শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

জীবনের অভিধানে ‘প’-এর কারসাজি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
জীবনের অভিধানে ‘প’-এর কারসাজি!

গাজী হাবিব

জীবনে যত ঝামেলা, যত প্যাঁচ, যত প্যারা- সবকিছুর শুরুতেই যেন এক রহস্যময় অক্ষর বিস্ময়করভাবে ধরা পড়েচে! সেই অক্ষরটি হলো ‘প’। অবশ্য বাংলা বর্ণমালার ‘প’-এর কোনো দোষ নেই। সে তো নিরীহ একটি বর্ণ। কিন্তু মানুষের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ‘প’ দিয়ে শুরু হওয়া অনেক শব্দই জীবনে কখনো সুখ, কখনো দুঃখ, আবার কখনো মহাবিপদ ডেকে আনে। তাই মজা করে বলা যায়- ‘সব নষ্টের গোড়া হলো প!’
চলুন, ‘প’-এর প্যাঁচে জীবনের কয়েকটি পরিচিত অধ্যায় ঘুরে আসি।

পথ
প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি পথ থাকে। কারও পথ শিক্ষার, কারও কর্মের, কারও ব্যবসার, কারও সেবার, আবার কারও পথ স্বপ্ন পূরণের। পথ কখনো আগে থেকে তৈরি থাকে না। অনেক সময় চলতে চলতেই মানুষ নিজের পথ খুঁজে নেয়। ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখা হয়, বড় হতে হতে সেই স্বপ্নের রং বদলে যায়। মানুষ নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হয়, নিজের সক্ষমতা বুঝতে শেখে এবং একসময় উপলব্ধি করেÑগন্তব্যের চেয়েও পথের অভিজ্ঞতা অনেক মূল্যবান। কিছু পথ আমাদের ধৈর্য শেখায়, কিছু পথ সাহস শেখায়, কিছু পথ মানুষ চিনতে শেখায়। আবার কিছু কঠিন পথ আমাদের নিজের শক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

প্রত্যয়
পথ খুঁজে পাওয়া গেলেই হয় না। সেই পথে হাঁটার জন্য দরকার প্রত্যয়। প্রত্যয় হলো নিজের ওপর বিশ্বাস। চারপাশের মানুষ যখন বলে, ‘তুমি পারবে না’, তখন ভেতর থেকে একটি কণ্ঠ যখন বলে-‘আমি চেষ্টা করব’- সেই কণ্ঠই প্রত্যয়। প্রত্যয় মানে অহংকার নয়। প্রত্যয় মানে নিজের সীমাবদ্ধতা জানা, ভুল থেকে শেখা এবং তারপরও এগিয়ে যাওয়ার সাহস রাখা। অনেকে প্রতিভাবান হয়েও ব্যর্থ হয়, কারণ তারা নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারে না। আবার অনেক সাধারণ মানুষ অসাধারণ হয়ে ওঠে শুধু এক কারণে- তারা হাল ছাড়ে না।

প্রচেষ্টা
স্বপ্ন দেখা সহজ। পরিকল্পনা করাও সহজ। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য যে নিয়মিত কাজ করতে হয়, তার নাম প্রচেষ্টা। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করতে চায়- এটি তার স্বপ্ন। ব্যবসায়ী সফল হতে চান- তাকে পরিশ্রম করতে হবে। খেলোয়াড় ভালো করতে চান-তাকে অনুশীলন করতে হবে। লেখক ভালো লিখতে চান- তাকে নিয়মিত লিখতে হবে। সাংবাদিক ভালো প্রতিবেদন করতে চান- তাকে পড়তে, জানতে, অনুসন্ধান করতে হবে। শুধু ইচ্ছা কখনো সাফল্য এনে দেয় না। ইচ্ছা পথ দেখায়, কিন্তু প্রচেষ্টা সেই পথে এগিয়ে নেয়।

প্রগতি
প্রত্যেক মানুষ একদিনে সফল হয় না। সফলতা আসলে ছোট ছোট অগ্রগতির সমষ্টি। সেই অগ্রগতির নাম প্রগতি। প্রগতি মানে সবসময় বড় কোনো অর্জন নয়। গতকালের চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়াও প্রগতি। গতকাল যে বিষয়টি বুঝতে পারেননি, আজ সেটি বুঝতে পারাও প্রগতি। আগের ভুলটি আজ আর না করাও প্রগতি। গতকাল যেখানে ভয় পেয়েছিলেন, আজ সেখানে সাহস করে দাঁড়ানোও প্রগতি। আমরা অনেক সময় অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করি। তখন মনে হয়, অন্যরা অনেক এগিয়ে গেছে, আর আমি পিছিয়ে আছি।

প্ল্যানস
জীবনে প্ল্যান থাকতে হয়। কোথায় যাব, কী করব, কীভাবে ভবিষ্যৎ গড়ব- এসব নিয়ে পরিকল্পনা করা ভালো। কিন্তু শুধু প্ল্যান করলেই হবে না, সেটি বাস্তবায়নের কাজও করতে হবে। কারণ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অপূর্ণ জিনিসগুলোর একটি হলো- ‘দারুণ একটা প্ল্যান ছিল!’

পড়াশোনা
ছাত্রজীবনের সবচেয়ে বড় ‘প’- পড়াশোনা। কেউ পড়াশোনাকে ভালোবাসে, কেউ ভয় পায়, আবার কেউ পরীক্ষার আগের রাতে বই খুলে মনে করে- আজ থেকেই জীবন বদলে যাবে! আসলে পড়াশোনা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়; জ্ঞান, চিন্তা ও ভবিষ্যৎ গড়ার জন্যও জরুরি। তবে পড়াশোনাকে নিয়ে অতিরিক্ত চাপও ভালো নয়। নিয়মিত চেষ্টা আর ধৈর্যই আসল।

পরিশ্রম
সাফল্যের সঙ্গে ‘পরিশ্রম’-এর সম্পর্ক অনেক পুরোনো। ভাগ্য দরজায় কড়া নাড়তে পারে, কিন্তু দরজা খুলে দিতে হয় নিজের পরিশ্রমে। জীবনে শর্টকাটের সন্ধান করতে গিয়ে অনেকেই সময় হারায়। অথচ নিয়মিত পরিশ্রম ধীরে হলেও মানুষকে সামনে এগিয়ে দেয়।

পরীক্ষা
‘পরীক্ষা’ শব্দটি শুনলেই অনেকের বুক ধড়ফড় শুরু হয়। বই খুললে অনেকের ঘুম আসে, কিন্তু পরীক্ষা শেষ হলে মনে হয়- আরেকটু পড়লেই ভালো হতো! পরীক্ষা আসলে শুধু জ্ঞান যাচাইয়ের মাধ্যম নয়; এটি প্রস্তুতি, সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা। তাই পরীক্ষাকে ভয় না পেয়ে প্রস্তুত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্যারা
জীবনের সবচেয়ে পরিচিত শব্দগুলোর একটি- প্যারা। কখনো পড়াশোনার প্যারা, কখনো পরিবার, কখনো বন্ধু, কখনো টাকা-পয়সা, আবার কখনো নিজের চিন্তাই নিজের সবচেয়ে বড় প্যারা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সব প্যারা খারাপ নয়। কিছু প্যারা মানুষকে দায়িত্বশীল করে, কিছু প্যারা মানুষকে বাস্তবতা শেখায়। আসল বিষয় হলো-প্যারার মধ্যে পড়ে যেন মানুষ নিজেকে হারিয়ে না ফেলে।

পয়সা
জীবনে পয়সা দরকার। পয়সা ছাড়া সংসার চলে না, পড়াশোনা চলে না, স্বপ্নও অনেক সময় বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়। কিন্তু পয়সা যখন প্রয়োজনের বদলে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষ সম্পর্ক, নীতি ও বিবেকের মূল্য ভুলে যেতে পারে। অর্থাৎ পয়সা প্রয়োজনীয়- কিন্তু পয়সার পেছনে ছুটতে গিয়ে যেন মানুষ নিজেকেই হারিয়ে না ফেলে।

পকেটখালি
মাসের শুরুতে পকেট ভারী, মাঝামাঝি স্বাভাবিক, আর মাসের শেষে-পকেট যেন বাতাসে ভরা! পকেট খালি হলে তখন বোঝা যায়, ছোট ছোট খরচগুলো কত বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই আয় যতই হোক, হিসাব করে চলার অভ্যাস থাকাটা জরুরি।

প্যাঁচ
কিছু মানুষ যেখানে সহজ রাস্তা আছে, সেখানেও প্যাঁচ খুঁজে বের করেন। সম্পর্কের প্যাঁচ, কথার প্যাঁচ, রাজনীতির প্যাঁচ, অফিসের প্যাঁচÑজীবন যেন প্যাঁচেরই আরেক নাম। তবে সব প্যাঁচ অন্যের তৈরি নয়। অনেক সময় আমরা নিজেরাই অপ্রয়োজনীয় চিন্তা করে সহজ বিষয়কে কঠিন বানিয়ে ফেলি।

প্রেশার
জীবনে প্রেশার থাকবেই। পড়াশোনার প্রেশার, কাজের প্রেশার, পরিবারের প্রত্যাশা- সব মিলিয়ে কখনো কখনো মনে হয়, জীবনটাই যেন একটা প্রেসার কুকার! তবে সব চাপ একা বহন করার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্য, শিক্ষক বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলা উচিত। নিজের সামর্থ্য বুঝে এগিয়ে যাওয়াও জরুরি।

পেইন
‘পেইন’ মানে কষ্ট। জীবনে কষ্ট থাকবে- এটাই বাস্তবতা। কখনো সম্পর্কের কষ্ট, কখনো ব্যর্থতার কষ্ট, কখনো প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কষ্ট। তবে প্রতিটি কষ্টই মানুষকে কিছু না কিছু শেখায়। তাই পেইনকে শুধু দুর্ভাগ্য না ভেবে জীবনের শিক্ষক হিসেবেও দেখা যায়।

পাগলামি
জীবনে একটু পাগলামি না থাকলে জীবনও যেন পানসে। বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ ঘুরতে যাওয়া, নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা কিংবা নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলা- এসবও এক ধরনের ভালো পাগলামি। তবে পাগলামি আর বেপরোয়া আচরণের মধ্যে পার্থক্য আছে। আনন্দ করতে গিয়ে নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

প্রেম
জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিগুলোর একটি প্রেম। কিন্তু প্রেম যখন সুন্দর সম্পর্কের বদলে অতিরিক্ত আবেগ, ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা অযথা প্রত্যাশার বোঝা হয়ে যায়, তখন শুরু হয় প্যারা। ঘুম কমে যায়, মন খারাপ বাড়ে, মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় বাড়ে। ফলে প্রেম কখনো জীবনকে সুন্দর করে, আবার কখনো জীবনকে ‘প্যারা’ করে তোলে!

পরকীয়া
প্রেমের পরের ধাপ যদি হয় ‘পরকীয়া’, তাহলে ‘প্যারা’ অনেক গুণ বেড়ে যায়। একটি ভুল সিদ্ধান্ত শুধু একজনের নয়, একাধিক মানুষের জীবনকে অশান্ত করে তুলতে পারে। বিশ্বাস ভাঙে, সম্পর্ক নষ্ট হয়, পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়। তাই পরকীয়ার শুরু যতটা গোপন, তার পরিণতি অনেক সময় ততটাই প্রকাশ্য।

প্রতারণা
প্রতারণা শুধু টাকা-পয়সার ক্ষেত্রে হয় না। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ভুয়া আশ্বাস কিংবা বিশ্বাসের সুযোগ নেওয়াও প্রতারণা। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় তখনই, যখন মানুষ শুধু টাকা নয়- কারও বিশ্বাসও হারিয়ে ফেলে। টাকা হারালে আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন।

পত্রিকা
পত্রিকা হলো এমন একটি গণমাধ্যম, যেখানে নির্দিষ্ট সময় পরপর দেশ-বিদেশের সংবাদ, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, মতামত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়। সাধারণত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক ভিত্তিতে পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে থাকে। মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া, জনমত গঠন করা এবং সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা পত্রিকার অন্যতম প্রধান কাজ। সহজভাবে বলা যায়- পত্রিকা হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ।

পেটের সমস্যা
মানুষের অনেক বড় বড় স্বপ্ন থাকে, কিন্তু পেটের সমস্যা হলে সেই স্বপ্ন কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত! সুস্থ শরীর ছাড়া ভালোভাবে পড়াশোনা, কাজ কিংবা আনন্দ- কিছুই ঠিকমতো করা যায় না। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি, ঘুম ও নিয়মিত জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পাদ্য
‘পাদ্য’ শব্দটি শুনলেই অনেকে হাসতে শুরু করেন। কিন্তু জীবনের কিছু বিষয় এমনই- যেগুলো নিয়ে হাসাহাসি করা সহজ, অথচ বাস্তবতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের স্বাভাবিক বিষয়গুলো নিয়ে অযথা লজ্জা বা কুসংস্কার না রেখে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাহলে কি সত্যিই সব নষ্টের গোড়া ‘প’? না, মোটেও নয়। ‘প’ দিয়ে যেমন প্রেম, পড়াশোনা, পরিশ্রম, পরিকল্পনা শুরু হয়, তেমনি প্যারা, প্রতারণা, পরকীয়া-ও শুরু হয়। অর্থাৎ ভালো-মন্দ দুটোই মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। একই ‘প’ কারও জীবনে প্রেম হয়ে আসে, কারও জীবনে প্যারা। কেউ পড়াশোনা করে ভবিষ্যৎ গড়ে, কেউ আবার পাগলামি করে সময় নষ্ট করে। কেউ পরিশ্রম করে সফল হয়, কেউ পয়সার পেছনে ছুটতে গিয়ে সম্পর্ক হারায়।

তাই আসল সমস্যা ‘প’-এ নয়- সমস্যা আমাদের পছন্দে। জীবনে ‘প’ অনেক আসবে। প্রেম আসবে, প্যারা আসবে, পরীক্ষা আসবে, প্রেশার আসবে।
কখনো পকেট খালি হবে, কখনো পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। তবুও জীবন থেমে থাকবে না। কারণ ‘প’ দিয়েই তো পথ, প্রত্যয়, প্রচেষ্টা, প্রগতি এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা-ও শুরু হয়!

Ads small one

স্মার্ট মেডিকেল সেন্টারে চালু হলো লিভারের বিশেষ পরীক্ষা ফাইব্রোস্ক্যান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
স্মার্ট মেডিকেল সেন্টারে চালু হলো লিভারের বিশেষ পরীক্ষা ফাইব্রোস্ক্যান

oplus_2

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কাস্টম মোড় সংলগ্ন স্মার্ট মেডিকেল সেন্টারে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লিভারের পরীক্ষা ‘ফাইব্রোস্ক্যান’ চালু করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুজ্জামান শিহাবের তত্ত্বাবধানে এ চিকিৎসা সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো অস্ত্রোপচার বা বায়োপসি ছাড়াই লিভারে চর্বির পরিমাণ ও লিভার সিরোসিসসহ অন্যান্য জটিলতার মাত্রা মাত্র ৫ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে নির্ণয় করা সম্ভব। ব্যথামুক্ত এই প্রক্রিয়ায় লিভারের সার্বিক স্থায়িত্ব ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা সহজেই বোঝা যায়। উন্নত চিকিৎসার এই সংযোজনকে ঘিরে স্থানীয় রোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

ফিরে এসো নজরুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
ফিরে এসো নজরুল

বাগবুল মাহবুব
আজ উচ্ছৃঙ্খল যতো অসুরের দল
বাঙালির সত্ত্বায় হানছে শুল
ধ্বংস করতে ওদের বিলাস মহল

তোমাকেই চাই বিদ্রোহী নজরুল।

জিঞ্জির ভাঙার গান শুনাবে তুমি

বিষের বাঁশি আর অগ্নিবীণার সুরে,

আগুনের সম্মার্জনায় পালাবে জানি ওরা

এ স্বপ্নভূমি ছেড়ে অন্য কোথাও দুরে।

তুমি এসো আবার ভীম নটরাজ হয়ে

ছড়িয়ে দিতে সাম্যবাদের বীজমন্ত্র,

বৈষম্যের পাহাড় গড়ে ওঠে মৃত্যুক্ষুধায়

চারিদিকে শুধু পাপাত্মার ষড়যন্ত্র।

উম্মাদ ভগবানের বুকে করতে পদাঘাত

এ রণভূমে তোমাকে আসতেই হবে ফিরে,

ফণিমনসার আঘাত সয়েছে মোদের চেতনা

অনন্তকাল রয়ে যাবে তোমার সৃষ্টি ঘিরে।

 

নীরবতার প্রতিধ্বনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
নীরবতার প্রতিধ্বনি

জহুরুল হক জুলু
চোখের গভীরে ছিল এক অচেনা দিগন্ত,
যেখানে আমার অস্থির স্বপ্নেরা পেয়েছিল আশ্রয়।
নক্ষত্ররা সাক্ষী ছিল সেই নিঃশব্দ উড়ানে,
যেন সময় থেমে গিয়েছিল অদৃশ্য মায়াবন্ধনে।

তুমি কিছুই বলোনিÑ
তবু বাতাসে লেখা হয়েছিল এক অনুচ্চারিত ভাষা।
শব্দের কোনো প্রয়োজন হয়নি,
হৃদস্পন্দনই ছিল একমাত্র ছন্দ।

সেই সুর শুনেছিলাম নীরবে,
অন্ধকারের ভেতর আলো হয়ে।
যেন সমুদ্রের গভীরে ডুবে থাকা মুক্তো
অকথিত প্রেমের দীপ্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

পৃথিবী যেন চমকে উঠেছিল,
যখন আমাদের নীরবতা হয়ে উঠেছিল উচ্চারণ।
মানুষ ভাবল, আমরা নিশ্চুপÑ
কিন্তু আকাশ জানত, আমরা কথা বলছি ঢেউয়ের মতো।

অস্তিত্বের সীমানা পেরিয়ে গিয়েছিল সেই সংলাপ,
যেখানে দেহ ছিল দূরে,
কিন্তু আত্মা মিলেছিল সুরের প্রতিধ্বনিতে।

সময়ের ঘড়ি হারিয়ে ফেলেছিল পথ,
কেবল হৃদস্পন্দন গুনছিল অমর প্রেমের স্পন্দন।
আমাদের দৃষ্টি হয়ে উঠেছিল এক মহাকাব্য,
যেখানে প্রতিটি পলক ছিল একটি অধ্যায়।

রাতের নীরবতা ছিল তার সাক্ষী,
দিনের আলো লুকিয়ে রেখেছিল গোপন কাব্য।
আমরা উচ্চারণ করিনি কোনো নাম,
তবু নিয়তির পাতায় লেখা ছিল একে অপরের পরিচয়।

তুমি ছিলে আমার অদৃশ্য স্বপ্নের প্রতিমা,
আমি ছিলাম তোমার অনুচ্চারিত প্রার্থনা।
ভালোবাসা আমাদের ছুঁয়ে গিয়েছিল
নিঃশব্দের অসীম নদীতে।

এভাবেই আমাদের গল্প বেঁচে থাকেÑ
শব্দহীন, অথচ অনন্ত;
নীরবতার গভীরে আজও
প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমোঘ প্রেম।