মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: মরুকরণ রোধ ও জলবায়ু সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: মরুকরণ রোধ ও জলবায়ু সংকট

সম্পাদকীয়

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর কোনো তাত্ত্বিক সতর্কবার্তা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশগত দুর্বলতার কারণে এই সংকট এক চরম উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃতির তাপমাত্রা অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঋতুচক্র হারিয়েছে তার চেনা রূপ। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আগ্রাসী বিস্তার আমাদের সামগ্রিক পরিবেশগত ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। দেশের বহু নদ-নদী আজ নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায়, অসংখ্য খাল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষিজমির উর্বরতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর। এমনকি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনও আজ লবণাক্ততার চাপ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় নতুন নতুন অস্তিত্বের ঝুঁকিতে পড়েছে।

এই জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য চকাতে হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষকে। তীব্র খরা ও দাবদাহের কারণে জনজীবন আজ বিপর্যস্ত, যার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণের কারণে অনেক অঞ্চলই ধীরে ধীরে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষ নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে জলবায়ু-উদ্বাস্তু হিসেবে অন্য অঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন মানুষের মনস্তত্ত্বে এক গভীর ক্ষত তৈরি করছে, যা প্রকারান্তরে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও শিথিল করে দিচ্ছে। নিজের বাসভূমি যখন বাসযোগ্যতা হারায়, তখন মানুষের ভেতরের স্বাভাবিক মানবিক ও সামাজিক বোধগুলোও সংকটের মুখে পড়ে।

এই অবক্ষয় ও মরুকরণের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক হাতিয়ার হলো ব্যাপকভিত্তিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ। একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য মোট ভূখ-ের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক হলেও আমাদের দেশে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বর্তমান সংকটে সুনাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হলো নিজ নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা, স্থানীয় খাল-নদী ও জলাশয় রক্ষা করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় বন্ধে সচেষ্ট হওয়া। একটি গাছ কেবল অক্সিজেনই দেয় না, বরং তা মাটির আর্দ্রতা ও প্রকৃতি ধরে রাখতে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা করতে এবং তাপমাত্রা কমাতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।

তবে কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই এই বিশাল সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়; এখানে রাষ্ট্রের ভূমিকা হওয়া উচিত আরও আগ্রাসী ও কার্যকর। নদী ও খালগুলোর অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, বনায়ন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষিনীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হয়েও যেহেতু অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী, তাই জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত করা। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত বিশ্বকে তাদের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করতে হবে।

মরুকরণ রোধের এই সংগ্রাম মূলত মানুষের অস্তিত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার সংগ্রাম। জলবায়ু পরিবর্তনের এই মরণকামড় থেকে বাঁচতে হলে বৃক্ষরোপণকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা দিবসভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; একে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নাগরিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসই পারে আমাদের এই প্রিয় সুজলা-সুফলা ভূখ-কে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করতে। আর দেরি করার সময় নেই, এখনই উপযুক্ত সময় মাটির টানে, জীবনের টানে চারপাশকে সবুজে সুশোভিত করে তোলার।

 

 

 

 

 

Ads small one

কেশবপুরে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া-ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপনে গভর্নিং বডি গঠনের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা। সোমবার সন্ধ্যায় কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাদ্রাসার দাতা সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম কোনো নিয়ম না মেনে অতি গোপনে একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন। গত রোববার এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ সদুত্তর না দিয়ে বহিরাগত ২০-২৫ জনকে ডেকে এনে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

 

এমনকি অধ্যক্ষ নিজে টেবিলের মগ দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাফেজ রাহাজ উদ্দীনকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অভিযোগ দিতে গেলেও তাঁরা হেনস্তার শিকার হন। অধ্যক্ষের এমন কর্মকা-ে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ রাহাজউদ্দীন, মুহসিন উদ্দীন, হাবিবুর রহমান ও কবিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সংলাপ, সরকারি হাসপাতালের ওপর জোর

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগরে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ এই সংলাপের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে নেটজ-পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস।

সংলাপে বক্তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জয়িতাপ্রাপ্ত কৃষাণী শঙ্করী রানীর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম তরিকুল ইসলাম ও এনজিও সমন্বয় পরিষদের সদস্যসচিব গাজী আল ইমরান। বারসিকের ইউনিট ম্যানেজার মননজয় মন্ডলের সঞ্চালনায় সংবাদের শুরুতে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রকল্প ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ।

পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা থেকে অপহৃত কিশোরী খাগড়াছড়িতে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা থেকে অপহৃত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে খাগড়াছড়ির রামগড় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইমনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার ভোরে তাঁদের পাইকগাছায় নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুন প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পাহাড় দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাইকগাছার ঘোষাল এলাকার ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান খাগড়াছড়ির রামগড় থানার সোনাইপুল গ্রামের ইমনের। কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর ১১ জুন তার পরিবার পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গতকাল রোববার কিশোরীর মামী বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজার দিকনির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়ার তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল রামগড় থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইমনের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এই অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।