মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ব জললেখবিজ্ঞান ও মানবতাবাদী দিবস আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব জললেখবিজ্ঞান ও মানবতাবাদী দিবস আজ

সাকিবুর রহমান বাবলা

২১ জুন, বিশ্ব মানবতাবাদী দিবস। প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে—সংকট ও দুর্যোগের মুহূর্তে মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি ও পরম আশ্রয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র কিংবা আদর্শিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মর্যাদা, যুক্তিবোধ, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের নিরন্তর সংগ্রামই এই দিবসের মূল উপজীব্য।

মানবতাবাদ কেবল একটি মতবাদ নয়, বরং একটি সমন্বিত জীবনদর্শন। ১৯৮৬ সালে; বছরের দীর্ঘতম দিন ২১ জুনকে এ দিবস হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য; এটি নির্দেশ করে যে, অন্ধকার বা অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার আলোই মানুষের বৈজ্ঞানিক যাত্রাপথকে আলোকিত করতে সক্ষম।
বর্তমান বিশ্ব নানামুখী সংকটে আচ্ছন্ন। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকট সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য, বৈশ্বিক রাজনীতি কুটকৌশল, যুদ্ধ, বানিজ্য স্বার্থ, জাতিগত কুসংস্কার এবং অসহিষ্ণুতা আজ উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মানবিক মূল্যবোধের চর্চার অভাব। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে অন্যের যন্ত্রণাকে নিজের অনুভব করা, প্রান্তিক ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানো এবং বৈচিত্র্যের মাঝে সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই হলো মানবতাবাদের প্রকৃত চর্চা।

বিশ্ব মানবতাবাদী দিবসটি আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনা এবং নতুন অঙ্গীকারের ক্ষেত্র। আমরা যদি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিতে পারি, তবে ঘৃণা নয় বরং সহমর্মিতা, বিভেদ নয় বরং সম্প্রীতি এবং অজ্ঞতার পরিবর্তে বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক পৃথিবী গড়তে আমাদের প্রত্যেকের অবস্থান থেকে অবদান রাখার এখনই সময়।

জললেখবিজ্ঞান: নিরাপদ সমুদ্র, সুরক্ষিত পরিবেশ ও টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি
সাকিবুর রহমান বাবলা
২১ জুন আন্তর্জাতিক জললেখবিজ্ঞান দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য— মহাসাগরীয় তথ্য আদান-প্রদানের রূপান্তর”। এই প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সমুদ্র ও জলসম্পর্কিত সঠিক তথ্য কেবল নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।
জললেখবিজ্ঞান হলো সমুদ্র, নদী, উপকূল এবং অন্যান্য জলভাগের গভীরতা, তলদেশের গঠন, স্রোত, জোয়ার-ভাটা ও অন্যান্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মানচিত্রায়নের বিজ্ঞান। আধুনিক যুগে এই বিজ্ঞান উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সমুদ্রের তথ্য দ্রুত, নির্ভুল ও সমন্বিতভাবে বিশ্বব্যাপী আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে জললেখবিজ্ঞানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের গভীরতা ও তলদেশের গঠন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রবালপ্রাচীর, ম্যানগ্রোভ বন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল চিহ্নিত ও সংরক্ষণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে জোয়ার-ভাটা, স্রোত ও পলি প্রবাহের তথ্য উপকূলীয় ক্ষয় ও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় প্লাবন ও সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণেও এই বিজ্ঞান অপরিহার্য।

তেল দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য কিংবা শিল্পবর্জ্যের বিস্তারের গতিপথ নির্ধারণে জললেখবিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে, যা পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় দুর্যোগের পূর্বাভাস ও ঝুঁকি নিরূপণেও এর অবদান অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নদীমাতৃক দেশের জন্য জললেখবিজ্ঞান আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সমুদ্র সৈকত, সামুদ্র বন্দর, সুন্দরবন, বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় চরাঞ্চল এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় এর কার্যকর প্রয়োগ দেশের ব্লু ইকোনমি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।

আন্তর্জাতিক জললেখবিজ্ঞান দিবস আমাদের শেখায়— সমুদ্রের সঠিক তথ্য মানেই নিরাপদ নৌপথ, সুরক্ষিত পরিবেশ, সংরক্ষিত জীববৈচিত্র্য এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ। তাই জললেখবিজ্ঞানের উন্নয়ন ও তথ্যের উন্মুক্ত আদান-প্রদান আজ কেবল আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রয়োজন নয়, বরং সম্মিলিত দায়িত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা।

 

 

 

 

 

Ads small one

কেশবপুরে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া-ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপনে গভর্নিং বডি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা। সোমবার সন্ধ্যায় কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাদ্রাসার দাতা সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম কোনো নিয়ম না মেনে অতি গোপনে একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন। গত রোববার এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ সদুত্তর না দিয়ে বহিরাগত ২০-২৫ জনকে ডেকে এনে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

 

এমনকি অধ্যক্ষ নিজে টেবিলের মগ দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাফেজ রাহাজ উদ্দীনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অভিযোগ দিতে গেলেও তাঁরা হেনস্তার শিকার হন। অধ্যক্ষের এমন কর্মকা-ে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দীন, মুহসিন উদ্দীন, হাবিবুর রহমান ও কবিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগরে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এই সংলাপের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে নেটজ-পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস।

সংলাপে বক্তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জয়িতাপ্রাপ্ত কৃষাণী শঙ্করী রানীর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম তরিকুল ইসলাম ও এনজিও সমন্বয় পরিষদের সদস্যসচিব গাজী আল ইমরান। বারসিকের ইউনিট ম্যানেজার মননজয় মন্ডলের সঞ্চালনায় সংবাদের শুরুতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রকল্প ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ।

পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা থেকে অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইমনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে তাঁদের পাইকগাছায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পাহাড় দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাইকগাছার ঘোষাল এলাকার ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান খাগড়াছড়ির রামগড় থানার সোনাইপুল গ্রামের ইমনের। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ জুন তার পরিবার পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গতকাল রোববার কিশোরীর মামী বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজার দিকনির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল রামগড় থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইমনের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।