শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় হোমিও চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় হোমিও চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের সমসাময়িক নানা সমস্যা, পেশাগত চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ জুলাই সকাল নয়টায় শহরের আল-বারাকা মার্কেটের পিজ্জা মিলান পার্টি সেন্টারে এই সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভার আহ্বায়ক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার ড্রাগ সুপার মো. বাশারফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথি) ডা. পার্থ কুমার দে।

প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান শরীফ বলেন, হোমিওপ্যাথিক ওষুধে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত অ্যালকোহল ব্যবহৃত হয়। সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণের বেশি অ্যালকোহল সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। তিনি সবাইকে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান। ড্রাগ সুপার মো. বাশারফ হোসেনও চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় ড্রাগ লাইসেন্স গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে এই প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অনেক সময় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকেরা হয়রানির শিকার হন, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান। সভায় সাতক্ষীরার হোমিও কল্যাণ সমিতিকে পুনর্গঠন করে একটি শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রয়াত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের রুহের মাগফিরাত ও অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়। ডা. মাওলানা হাফিজুর রহমান ও ডা. আব্দুল ওহাব আজাদের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ডা. সৈয়দ নাসিম আলী, ডা. সিরাজ উদ্দিন খান, ডা. এ এফ এম একরামুল হক প্রমুখ।

 

Ads small one

নিঃশব্দ বিদ্রোহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
নিঃশব্দ বিদ্রোহ

জহুরুল হক জুলু
যারা ভেবেছিল
মানুষের কণ্ঠ চেপে রাখলেই
নদীর স্রোত থেমে যাবে,
তারা বোঝেনি—
জমে থাকা নীরবতাও একদিন
বজ্রের ভাষা শিখে নেয়।

এই নগরের বাতাসে আজ
অদ্ভুত এক ধাতব গন্ধ।
প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অবিশ্বাসের কালো ছায়া।

চোখে চোখ পড়লেই
মানুষ এখন হিসেব কষে
কে বন্ধু, কে ছদ্মবেশী শত্রু।

একসময় বিকেলের মাঠে
শিশুরা দৌড়ে বেড়াতো পাখির মতো,
এখন সন্ধ্যা নামলেই
দরজাগুলো নিঃশব্দে বন্ধ হয়ে যায়।

মায়েরা জানালার ফাঁক দিয়ে
ফিরে আসা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে,
যেন প্রতিটি পদধ্বনি
ভয়ের কোনো সংবাদ বহন করে।

রাত গভীর হলে
অনেক ঘরে চুলা জ্বলে না,
তবু ক্ষুধার শব্দ
দেয়াল ভেদ করে বেরিয়ে আসে।

একজন বাবা অন্ধকারে বসে
নিজের হাত দুটো দেখেন
কেন এত অসহায় লাগে আজ!
চারদিকে এত উচ্চারণ,
তবু সত্যের জন্য কোথাও জায়গা নেই।

মানুষের দীর্ঘশ্বাসগুলো
ধোঁয়ার মতো জমে আছে আকাশে।
যে মুখগুলো একদিন
স্বপ্নে দীপ্ত ছিল,
আজ সেখানে কেবল
ক্লান্ত সময়ের দাগ।

তোমরা শুনতে পাও না?
ভেঙে পড়া মানুষের বুকের ভেতর
কেমন প্রচ- শব্দ ওঠে!
সেটা কোনো ঝড় নয়,
কোনো সমুদ্রের গর্জনও নয়-
সেটা বেঁচে থাকার শেষ আর্তি।

মনে রেখো,
অত্যাচারের আয়ু কখনও অনন্ত হয় না।
একদিন জমে থাকা প্রতিটি কান্না
আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে।
আর তখন
সমস্ত নীরব রাস্তা জেগে উঠে
মানুষের পক্ষ নেয়।

যারা এতদিন
ভাঙা হৃদয়ের শব্দ শুনেও
অবিচল থেকেছিল,
তারাও হঠাৎ টের পাবে
পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য
ক্রুদ্ধ মানুষের চোখ নয়,
বরং তার নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বিশ্বাস।
কারণ
একবার যদি মানুষ
স্বপ্ন দেখা ভুলে যায়,
তবে সভ্যতার সমস্ত আলোকসজ্জাও
অন্ধকার ঢাকতে পারে না।

স্বপ্নপূরণে আমেরিকায় আস্ত স্টেডিয়াম বানালেন শাহরুখ, খরচ কত?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
স্বপ্নপূরণে আমেরিকায় আস্ত স্টেডিয়াম বানালেন শাহরুখ, খরচ কত?

ক্রীড়াপ্রেমীরা যখন মেতে আছেন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায়, ঠিক তখনই ক্রিকেট বিশ্বে এক বিরাট চমক দিল বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের ‘নাইট রাইডার্স গ্রুপ’। মার্কিন মুলুকে ক্রিকেটের জোয়ার আনতে এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আস্ত একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম উন্মোচন করল কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি।

স্বপ্নের এই স্টেডিয়ামটি তৈরিতে প্রাথমিক খরচ হয়েছে প্রায় ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪৬ কোটি টাকারও বেশি এবং ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি রুপি। ক্যালিফোর্নিয়ার পমোনা ফেয়ারপ্লেক্সে নির্মিত এই বিশ্বমানের স্টেডিয়ামটির প্রথম ঝলক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। মাত্র ১০০ দিনের রেকর্ড সময়ে এই স্টেডিয়ামের মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

এই ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে নিজের আবেগ প্রকাশ করেন শাহরুখ। তিনি বলেন, “সবাইকে হ্যালো। আজ আমাদের একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার দিন। বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটকে আমরা নিয়ে আসছি লস অ্যাঞ্জেলেসে। ফেয়ারপ্লেক্স, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং নাইট রাইডার্স-এর দীর্ঘমেয়াদী যৌথ প্রয়াসেই এটা সম্ভব হচ্ছে; যার লক্ষ্য এমন একটা জায়গা তৈরি করা যা উদ্দীপনা, সামাজিক মেলবন্ধন, একতা এবং অবশ্যই বিনোদনে ভরপুর থাকবে।

লস অ্যাঞ্জেলেস এবং আমাদের এই আগামীর পথচলার জন্য শুভকামনা। সবাইকে ধন্যবাদ এবং অনেক অনেক ভালোবাসা।” একই সঙ্গে এই মহৎ যাত্রায় পাশে থাকার জন্য আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-কে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিং খান।

আইসিসির আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে তৈরি করা এই স্টেডিয়ামটিতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। এর প্রধান স্কয়ারে রয়েছে আইসিসি অনুমোদিত ৮টি উইকেট এবং নৈশকালীন ম্যাচের জন্য বসানো হয়েছে ১২০ ফুট উঁচু ৬টি ফ্লাডলাইট টাওয়ার। মেজর লিগ ক্রিকেটের নতুন মৌসুমের ম্যাচ দিয়ে এই মাঠের যাত্রা শুরু হচ্ছে।

বর্তমানে আসন সংখ্যা ৫,০০০ হলেও ২০২৮ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১৫,০০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মূলত আমেরিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা দল লস অ্যাঞ্জেলস নাইট রাইডার্সের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই মাঠে নীল জার্সিতে ভারতীয় দলকে কবে দেখা যাবে। দীর্ঘ ১২৮ বছর পর অলিম্পিকের মঞ্চে ফিরছে ক্রিকেট। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক আয়োজক কমিটি এবং আইসিসি ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সব ক্রিকেট ম্যাচ এই নাইট রাইডার্স ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, অলিম্পিক পদকের লড়াইয়ে টিম ইন্ডিয়া এই মাঠেই মাঠে নামবে। মার্কিন মুলুকে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে কেকেআর-এর এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ক্রীড়া দুনিয়ায় এক নতুন মাইলফলক।

 

এফডিসিতে ঢুকলে এখন কষ্ট লাগে: ডা. এজাজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
এফডিসিতে ঢুকলে এখন কষ্ট লাগে: ডা. এজাজ

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসে নিজের আবেগ ও স্মৃতিচারণ প্রকাশ করেছেন তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা ও চিকিৎসক এজাজ আহমেদ। এফডিসির বর্তমান অবস্থা ও ফেলে আসা সোনালি দিনগুলোর কথা মনে করে গণমাধ্যমের সামনে একরাশ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই এফডিসির আগের কর্মব্যস্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশের কথা স্মরণ করে ডা. এজাজ বলেন, “কষ্ট লাগে যখন হুমায়ূন স্যারের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’ কিংবা ‘শ্যামল ছায়া’ ছবির কাজ করেছি— তখনকার এফডিসির পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কী এক উৎসবমুখর জায়গা ছিল এটা! যারা ওই সোনালি দিনগুলো দেখেননি, তারা বর্তমানের এই শূন্যতা বুঝবেন না। এখন এফডিসিতে ঢুকলে আগের সেই উৎসব, ব্যস্ততা আর উচ্ছলতা চোখে পড়ে না, যা মনে ভীষণ কষ্ট দেয়।”

তবে অতীতের গৌরব হারিয়ে যাওয়ার বেদনার মাঝেও ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এই অভিনেতা। শিল্পী সমিতির চলমান নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি। ডা. এজাজ মনে করেন, এই নির্বাচন চলচ্চিত্রকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারই একটি প্রয়াস। একদল মানুষ চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখার এবং সামনে এগিয়ে নেওয়ার যে সৎ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তা কখনও বৃথা যাবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

হতাশাকে একপাশে ঠেলে দিয়ে দর্শকদের হলমুখী হওয়ার প্রবণতাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “দর্শকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হলমুখী হচ্ছেন। এখন ছবি আগের চেয়ে অনেক উন্নত, সুন্দর ও সফল হচ্ছে। তাই আমি কখনোই বলবো না যে চলচ্চিত্র পিছিয়ে আছে, বরং চলচ্চিত্র এগিয়ে যাচ্ছে।”

নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. এজাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কখনোই হতাশাকে জায়গা দিই না, সবসময় উৎসাহ নিয়ে কাজ করি। কারণ হতাশ হয়ে পড়লে কখনও সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় না। আমি হতাশ হতে রাজি নই, আমি চলচ্চিত্রে কেবলই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে।”

নির্বাচনকে চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা চলচ্চিত্রের স্বার্থে সৎ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা অবশ্যই সফল হবেন।