বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ, অভিভাবকদের তলব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ, অভিভাবকদের তলব

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শহরতলীর শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার ১৬ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষা বর্ষের ১০ম, ৯ম ও ৮ম শ্রেণীর এসব ছাত্রীর বাল্য বিবাহ সংত্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের অভিভাবকদের আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরায় তলব করা হয়েছে।

 

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা স্বাক্ষরিত নেটিশে ১৬ জন বাল্যবধুর অভিভাবকদের বলা হয়েছে, আপনাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক কন্যাদের বাল্যবিবাহ দিয়েছেন। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী, এটি একটি গুরুতর অপরাধ। বাল্যবিয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার সকাল ১০টার সময় স্বাক্ষীসহ বিবাহ সংগঠিত ছেলে-মেয়েদের জন্মসনদ, আপনার ও আপনার স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, বিয়ের কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরার নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে উপস্থিত হয়ে পৃথক পৃথক বক্তব্য পেশ করার জন্য বলা হলো।

 

অভিযোগকারী হিসেবে জেলা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মো. সাকিবুর রহমান বাবলার নাম নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশপ্রাপ্ত অভিভাবকরা হলেন, পারশালো গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, মাছখোলা ইসমাইল হোসেন, হারুন অর রশিদ, শাল্যে গ্রামের আব্দুল গফুর গাজী, মাছখোলা গ্রামের মো: শাহাজান, শালো গ্রামের আব্দুল্লাহ, মাছখোলা গ্রামের শাহাজান মোল্লা, শালো গ্রামের বকুল হোসেন, হাবিবুল্লাহ, সিরাজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, মাখফুর রহমান, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, পারশালো গ্রামের আশরাফুল ইসলাম ও শাল্যে গ্রামের ইবাদুল ইসলাম।

অভিভাবকসহ বাল্যবিবাহ সংগঠিত ছেলে ও মেয়েদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Ads small one

১৭ সেপ্টেম্বর : শিক্ষা দিবসের রক্তঋণ ও আমাদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
১৭ সেপ্টেম্বর : শিক্ষা দিবসের রক্তঋণ ও আমাদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় পাস করার নাম নয়, শিক্ষা কেবল একটি সনদ অর্জনের নামও নয়। শিক্ষা মানুষের চোখ খুলে দেয়, প্রশ্ন করতে শেখায়, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে শেখায়, অন্যায়কে অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত করার সাহস দেয় এবং মানুষকে নিজের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। তাই শিক্ষা যখন সংকুচিত হয়, তখন শুধু বিদ্যালয়ের দরজা সংকুচিত হয় না-সংকুচিত হয় মানুষের সম্ভাবনা, চিন্তার স্বাধীনতা এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ। এই কারণেই ১৭ সেপ্টেম্বর আমাদের ইতিহাসে একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৬২ সালের এই দিনটি শিক্ষা আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরবর্তীকালে শিক্ষা দিবস হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
১৯৬২ সালের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।

 

পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার অধীনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে এস এম শরীফের নেতৃত্বে গঠিত শিক্ষা কমিশন ১৯৫৯ সালে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে শিক্ষার বিভিন্ন স্তর, প্রশাসন, অর্থায়ন, পাঠ্যক্রম ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে নানা সুপারিশ ছিল; এর মধ্যে শিক্ষা ব্যয় ও ছাত্রবেতন বাড়ানোর প্রস্তাবও ছিল। ১৯৬২ সালে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুরু হলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে রাজপথে নামে।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায়। এতে মোস্তফা, বাবুল ও ওয়াজিউল্লাহসহ কয়েকজন প্রাণ হারান। টঙ্গীতেও ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে গুলিতে সুন্দর আলী নামে একজন শ্রমিক নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এই রক্তপাতের কারণেই ১৭ সেপ্টেম্বর নিছক একটি তারিখ নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়-শিক্ষার প্রশ্ন কখনো কেবল শ্রেণিকক্ষের প্রশ্ন নয়। শিক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়, অর্থনৈতিক সাম্য এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রশ্ন।

কিন্তু ১৯৬২ থেকে ২০২৬-সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে এসে আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন রাখতে হয়, আমরা কি সেই শিক্ষা আন্দোলনের মূল আকাঙ্খা ধারণ করতে পেরেছি?

আজ দেশে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, কলেজ বেড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় বেড়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে, অনলাইন শিক্ষা এসেছে, ডিজিটাল কনটেন্ট এসেছে, বিশ্বের জ্ঞানভান্ডার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষার সামনে নতুন নতুন সংকটও তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারের কাছে সন্তানের শিক্ষা ক্রমেই একটি ব্যয়বহুল দায়িত্বে পরিণত হচ্ছে। শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধায় পার্থক্য আছে। সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধানও আলোচনার দাবি রাখে।

শিক্ষার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই শুধু কতজন শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে—তা নয়; প্রশ্ন হলো তারা কী শিক্ষা পাচ্ছে, কীভাবে শিক্ষা পাচ্ছে এবং সেই শিক্ষা তাদের মানুষ হিসেবে কতটা গড়ে তুলছে।
আমরা পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে চলেছি। পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফলাফলই যদি শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য হয়ে যায়, তাহলে শিক্ষার গভীর উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়। একজন শিক্ষার্থী হয়তো অনেক তথ্য মুখস্থ করতে পারে, পরীক্ষায় ভালো নম্বরও পেতে পারে; কিন্তু সে যদি প্রশ্ন করতে না শেখে, যুক্তি দিয়ে ভাবতে না শেখে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে না শেখে, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল না হয়-তাহলে তার শিক্ষার একটি বড় অংশ অপূর্ণ থেকে যায়।

একটি শিক্ষিত সমাজে শুধু ডাক্তার, প্রকৌশলী, আমলা, আইনজীবী কিংবা শিক্ষক তৈরি হবে-এমন নয়। তৈরি হবে সৎ কৃষিবিদ, দক্ষ কারিগর, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাহিত্যিক, শিল্পী, উদ্যোক্তা, সাংবাদিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক। একজন কৃষকও জ্ঞানী হতে পারেন, একজন কারিগরও সৃজনশীল হতে পারেন, একজন সাহিত্যিকও বিজ্ঞানমনস্ক হতে পারেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য পেশার শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করা নয়; শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষের সম্ভাবনাকে বিকশিত করা।

এই জায়গায় শিক্ষকতার মর্যাদার প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তার দরজা খুলে দেন। অথচ শিক্ষক যদি নিজেই নানা প্রশাসনিক চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক অবমূল্যায়নের মধ্যে থাকেন, তাহলে শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষকের মর্যাদা শুধু বেতন বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁকে জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা, প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ দিতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীকেও কেবল পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখা যাবে না। শিক্ষার্থী একটি পূর্ণ মানুষ, তার প্রশ্ন আছে, কৌতূহল আছে, স্বপ্ন আছে, ভুল করার অধিকার আছে। শিক্ষাঙ্গন এমন একটি জায়গা হওয়া প্রয়োজন যেখানে সে প্রশ্ন করতে পারবে, বিতর্ক করতে পারবে, যুক্তি দিয়ে মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিজের ভুল সংশোধন করতে পারবে।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের একটি বড় শিক্ষা এখানেই-শিক্ষার্থীর কণ্ঠকে অবজ্ঞা করা যায় না। ইতিহাসে দেখা যায়, শিক্ষা নিয়ে ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশেও ভূমিকা রেখেছে। ১৯৬২ সালের আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আজকের বাংলাদেশে তাই ১৭ সেপ্টেম্বরকে কেবল অতীতের শহীদদের স্মরণ করার দিন বানালে চলবে না। এই দিন হওয়া উচিত নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আত্মসমালোচনার দিন।

আমরা কি গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং শহরের একটি সচ্ছল পরিবারের সন্তানের জন্য মোটামুটি সমান মানের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি? আমরা কি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছি যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী সন্তান পিছিয়ে পড়বে না? আমরা কি শিক্ষার সঙ্গে গবেষণার যথেষ্ট সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছি? আমাদের শিক্ষার্থীরা কি শুধু চাকরির জন্য পড়াশোনা করছে, নাকি জ্ঞান সৃষ্টি ও সমাজ পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তুত হচ্ছে?
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সম্পর্ক আমরা কীভাবে নির্ধারণ করব?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, জৈবপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনের পৃথিবীতে আগামী দিনের শিক্ষার্থীকে শুধু পুরোনো তথ্য মুখস্থ করিয়ে প্রস্তুত করা যাবে না। তাকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে সে নতুন সমস্যার সমাধান করতে পারে, নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে পারে। প্রযুক্তি শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করবে না; বরং ভালো শিক্ষক ও প্রযুক্তির সমন্বয় শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
তবে প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নতুন বৈষম্যও তৈরি হতে পারে। যার কাছে ভালো যন্ত্র আছে, দ্রুতগতির ইন্টারনেট আছে, প্রশিক্ষিত শিক্ষক আছে, সে যদি এগিয়ে যায় আর যার এসব নেই সে পিছিয়ে পড়ে, তাহলে ডিজিটাল শিক্ষা নিজেই বৈষম্যের নতুন দেয়াল হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।

শিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-মানবিকতা। জ্ঞান যদি মানুষকে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল না করে, তাহলে সেই জ্ঞানের সামাজিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একজন বিজ্ঞানী যেমন গবেষণায় সত্য অনুসন্ধান করবেন, একজন সাহিত্যিক যেমন মানুষের হৃদয়ের কথা বলবেন, তেমনি একজন শিক্ষার্থীও যেন অন্য মানুষের দুঃখ বুঝতে শেখে। শিক্ষা মানুষের মধ্যে কেবল প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতার চেতনা সৃষ্টি করবে-এটাই প্রত্যাশিত।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভরতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, গবেষণা, পাঠাভ্যাস, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, বিজ্ঞানচর্চা, বিতর্ক ও খেলাধুলার জায়গা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একটি শিশু শুধু পরীক্ষার খাতায় নয়, তার কল্পনায়ও বেড়ে ওঠে। তার হাতে শুধু বই নয়, বইয়ের বাইরের পৃথিবীটিও তুলে দিতে হবে।

এখানে পরিবার ও সমাজের দায়িত্বও কম নয়। সন্তানকে শুধু ভালো ফল করার জন্য চাপ দিলে সে হয়তো পরীক্ষায় সফল হবে, কিন্তু জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাকে বই পড়তে দিতে হবে, প্রশ্ন করতে দিতে হবে, প্রকৃতির কাছে যেতে দিতে হবে, মানুষের সঙ্গে মিশতে দিতে হবে। ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে।

১৭ সেপ্টেম্বরের শিক্ষা দিবস আমাদের আরও একটি কথা মনে করিয়ে দেয়-শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়। এটি মানুষের মৌলিক বিকাশের ভিত্তি। ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার ২৬ অনুচ্ছেদেও শিক্ষার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে; প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার কথা সেখানে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানেও শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে একটি অভিন্ন, গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষার মান, সুযোগের সমতা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা এবং নাগরিক মূল্যবোধ-এসব কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর যখন আমরা শিক্ষা দিবস পালন করি, তখন ১৯৬২ সালের সেই তরুণদের কথা স্মরণ করা প্রয়োজন, যারা শিক্ষার প্রশ্নে রাজপথে নেমেছিলেন এবং জীবন দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যাশা হয়তো আজকের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীর মতো ছিল না। কিন্তু তাঁদের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা ছিল-শিক্ষা যেন মানুষের অধিকার হয়, বৈষম্যের হাতিয়ার না হয়।

সেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আজকের বাস্তবতার মিল কতটুকু-তার উত্তর আমাদেরই খুঁজতে হবে।
শিক্ষার জন্য বড় বড় ভবন প্রয়োজন, আধুনিক ল্যাবরেটরি প্রয়োজন, প্রযুক্তি প্রয়োজন, পর্যাপ্ত অর্থ প্রয়োজন; কিন্তু তার চেয়েও প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট শিক্ষা-দর্শন। আমরা কেমন মানুষ তৈরি করতে চাই-এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কেবল পাঠ্যক্রম বদলালে শিক্ষার কাঙ্খিত পরিবর্তন আসবে না।

আমরা এমন মানুষ চাই, যে বিজ্ঞান জানে কিন্তু মানবিক; প্রযুক্তি জানে কিন্তু বিবেকবান; নিজের অধিকার বোঝে কিন্তু অন্যের অধিকারকেও সম্মান করে; নিজের ইতিহাস জানে কিন্তু অন্য জাতির ইতিহাসকেও শ্রদ্ধা করে; ধর্মকে সম্মান করে কিন্তু অন্ধতার কাছে যুক্তিকে বিসর্জন দেয় না; দেশকে ভালোবাসে কিন্তু মানুষকে ঘৃণা করতে শেখে না।
এই শিক্ষাই একটি জাতিকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করে।

১৭ সেপ্টেম্বর তাই শুধু শহীদ মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ আন্দোলনে প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ করার দিন নয়; এটি আমাদের নিজেদের শিক্ষাব্যবস্থাকে আয়নায় দেখার দিন। সেই আয়নায় যদি কোনো দুর্বলতা দেখা যায়, তা ঢেকে রাখার প্রয়োজন নেই। বরং স্বীকার করে সংশোধনের পথ খুঁজতে হবে।

শিক্ষা দিবসের রক্তঋণ তখনই কিছুটা পরিশোধ হবে, যখন কোনো শিশুকে দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যালয় ছাড়তে হবে না; কোনো মেধাবী তরুণ অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না; কোনো শিক্ষক জ্ঞানচর্চার পরিবেশের অভাবে হতাশ হবেন না; কোনো শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষার নম্বরের জন্য বই পড়বে না; আর শিক্ষিত হওয়ার অর্থ শুধু চাকরি পাওয়া নয়-মানুষ হওয়া, সত্যকে ভালোবাসা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ওঠা।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের রাজপথ থেকে আজকের শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত আমাদের পথ দীর্ঘ। কিন্তু প্রশ্নটি এখনও একই-শিক্ষা কাদের জন্য, কীসের জন্য এবং কেমন মানুষ তৈরির জন্য?
এই প্রশ্নের উত্তর যতদিন আমরা খুঁজব, ততদিন ১৭ সেপ্টেম্বর কেবল ক্যালেন্ডারের একটি দিন হয়ে থাকবে না। এটি হয়ে থাকবে আমাদের শিক্ষার বিবেক জাগানোর একটি দিন।

শিক্ষা হোক অধিকার, শিক্ষা হোক মুক্ত চিন্তার আলো; শিক্ষা হোক বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক সমাজ নির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার, কবি, লেখক।

 

বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস: নিরাপদ চিকিৎসা, নিরাপদ জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস: নিরাপদ চিকিৎসা, নিরাপদ জীবন

সাকিবুর রহমান বাবলা

১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে পালিত এ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় রোগীর অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানো, সেবার মান উন্নত করা এবং রোগী, স্বজন, স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিরাপদ চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘অসংক্রামক রোগের জন্য নিরাপদ সেবা’; আর স্লোগান ‘সেইফ কেয়ার ফর লাইফ’।

রোগীর নিরাপত্তা বলতে শুধু চিকিৎসকের ভুল এড়ানো বোঝায় না। হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগের বাইরেও যে অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হতে পারে, তা প্রতিরোধ করাই এর মূল কথা। ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা দেওয়া, ভুল রোগী কিংবা ভুল অঙ্গে অস্ত্রোপচার, রোগ নির্ণয়ে ভুল বা বিলম্ব, হাসপাতাল থেকে সংক্রমণ, অনিরাপদ ইনজেকশন, রক্ত সঞ্চালনে ভুল কিংবা বেড ও বাথরুম থেকে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া—সবই রোগী নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যও এসব ঝুঁকিকে রোগী নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বহুল পরিচিত নীতি—‘সবার আগে ক্ষতি না করা’। তাই রোগীকে নিরাপদ রাখা চিকিৎসারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এজন্য রোগী শনাক্তকরণে পূর্ণ নামের সঙ্গে জন্মতারিখ বা আইডি নম্বরের মতো অন্তত দুটি পরিচয় নিশ্চিত করা, শিফট পরিবর্তনের সময় রোগীর তথ্য স্পষ্টভাবে হস্তান্তর করা এবং জরুরি পরীক্ষার ফল দ্রুত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো জরুরি। উচ্চঝুঁকির ওষুধ, যেমন ইনসুলিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা ও ডাবল-চেক প্রয়োজন। অস্ত্রোপচারের আগে ‘টাইম-আউট’-এর মাধ্যমে সঠিক রোগী, সঠিক অঙ্গ ও সঠিক অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করতে হবে।

সংক্রমণ প্রতিরোধেও কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। রোগীকে স্পর্শের আগে ও পরে যথাযথভাবে হাত পরিষ্কার করা, নিরাপদ ইনজেকশন পদ্ধতি অনুসরণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের পড়ে যাওয়া ঠেকাতে বেডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাথরুমে অ্যান্টি-স্কিড ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

তবে রোগীর নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসক বা হাসপাতালের নয়; রোগী ও স্বজনেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চিকিৎসক কোনো ওষুধ বা পরীক্ষা দিলে তার কারণ জানতে হবে। রোগী কোন কোন ওষুধ সেবন করছেন এবং কোনো ওষুধ বা খাবারে অ্যালার্জি আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তারিখ অনুযায়ী সংরক্ষণ করা উচিত। গুরুতর অসুস্থ রোগীর সঙ্গে একজন সচেতন স্বজন থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশনা বুঝে নেওয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ সহজ হয়। স্বাস্থ্যকর্মী ইনজেকশন বা অন্য কোনো চিকিৎসা দেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করছেন কি না, তা প্রয়োজন হলে বিনয়ের সঙ্গে জানতে পারাও রোগীর অধিকার।

নিরাপদ চিকিৎসার জন্য দরকার একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা। হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ও পরীক্ষার রিপোর্ট ব্যবস্থাপনা চালু হলে তথ্যের ভুল ও পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত রোগী নিরাপত্তা, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও পেশাগত আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। চিকিৎসায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকা অনুসরণ, রোগী-কেন্দ্রিক সেবা, নিয়মিত ক্লিনিক্যাল অডিট এবং মানসম্মত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

জনসচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজ ভাষায় স্বাস্থ্যবার্তা প্রচার, গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য দিবসগুলোতে সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে।

রোগী নিরাপত্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ভূমিকা পালন করছে। গ্লোবাল পেশেন্ট সেফটি অ্যাকশন প্ল্যান ২০২১-২০৩০-এর লক্ষ্য হলো এড়ানো সম্ভব এমন ক্ষতি কমিয়ে এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সেবা পাবেন। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম ‘পেশেন্ট সেফটি রাইটস চার্টার’ প্রকাশ করে। এতে নিরাপদ সেবা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপদ ওষুধ, তথ্য পাওয়ার অধিকার, চিকিৎসা-নথিতে প্রবেশাধিকার এবং রোগী ও পরিবারের অংশগ্রহণসহ মৌলিক অধিকার তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘মেডিকেশন উইদাউট হার্ম’, সংক্রমণ প্রতিরোধ, সার্জিক্যাল সেফটি চেকলিস্ট এবং ঘটনা রিপোর্টিং ও লার্নিংয়ের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ চিকিৎসা জোরদার করছে। ভুল হলে তা গোপন না করে কারণ খুঁজে ভবিষ্যতে একই ভুল প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। পাশাপাশি পেশেন্টস ফর পেশেন্ট সেফটি উদ্যোগ রোগী ও পরিবারের অভিজ্ঞতাকে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা গঠনের অংশীদার হিসেবে গুরুত্ব দেয়।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধানত সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ও মহামারী মোকাবিলা-এই দুটি লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দেয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নাগরিকের নিজস্ব চিকিৎসা ব্যয় কমানো, অপরিহার্য ওষুধ ও টিকার সহজলভ্যতা এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মহামারী ও স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি তহবিল ও অবকাঠামো প্রস্তুত রাখা, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদান এবং টেলিমেডিসিনসহ ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশেও রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ওষুধের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর্মীদের জবাবদিহিতা, ডিজিটাল মনিটরিং, হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। ঔষধ প্রশাসনের ফার্মাকোভিজিল্যান্স ও প্রতিকূল ওষুধ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণও নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাসপাতালের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত সাড়া দেওয়ার জন্য ‘কোড ব্লু’সহ কার্যকর জরুরি অ্যালার্ম ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।

 

পাশাপাশি চিকিৎসাজনিত অবহেলা বা ভুলের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত প্রতিকার এবং জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা কার্যকর করা দরকার।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, রোগী নিরাপত্তা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব। সরকারকে নীতি ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে, হাসপাতালকে নিরাপদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে, চিকিৎসক-নার্সকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং রোগী-স্বজনকে সচেতন অংশীদার হতে হবে। অসংক্রামক রোগের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও বেশি। তাই বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবসের ২০২৬ সালের আহ্বান হোক সবার জন্য এক সুস্পষ্ট অঙ্গীকার-নিরাপদ চিকিৎসা, নিরাপদ জীবন।

শ্যামনগরের নওয়াবেকী আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনীতে পরিবেশ বিষয়ক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের নওয়াবেকী আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনীতে পরিবেশ বিষয়ক সভা

সংবাদদাতা: শ্যামনগরের নওয়াবেকী মহাবিদ্যালয়, আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সেমিনার এবং প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা-ইসিএ কমিটির সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা, ১২টা ও বেলা দেড়টায় এসব সভা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকার তথ্যচিত্র ও বর্তমান অবস্থা, ইসিএ এলাকার মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, পরিবেশ সচেতনতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় সুন্দরবন কেন্দ্রীক ও ইসিএ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের অতীত ও বর্তমান অবস্থা, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) স্থল ১০ কিলোমিটার এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান, বিকল্প কর্মসংস্থান, বাজার ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের সচেতন, পরিবেশ বান্ধব কর্মপরিকল্পনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বালু উত্তোলন, সুন্দরবন ধ্বংস করে এমন কার্যক্রম এবং পরিবেশ সংরক্ষণে করণীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

নওয়াবেকী মহাবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জুলফিকার আল মেহেদী। আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান মো. আবু সালেহ বাবু এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।

এসব সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মিত্র। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অসীম কুমার মন্ডল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসিএ জেলা কমিটির সদস্য শেখ আফজাল হোসেন, ওসিসি প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জিএম নাজমুল আরিফ। এসব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইসিএ জেলা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান।

নওয়াবেকির সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আন্তন হাসান, সুমাইয়া সুলতানা ও সিরাজুম মুনিরা ঐশী এবং মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক ও শিক্ষার্থীরা।
আটুলিয়ার সভায় ওয়ার্ড সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন ও মো. আক্তারুজ্জামান লিটিলসহ অন্যান্য ইসিএ সদস্য, সুধী, ইউপি দফাদার ও গ্রামপুলিশ।

বুড়িগোয়ালিনির সভায়ও ইউপি ইসিএ কমিটির সদস্য, সুধীজন, ইউপি দফাদার ও গ্রামপুলিশ উপস্থিত ছিলেন।