রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মুক্তমত/ সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট: অব্যবস্থাপনার চরমপত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত/ সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকট: অব্যবস্থাপনার চরমপত্র

গাজী হাবিব
সাতক্ষীরা জেলায় জ্বালানি তেলের চলমান সংকট এখন আর শুধু মোটরবাইকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে জনজীবন, অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আগের দিন রাত থেকেই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, পরিবহন সংকট, কৃষিকাজে বিঘœ- এসব এখন নিত্যদিনের চিত্র। কিন্তু গভীরে গেলে দেখা যায়, এই সংকটের মূল কারণ শুধু জ্বালানির ঘাটতি নয়; বরং সুষ্ঠু বণ্টন পরিকল্পনার অভাব, দুর্বল তদারকি এবং অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গভীর রাতে মোটরসাইকেল রেখে ‘সিরিয়াল’ দখল করা হচ্ছে। পরে সকালে সেই সিরিয়াল টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে- ভোরের আলো ফোটার আগেই পাম্পের সামনে শত শত মোটরসাইকেলের সারি। কিন্তু এসব বাইকের বেশিরভাগের কাছেই কোনো চালক নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু যুবক আগেই ৩০-৪০টি বাইক এনে সারিতে রেখে দেয়। ফলে সকালে আসা সাধারণ মানুষ দেখতে পান তাদের সামনে বিশাল এক ‘ভুতুড়ে’ লাইন। প্রতিবাদ করলে হামলা কিংবা ‘মব’ তৈরির হুমকিও দেওয়া হচ্ছে- যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে জরুরি সেবায়। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক, সাংবাদিক, জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন- এসবের জন্য কোনো আলাদা লেন বা অগ্রাধিকার নেই। যদিও জেলার দুটি উপজেলায় অগ্রাধিকার রাখা হয়েছে- সেখানেও মব সৃষ্টি করে সাংবাদিককে চরম হেনস্থা করা হয়েছে।
আমরা দেখেছি- পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে ড্রাম বা বোতলে ভরে গোপনে বিক্রির ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটছে। এই তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ৮০- ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ ভোক্তারা আরও বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সিন্ডিকেটের কৌশলী তৎপরতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
চলমান এই সংকট মোকাবিলায় কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে-
১) টোকেনভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা- প্রতি পাম্পে সাপ্তাহিক সরবরাহ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক টোকেন ইস্যু
নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী তেল বিতরণ ২) জ্বালানি ব্যবহারের খাতভিত্তিক বিভাজন- পেট্রোল: মোটরসাইকেল ও জরুরি জেনারেটর, অকটেন: প্রাইভেট গাড়ি, ডিজেল: পরিবহন ও কৃষি, ৩। সর্বোপরি ফুয়েল কার্ড চালু করা। জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ফুয়েল কার্ড ইস্যু করা, অপব্যবহার ও অতিরিক্ত মজুদ কমানো। ৪) জরুরি সেবার জন্য সংরক্ষিত লেন- মোট সরবরাহের একটি অংশ অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা ও জরুরি সেবার জন্য বরাদ্দ রাখা, মনস্তাত্ত্বিক চাপ বা পিনিক- সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো ‘প্যানিক বাইং’ বা পিনিক ওঠা। মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুদ করছে, ফলে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
একটি পাম্পে একদিনে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হওয়ার কথা, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে- এতে প্রকৃত প্রয়োজনের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। শহরাঞ্চলে তুলনামূলক সরবরাহ থাকলেও গ্রামীণ এলাকায় তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। এর ফলে- সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, মাছের ঘের পরিচালনায় সমস্যা ও কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি- প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং (ডিজিটাল ট্র্যাকিং), কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও অপ্রয়োজনীয় যান ব্যবহার কমানো
সবশেষে সাতক্ষীরার জ্বালানি সংকট আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়- কোনো সংকট একক কারণে তৈরি হয় না, এবং এর সমাধানও একমুখী হতে পারে না। সরবরাহ বৃদ্ধি, সঠিক বণ্টন, কঠোর তদারকি এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ- এই চারটি স্তম্ভের সমন্বিত প্রয়োগই পারে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে। এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন, যাতে ভবিষ্যতে এমন সংকট আর না ফিরে আসে।
গাজী হাবিব: সাংবাদিক

Ads small one

বাজেটে মিলতে পারে ৫ সুখবর, পাচারকারীদের জন্যও কি থাকছে সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বাজেটে মিলতে পারে ৫ সুখবর, পাচারকারীদের জন্যও কি থাকছে সুযোগ

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এই বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, করদাতা, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাজেটে একদিকে যেমন কিছু খাতে কর ছাড় ও বিনিয়োগ প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে, অপরদিকে রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

একইসঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ, স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় কর সুবিধা এবং অন্তঃসত্ত্বা থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরতে যাচ্ছে সরকার।

চিনিযুক্ত পানীয় ও খাদ্যপণ্যে ন্যূনতম কর কমতে পারে

আগামী বাজেটে চিনিযুক্ত পানীয় ও খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ন্যূনতম টার্নওভার কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে এনবিআর।

বর্তমানে কোনও প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হোক বা লোকসান— বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হয়। একে ন্যূনতম টার্নওভার কর বলা হয়। ফলে কম মুনাফার কোম্পানিগুলোর ওপর করের প্রকৃত চাপ অনেক বেড়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, এ খাতে করের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পানীয় শিল্পের উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, করপোরেট করসহ ন্যূনতম করের কারণে তাদের কার্যকর করহার ৪৩ থেকে ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

কোকা-কোলা সিসিআই বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ খান বলেন, উচ্চ করহার ব্যবসার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের কার্বনেটেড কোমল পানীয় বাজারের আকার ছিল প্রায় ৬ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকায়।

তবে কর কমানোর এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রুমানা হকের মতে, দেশে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। তাই চিনিযুক্ত পণ্যের ওপর কর কমানোর পরিবর্তে নতুন নতুন চিনিযুক্ত পণ্যকে করের আওতায় আনা এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো উচিত। তার মতে, সরকারকে শুধু রাজস্ব নয়, জনস্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

করদাতাদের জন্য আসছে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে বেশিরভাগ করদাতার জন্য স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

নতুন ব্যবস্থায় আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে থাকলে আলাদা আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সেই অর্থ সরাসরি তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

এনবিআর সূত্র বলছে, বর্তমানে বছরে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা আয়কর আদায় হয়। বিপরীতে প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার মতো কর ফেরত দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যমান ব্যবস্থায় রিফান্ড পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের আস্থা বাড়বে এবং কর ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের জন্য স্বস্তির বার্তা

চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আগামী বাজেটে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে— হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, ডায়ালাইসিস যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক কমানো, এপিআই (অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস) খাতে বিনিয়োগে কর প্রণোদনা।

বর্তমানে একটি করোনারি স্টেন্টের দাম ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে একটি স্টেন্টের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

বিআইডিএসের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা একজন রোগীর মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার টাকার বেশি। ফলে বেশিরভাগ পরিবারকে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ প্রেক্ষাপটে ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের ওপর কর ছাড়কে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তামাক ও অ্যালকোহলে বাড়বে কর

একদিকে স্বাস্থ্য খাতে কর ছাড় দেওয়া হলেও অপরদিকে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। লক্ষ্য হলো, আগামী অর্থবছরে এসব খাত থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়। বর্তমানে সিগারেটের খুচরা মূল্যের প্রায় ৮৩ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের কর। আগামী বাজেটে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন— সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।

অন্যদিকে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মদের ওপর প্রতি লিটারে ৪০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর সুযোগ

সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ বা ‘অর্থনৈতিক সাধারণ ক্ষমা।’

প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদেশে থাকা অর্থ দেশে এনে উৎপাদনশীল শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বিনিয়োগ করা হলে ওই অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে এই অর্থের ওপর স্বাভাবিক করহারের চেয়ে কিছুটা বেশি কর আরোপ করা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে সৎ করদাতারা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে অর্থ পাচারে উৎসাহ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকার যদি প্রকৃতপক্ষে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশেষ সুযোগ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। যেহেতু প্রচলিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা অনেক ক্ষেত্রে জটিল ও সময়সাপেক্ষ, তাই বিকল্প উপায় হিসেবে সরকার এ ধরনের উদ্যোগ বিবেচনা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কঠোর ও স্বচ্ছ নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে, প্রচলিত করহারের তুলনায় অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এ ধরনের অর্থ দেশে আনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।’’

একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীরা যাতে এই সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি যারা দুর্নীতি বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’’

কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে লাইফ-সাইকেল সামাজিক নিরাপত্তা

আগামী বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হতে পারে ‘লাইফ-সাইকেলভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’ এই ব্যবস্থায় একজন নাগরিক গর্ভাবস্থা থেকেই রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আসবেন। এরপর শিশুকাল, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, বেকারত্ব এবং বার্ধক্য— প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পাওয়া যাবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নাগরিককে এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী অর্থবছর থেকেই ‘ওয়ান পারসন, ওয়ান অ্যাকাউন্ট’ ভিত্তিক ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দও ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মাতৃত্ব ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, নতুন বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন স্কেলে বেতন বৃদ্ধির অর্ধেক আগামী অর্থবছরে এবং বাকি অংশ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজস্ব ও জনকল্যাণের ভারসাম্যের বাজেট

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা দেবে।

তবে পাচার হওয়া অর্থ বৈধ করার সুযোগ, চিনিযুক্ত পণ্যের কর কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে— রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসছে ‘মেগা সুখবর’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসছে ‘মেগা সুখবর’

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগলেও নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই বেতন বৃদ্ধির সুবিধা কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। একইসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের জন্যও থাকছে বড় ধরনের সুখবর। বিশেষ করে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিতে বেতন বৈষম্য কমানোর চাপে সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। তবে এর ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, যা সামাল দিতে আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের পুনর্গঠিত কমিটির বৈঠকে নবম পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনটি প্রতিবেদনের মধ্যে দুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বেতন বৃদ্ধি, ভাতা কাঠামো এবং বাজেট সক্ষমতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তৃতীয় প্রতিবেদনটি পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগস্ট বা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলেও জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর হবে। পরে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত সুবিধা পাবেন।

সর্বশেষ, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়সহ প্রায় সব খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন। এ কারণে নতুন পে-স্কেলে নিম্ন আয়ের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।

পে-কমিশনের আলোচনায় বর্তমানে দুটি বিকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমটি হলো অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়টি হলো ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন দ্বিগুণ করার ব্যবস্থা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চতুর্থ গ্রেডের অধ্যক্ষদের বর্তমান ৫০ হাজার টাকার বেসিক বেড়ে ৭৫ হাজার টাকা হতে পারে। ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপকদের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক বেড়ে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা হতে পারে। সপ্তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষদের ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের প্রভাষকদের ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে, নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের জন্য আরও বেশি সুবিধার আলোচনা চলছে। ১১তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার বেসিক দ্বিগুণ হলে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। ১৬তম গ্রেডের অফিস সহকারীদের ৯ হাজার ৩০০ টাকার বেতন বেড়ে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়কদের ৮ হাজার ২৫০ টাকার বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে।

নবম পে-স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো পেনশন কাঠামোর পরিবর্তন। বর্তমানে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কম পেনশন পাওয়া লাখো অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারেন।

সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে নবম পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হবে। দ্বিতীয় বছরে বাকি অংশ এবং তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রথম বছরেই অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে বাজারে ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে সরকার। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন নিম্ন আয়ের কর্মচারী ও স্বল্প পেনশনভোগীরা। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এখন সরকারি ঘোষণা ও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী।

সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতকে হারাতে চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতকে হারাতে চায় বাংলাদেশ

মালদ্বীপকে হারিয়ে সাফের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে আগে। এখন গ্রুপ-সেরা হওয়ার লড়াই। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত। গোয়ায় সোমবার (১ জুন) রাত ৮টায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটি জিতেই সেমিফাইনালে খেলতে চায় পিটার বাটলারের দল।

শনিবার (৩০ মে) সংবাদ সম্মেলনে কোচ পিটার বাটলার স্পষ্ট স্বীকার করেন, গত ম্যাচে সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়নি। বিশেষ করে উইঙ্গার ঋতুপর্ণার জন্য দিনটা মোটেও পক্ষে ছিল না। তবে একই সঙ্গে সতর্কও করেন— ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন মাপের দল। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা জানি একটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। গত রাতের ম্যাচের বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেবো।’

বুকে ব্যথার কারণে মালদ্বীপ ম্যাচ খেলতে পারেননি ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। তার সঙ্গে মিডফিল্ডার মনিকা চাকমাও ফিরছেন ভারত ম্যাচের একাদশে। রক্ষণের দুর্বলতা নিয়ে শিউলি বলেন, ‘কোচ কাজ করছেন। আশা করছি, পরের ম্যাচে যে জায়গাগুলোতে ভুল হয়েছে সেগুলো শুধরে ওভারকাম করতে পারবো।’

সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ভারতকে হারানো কঠিন হবে না বলে মনে করেন বাটলার, ‘প্রতিপক্ষকে বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সঠিক পরিকল্পনা এবং সেটি ঠিকঠাক কার্যকর করা।’

সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ভুটান হবে না নেপাল— এই প্রশ্নে নির্লিপ্ত বাটলার, ‘আমার কোনও বিশেষ পছন্দ নেই। টুর্নামেন্ট জিততে হলে যে কোনও পর্যায়ে এই দলগুলোর মুখোমুখি হতেই হবে।’

আগের দুই সাফে ভারতকে হারানোর রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। কিন্তু এবারের ভারত দল আগের চেয়ে অনেক বেশি গোছানো, এটা শিউলি নিজেও মানেন। রেকর্ড নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সই দিয়ে ম্যাচ জিতে এগিয়ে যাওয়ার পন লাল সবুজ দলের সেনানিদের।