শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গুড়পুকুর মেলা ফিরবে কবে-নাকি ইতিহাসের পাতাতেই থাকবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলা ফিরবে কবে-নাকি ইতিহাসের পাতাতেই থাকবে?

মিলন বিশ্বাস

একটি মেলা কি শুধু কয়েক দিনের দোকানপাট, নাগরদোলা আর মানুষের ভিড়? একটি মেলা কি কেবল কেনাবেচার জায়গা? নাকি একটি মেলা হয়ে উঠতে পারে একটি জনপদের স্মৃতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও মানুষের মিলনের প্রতিচ্ছবি?
সাতক্ষীরার মানুষকে যদি এই প্রশ্ন করা হয়, তাহলে গুড়পুকুর মেলার কথা নিশ্চয়ই সামনে আসবে।

শুক্রবার পলাশপোলের গুড়পুকুরপাড়ে মনসা পূজা হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা গেলÑভক্তরা আসছেন, পূজা দিচ্ছেন, প্রার্থনা করছেন। পূজার আনুষ্ঠানিকতা আছে, মানুষের উপস্থিতি আছেÑকিন্তু নেই সেই চেনা মেলার কোলাহল। নেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সারি। নেই শিশুদের উচ্ছ্বাস, নেই সেই বিশাল লোকসমাগম। তাহলে কি গুড়পুকুর মেলার গল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে? যে মেলা ছিল সাতক্ষীরার পরিচয়ের অংশ সাতক্ষীরার গুড়পুকুর মেলার উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস ও জনশ্রুতি। এর সঠিক বয়স নিয়ে মতভেদ থাকলেও স্থানীয় ইতিহাসে মেলাটিকে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আয়োজন একসময় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার গ-ি পেরিয়ে পরিণত হয়েছিল বৃহৎ সামাজিক ও বাণিজ্যিক মিলনমেলায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা আসতেন। বসত নানা ধরনের দোকান। মাটির সামগ্রী, বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্য, খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রী, মিষ্টি, গাছের চারাÑকী ছিল না সেখানে!

মেলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারুশিল্পীরা। সাধারণ মানুষের জন্য এটি ছিল কেনাকাটার জায়গা, শিশুদের জন্য আনন্দের জায়গা, আর সাতক্ষীরার মানুষের জন্য ছিল এক ধরনের বার্ষিক উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে যার সূচনা, সময়ের সঙ্গে সেটি হয়ে উঠেছিল মানুষে মানুষে মিলনের এক অসাম্প্রদায়িক লোকজ আয়োজন।

এক ভয়াবহ ঘটনায় থমকে যায় ঐতিহ্য
কিন্তু গুড়পুকুরের সেই উৎসবের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা শহরের দুটি স্থানে বোমা হামলার ভয়াবহ ঘটনায় তিনজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য গুড়পুকুর মেলার আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। পরে মানুষের দাবির মুখে আবারও মেলা শুরু হয়। কিন্তু আগের সেই বিশালতা আর পুরোপুরি ফিরে আসেনি। একটি ভয়াবহ ঘটনা একটি মেলার আয়োজন থামিয়ে দিতে পারেÑকিন্তু একটি ঐতিহ্যকে কি চিরদিনের জন্য থামিয়ে দেওয়া যায়?

সময় বদলেছে, মেলাও বদলাতে পারে
নিরাপত্তার বাস্তবতা বদলেছে। মানুষের বিনোদনের ধরন বদলেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন বদলেছে। শহরও আগের মতো নেই। তাই বলে কি ঐতিহ্যও হারিয়ে যাবে? আমার মনে হয়, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। আগের মতো এক মাসব্যাপী বিশাল মেলা হয়তো এখন বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু সীমিত সময়ের, পরিকল্পিত ও নিরাপদ একটি মেলা কি আয়োজন করা যায় না? নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট সংখ্যক দোকান, কঠোর নিরাপত্তা, সিসিটিভি, অগ্নিনিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে একটি আধুনিক গুড়পুকুর মেলা আয়োজন করা সম্ভব কি নাÑসেটি ভেবে দেখা যেতে পারে।

মেলা বন্ধ হলে শুধু ব্যবসা বন্ধ হয় না
মেলা বন্ধ হলে কয়েকটি দোকান কম বসবেÑবিষয়টি এতটুকু নয়। মেলা বন্ধ হলে হারিয়ে যায় লোকজ সংস্কৃতির একটি মঞ্চ। হারিয়ে যায় স্থানীয় কারুশিল্পীর বাজার। হারিয়ে যায় ছোট ব্যবসায়ীর একটি মৌসুমি আয়ের সুযোগ। হারিয়ে যায় শিশুদের শৈশবের কিছু স্মৃতি। আর সবচেয়ে বড় কথাÑএকটি প্রজন্মের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের সাংস্কৃতিক যোগসূত্রটি দুর্বল হয়ে যায়।
আজকের শিশুটি যদি গুড়পুকুর মেলা না দেখে বড় হয়, আগামী প্রজন্মের কাছে গুড়পুকুর মেলা হয়তো শুধুই একটি পুরোনো গল্প হয়ে থাকবে।

প্রশাসনের কাছে একটি প্রশ্ন
প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়; একটি এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তাই প্রশ্নটি অভিযোগের নয়, বরং বিবেচনারÑ সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে কি নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া যায় না? মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে যদি নিরাপত্তা বড় বিষয় হয়, তাহলে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আয়োজনের পরিকল্পনা করা হোক। যদি বড় পরিসর সমস্যা হয়, ছোট পরিসরে শুরু হোক। যদি দীর্ঘ সময়ের আয়োজন সম্ভব না হয়, কয়েক দিনের আয়োজন হোক। যদি পুরোনো মেলার সব আয়োজন ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, অন্তত ঐতিহ্যের মূল ধারাটুকু ফিরিয়ে আনা হোক। কারণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ মানে অতীতকে হুবহু ফিরিয়ে আনা নয়; বরং অতীতের মূল্যবান অংশকে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যতের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

গুড়পুকুর শুধু পুকুরের নাম নয়
গুড়পুকুর আজ একটি জায়গার নাম। কিন্তু সাতক্ষীরার বহু মানুষের কাছে এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি শৈশবের স্মৃতি। এটি উৎসবের স্মৃতি। এটি পরিবারের সঙ্গে মেলায় যাওয়ার স্মৃতি। এটি দোকান সাজিয়ে বসা ব্যবসায়ীর স্মৃতি। এটি দূর গ্রাম থেকে আসা মানুষের স্মৃতি। এটি সাতক্ষীরার একটি সময়ের স্মৃতি। একটি পুকুর হয়তো ভরাট হয়ে যেতে পারে। একটি মাঠ হয়তো হারিয়ে যেতে পারে। একটি মেলাও হয়তো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু একটি জনপদের মানুষের স্মৃতি থেকে সেই ঐতিহ্যকে মুছে ফেলা যায় না।

ইতিহাসের কাছে আমাদের দায়
আমরা উন্নত শহর চাই। আধুনিক অবকাঠামো চাই। নিরাপদ নগর চাই। উন্নত বিনোদন চাই। কিন্তু উন্নয়নের পথে হাঁটতে গিয়ে যদি নিজেদের শিকড়টিই ভুলে যাই, তাহলে সেই উন্নয়নের সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সম্পর্ক কোথায় থাকবে? সাতক্ষীরার অনেক ঐতিহ্য ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে বা হারিয়ে যাওয়ার পথে। গুড়পুকুর মেলাও যদি ধীরে ধীরে স্মৃতির পাতায় চলে যায়, তাহলে হয়তো একদিন আমরা আফসোস করবÑ “একসময় এখানে গুড়পুকুর মেলা বসত।” সেই আফসোস করার দিন আসার আগেই কি আমরা কিছু করতে পারি না?

প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মন্দির কমিটি, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজÑসব পক্ষের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ গুড়পুকুর মেলার সম্ভাবনা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ এটি কোনো একক সম্প্রদায়ের বিষয় হিসেবে না দেখে সাতক্ষীরার সামগ্রিক লোকজ ঐতিহ্য হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। আজ মনসা পূজার দিনে গুড়পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে তাই একটি প্রশ্নই বারবার মনে আসেÑ গুড়পুকুর মেলার কোলাহল কি আবার ফিরবে? নাকি আগামী প্রজন্মকে আমরা শুধু ছবি দেখিয়ে বলবÑ “এই জায়গাতেই একসময় সাতক্ষীরার বিখ্যাত গুড়পুকুর মেলা বসতৃ” সিদ্ধান্ত আজকের মানুষের।

তবে ইতিহাস আমাদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে যায়Ñ একটি ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পর তাকে স্মরণ করার চেয়ে, বেঁচে থাকতেই তাকে সংরক্ষণ করা কি বেশি জরুরি নয়?

(এটা লেখকের নিজস্ব মন্তব্য)। লেখক: সংবাদদকর্মী

Ads small one

কলারোয়ায় রাজনগর মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় রাজনগর মাদ্রাসায় অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার ছোট রাজানগর দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ বোর্ড আয়োজনের চেষ্টার অভিযোগ তুলে কথিত অবৈধ নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন এক প্রার্থীর স্বামী।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারী জাকিয়া সুলতানার স্বামী মো. ফিরোজ আলম এসব অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বজলুল করিম জানান, এসব বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নোটিশের মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদও অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলের বিভিন্ন চিংড়ি ঘের থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে।

১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা একাধিক ঘেরে প্রবেশ করে মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঘের মালিক আব্দুল মান্নান ও মাসুদ রেজাসহ অন্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা রাখেদুল ইসলাম ও মাহমুদ আলী খান জানান, প্রতি বছরই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় রাতের পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

গুড়পুকুরপাড়ে মনসা পূজা, মেলার অপেক্ষায় সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
গুড়পুকুরপাড়ে মনসা পূজা, মেলার অপেক্ষায় সাতক্ষীরা

oplus_0

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরপাড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা। ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) শহরের পলাশপোল এলাকার মনসাতলায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই পূজাস্থলে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভক্তরা ফুল, ফল ও বিভিন্ন উপাচার নিবেদন করে প্রার্থনা করেন।

মনসা পূজাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরায় বসে আসছে ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। একসময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এ মেলায় আসতেন। নানা পণ্যের দোকানের পাশাপাশি মেলাটি পরিণত হতো মানুষের মিলনমেলায়। তবে ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বোমা হামলার পর দীর্ঘ সময় মেলার আয়োজন বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে আবার শুরু হলেও আগের সেই জৌলুস আর ফিরে আসেনি। গত বছরও মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হলেও মেলা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে হলেও সাতক্ষীরার এই ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন আবারও চালু করা হোক। তাঁদের মতে, গুড়পুকুর মেলা শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি সাতক্ষীরার ইতিহাস ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ।

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পূজা অর্চনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল গুড়পুকুর মনসাতলায় বটবৃক্ষের নিচে মনসা ও বিশ্বকর্মা পূজা শুরু হয়। একই সাথে দুটি পূজাকে কেন্দ্র করে এলাকাটি মহা মিলনমেলায় পরিণত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলাশপোল গুড়পুকুর পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক গৌর দত্ত, সদস্যসচিব তপন হালদার, পলাশপোল মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু, পুরোহিত পরিতোষ চক্রবর্তী, সহকারী পুরোহিত তাপস চক্রবর্তীসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা।

সাধারণত প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর কন্যা সংক্রান্তি বা ভাদ্র মাসের শেষ দিনে বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হয়। হিন্দু ধর্মের অন্যান্য পূজা চাঁদের গতির ওপর নির্ভর করে হলেও, বিশ্বকর্মা পূজা নির্ধারিত হয় সূর্যের গতির ওপর। কন্যা সংক্রান্তির দিন সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি ভাদ্র সংক্রান্তি বা ভাদ্র মাসের শেষ দিন। সাধারণত বাংলা পঞ্জিকার প্রথম পাঁচ মাস মিলিয়ে ১৫৬ দিন হয়, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বর পড়ে। তাই প্রায় প্রতি বছরই এই দিনে দেবশিল্পীর আরাধনা করা হয়। তবে কোনো বছর মাসের দিনের তারতম্য হলে এটি ১৮ সেপ্টেম্বরও হতে পারে।

হিন্দু ধর্মালম্বীদের মতে, দেবশিল্পী ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন মহাবিশ্বের প্রথম স্থপতি বা প্রকৌশলী। তিনি দেবতাদের নানা অস্ত্র, প্রাসাদ ও পুরীর জগন্নাথ মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। কারিগর, শিল্পী, শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা তাঁদের কাজের যন্ত্রাংশ, গাড়ি ও যন্ত্রপাতি পূজা করে জ্ঞান, দক্ষতা ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন।