মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

চীনে নেওয়ার কথা বলে ভারতের কারাগারে বন্দি জামালপুরের সিরাজুল ৪ বছর পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চীনে নেওয়ার কথা বলে ভারতের কারাগারে বন্দি জামালপুরের সিরাজুল ৪ বছর পর উদ্ধার

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): চীনে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ চার বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন সিরাজুল ইসলাম (৫৭) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক। বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তিনি দেশে ফেরেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাছে তাঁকে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা সিরাজুল ইসলাম জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার চারমরিহাট গ্রামের ফরমান আলীর ছেলে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দালাল চক্র চীনে পাঠানোর কথা বলে বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে সিরাজুলকে ভারতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বিহারে পৌঁছানোর পর দালাল তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে মাছ ধরার কাজ শুরু করলেও একই বছরের জুলাইয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন তিনি।
পরবর্তীতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদ- দিয়ে বিহার জেলে পাঠায়। চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সাজা মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৮ আগস্ট বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত আনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী জানান, সিরাজুল ইসলামকে আপাতত তাঁদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। আইনি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে তাঁকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ খাল উন্মুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসন: স্থানীয় উদ্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধানের পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ খাল উন্মুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসন: স্থানীয় উদ্যোগ থেকে স্থায়ী সমাধানের পথ

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে বর্ষাকালে সামান্য ভারী বৃষ্টিপাত হলেই বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি তলিয়ে থাকে পানির নিচে। শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের শিমনখালী ও বুড়িগোয়ালিনী খালসহ অন্যান্য জলধারা দখল, নেট-পাটা দিয়ে বাঁধ দেওয়া এবং অবৈজ্ঞানিক ইজারা বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে আজ এই বিপত্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পাঁচ হাজার বিঘা কৃষি জমির জলনিষ্কাশন পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনা কেবল কৃত্রিম সংকটের জলন্ত প্রমাণ নয়, বরং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
এ অবস্থায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক গণশুনানিটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্থানীয় জনগণ, সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধিদের মুখোমুখি বসে সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং তা সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস স্থানীয় শাসনের ইতিবাচক দিক প্রকাশ করে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জলধারা উন্মুক্তকরণ, নেট-পাটা উচ্ছেদ এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য রেজুলেশন গ্রহণের ঘোষণা উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন।
তবে কেবল আশ্বাস বা সাময়িক নেট-পাটা অপসারণের মধ্য দিয়েই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের অবসান সম্ভব নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায় উপকূলীয় খালগুলো। তাই প্রয়োজন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে খালের ইজারা বা বন্দোবস্ত স্থায়ীভাবে বাতিল করা। পাশাপাশি, প্রতিটি খালের স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত পুনঃখনন অত্যন্ত জরুরি।
উপকূলের জীববৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার স্বার্থে এই দুটি খালসহ এলাকার সব জলধারাকে দখলমুক্ত ও উন্মুক্ত রাখা আবশ্যক। আমরা আশা করি, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত উপজেলা সমন্বয় সভা ও জেলা প্রশাসনে অনুমোদিত হবে এবং প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে উপকূলীয় জলাশয়গুলোকে দখলমুক্ত করে কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটপাট, দেবহাটা থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
মৎস্য ঘেরে হামলা-লুটপাট, দেবহাটা থানায় অভিযোগ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটায় ২৫ বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, সশস্ত্র হামলা ও মাছসহ নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে দেবহাটা উপজেলার বালিথা গ্রামের ‘ধাপার ঘেরে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রওশন আরা রুবী জানান, স্বামী ফজলুল কাদের খোকনের মৃত্যুর পর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ওই সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর ছেলে বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষ করে আসছেন। মঙ্গলবার সকালে শরিফুল, আলমগীর ও তুহিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ঘেরে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রওশন আরার ছেলে যায়েদ বিন কাদের (২৪) বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লিখিত আসামিরা হলেনÑ শরিফুল ইসলাম (৪৮), আলমগীর হোসেন (৫০), মো. তুহিনুর রহমান এবং মো. রেজাউল করিম। অভিযোগে বলা হয়, গত ২ আগস্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘেরে গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা না দিলে ঘের দখলের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, জিআই পাইপ ও রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা ঘেরে অনধিকার প্রবেশ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান আসামি শরিফুল ইসলাম বাদীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। একই সময় অন্য আসামিরা পাহারাদারের ঘর থেকে মাছ বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকা এবং বেড়জাল টেনে আনুমানিক ৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২ মণ চিংড়ি ও সাদা মাছ লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীদের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সংবদ্ধভাবে এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে জড়িত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা বিভাগে টেকসই কর্মসংস্থানে আশাশুনিতে সমবায় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
খুলনা বিভাগে টেকসই কর্মসংস্থানে আশাশুনিতে সমবায় সভা

সংবাদদাতা: আশাশুনিতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে খুলনা বিভাগের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় একটি উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধক মো. নূরুন্নবী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক মাসুদা পারভীন বলেন, সমবায়ের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তা খুলনা বিভাগের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। দীর্ঘমেয়াদে সমাজের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতেই টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিতের এই উদ্যোগ।
সাতক্ষীরা জেলা সমবায় কর্মকর্তা আশিক উর রহমান উল্লেখ করেন, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে মূলধারায় নিয়ে আসবে। পাশাপাশি এই ধরনের প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি, যা তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
সভায় মোট ১০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। তাঁরা প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁরা নতুনভাবে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রকল্পটির আওতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কারিগরি জ্ঞান, নেতৃত্বের গুণাবলি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।