শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঁশ যে শুধু ‘বাঁশ দেওয়া’র জন্য নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
বাঁশ যে শুধু ‘বাঁশ দেওয়া’র জন্য নয়

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

বাংলা ভাষায় ‘বাঁশ’ শব্দটির একটি অদ্ভুত দ্বৈত জীবন আছে। একদিকে বাঁশ আমাদের গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রকৃতির অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রয়োজনীয় একটি উদ্ভিদ; অন্যদিকে কথার ফাঁকে আমরা প্রায়ই বলে থাকি-‘লোকটা আমাকে বাঁশ দিয়ে গেছে।’ অর্থাৎ কেউ প্রতারণা করেছে, ক্ষতি করেছে কিংবা বিপদে ফেলে চলে গেছে। কারও কোনো কাজে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটলে হাসতে হাসতে বলা হয়, ‘ভালোই বাঁশ খেয়েছ!’ আবার কেউ কাউকে বিপদে ফেললে বলা হয়, ‘বাঁশ দিয়ে দিয়েছে।’ বাংলা কথ্যভাষায় বাঁশ যেন প্রতারণা ও বিপদেরও প্রতীক।

কিন্তু বাস্তবের বাঁশ মানুষের বিপদে ফেলে না; বরং বহু যুগ ধরে মানুষের বিপদ সামলেছে। ঘর বানিয়েছে, বেড়া দিয়েছে, সাঁকো তৈরি করেছে, কৃষিকাজে সহায়তা করেছে, মাছ ধরার সরঞ্জাম হয়েছে, আসবাব তৈরি হয়েছে, বাদ্যযন্ত্র হয়েছে, হস্তশিল্পের উপকরণ হয়েছে। একসময় বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে বাঁশ ছাড়া একটি সংসার কল্পনা করাই কঠিন ছিল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএওর তথ্যেও বাঁশকে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অ-কাঠজাত বনজ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এর ব্যবহার ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে আসবাব, কাগজ, হস্তশিল্প, খাদ্য ও নানা সামগ্রী পর্যন্ত বিস্তৃত।

তাহলে বাঁশের জন্য আলাদা একটি ‘বিশ্ব দিবস’ কেন?
প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হয় ২০০৯ সালে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বো কংগ্রেস। বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে অংশ নেন। ১৮ সেপ্টেম্বর সম্মেলনের শেষ দিনে বাঁশের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরতে দিনটিকে ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বো দিবস বা বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দিনটি থাইল্যান্ডের রাজকীয় থাই বনজ দিবস -এর সঙ্গেও মিলে যায়। পরদিন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বাঁশ রোপণের আয়োজনও করা হয়েছিল।

অর্থাৎ বিশ্ব বাঁশ দিবস কোনো নিছক উৎসবের দিন নয়। এর পেছনে রয়েছে বাঁশকে নতুন করে দেখার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। যে উদ্ভিদকে একসময় অনেক জায়গায় দরিদ্র মানুষের সস্তা উপকরণ বলে দেখা হতো, আধুনিক বিশ্বে সেটিই এখন টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং জলবায়ু মোকাবিলার সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাঁশের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার দ্রুত বৃদ্ধি। অন্য অনেক কাঠগাছের তুলনায় এটি দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বারবার সংগ্রহ করা যায়। এ কারণে কাঠের কিছু ব্যবহারের বিকল্প হিসেবেও বাঁশের সম্ভাবনা রয়েছে। এফএও বলছে, বাঁশ ভূমিক্ষয় কমাতে, অবক্ষয়িত জমি পুনরুদ্ধারে, পানি ধরে রাখতে এবং ভূমির গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বাঁশের ব্যবহার যদি ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা কাঠের বিকল্প হিসেবে করা যায়, তাহলে বনসম্পদের ওপর চাপ কমানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে বাঁশের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বাঁশ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এর কার্বন ধারণের সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে গবেষণা হয়েছে। লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে পাঁচ বছর বয়সী বামবুসা ভালগারিস প্রজাতির একটি বাঁশবাগান নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় মাটি ও উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন সঞ্চয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটিতে মোট কার্বন সঞ্চয় প্রায় ৭৭.৬৭ টন কার্বন প্রতি হেক্টর হিসেবে হিসাব করা হয়েছিল।

তবে বাঁশকে নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবিও করা ঠিক হবে না। সব বাঁশবাগান একই রকম পরিবেশগত সুবিধা দেয় না। একক প্রজাতির বিশাল বাঁশবাগান জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে-এফএওও এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাই বাঁশকে শুধু বেশি বেশি লাগানোর বিষয় হিসেবে নয়, বরং সঠিক প্রজাতি নির্বাচন, বৈচিত্র্য রক্ষা, টেকসই ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে দেখতে হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাঁশের সম্পর্ক আরও গভীর। আমাদের গ্রামবাংলার উঠান, পুকুরপাড়, ক্ষেতের আল, ঘরের বেড়া, মাচা, চালা-কতকিছুর সঙ্গে বাঁশ জড়িয়ে আছে! বাঁশের তৈরি ডালি, কুলা, ঝুড়ি, চাটাই, মাছ ধরার সরঞ্জাম কিংবা গৃহস্থালির নানা উপকরণ একসময় গ্রামীণ অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ ছিল। এখন প্লাস্টিক ও শিল্পজাত পণ্যের বিস্তারে এসব ব্যবহার কমেছে, কিন্তু বাঁশের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি।

বরং নতুন প্রযুক্তি বাঁশকে আরও নতুন বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। বাঁশ থেকে এখন শুধু কঞ্চি, বেড়া কিংবা ঝুড়ি নয়-বোর্ড, প্যানেল, ফার্নিচার, কাগজ, কাপড়ের তন্তু, নির্মাণসামগ্রী এবং নানা মূল্যসংযোজিত পণ্য তৈরি হচ্ছে। এফএওর গবেষণায়ও বাঁশের ব্যবহারকে নিম্নমূল্যের হস্তশিল্প থেকে উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্যে রূপান্তরের প্রবণতার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে বাঁশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও একেবারে নতুন নয়। এফএওর পুরোনো বনসম্পদ মূল্যায়নে গ্রামীণ বাঁশসম্পদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বাঁশের বাজারে বাঁশ ব্যবসা উদ্যোক্তা ও স্বল্পদক্ষ গ্রামীণ শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-বাঁশের অর্থনীতি শুধু বাঁশ বিক্রির অর্থনীতি নয়। একটি বাঁশঝাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে কৃষক, বাঁশকাটা শ্রমিক, পরিবহনকারী, কারিগর, ঝুড়ি বা আসবাব নির্মাতা, ব্যবসায়ী এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা। অর্থাৎ বাঁশকে ঘিরে একটি সম্পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খল তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশে গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এখানেই রয়েছে বড় সম্ভাবনা।
কিন্তু আমাদের সমস্যা হলো, সম্ভাবনাকে আমরা অনেক সময় সম্পদে পরিণত করতে পারি না।

 

বাঁশ আছে, বাঁশের কারিগর আছে, বাঁশের ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের অভিজ্ঞতা আছে; কিন্তু আধুনিক নকশা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাননিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির সঙ্গে সেই ঐতিহ্যকে যথেষ্টভাবে যুক্ত করা যায়নি। ফলে বাঁশ এখনও অনেক ক্ষেত্রে ‘গরিবের উপকরণ’ হিসেবেই পড়ে থাকে, যখন পৃথিবীর অন্য কোথাও সেটিই হয়ে উঠছে পরিবেশবান্ধব শিল্পের কাঁচামাল।

এখানে বিশ্ব বাঁশ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য। দিবসটি আমাদের শুধু বাঁশ লাগাতে বলে না; বাঁশকে নতুন চোখে দেখতে শেখায়। বাঁশকে অবহেলিত ঝোপঝাড় হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে দেখতে বলে। গ্রামীণ কারিগরের হাতে থাকা দক্ষতাকে শিল্পে রূপ দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেই প্রশ্ন সামনে আনে।

আর আমাদের ভাষার সেই ‘বাঁশ দেওয়া’ কথাটিও তখন নতুনভাবে ভাবা যায়। যে বাঁশ মানুষের ঘরকে আশ্রয় দেয়, কৃষকের কাজে লাগে, নদীর পাড় রক্ষা করতে পারে, মাটিকে আঁকড়ে ধরে, কারিগরের হাতে শিল্প হয়ে ওঠে-সেই বাঁশকে আমরা মানুষের ক্ষতি করার উপমা বানিয়ে ফেলেছি! ভাষার রসিকতায় অবশ্য এতে কোনো ক্ষতি নেই। ‘বাঁশ খাওয়া’ বা ‘বাঁশ দেওয়া’ বাংলা কথ্যভাষার মজার প্রকাশ হিসেবেই থাকুক। কিন্তু বাস্তবের বাঁশ যেন আর অবহেলায় না পড়ে থাকে।
বিশ্ব বাঁশ দিবসে তাই আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত-বাংলাদেশের বাঁশ কি শুধু বাঁশঝাড়েই থাকবে, নাকি তা আধুনিক শিল্প, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও রপ্তানি পণ্যের অংশ হয়ে উঠবে?

বাঁশ আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। নতুন হওয়া দরকার বাঁশকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি।
যে বাঁশকে আমরা কথার ছলে ‘বাঁশ দেওয়া’র প্রতীক বানিয়েছি, সেই বাঁশই হয়তো সঠিক পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ পেলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুনভাবে দাঁড় করানোর একটি শক্ত খুঁটি হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: কবি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মী

Ads small one

মামলা জট কমাতে মেডিয়েশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
মামলা জট কমাতে মেডিয়েশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার

বদিউজ্জামান: মামলা জট কমানো এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম ও মেডিয়েশন (মধ্যস্থতা) আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাতক্ষীরার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে উভয় পক্ষই জয়ী হয়, দুই পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদালতের মামলা জটও কমে। লিগ্যাল এইড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর সংলগ্ন চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের সম্মেলন কক্ষে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর বাস্তবায়নে এবং টিডিএইচ নেদারল্যান্ডস-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। কেউ যাতে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ন্যায্যতার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মামলা দায়ের হয় এবং নিষ্পত্তি হয় প্রায় তিন লাখ। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পন্ন থেকে যায়। এ মামলা জট থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ হিসেবে সরকার অউজ বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছে।

মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে আদালতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর সুযোগ কমে যায়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আদালতে মামলা দায়ের ৬০ শতাংশ কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জন্য এটি একটি স্বস্তির বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে কোনো পক্ষকে পরাজিত হতে হয় না; বরং দুই পক্ষই জয়ী হয়। উভয় পরিবারের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে সালিশ ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। সেই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় মেডিয়েশন পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। এ ইতিবাচক উদ্যোগকে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রসারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতন হবে, সাধারণ মানুষ তত বেশি উপকৃত হবে। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই লিগ্যাল এইডের একজন ‘সৈনিক’ হিসেবে কাজ করব-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার কথা উল্লেখ করে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে চাই আমরা। এজন্য মেডিয়েশন কার্যক্রমকে আরও অনেক বেশি এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তার সেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক মো. হাসাইন শওকত। তিনি বলেন, মানুষকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে। কাউকে সম্মান দিতে না পারলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তিনি ডিভাইসের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাতক্ষীরায় সাইবার সুরক্ষা ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। শিশু-কিশোরদের অনলাইনে যৌন হয়রানি ও অনলাইন নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। লিগ্যাল এইড অফিসে শিশুদের জন্য পৃথক ‘চাইল্ড সেল’ চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উপপরিচালক ড. তারেকুজ্জামান বলেন, শিশু ও যুবকদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আব্দুল বারী, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট শামিমুর রেজা শামীম, অ্যাডভোকেট এস,এম বিপ্লব হোসেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির পর্যবেক্ষক সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা, সাংবাদিক আখতারুজ্জামান বাচ্চু, টিআইবির রেবেকা সুলতানা, নাজমুল হুদা ও সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিমের মাহাবুবুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন্নাহার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ এবং সিনিয়র আইনজীবী মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু।

সভায় ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম, নির্যাতন ও শোষণের শিকার ব্যক্তিদের আইনগত সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হিসেবে এডভোকেট ইয়াসমিন সুলতানা সুমি ও সাকিবুর রহমান বাবলা পুরস্কার লাভ করেন এবং সান্তনা পুরস্কার দেয়া হয় অ্যাডভোকেট বিউটি আক্তার এর কন্যা জাফরিন আক্তারকে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু, উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, লাইন কার্যক্রম চালুসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের দাবীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাব, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদ, সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন কমিটি, ‘সময়ের দাবিতে সাতক্ষীরা সিটি কর্পোরেশন’ এবং সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে হবে। এজন্য দ্রুত ভিসি নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাতক্ষীরার মানুষের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন ঝাউডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী।

সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি এস এম মহিদার রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ, সাতক্ষীরা জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আকবর আলী, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম, সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মীর আবু বকর, কুমিরা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়, সমাজসেবক শেখ মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর হাশেমী, প্রভাষক এস এম রজব আলী ও আব্দুস সামাদ। সভা সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হাবিব।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা দেশের একটি সম্ভাবনাময় সীমান্তবর্তী জেলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, যোগাযোগ, নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্খিত অগ্রগতি থেকে পিছিয়ে রয়েছে। জেলার উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম চালু, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন এবং সাতক্ষীরাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবিও তুলে ধরেন।

বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষিয়ায় রেল যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, পর্যটন ও মানুষের যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বৃহত্তর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা আবুল হোসেন।

সভায় সাংবাদিক মো. ফিরোজ হোসেন, মো. শাহজাহান আলী মিটন, শেখ কামরুল ইসলাম, জি এম সোহরাব হোসেন, এস এম রবিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. জাকিরুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ বাহার, এম এম রবিউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. মাসুদুজ্জামান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মিহিরুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, আতিয়ার রহমান, গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক সিকদার, আসাদুজ্জামান খান, মো. মনিরুল ইসলাম, লাল্টু হোসেন, মো. দেলোয়ার হোসেন, আতিকুজ্জামান ও মো. হাফিজসহ সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভা থেকে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব দাবি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে আরও ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমির আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি খান আল মুস্তাসীম বিল্লাহ সজল। সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অত্র উপজেলায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারী বাঐডাংগা ব্রজলাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বৈশাখী খাতুন। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী নলধা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দেবনাথ এবং লখপুর আলহাজ্ব আম্বিয়া ইছহাক কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের শিক্ষার্থী জয়ীতা দাম দিশাকে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী জনাব জাহাঙ্গীর আলমের সৌজন্যে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া সমাজের দায়িত্ব। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান শুধু তাদের অর্জনকে সম্মানিত করে না, বরং অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে খান আল মুস্তাসীম বিল্লাহ সজল বলেন, “ফকিরহাট উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্য পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের উৎসাহিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমি শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।”

সহ-সভাপতি শেখ মীজানুর রহমান বলেন, “কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান একটি মহৎ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠস্বর সাংস্কৃতিক একাডেমির ক্রীড়া সম্পাদক মল্লিক আবু মুছা, সাংগঠনিক সম্পাদক শিবনাথ রায়, অর্থ সম্পাদক মুছা কালিমুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, সহ-দপ্তর সম্পাদক রেজীনা আক্তার, প্রচার সম্পাদক মান্না দে, আইন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আলী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শেখ আল ইমরান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রামীম চৌধুরী, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক রিমি রহমান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইনামুল হক সবুজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সমীরণ রায় এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বাসন্তী রায় প্রমূখ।