শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

বাংলায় পরীক্ষা প্রথা এলো কীভাবে?/ আখলাকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
বাংলায় পরীক্ষা প্রথা এলো কীভাবে?/ আখলাকুর রহমান

আখলাকুর রহমান

আজকালকার তরুণ সমাজ যখন রাজপথে কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ‘পরীক্ষা পিছিয়ে দাও’ বলে শোরগোল তোলে, তখন আমার মনে ক্ষোভ নয়, এক গভীর বিষাদের জন্ম হয়। এই পোলাপানেরা যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আজ আর্তনাদ করছে, তারা নিজেরাও জানে না এই মারণাস্ত্রের শিকড় কত গভীরে প্রোথিত। পরীক্ষা কোনো আকস্মিক আসমানি গজব নয়; এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথার মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব তৈরির কারখানা। অথচ আমরা চোখ বন্ধ করে বছরের পর বছর ধরে আমাদের সন্তানদের এই যূপকাষ্ঠে বলি দিয়ে আসছি।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, মানুষের চিন্তার স্বাধীনতাকে প্রথম শিকল পরানোর এই কায়দাটি আবিষ্কার করেছিল চার হাজার বছর আগের চৈনিক সামন্ত শাসকেরা। ‘কোজু’ নামের সেই রাজকীয় পরীক্ষা পদ্ধতি আসলে ছিল মানুষকে মগজহীন হুকুমবরদারে পরিণত করার প্রথম রাষ্ট্রীয় প্রজেক্ট। এক অন্ধকার কুঠুরির ভেতর দিনের পর দিন মানুষকে আটকে রেখে প্রাচীন পুঁথি মুখস্থ করানো হতো। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—এমন একদল অনুগত দাস তৈরি করা, যারা প্রশ্ন করতে শিখবে না, কেবল শাসকের আদেশ তামিল করবে। সামন্তবাদের সেই নোংরা ভূতটাই কালক্রমে আধুনিকতার মুখোশ পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমাদের এই বাংলায়, এই ভূখ-ে পরীক্ষা নামক এই মনস্তাত্ত্বিক জাঁতাকলটি আমদানি করেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা। লর্ড ম্যাকলে যখন এই উপমহাদেশে ইংরেজি শিক্ষার নীল নকশা তৈরি করলেন, তাঁর উদ্দেশ্য আমাদের শিক্ষিত করা ছিল না। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এমন একদল ‘বাদামি সাহেব’ তৈরি করা, যারা রক্তে-মাংসাবে বাঙালি হলেও মগজে ও মনস্তত্ত্বে হবে খাঁটি ইংরেজ। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের ঠিক ক্রান্তিলগ্নে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলো, তখন থেকেই মূলত এই অঞ্চলের মানুষের ঘাড়ে পরীক্ষার জোয়াল চিরতরে চাপিয়ে দেওয়া হলো। সাম্রাজ্যবাদীরা খুব ভালো করেই জানত, তরুণের স্বাধীন চিন্তা আর বিদ্রোহের আগুনকে যদি নিভিয়ে দিতে হয়, তবে তাকে পরীক্ষার হল নামক এক একটা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দিতে হবে।

আজ আমরা স্বাধীন দেশে বাস করছি বলে বড়াই করি, কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো সেই ঔপনিবেশিক দাসত্বের লিগ্যাসি বয়ে বেড়াচ্ছে। পরীক্ষা কখনো মেধার বিকাশ ঘটায় না, বরং তা মানুষের সহজাত সৃজনশীলতাকে গলা টিপে হত্যা করে। একটি তিন ঘণ্টার খাতার পৃষ্ঠায় কয়েকটি মুখস্থ করা বুলি উগড়ে দিয়ে যে নম্বর পাওয়া যায়, তা দিয়ে কেরানি তৈরি করা যায়, কিন্তু কোনো স্বাধীনচেতা চিন্তাবিদ বা মানুষ তৈরি করা যায় না। পোলাপানেরা যখন আজ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য হাহাকার করে, আমি তার ভেতর এক অবচেতন বিদ্রোহের সুর শুনতে পাই। এই জীর্ণ, অচল আর প্রাণহীন শিক্ষাকাঠামো ভেঙে ফেলার এখনই সময়, অন্যথায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কেবলই সার্টিফিকেটধারী পঙ্গু মগজের এক একটা জীবন্ত লাশ হিসেবে বেঁচে থাকবে।

লেখক: উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা: আসিফা

 

Ads small one

দল-মত নির্বিশেষে আমি সবার এমপি: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
দল-মত নির্বিশেষে আমি সবার এমপি: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, “নির্বাচনে আমি দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হলেও এখন আমি কোনো একটি দলের নই, বরং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতিনিধি।”

৩ জুলাই বিকেলে তালা উপজেলার খেশরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য বলেন, এ পর্যন্ত যে সরকারি বরাদ্দ এসেছে, তা জনগণের কল্যাণে বণ্টন করা হয়েছে এবং প্রকৃত প্রাপ্য ব্যক্তিদের খুঁজে তাঁদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা যদি কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম করে থাকেন এবং অযোগ্য কাউকে সুবিধা দিয়ে থাকেন, তবে তা আমাকে জানালে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাংবাদিক ও ভিন্নমতের মানুষদের প্রতি কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আগামী পাঁচ বছর জনগণের খাদেম হিসেবে কাজ করার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

খেশরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে এবং মোহাম্মদ রিপনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তালা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, খেশরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী হোসাইন, মাগুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আইয়ুব আলী, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু এবং মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ।

ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ শিক্ষার্থী বিথার রবিউলের জন্মদিন উদ্যাপিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ শিক্ষার্থী বিথার রবিউলের জন্মদিন উদ্যাপিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ল কলেজের অধ্যক্ষ ড. রবিউল ইসলাম খান ও প্রয়াত আইনজীবী হাসনা হেনা খানের একমাত্র পুত্র, ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী বিথার রবিউল ইসলাম খানের জন্মদিন উদ্যাপিত হয়েছে। ৩ জুলাই শুক্রবার রাতে শহরের খান বাড়িতে অ্যাডভোকেট হাসনা হেনা খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই জন্মদিন পালন করা হয়।

জন্মদিনের এই আয়োজন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিথার রবিউল ইসলাম খান বলেন, জীবনের আরেকটি বছর পূর্ণ করায় তিনি সবার কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চান। জন্মদিন উপলক্ষে কেক বা উপহারের চেয়েও তাঁর পথচলাকে যাঁরা অর্থবহ করে তুলেছেন, সেই প্রিয় মা-বাবার কথা বেশি মনে পড়ছে। মায়ের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, “আজ এই দিনে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে আমার গর্ভধারিণী মাকে, যিনি আজ এই পৃথিবীতে নেই। যাঁর মা নেই, তাঁর কিছুই নেই। তিনি আমাকে ছায়ার মতো আগলে রাখতেন।” কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য তিনি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: মধুবাগ আবাসিক এলাকা উন্নয়ন কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শহরের কামালনগর লেকভিউ রেস্টুরেন্টে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সহসভাপতি মো. আব্দুস সেলিম ও অলোক তরফদার, সহসভাপতি আনিছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাঈদ, যুগ্ম সম্পাদক মো. আবু তালেব এবং কার্যনির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছারুজ্জামান।

সভায় মধুবাগ আবাসিক এলাকার সার্বিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় এবং এলাকায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় কমিটির সদস্য মো. আব্দুল জলিল, আইনজীবী শরিফুল ইসলাম, লাইলা আফরোজা, মো. মিজানুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, ব্রিটিশ রায়, মো. আব্দুস সামাদ, মো. আতিয়ার রহমান, মো. আলাউদ্দীন আল মারুফ, আনারুল হক, অখিল চন্দ্র বিশ্বাস এবং চিকিৎসক এ এফ এম একরামুল হকসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।