মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

পাইকগাছায় টানা ভারী বর্ষণে নিম্মাঞ্চল, মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় টানা ভারী বর্ষণে নিম্মাঞ্চল, মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টিতে উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছার নিম্মাঞ্চল, মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তৃীর্ণ অঞ্চলের শত শত মৎস্যঘের ও ব্যক্তিগত পুকুরঘাট তলিয়ে গিয়ে ঘেরের মাছ ভেসে একাকার হয়ে গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা।

সরেজমিনে চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কমলাপুর মৌজার বিলে ডিপ-মেশিন চালিত মৎস্যঘেরগুলোর বাঁধ টানা বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শত শত বিঘা জুড়ে এখন শুধুই থৈ থৈ পানি। বাঁধ উপচে একাধিক ব্যক্তির পুকুরের মাছ বিভিন্ন ঘেরে ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ভেসে গেছে। উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম সরদার বলেন, এমনিতেই ডিপ-মেশিনের মাধ্যমে পানি তোলার কারণে বিলের ঘেরগুলোর বাঁধ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তার ওপর চলতি মৌসুমে এই টানা ভারী বৃষ্টিতে পুরো বিলের ঘেরের বাঁধ ও পুকুরঘাট তলিয়ে সব একাকার হয়ে গেছে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।

মুষলধারে বৃষ্টিতে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। রাস্তাঘাট কাদা ও নোংরা পানিতে ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

 

প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া পথচারী, দিনমজুর এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও কোথাও ঘরবাড়ির আঙিনা ছাড়িয়ে শয়নকক্ষে পানি প্রবেশ করায় এবং রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর পথ না থাকায় থমকে গেছে নিম্নআয়ের মানুষের উপার্জনের চাকা, স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও নিষ্কাশন তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইসগেট দিয়ে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত রয়েছে। গেটের দায়িত্বে থাকা ইব্রাহীম মোল্লা পানি দ্রুত নামানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলে এবং এই নিষ্কাশন প্রক্রিয়া সচল থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং দুর্গতদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সার্বিক তৎপরতা ও মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

 

Ads small one

বৃষ্টিতে পারখাজুরা-নলতা ঘাট সড়ক ধস, বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
বৃষ্টিতে পারখাজুরা-নলতা ঘাট সড়ক ধস, বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা বাজার থেকে নলতা ঘাট অভিমুখী পাকা সড়কের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ধসে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী এ. এস. এম. খালেকুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জনদুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিকল্প (বাইপাস) সড়ক নির্মাণ করা হবে, যার কাজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মূল সড়কটি দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী এ. এস. এম. খালেকুজ্জামান ধসে যাওয়া অংশের পরিমাপ সম্পন্ন করেছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির মূল সংস্কারকাজ শুরু করার আশ্বাস দেন।
জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকাবাসীকে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধসে যাওয়া সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়।

নুনগোলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
নুনগোলায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লুট

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের নুনগোলা গ্রামে রাতের আঁধারে একটি পুকুরে বিষাক্ত ওষুধ দিয়ে সব মাছ ধরে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লিজ নেওয়া পুকুরে এই বর্বরোচিত চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মৎস্য চাষি মো. কুরমান আলী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুনগোলা গ্রামের গোপাল সাধুর মালিকানাধীন একটি বড় পুকুর লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন বর্তমান ইউপি সদস্য মো. কুরমান আলী। প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও পুকুরটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। কিন্তু রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পুকুরের পানিতে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে। এতে পুকুরের সব মাছ নিমিষেই মারা যায় এবং ভেসে ওঠে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা অধিকাংশ মাছ ধরে নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার ভোরে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুকুরপাড় দিয়ে যাওয়ার সময় মাছ ভেসে উঠতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লিজগ্রহীতা কুরমান আলীকে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিষ প্রয়োগের ফলে পুকুরের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ মারা গেছে। এতে তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পূর্বশত্রুতার জেরে নাকি কেবলই মাছ চুরির উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউপি সদস্য মো. কুরমান আলী। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মৎস্য চাষিদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিডিএফ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিডিএফ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, বিভিন্ন সংগঠনের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর, ধুলিহর ও ফিংড়ী (বিডিএফ) প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন কমিটির সভাপতি জি এম আমিনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরশাদ আলীর কাছে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়।
সাবেক সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন বাবু, আহ্বায়ক এস এম ইসমাইল হোসেন, সদস্যসচিব মো. মুকুল হোসেন ও সদস্য মো. মেহেদী হাসান শিমুল নতুন কমিটির কাছে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এ সময় বিডিএফ প্রেসক্লাবের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ হাসান, সাধারণ সম্পাদক নাসিম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল গালিব, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. সলেমান মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল আহাদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা।
এ ছাড়া ফয়জুল্যাপুর ফ্রেন্ডস ক্লাবের পক্ষ থেকেও নতুন কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্লাবের সভাপতি মো. মোস্তাকিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু ওবায়দা গাজীর নেতৃত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এম এম জাহাঙ্গীর আলম, মো. রাসেল হোসেন রাহী ও এম এ রাসেলসহ সংগঠনের অন্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।