শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ডাস্টবিনে ফেলি, সুন্দরবনকে রক্ষা করি’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নীলডুমুর বাজারে বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির সিসিআরসি-এর সহযোগিতায় এ ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোল্লার রুহুল আমিন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হালিম এবং সিসিডিবি পিসিআরসিবি প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার অমিতাভ হালদার, ফিল্ড অর্গানাইজার ওয়ারেসুর রহমান, সাখিরা খানম, দিল আফরোজসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে নীলডুমুর বাজারের ৪০ জন ব্যবসায়ীর হাতে একটি করে ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়। বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন প্লাস্টিকের প্যাকেট, বোতলসহ অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে যথাযথভাবে অপসারণের উদ্দেশ্যে এসব ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকার বাজারগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখলে তা নালা-নর্দমা ও নদীতে গিয়ে পড়ার পাশাপাশি একসময় সুন্দরবনের জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষায় বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সুন্দরবন ও এর আশপাশের নদ-খালকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি।

ডাস্টবিন বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ক্ষেত্রে তারা সচেতন থাকবেন। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান তারা।

Ads small one

সাতক্ষীরা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির শুভেচ্ছা

সাতক্ষীরা কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি রওশন আলী ও সাধারণ সম্পাদক রজব আলীসহ নবনির্বাচিত কমিটি নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, সাতক্ষীরা শহর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমানসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বিশ্ব কার্ড তৈরি দিবস: কাগজে লেখা অনুভূতির অমলিন গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব কার্ড তৈরি দিবস: কাগজে লেখা অনুভূতির অমলিন গল্প

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম শনিবার বিশ্ব কার্ড তৈরি দিবস পালিত হয়। ২০২৬ সালে দিবসটি পড়েছে ৩ অক্টোবর, শনিবার। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পেপার ক্র্যাফটস’ ম্যাগাজিনের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা। শুরুতে ম্যাগাজিনের পাঠকদের কার্ড তৈরিতে উৎসাহিত করার আয়োজন হলেও পরে তা দেশ-সীমানা পেরিয়ে কার্ডপ্রেমী ও পেপার-ক্রাফট অনুরাগীদের একটি বৈশ্বিক আয়োজনে পরিণত হয়। অক্টোবরের শুরুতে দিনটি রাখার উদ্দেশ্যও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ-বড়দিনসহ বছরের শেষভাগের উৎসবগুলোর জন্য আগেভাগে হাতে তৈরি কার্ড প্রস্তুত করার সুযোগ ও উৎসাহ সৃষ্টি করা।

কার্ড শুধু একটি কাগজের টুকরো নয়; এটি মানুষের অনুভূতিকে দৃশ্যমান করার একটি মাধ্যম। জন্মদিন, বিবাহ, নববর্ষ, উৎসব, অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা কিংবা সহমর্মিতার বার্তা-সবকিছুকে একটি ছোট কার্ডে ধারণ করা যায়। ডিজিটাল বার্তার যুগে যেখানে কয়েক সেকেন্ডে একটি শুভেচ্ছা পাঠানো সম্ভব, সেখানে নিজের হাতে কাগজ নির্বাচন, নকশা আঁকা, রং করা, কেটে-ছেঁটে সাজানো এবং শেষে নিজের হাতের লেখা যোগ করার মধ্যে আলাদা এক মানবিকতা রয়েছে।

 

একটি হাতে তৈরি কার্ড তাই বার্তার পাশাপাশি সময়, মনোযোগ ও যতেœরও স্মারক হয়ে ওঠে।
কার্ড তৈরির ইতিহাসও দীর্ঘ। আধুনিক গ্রিটিং কার্ডের আগে বিভিন্ন সমাজে শুভেচ্ছা ও বার্তা বিনিময়ের নানা রীতি ছিল। চীনে নববর্ষ উপলক্ষে লিখিত শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঐতিহ্য বহু পুরোনো। ইউরোপে মধ্যযুগের শেষভাগ ও পরবর্তী সময়ে হাতে লেখা ভ্যালেন্টাইন বার্তার প্রচলন দেখা যায়। ১৪১৫ সালে ইংল্যান্ডের টাওয়ারে বন্দি ফ্রান্সের ডিউক অব অরলিয়ঁর চার্লস তাঁর স্ত্রীকে যে ভালোবাসার বার্তা পাঠিয়েছিলেন, সেটিকে প্রাচীনতম টিকে থাকা ভ্যালেন্টাইন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আধুনিক বাণিজ্যিক গ্রিটিং কার্ডের ইতিহাসে ১৮৪৩ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ব্রিটিশ নাগরিক ও ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের প্রথম পরিচালক স্যার হেনরি কোল শিল্পী জন ক্যালকট হর্সলির নকশায় একটি বড়দিনের কার্ড ছাপান। প্রায় এক হাজার কপি তৈরি করা হয়েছিল; নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কার্ড বিক্রিও করা হয়। পরবর্তী সময়ে মুদ্রণপ্রযুক্তির উন্নতি, রঙিন ছাপা এবং ডাকব্যবস্থার প্রসারের ফলে কার্ড সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে। ১৯১০ সালে জে.সি. হলের পোস্টকার্ড ব্যবসার সূচনা এবং পরে হলমার্কের নিজস্ব গ্রিটিং কার্ড মুদ্রণ এই শিল্পের বাণিজ্যিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কার্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো আমন্ত্রণপত্র। বিয়ে, জন্মদিন, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন-প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণপত্র শুধু সময় ও স্থান জানায় না; আয়োজকের রুচি, ঐতিহ্য ও অনুষ্ঠানের চরিত্রও প্রকাশ করে। আধুনিক আমন্ত্রণপত্রে কাগজের পাশাপাশি ডিজিটাল নকশা, কিউআর কোড, অ্যানিমেশন ও অনলাইন আরএসভিপি যুক্ত হয়েছে। ফলে কার্ডের মৌলিক উদ্দেশ্য-মানুষকে একটি সম্পর্ক বা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা-অটুট রেখেই তার মাধ্যম বদলে গেছে।

কার্ডের জগৎ একই সঙ্গে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার মিলনস্থল। ক্যালিগ্রাফি, টাইপোগ্রাফি, জলরং, ইলাস্ট্রেশন, কাগজ কাটা, কুইলিং, এমবসিং, স্ট্যাম্পিং, ফয়েলিং ও পপ-আপ নকশা-বিভিন্ন কৌশলে একটি সাধারণ কাগজকে শিল্পকর্মে পরিণত করা যায়। বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে ক্যালিগ্রাফি, উৎসবের কার্ডে অলংকরণ, শিশুর জন্মদিনের কার্ডে রঙিন ইলাস্ট্রেশন কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে মার্জিত টাইপোগ্রাফি-প্রতিটি নকশাই তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও উপলক্ষের ভাষা বহন করে।

কার্ড তৈরি মানুষের সৃজনশীলতা চর্চারও একটি সহজ পথ। কাগজ, কার্ডস্টক, রং, পেন্সিল, কলম, কাঁচি, আঠা, ফিতা, স্টিকার বা পুনর্ব্যবহৃত কাগজ দিয়েই শুরু করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি রং, আকার, লেখা ও হাতের কাজের সঙ্গে পরিচিত হতে সাহায্য করতে পারে; বড়দের জন্য এটি অবসর বিনোদন ও সৃজনশীল প্রকাশের একটি মাধ্যম। দলবদ্ধভাবে কার্ড তৈরি করলে পরিবার, বন্ধু বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা ও ভাবনা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হয়।

স্মৃতির দিক থেকেও কার্ডের গুরুত্ব আলাদা। একটি পুরোনো কার্ডের কাগজ, হাতের লেখা, তারিখ বা নকশা বহু বছর পর কোনো ঘটনা, মানুষ কিংবা সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। এ অর্থে কার্ড ব্যক্তিগত জীবনের ছোট ছোট স্মৃতিকে ধরে রাখার এক ধরনের বস্তুগত দলিল। অনেক সময় একটি পুরোনো কার্ডের কয়েকটি শব্দই হারিয়ে যাওয়া সময়ের দরজা খুলে দিতে পারে।

ডিজিটাল যুগ কার্ডের অস্তিত্ব মুছে দেয়নি; বরং এর রূপকে আরও বিস্তৃত করেছে। ই-কার্ড, ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশন, অ্যানিমেটেড শুভেচ্ছা ও অনলাইন আমন্ত্রণের পাশাপাশি হাতে তৈরি কাগজের কার্ড এখনও ব্যক্তিগত স্পর্শের প্রতীক। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তি নতুন প্রজন্মকে নকশা, টাইপোগ্রাফি ও চিত্রকলার নতুন সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

বিশ্ব কার্ড তৈরি দিবসের আসল সৌন্দর্য তাই শুধু একটি কার্ড বানানোতে নয়, বরং ‘সময় দেওয়ার’ সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনা। একটি হাতে লেখা বাক্য, একটি আঁকা ফুল, একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা কিংবা নিজের হাতে তৈরি নকশা ভবিষ্যতে একটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকতে পারে। ডিজিটাল বার্তা মুহূর্তের যোগাযোগ তৈরি করে; হাতে তৈরি কার্ড তৈরি করতে হয় ধৈর্য নিয়ে, আর সেই শ্রমই তার আবেগকে গভীর করে।

৩ অক্টোবরের এই দিনটি তাই কাগজ, রং ও কারুশিল্পের উৎসবের পাশাপাশি মানবিক সম্পর্ক, সৃজনশীলতা, স্মৃতি ও আন্তরিকতারও উদযাপন। ব্যস্ত ও দ্রুতগতির পৃথিবীতে একটু থেমে নিজের হাতে কারও জন্য একটি কার্ড তৈরি করা-হয়তো সেটিই এই দিবসের সবচেয়ে সুন্দর বার্তা। আর অন্ততঃ একজন প্রিয় মানুষের জন্য হাতে তৈরি একটি কার্ড বানিয়ে ফেলি।

কলারোয়ায় পানিতে নিমজ্জিত মানিকনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়: জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় পানিতে নিমজ্জিত মানিকনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়: জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি ইউনিয়নের ৯৪ নং মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বছরের প্রায় ৮/৯ মাস জলাবদ্ধতা অবস্থায় থাকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশ পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে থাকার ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। যাতায়াতের সময় প্রায়ই পিছলে পড়ে গিয়ে জামাকাপড় নোংরা হচ্ছে এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া শৌচাগার বা ওয়াশরুমে যাওয়ার পথও পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরীন জাহান মিম জানায়, “স্কুলে আসার পথে পানি জমে থাকে। পড়ে গিয়ে কাপড় নোংরা হয়, বই ভিজে যায়। আমরা খেলাধুলাও করতে পারি না।” অপর এক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, “পানির জন্য আমরা ঠিকমতো ওয়াশরুমেও যেতে পারি না।”

সাঁতস্যাঁতে পরিবেশ ও জমা পানিতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুসহ নানা রোগজীবাণুর ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল আহাদ এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

 

প্রধান শিক্ষক জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দ্রুত মাটি ভরাট অথবা কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে পরিবেশের উপরে কাজ করে ইতিমধ্যে সবার নজরে আসা তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি জলাবদ্ধ থাকায় এই বিদ্যালয় এবং আশপাশের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

 

অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না গেলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবগত করা হলেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে আসিফ ইকবাল চয়ন জানান।

 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পূর্ববর্তী পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি আমাদের প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।