সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতা
সামান্য বৃষ্টি হলেই সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও আশপাশের এলাকা যেভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের যেভাবে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে, প্যান্ট গুটিয়ে ক্লাসে যেতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জলাবদ্ধতার কারণে শিশুদের বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও চরমভাবে বাড়ছে। একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। কিন্তু সাতক্ষীরার এই চিত্রটি প্রমাণ করে যে, মাঠপর্যায়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত দেখভালের ক্ষেত্রে কতটা উদাসীনতা রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শ্যামনগরের ১৪৯ নম্বর শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রটি মূলত একটি ব্যাপক সমস্যার খ-চিত্র মাত্র। দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের শৌচাগারে যাওয়ার পথটিও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মাসের পর মাস ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে।
বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে নানামুখী অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু যদি একটি বিদ্যালয়ের মাঠই বছরের কয়েক মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে, তবে সেখানে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকা অসম্ভব। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিচ্ছেন, কেউবা চরম ঝুঁকি নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ঝরে পড়ার হার বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং মাঠ ভরাটের জন্য বারবার যে আকুতি জানানো হচ্ছে, তা অবিলম্বে আমলে নেওয়া দরকার। কেবল আশ্বাসের বৃত্তে আটকে না রেখে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট এবং পানি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শিশুদের কষ্ট লাঘব করে জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবিলম্বে পড়াশোনা ও খেলাধুলার নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।












