রহমান। পাশপাশি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদ এবং আহতদের প্রতিও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা কিছুই ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানব সৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের ফলে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়।

শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারপ্রধান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।

পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মানবতা এবং বিশ্ব শান্তির প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন আমি আজ আবারো পুনর্ব্যক্ত করছি। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ, উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি এক মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং, ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ COP-31 এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করে।

 

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কর্মসূচি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যাবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। দেশকে বন্যা-খরার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ‘সুন্দরবনে’ মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষনের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সরকার ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে। ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার Recovery, Restoration এবং Reconstruction অর্থাৎ 3-R কৌশল অনুসরণ করছে।

 

বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।

 

তিনি বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র ‘ Leave No One Behind’ এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে। সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে এবং একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপি বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে/ শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ এবং পোশাক অর্থাৎ স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেয়া হচ্ছে। সরকার আশা করে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীর হার এবং স্কুলে শিক্ষার মান বাড়বে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত জুন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স,বায়ো-টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায় এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশবান্ধব একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে, সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ: সবার জন্য বাংলাদেশ’। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সকল নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করছি।

 

Ads small one

ভোমরা বন্দরে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪,৫৩৭ টন কাঁচামরিচ আমদানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
ভোমরা বন্দরে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৪,৫৩৭ টন কাঁচামরিচ আমদানি

এম শফিকুল ইসলাম: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভোমরা বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি করে আসছে। দেশের শীর্ষ ৬টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানিতে নিয়োজিত রয়েছে।

ভোমরা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিগত অর্থবছরের জুলাই থেকে আমদানিকারকদের অনুমতির ভিত্তিতে নিয়মিত কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। সরকার কাঁচামরিচ আমদানির ওপর অধিক শুল্কায়ন কমিয়ে ১৩ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে দেওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে। বাজারদর সহনীয় ও স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বাজারে বিপুল পরিমাণ কাঁচামরিচ সরবরাহ হওয়ায় সার্বিক বাজারদর স্বাভাবিক রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে এর তেমন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বাজারে এখনো প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় বুলেট কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চাষি আকবর আলী জানান, ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে পানি জমে রোপণ করা মরিচের গোড়া পচে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় এক বিঘা জমিতে লাগানো মরিচের গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। ফলে পরিবারের রান্নার চাহিদা মেটাতে বাজার থেকে বেশি দামে কাঁচামরিচ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

এদিকে গোডাউনগুলোতে বাজারজাত করার আগেই পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া মরিচ বাছাইয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। স্থানীয় নারী ও পুরুষ শ্রমিকেরা দিন-রাত মরিচ বাছাইয়ের কাজ করছেন। এতে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত মজুরি পেয়ে তাঁরা খুশি হলেও এই কাজের সুযোগ সাময়িক।

ঝাউডাঙ্গা বাজারে আলো জ্বালিয়ে প্রশংসিত যুবদল নেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গা বাজারে আলো জ্বালিয়ে প্রশংসিত যুবদল নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঝাউডাঙ্গা বাজারে নিজস্ব উদ্যোগে আলোর ব্যবস্থা করে প্রসংশিত হয়েছেন যুবদল নেতা আখতারুজ্জামান বাপ্পি। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ভেতরের প্রধান সড়ক ও মোড়গুলো অন্ধকারে থাকার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন এই বাজারে হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত লাইট না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যেত। এতে চোর-ছিনতাইকারীর উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হতো। বিষয়টি নজরে আসার পর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বাপ্পি নিজ অর্থায়নে এবং কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতায় এলইডি লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেন। গত কয়েক দিনে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এসব লাইট বসানো হয়।

বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পর যুবদল নেতার এই উদ্যোগে বাজার এলাকায় নিরাপত্তা বেড়েছে এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ হয়েছে।

এ বিষয়ে আখতারুজ্জামান বাপ্পি বলেন, “জনগণের সেবক হওয়াটাই মূল লক্ষ্য। নেতার নির্দেশ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আগামীতেও এলাকার যেকোনো সমস্যায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।”

আশাশুনি কুল্যা ইউনিয়ন জাসাসের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনি কুল্যা ইউনিয়ন জাসাসের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার ৩নং কুল্যা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাসাস আশাশুনি উপজেলা শাখার এক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কমিটিতে মো. হাবিবুল্লাহ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং মো. সবুজ হোসেনকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহাগ হোসেন, মো. মোবারক হোসেন, মাছুম বিল্লাহ, আদনান হোসেন আবির, মো. সবুজ সরদার, মেহেদী হাসান, রানা আহম্মেদ ও সবুজ হোসেন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেকের আলী, রিপন হোসেন, আবু বক্কার, মুশফিকুর রহিম , মোহাসিন হোসেন, আলামিন মালী, আলীমদ্দীন সরদার, কাদের মামুন, রায়হান হোসেন, মুরাদ হোসেন, ইসলাম সরদার, সাগর হোসেন, আছাফুর হোসেন, আদম গাজী, শাহাদাত হোসেন, খায়রুল ইসলাম, শ্রী অমিতাপ বিশ্বাস, শুকান্ত মন্ডল, শামিম হোসেন, আবুল হোসেন এবং তারিকুল হোসেন।

আশাশুনি উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম বাচ্চু ও সদস্য সচিব শরিফ ইমরান টিটো স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সাথে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক জাসাস সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক শেখ জিল্লুর রহমান ও সদস্য সচিব ফারুক হোসেন এই কমিটির অনুমোদন নিশ্চিত করেছেন।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কুল্যা ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক আন্দোলন আরও বেগবান ও সুসংগঠিত হবে।