মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকতার সংকট ও সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকতার সংকট ও সম্ভাবনা

আব্দুর রহমান

সাংবাদিকতা আমার কাছে কোনো আকস্মিক পেশা নয়; এটি দীর্ঘ লেখালেখির চর্চা ও সমাজ-মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি স্বাভাবিক পরিণতি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে “মাসিক সাহিত্যপাতা” (sahityapata.com) নামে একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকার প্রকাশনার মধ্য দিয়ে আমার লেখালেখির পথচলা শুরু।

 

সাহিত্যচর্চার সূত্র ধরেই বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয়, সংবাদ লেখার প্রতি আগ্রহ এবং ধীরে ধীরে সংবাদ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। এরপর ২০০৯ সালে দৈনিক কাফেলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা। দীর্ঘ এই পথচলায় কাজ করেছি দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক কালের চিত্র, দৈনিক সাতঘরিয়া, দৈনিক সাতনদী, দৈনিক দক্ষিণের মশালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বর্তমানে দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকায় সহকারী বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

 

পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই সাতক্ষীরা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে সমাজ, মানুষ ও জনকল্যাণের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। সেই দায়বদ্ধতাই আমাকে সাংবাদিকতার পথে নিয়ে এসেছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে হাদিসে কামিল সম্পন্ন করার পরও আমি অন্য কোনো পেশার দিকে ঝুঁকিনি।

 

কারণ সাংবাদিকতাকে আমি কখনো শখ হিসেবে দেখিনি; এটিই আমার একমাত্র পেশা এবং জীবনের বড় অংশজুড়ে থাকা একটি দায়িত্ব। প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে সাংবাদিকতার নানা পরিবর্তন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। দেখেছি সংবাদপত্রের স্বর্ণালী সময়, দেখেছি অনলাইন সাংবাদিকতার উত্থান, আবার দেখেছি সাংবাদিকতার নামে নানা অপসংস্কৃতির বিস্তার। আজ যখন পেছনে তাকাই, তখন মনে হয় সাতক্ষীরায় প্রকৃত সাংবাদিকতা যেন ক্রমেই সোনার হরিণে পরিণত হচ্ছে।

 

একসময় একটি সংবাদ প্রকাশের আগে দিনের পর দিন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। সংবাদে একটি ভুল শব্দও সম্পাদকরা সহ্য করতেন না। সংবাদকর্মীরা নিজেদের পরিচয়ের চেয়ে কাজকে বড় মনে করতেন। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে সংবাদ পরিবেশনের গতি যত বেড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ততই কমেছে তথ্য যাচাইয়ের গভীরতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জাতীয়, স্থানীয়, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অসংখ্য গণমাধ্যম সক্রিয়। সাংবাদিক পরিচয়ধারীর সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

 

তবে, প্রশ্ন হলো- এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে কতজন সাংবাদিকতাকে প্রকৃত পেশা হিসেবে নিয়েছেন? কতজন নিয়মিত মাঠে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন? কতজন একটি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করেন? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় সাংবাদিকতা কখনোই সহজ কাজ নয়। সুন্দরবন, সীমান্ত, উপকূলীয় দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, চিংড়ি শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমিদস্যুতা, মাদক এবং স্থানীয় রাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়।

 

অনেক সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। অথচ জেলার অধিকাংশ সাংবাদিকের আর্থিক নিরাপত্তা এখনও অনিশ্চিত। অনেকেই নির্দিষ্ট বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। সংবাদ সংগ্রহের খরচ, যাতায়াত, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যয় নিজেরাই বহন করছেন। ফলে অনেক মেধাবী তরুণ সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে অপেশাদার ও হলুদ সাংবাদিকতার চর্চা। কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়কে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন।

 

কোথাও প্রভাব বিস্তার, কোথাও তদবির, কোথাও আবার ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির হাতিয়ার হিসেবে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পুরো সাংবাদিক সমাজই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার গণমাধ্যম অঙ্গনে এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে, যেখানে এক সম্পাদক আরেক সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছেন, পাল্টা জবাব প্রকাশ হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য।

 

এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে সাংবাদিক সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করছে। ফলে সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে। একজন সাধারণ পাঠক যখন প্রতিদিন সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার কাদা ছোড়াছুড়ি দেখতে পান, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মনে প্রশ্ন জাগে- যারা সমাজের অন্যদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেন, তারা নিজেরা কতটা জবাবদিহির মধ্যে আছেন? বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকতা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র নয়; এটি জনস্বার্থ রক্ষার একটি দায়িত্বশীল মাধ্যম।

 

কোনো অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সাংবাদিকতাকে ব্যক্তিগত বিরোধের মঞ্চে পরিণত করা হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো পেশা। আরেকটি বড় সংকট হলো পারস্পরিক মূল্যায়নের অভাব। একজনের ভালো কাজের প্রশংসা করার পরিবর্তে তাকে ছোট করার প্রবণতা বাড়ছে। বিভাজন, গ্রুপিং এবং ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেশার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। অথচ সত্য ও জনস্বার্থই হওয়া উচিত সাংবাদিকদের অভিন্ন লক্ষ্য।

 

আমার নিজের জীবনেও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব দেখেছি। কোনো সময় আমাকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে, মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় তার রাজনৈতিক অবস্থান নয়; তার পরিচয় তার লেখা, তার অনুসন্ধান, তার সততা এবং জনস্বার্থে কাজ করার দায়বদ্ধতা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে পারে, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব কখনো পরিবর্তন হয় না।

 

এই অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। সরকারের উচিত প্রকৃত সংবাদকর্মীদের একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করা। তথ্য অধিদপ্তর, প্রেস ইনস্টিটিউট এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে আধুনিক অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মঅভিজ্ঞতা, নিয়োগপত্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের তালিকাভুক্ত করা হলে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার অনেকাংশে কমবে।

 

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, বীমা সুবিধা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে সব সংকটের মাঝেও আশার জায়গা রয়েছে। সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার ইতিহাস গৌরবময়। এ জেলার অনেক সাংবাদিক জাতীয় পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। এখনও অনেক তরুণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছেন। সুন্দরবন, উপকূলীয় জীবন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সীমান্ত অঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সাংবাদিকতার শক্তি বিভক্তিতে নয়, ঐক্যে; ব্যক্তি স্বার্থে নয়, জনস্বার্থে; পরিচয়ে নয়, পেশাদারিত্বে। নতুন প্রজন্ম যদি সাংবাদিকতাকে প্রভাবের মাধ্যম নয়, দায়িত্বের জায়গা হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে সাতক্ষীরার সাংবাদিকতা আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে। সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বাড়লেই সাংবাদিকতার উন্নয়ন হয় না। সাংবাদিক পরিচয়পত্রের সংখ্যা বাড়লেই গণমাধ্যম শক্তিশালী হয় না।

 

শক্তিশালী হয় তখনই, যখন সত্য বলার সাহসী মানুষ তৈরি হয়; যখন একজন সংবাদকর্মী নির্ভয়ে কলম ধরতে পারেন; যখন সমাজ তাকে সম্মান দেয় এবং রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় আজ সেই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অন্যথায় সাংবাদিকের সংখ্যা হয়তো আরও বাড়বে, কিন্তু প্রকৃত সাংবাদিকতা আমাদের চোখের সামনেই সোনার হরিণ হয়েই থেকে যাবে।

লেখক: সহকারী বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আলোর পরশ

 

Ads small one

ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ঋশিল্পীতে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: “হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিক্যাল থেরাপির ভূমিকা”Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্যোগে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার রিহ্যাবিলিটেশন হেলথ বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঋশিল্পীর প্রেসিডেন্ট মনিকা তোজি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সেলিমুল ইসলাম, সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট ও হেড অব ফিজিওথেরাপি ইউনিট শংকর কুমার ঢালীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফিজিওথেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আলোচনায় বক্তারা ঋশিল্পীর ফিজিওথেরাপি কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কর্মকা-, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন, চলাফেরার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভর জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে মানুষের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ঋশিল্পীর স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১০০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলারোয়ার যুগিখালি গ্রামের তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে এ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে রোপণ করা বীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। এ সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এবার পুরো উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় বছরের মধ্যে কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে পর্যায়ক্রমে তালবীজ রোপণ করা হবে। ইতিমধ্যে জয়নগর, সোনাবাড়িয়া, কুশোডাঙ্গা ও দেয়াড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে তালবীজ রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

উচ্চ ভবনে বজ্রপাতের ক্ষতি কমাতে যেমন লাইটনিং অ্যারেস্টার ব্যবহার করা হয়, তেমনি গ্রামীণ এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে তালগাছের বিস্তার ঘটিয়ে বজ্রপাতের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রতিবছর বজ্রপাতে মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটে। দীর্ঘমেয়াদে তালগাছের একটি প্রাকৃতিক বলয় গড়ে তুলে জীবনের ঝুঁকি কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এ উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবাসী এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছেন। অনেকেই বিনামূল্যে হাজার হাজার তালবীজ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় ভ্যানচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বিপুলসংখ্যক তরুণ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক ও নানা নেতিবাচক কর্মকা- থেকে দূরে রেখে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কাজে সম্পৃক্ত করাও তাঁর এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে কলারোয়ায় একটি সবুজ জনপদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় সামাজিক কর্মকা- হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। উদ্যোগটি শুরুর আগেই আসিফ ইকবাল উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবহিত করেছিলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত অর্থায়ন, স্বেচ্ছাশ্রম এবং তরুণদের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কলারোয়ার সড়কগুলো সবুজে আচ্ছাদিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনলাইন জুয়ায় বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অপরাধ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়ায় বাড়ছে দাম্পত্য কলহ ও সামাজিক অপরাধ!

এম শফিকুল ইসলাম: সর্বনাশা মোবাইল ফোনভিত্তিক অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটেছে সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে শহরাঞ্চলে। এই ভয়াবহ অনলাইন জুয়ার থাবায় তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

সাতক্ষীরা সীমান্ত আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনের পর্দায় কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই বড় অঙ্কের টাকা জেতার প্রলোভন দেখানো হয়। দ্রুত ধনী হওয়ার এই ফাঁদে পা দিয়ে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা পেশার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছেন। চক্রের এজেন্টরা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেলেও সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছেন।

শাঁখড়া কোমরপুর আব্দুল গনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ শরীফ ইকবাল উল্লেখ করেন, অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে ছোটখাটো এজেন্টরা গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। ফলে এজেন্ট পরিবর্তন হলেও অনলাইন জুয়ার দৌরাত্ম্য থামছে না। জুয়ায় হেরে সহায়-সম্পদ বিক্রি করেও অনেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। এতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি পরিবারে অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদ বাড়ছে। একই সঙ্গে জড়াচ্ছে নানা সামাজিক অপরাধে।

ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজী বলেন, অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে বহু তরুণ ও যুবক। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জমজমাট জুয়া খেলা চলছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও বেকার যুবকেরা এ নেশায় ঝুঁকছেন। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন এবং মানসিক চাপে ভুগছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়াড়ি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সদর থানা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মাস্টার এজেন্ট আটক করা হয়। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর মেহেরপুর জেলার শিবপুর গ্রামের জিনারুল ইসলামের ছেলে মুর্শিদ আলম (২৫) ও বামনডাঙ্গা গ্রামের মাসুদুল আলমের ছেলে মুসাই আলমকে সাতক্ষীরা থেকে আটক করে পুলিশ।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতিয়ার সরদারের ছেলে ও মাস্টার এজেন্ট তৈয়ব হাসান (২৭) এবং আজিজুল সানার ছেলে তারেকুজ্জামান জুয়েলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও তালা থানা এলাকা থেকে ১০ জন জুয়াড়িকে আটক এবং তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানেও অনলাইন জুয়াড়ি চক্রের মাস্টারমাইন্ড এজেন্টসহ দুই সদস্য আটক হয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেকোনো স্থান থেকে তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।