বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের নির্দেশ

সংবাদদাতা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকস্বল্পতা মোকাবিলা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের মিরপুর কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন কারণে-যেমন শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, বিনা বেতনে ছুটি ও প্রশিক্ষণজনিত অনুপস্থিতি-অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট দেখা দেয়। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রীক একটি ‘রিসোর্স পুল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে এই পুল থেকে রিসোর্স পার্সন নিয়োগ করে পাঠদান চালু রাখা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে।

ডিপিই জানায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে রিসোর্স পার্সন নির্বাচন করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়া, স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, রিসোর্স পার্সন হিসেবে কাজ করার আগ্রহ থাকা এবং সিইনএড, বিএড বা এমএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা ও জেলা পর্যায় হয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। নির্ধারিত ছকে বিদ্যালয়ভিত্তিক রিসোর্স পুলের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকস্বল্পতা সাময়িকভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি অনেকাংশে কমবে।

 

Ads small one

দেবহাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের দায়ে সবুজ ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার আন্দুলপোতা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন সাহা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকার মাছুম্মেল হকের ছেলে সবুজ ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই আন্দুলপোতা এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। তার এ কর্মকান্ডে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রমের সত্যতা পায়। এ সময় ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে একদিকে যেমন জলাশয় ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করলে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, “পরিবেশ ধ্বংসকারী কোনো কর্মকান্ডই বরদাশত করা হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ইন্টারনেট ঘেটে দুম্বার খামার গড়ে সাড়া ফেলেছে তরুন উদ্যোক্তা শার্শার জোবায়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেট ঘেটে দুম্বার খামার গড়ে সাড়া ফেলেছে তরুন উদ্যোক্তা শার্শার জোবায়ের

Oplus_0

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা সীমান্তে এক তরুন উদ্যোক্তা তাসলিম জোবায়ের মরুভূমির দুম্বার বানিজ্যিকভাবে খামার গড়ে সাড়া ফেলেছেন। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৫ গুন লাভের আশা দেখছেন সফল চাষী। বাড়ছে কর্মসংস্থান লাভবান হচ্ছে খামারী।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার রাড়িপুকুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বাবলুর ছেলে দাখিল পড়ুয়া শিক্ষার্থী তরুন উদ্যোক্তা তাসলিম জোবায়ের। ইন্টারনেট দেখে দুই বছর আগে ১২ লাখ টাকা খরচে ৭ টি দুম্বা নিয়ে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন খামার। বছরে দুই লাখ টাকা খরচ করে তার খামারে বর্তমানে রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে ৪০টি দুম্বা। ৮০ কেজি থেকে ১৭০ কেজি ওজনের দুম্বা রয়েছে তার খামারে। এ ছাড়াও প্রায় অর্ধশত গরু ও বিদেশি জাতের ছাগলের খামার গড়েছেন তিনি। এবার কুরবানির ঈদে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার দুম্বা বিক্রির আশা করেন জোবায়ের।

দুম্বা চাষ লাভবান হওয়ায় বেকার তরুনদের এগিয়ে আসার আহবান জানান উদ্যোক্তা মোঃ তাসলিম জোবায়ের।
দুম্বা পালনে লাভবান দেখে অনেক তরুন ও স্থানীয়রা দুম্বা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকে খামারে কাজ করে পরিবারে ফিরচ্ছে স্বাচ্ছলতা জানার তরুন ও স্থানীয়রাসহ খামার শ্রমিক।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার বিশ্বাস জানান. তাসলিম জোবায়ের সফল তরুন উদ্যোক্তা। তার দেখে অনেক তরুন উদ্যোক্তা দুম্বা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে প্রশিক্ষণ পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দুম্বা পালনে সরকারি প্রণোদনা পেলে আরো বাড়বে চাষ, লাভবান হবে উদ্যোক্তরা, ঘুচবে বেকারত্ব-এমনটাই আশা তরুন উদ্যোক্তার।

একটি হুইল চেয়ারের জন্য বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের আকুল আকুতি!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
একটি হুইল চেয়ারের জন্য বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের আকুল আকুতি!

বি.এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: নিভৃত পল্লীর পথে-প্রান্তরে কত ঘটনাই চোখে পড়ে, তেমনি একদিন একটি মুদি দোকানের সামনে দেখা মিলল শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগমের। তিনি তালা উপজেলা তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিকের স্ত্রী। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের একটি মুদি দোকানের সামনে লাঠির ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৭৪ বছর বয়সী আফিয়ারা বেগম। হুইল চেয়ার না থাকায় কোমরের উপর ভর করে অনেক কষ্টে চলাচল করেন তিনি। একটি হুইল চেয়ারের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে এই বৃদ্ধা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালা উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে একটি ক্ষুদ্র মুদি দোকান পরিচালনা করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছিলেন মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিক ও তার স্ত্রী আফিয়ারা বেগম। তিন সন্তান নিয়ে কোনরকম সংসার চলছিল তাদের। কয়েক মাস আগে ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয় আফিয়ারা বেগম। দোকানের ভিতরে থাকা একটি চৌকি খাটে রাত-দিন যাপন করেন তারা। বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না। খাট থেকে নিচে নামতেই যন্ত্রণায় চিৎকার করেন তিনি। হুইল চেয়ার না থাকায় কোমরের উপর ভর করে অনেক কষ্টে চলাচল করেন তিনি।

চোখমুখে হতাশা নিয়ে বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগম বলেন, আমার একটা হুইল চেয়ার দরকার। হুইল চেয়ার হলে কিছুটা স্বাভাবিক চলাচল করতে পারতাম।

প্রতিবেশী সহকারী অধ্যাপক এমএম মুজিবর রহমান বলেন, বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগম ও তার স্বামী মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিক নওয়াপাড়া বাজারে একটি ক্ষুদ্র মুদি দোকান করে সংসার চালাতো। বর্তমানে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দোকানের মধ্যে শয্যাশায়ী রয়েছেন আফিয়ারা বেগম। তিনি মেরুদন্ড সোজা করে হাঁটাচলা করতে পারেন না। অর্থের অভাবে ওষুধ কিনতেও পারছে না। ওই বৃদ্ধার দিকে তাকালে খুব কষ্ট লাগে। বর্তমানে তার একটা হুইল চেয়ারসহ কিছু আর্থিক সাহায্যের দরকার।

আফিয়ারা বেগমের স্বামী মোঃ নাসির উদ্দীন মল্লিক বলেন, বাড়ি-ভিটা ছাড়া কোনো জমি নাই আমাদের। ছোট একটি দোকান করে সংসার চালাতাম। কিন্তু স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার ওষুধ কিনতেও পারছিনা, কিভাবে তাকে হুইল চেয়ার কিনে দিবো। এজন্য তিনি বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। সেজন্য ০১৭৪৫-৬৪৩২৩০ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, উক্ত দম্পত্তি বয়স্ক ভাতা পান। বৃদ্ধা আফিয়ারা বেগম হুইল চেয়ারসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা যাতে পেতে পারে সে বিষয়ে খেয়াল করা হবে।