মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দীর্ঘ ৯ বছর পর আবাদের হাট বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি গফফার ও সম্পাদক রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ ৯ বছর পর আবাদের হাট বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি গফফার ও সম্পাদক রেজাউল

নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯ বছর পর সাতক্ষীরার আবাদের হাট বাজার কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দুটি প্যানেলে ৩৪ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল দুটি ছিলÑআব্দুল গফফার ও এস এম আজিমুল্লাহ (ময়না) প্যানেল এবং মো. আকরাম ও মো. আব্দুল মজিদ প্যানেল। নির্বাচনে ৬০২ জন ভোটারের মধ্যে ৫৫৬ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, সভাপতি পদে আব্দুল গফফার-আজিমুল্লাহ প্যানেল ১০টি, আকরাম-মজিদ প্যানেল ৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২টি পদে জয়লাভ করেছেন।

কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আব্দুল গফফার (বাস প্রতীক) ৩৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আকরাম হোসেন (মোটরসাইকেল প্রতীক) পেয়েছেন ১৯৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল ইসলাম (ডালিম প্রতীক) ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহিনুর রহমান (বই প্রতীক) পেয়েছেন ৯৬ ভোট।

সহসভাপতি পদে মো. শফিকুল ইসলাম (কলম প্রতীক, ২৬১ ভোট) ও মো. শামসুর রহমান (হরিণ প্রতীক, ২২৪ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মাসুম বিল্লাহ (উড়োজাহাজ প্রতীক, ৩৪৩ ভোট) ও জালাল উদ্দিন (টেবিল ফ্যান প্রতীক, ২৭৮ ভোট) জয় পেয়েছেন।

অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেনÑসাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন (হাতি, ২৮০ ভোট), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ হোসেন (চেয়ার, ৪৫৬ ভোট), কোষাধ্যক্ষ আমিনুল এহসান ( ব্যাট, ২৭৫ ভোট), দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর ইসলাম (মোরগ, ৩৫১ ভোট), প্রচার সম্পাদক আব্দুস সামাদ মিন্টু (মাইক, ৩১২ ভোট), ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান (ঘুড়ি, ৩৪৭ ভোট) এবং ক্রীড়া সম্পাদক মামুনুর রহমান (আনারস, ৩২২ ভোট)।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেনÑআমিরুল ইসলাম (কেটলি, ৩৫৪ ভোট), সালাউদ্দিন (হাঁস, ২৮৩ ভোট), শাহাজান আলী (বাইসাইকেল, ২৬১ ভোট) ও মনিরুল ইসলাম (টেবিল, ২৫৯ ভোট)।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১১ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ও ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এবং সদস্যসচিব ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভোটিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আবুল কালাম জানান, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থনের ভিত্তিতে জয়ী হয়েছেন।

Ads small one

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট যেন থামছেই না। আবারও স্বাগতিকদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের মেয়েরা।

মঙ্গলবার ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৪ রানেই হারায় দুই উইকেট। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৩ রান করেন সাদিয়া আক্তার। ফারজানা অপরাজিত থাকেন ২৮ রানে। অধিনায়ক সাদিয়া ইসলাম করেন ২৪ রান। নিশিতা আক্তার নিশির ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।

জবাবে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল দারুণ। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫০ রান তুলে ফেলে স্বাগতিকরা। কোমল খান ৩৬ এবং রাভাইল ফারহান ৩২ রান করে বাংলাদেশের জন্য চাপ তৈরি করেন।

তবে ৬৯ রানে তাদের প্রথম উইকেট পতনের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন। ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ২৮ রানে নিশি শিকার করেন ২ উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানের বেশি যেতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে ১৩ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ আরও সহজ হলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের।

 

হেমন্তের দোলায় শরতের মেলা: প্রবীণদের শৈশব খোঁজা গুড়পুকুরে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
হেমন্তের দোলায় শরতের মেলা: প্রবীণদের শৈশব খোঁজা গুড়পুকুরে

মিলন বিশ্বাস: হেমন্তের আগমনি বার্তা নিয়ে এসেছে আশ্বিন। সেই আশ্বিনের সোনাঝরা রোদে রূপসী সাতক্ষীরায় যেন ফিরে এসেছে একখ- হারানো শৈশব। পলাশপোল থেকে খুলনা রোড কিংবা নিউমার্কেটÑযেখানে একসময় গান-বাজনা, নাগরদোলা আর কেনাকাটার কলকাকলিতে মুখর থাকত প্রাণসায়র খালের পাড়, সেই স্মৃতি ঘেরাটোপ খুলে দুই বছর পর আবার জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা।

১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০ দিনব্যাপী এই মেলার মঙ্গলবার ছিল ষষ্ঠ দিন। সকালের মিষ্টি রোদ ওঠার পর থেকেই মেলামুখী হতে শুরু করেন দূরদূরান্তের মানুষ। দুপুরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কলরবে জমে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। আর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়তেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢল নামে সব বয়সী মানুষের।

নতুন প্রজন্মের চোখ যখন বৈচিত্র্যময় মেলার আয়োজনে আটকে যাচ্ছে, প্রবীণরা তখন খুঁজে ফিরছেন নিজেদের সোনালী অতীত। আলিপুরের শুকুর আলী (৬৭) ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলায় আসার স্মৃতি হাতড়ে জানান, আগের বিশাল আয়োজন আর বর্তমানের মেলার চেহারায় বিস্তর ফারাক। তবুও শৈশবের সেই আনন্দ আজও মনে দোলা দেয়।

কাঠিয়া সরকারপাড়ার মধুমিতা সরকার (৫২) স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, নতুন জামা পরে মেলায় আসা, বাতাসি-জিলাপি খাওয়ার সেই সামান্য আনন্দই ছিল অগাধ। আজ নতুন প্রজন্মকে হাসতে দেখে তিনি যেন নিজের বাল্যকালকেই নতুন করে দেখছেন।

রসুলপুর গ্রামের মহাব্বত গাজী (৭০) স্মৃতির সরণি বেয়ে মনে করিয়ে দেন প্রাণসায়র খালের কথা। তিনি জানান, একসময় এই খাল দিয়েই দূরদূরান্ত থেকে মালামাল নিয়ে নৌকায় করে মেলায় আসতেন ব্যবসায়ীরা। পলাশপোলের সুবোল ম-লের কণ্ঠেও শোনা গেল একই সুর। মেলা এখন পরিসরে ছোট হলেও তা আবার ফিরে এসেছেÑএতেই যেন তৃপ্ত শহরের মানুষ।

একদিকে প্রবীণদের স্মৃতিমেদুরতা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাসÑদুইয়ের মিলনে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আশ্বিনের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই আয়োজন।

 

ইবতেদায়ি শিক্ষক যাচাই, বেতন স্থগিত ৩২১ মাদ্রাসার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
ইবতেদায়ি শিক্ষক যাচাই, বেতন স্থগিত ৩২১ মাদ্রাসার

অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ও শুনানি এখনও শেষ হয়নি। এ কারণে তালিকাটি চূড়ান্ত নয়; যাচাই শেষে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়া ৩১০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি জনবল কাঠামোর বাইরে থাকা অতিরিক্ত শিক্ষককে অনুদান দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ায় আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। মোট ৩২১টি মাদ্রাসার বেতন স্থগিত রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

৪ হাজার ৩৪০ শিক্ষকের খসড়া তালিকা

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের আপত্তি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে এই ৪ হাজার ৩৪০ জনের তালিকাকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে দেখছে না অধিদফতর। যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হওয়ার পর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। যাচাইয়ের সময় কোনও শিক্ষক বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন কি না, প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর আছে কি না এবং শিক্ষকের নাম ও অন্যান্য তথ্য সঠিক কি না; এসব বিষয় দেখা হচ্ছে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, ‘৪ হাজার ৩৪০ জনের তালিকাটি খসড়া। যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। যাচাইয়ের একটি উদ্দেশ্য হলো, যেসব শিক্ষক মারা গেছেন, চাকরি ছেড়েছেন, অন্য কোথাও চাকরি নিয়েছেন বা অবসরে গেছেন, তাদের নামে এখনও বিল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে চালু আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। অধিদফতরের এই উদ্যোগটি যথাযথ।’

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাইয়ের সময়সীমা ছিল। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর তারা মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন পরীক্ষা নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজ চলমান থাকায় শিক্ষকদের জন্য আরও সময় চাওয়া হয়েছে। পরে যারা উপস্থিত হয়ে তথ্য দিতে পারবেন, তাদের শুনানি নেওয়া হবে এবং অনুপস্থিতদের পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়।

৩১০ মাদ্রাসার বেতন কেন স্থগিত

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার মধ্যে ৩১০টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। কোনও প্রতিষ্ঠান দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়ে থাকলে সেটি এখনও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে অনুদান পাওয়ার উপযুক্ত কি না, যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।

চারজনের কাঠামোয় ৫ শিক্ষক

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের ১১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় জনবল কাঠামোর বাইরে থাকা শিক্ষককে অনুদান দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বেশিও থাকতে পারে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় চারজন শিক্ষক অনুদান পাওয়ার কথা। কিন্তু ১১টি প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষককে অনুদান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত একজন শিক্ষক জনবল কাঠামোর বাইরে ছিলেন।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ ধরনের আরও কোনও অসংগতি পাওয়া যায় কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারাজী।

১৫১৯ প্রতিষ্ঠানের তালিকা, মাঠপর্যায়ে ১২৫৮

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রকৃত সংখ্যার বিষয়টিও যাচাইয়ের আওতায় এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ধরে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১ হাজার ৫১৯টি দেখানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের তথ্যে ১ হাজার ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। দুই হিসাবের মধ্যে ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালু না রাখায় তালিকায় থাকলেও বাস্তবে সক্রিয় নেই। ফলে অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা এবং শিক্ষকসংখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষকদের খসড়া তালিকা তৈরির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। এতে কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক কর্মরত, কারা অনুদান পাওয়ার যোগ্য এবং কোন প্রতিষ্ঠানের নামে এখনও অনুদান বা বেতনের বিল দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।

তাজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে যেসব শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান অনুদান পাওয়ার শর্ত পূরণ করছে না, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা যোগ্য, তাদের তথ্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর বলছে, যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হওয়ার পর শিক্ষকদের চূড়ান্ত তালিকা এবং অনুদানভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থার বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান (যুগ্মসচিব) বলেন, ‘শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে খসড়া তালিকা করা হয়েছে, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়। ইতোমধ্যে তালিকায় থাকা অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অধিদফতরে আসছেন। যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ফাইনাল করার আগে সবাইকে বলছি, আপনারা আসেন। দেখে যদি কারও এমন কোনো তথ্য থাকে, যা আমাদের কাছে নেই বা আপডেট নেই, তাহলে সেটা জানাবেন। যারা তালিকায় রয়েছেন, তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়ার পরও কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে আলাদাভাবে অস্তিত্বশীল থাকার দাবি করছে; এমন তথ্যও যাচাইয়ে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাগজপত্র দিতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা আবার যাচাই করা হবে।

মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান বলেন, ‘আমরা চাই, প্রকৃত প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৃত শিক্ষকরা যেন অনুদান পান। যারা যোগ্য, তারা যাচাই-বাছাই করেই যেন পায়; এটাই আসল কথা। সময় একটু বেশি লাগলেও প্রকৃত চিত্রটা পাওয়া আমাদের মূল কাজ।’

অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, ‘কিছু শিক্ষক মারা গেছেন এবং তাদের তথ্যও হালনাগাদ করা হচ্ছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় কোনও শিক্ষক মারা যাওয়ার তথ্য অধিদফতরে পৌঁছাতে সময় লাগে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে টাকা গেলেও মৃত ব্যক্তি তা উত্তোলন করতে না পারায় অর্থ ব্যাংকেই থেকে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরতও আসে। এসব তথ্যও যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অনুদানভুক্তির জন্য আগে পাঠানো তালিকা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই তালিকা নিয়ে কিছু অভিযোগ আসায় অধিদফতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আবার যাচাই-বাছাই করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যাদের অনুদান দিতে চায়, তারা যেন প্রকৃতভাবে অনুদান পান, এটাই আমরা চাই। যাচাই-বাছাই করে যারা পাওয়ার যোগ্য, তারা পাবেন। সময় নিয়ে হলেও আমরা প্রকৃত চিত্রটা বের করতে চাই।’

যাচাই-বাছাইয়ের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নিয়মিতভাবে লোকজন আসছেন, তাদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে এবং শুনানি নেওয়া হচ্ছে। আরও কিছু সময় দিলে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, যাদের কোনও তথ্য দেওয়ার আছে, তারা দ্রুত আসুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হোন। আমরা তাদের বক্তব্য শুনছি এবং তথ্যগুলো যাচাই করছি। শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাইয়ের কাজ ধাপে ধাপে আরও করা হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা, শিক্ষকসংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’