মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নিউমোনিয়া শনাক্তকরণে আমার উদ্ভাবন ‘LungsAI’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
নিউমোনিয়া শনাক্তকরণে আমার উদ্ভাবন ‘LungsAI’

শাহেদ রহমান

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন আর কেবল গবেষণাগারের সীমাবদ্ধ বিষয় নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার বাস্তব হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তিপ্রেমী একজন তরুণ হিসেবে সবসময় আমার ইচ্ছা ছিল এমন কিছু উদ্ভাবন করা, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। সেই স্বপ্ন থেকেই আমি তৈরি করেছি “LungsAI” নামের একটি ডিপ লার্নিং ভিত্তিক নিউমোনিয়া শনাক্তকরণ প্রযুক্তি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে নিউমোনিয়া এখনো একটি প্রাণঘাতী রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের দেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। অনেক সময় এক্স রে রিপোর্ট বিশ্লেষণে দেরি হওয়ার কারণে রোগ শনাক্ত করতেও সময় লাগে। ফলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না। এই বাস্তব সমস্যাগুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। সেখান থেকেই “LungsAI” উদ্ভাবনের যাত্রা শুরু।

LungsAI” মূলত একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিউমোনিয়া ক্লাসিফায়ার, যা এক্স রে ইমেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নিউমোনিয়া শনাক্ত করতে পারে। আমি এই প্রজেক্টে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করেছি, যা শুধু রোগ আছে কি না তা শনাক্ত করে না, বরং ফুসফুসের কোন অংশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেটিও হিটম্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল আকারে দেখাতে সক্ষম। এর ফলে চিকিৎসকদের জন্য রোগ নির্ণয় আরও সহজ এবং কার্যকর হয়ে ওঠে।

এই প্রজেক্টটি ডেভেলপ করতে আমি পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করেছি এবং চিকিৎসকদের জন্য সহজ ব্যবহার উপযোগী করার লক্ষ্যে এর ওয়েব ইন্টারফেস তৈরি করেছি স্ট্রিমলিট ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে। তবে এই সিস্টেমটির মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে ডিপ লার্নিংয়ের অত্যাধুনিক অ্যালগরিদম সিএনএন বা কনভোলিউশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক।

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে সবচেয়ে সফল প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে সিএনএন অন্যতম। উন্নত বিশ্বের হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার শনাক্তকরণ, চোখের রেটিনা বিশ্লেষণ, এমআরআই ও সিটি স্ক্যান অ্যানালাইসিসে এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আমি আমার প্রজেক্টে সিএনএন ব্যবহার করেছি কারণ এটি মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণে একজন দক্ষ রেডিওলজিস্টের মতো কাজ করতে পারে। এক্স রে ইমেজের ভেতরের সূক্ষ্ম প্যাটার্ন, দাগ কিংবা ফুসফুসের অস্বাভাবিকতা যা অনেক সময় সাধারণ চোখে ধরা কঠিন, সিএনএন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। নিউমোনিয়ার কারণে ফুসফুসে যে ধরনের সংক্রমণ বা ফ্লুইড তৈরি হয়, সেই পিক্সেলভিত্তিক প্যাটার্নগুলো শিখে নিয়ে এটি দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারে।

এই প্রযুক্তিতে আমি রোগীর প্রোফাইল ব্যবস্থাপনাও যুক্ত করেছি। রোগীর নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং রেফারেল আইডিসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা কফ জমার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ ইনপুট দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। এসব তথ্য এবং এক্স রে বিশ্লেষণের ভিত্তিতে “LungsAI” স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিস্তারিত মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করতে পারে, যা দ্রুত চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, এই উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা ২০২৬ এর সিনিয়র ক্যাটেগরিতে আমার “LungsAI” প্রজেক্ট সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে এবং খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই অর্জন আমাকে আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।

আমি বিশ্বাস করি, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সরকারি সহযোগিতা পেলে “LungsAI” কে একটি জাতীয় স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ আরও সহজ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ এর মাধ্যমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই পথচলায় তরুণদের উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি মনে করি, আমাদের দেশের তরুণদের শুধু সঠিক সুযোগ এবং দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তাহলেই তারা বিশ্বমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

LungsAI” শুধু আমার একটি প্রজেক্ট নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি স্বপ্ন। আমি চাই ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হোক, বৃহৎ পরিসরে ব্যবহৃত হোক এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করুক। তরুণদের মেধা, প্রযুক্তি এবং মানবসেবার সমন্বয়ে গড়ে উঠুক একটি উন্নত, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ।

শাহেদ রহমান, শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: “হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিক্যাল থেরাপির ভূমিকা”Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্যোগে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রিহ্যাবিলিটেশন হেলথ বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋশিল্পীর প্রেসিডেন্ট মনিকা তোজি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সেলিমুল ইসলাম, সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ও হেড অব ফিজিওথেরাপি ইউনিট শংকর কুমার ঢালীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফিজিওথেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আলোচনায় বক্তারা ঋশিল্পীর ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কর্মকা-, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন, চলাফেরার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে মানুষের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলারোয়ার যুগিখালি গ্রামের তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে এ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে রোপণ করা বীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবার পুরো উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় বছরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে পর্যায়ক্রমে তালবীজ রোপণ করা হবে। ইতিমধ্যে জয়নগর, সোনাবাড়িয়া, কুশোডাঙ্গা ও দেয়াড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

উচ্চ ভবনে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতে যেমন লাইটনিং অ্যারেস্টার ব্যবহার করা হয়, তেমনি গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে তালগাছের বিস্তার ঘটিয়ে বজ্রপাতের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রতিবছর বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটে। দীর্ঘমেয়াদে তালগাছের একটি প্রাকৃতিক বলয় গড়ে তুলে জীবনের ঝুঁকি কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এ উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবাসী এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছেন। অনেকেই বিনামূল্যে হাজার হাজার তালবীজ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় ভ্যানচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বিপুলসংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকা- থেকে দূরে রেখে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কাজে সম্পৃক্ত করাও তাঁর এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে কলারোয়ায় একটি সবুজ জনপদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় সামাজিক কর্মকা- হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। উদ্যোগটি শুরুর আগেই আসিফ ইকবাল উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবহিত করেছিলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত অর্থায়ন, স্বেচ্ছাশ্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কলারোয়ার সড়কগুলো সবুজে আচ্ছাদিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনলাইন জুয়ায় বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অপরাধ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়ায় বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অপরাধ!

এম শফিকুল ইসলাম: সর্বনাশা মোবাইল ফোনভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে শহরাঞ্চলে। এই ভয়াবহ অনলাইন জুয়ার থাবায় তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

সাতক্ষীরা সীমান্ত আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনের পর্দায় কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই বড় অঙ্কের টাকা জেতার প্রলোভন দেখানো হয়। দ্রুত ধনী হওয়ার এই ফাঁদে পা দিয়ে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছেন। চক্রের এজেন্টরা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেলেও সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন।

শাঁখড়া কোমরপুর আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ শরীফ ইকবাল উল্লেখ করেন, অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে ছোটখাটো এজেন্টরা গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। ফলে এজেন্ট পরিবর্তন হলেও অনলাইন জুয়ার দৌরাত্ম্য থামছে না। জুয়ায় হেরে সহায়-সম্পদ বিক্রি করেও অনেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। এতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি পরিবারে অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ বাড়ছে। একই সঙ্গে জড়াচ্ছে নানা সামাজিক অপরাধে।

ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী বলেন, অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে বহু তরুণ ও যুবক। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জমজমাট জুয়া খেলা চলছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বেকার যুবকেরা এ নেশায় ঝুঁকছেন। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়াড়ি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সদর থানা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মাস্টার এজেন্ট আটক করা হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর মেহেরপুর জেলার শিবপুর গ্রামের জিনারুল ইসলামের ছেলে মুর্শিদ আলম (২৫) ও বামনডাঙ্গা গ্রামের মাসুদুল আলমের ছেলে মুসাই আলমকে সাতক্ষীরা থেকে আটক করে পুলিশ।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতিয়ার সরদারের ছেলে ও মাস্টার এজেন্ট তৈয়ব হাসান (২৭) এবং আজিজুল সানার ছেলে তারেকুজ্জামান জুয়েলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও তালা থানা এলাকা থেকে ১০ জন জুয়াড়িকে আটক এবং তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানেও অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের মাস্টারমাইন্ড এজেন্টসহ দুই সদস্য আটক হয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেকোনো স্থান থেকে তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।